৪০ বছর বয়স জিন্নত আলীর। ৪ সন্তানের জনক। পেশায় তিনি একজন ভ্যান চালক। তার বড় ছেলে শফিকুল ইসলাম শিবগঞ্জ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র। তিনিও একই বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণীর ছাত্র।
এবছর সমাপনী পরীক্ষায় সেও একজন পরীক্ষার্থী। গতকাল বৃহস্পতিবার শিবগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের ১০ নং কক্ষে পরীক্ষা দিতে দেখা যায় জিন্নত আলীকে। প্রবেশ পত্রে রোল নং-৭২৫। পরীক্ষা শেষে কথা হয় জিন্নত আলীর সাথে। তিনি বলেন, ইচ্ছে থাকলে সবকিছুই করা যায়।
ছেলে মেয়েদের স্কুলে যাওয়া দেখে আমার কাছে খুব ভাল লাগে। মনে মনে সিদ্ধান্ত নেই আমি ওদের সাথে স্কুলে যাব। বাড়ীতে এসে স্ত্রীর সাথে কথা বলে শিবগঞ্জ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আমার বড় সন্তান শফিকুলের সাথে প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি হই। এরপর থেকে মাঝে মধ্যেই স্কুলে যাই। অভাবের সংসার।
তাই প্রতিদিন স্কুলে যেতে পারতামনা। ভ্যানগাড়ী চালিয়ে ও দিনমুজুরের কাজ করে সংসার চালাতে হয়। দিনমুজরের কাজ ও ভ্যানগাড়ী চালাতে গেলে সঙ্গে বই থাকত। সময় পেলে বই পড়তাম। এভাবেই লেখাপড়া চালিয়ে যাই।
পরীক্ষা কেমন হয়েছে জানতে চাইলে বলেন, পরীক্ষা খুব ভাল হয়েছে। এক সাথে পুত্রকে নিয়ে প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি হলেন, আপনি সমাপনী পরীক্ষা দিচ্ছেন আর আপনার পুত্র ৪র্থ শ্রেণীতে রয়েছে কেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি হাসতে হাসতে বলেন, ‘ও’ (পুত্র) তৃতীয় শ্রেণীতে ফেল করে আর আমি পাশ করি।
দৃষ্টি আকর্ষণ: আমরা প্রতিদিন বিভিন্ন পত্রিকা ঘুরে ঘুরে প্রধান সংবাদ, কলাম, ফিচার, খেলাধুলা, বিনোদন ও তথ্য - প্রযুক্তি বিষয়ক সহ ব্যতিক্রমধর্মী বিভিন্ন নিউজ এক সাথে জড়ো করে থাকি। প্রতিদিন ভোর হওয়ার আগেই এই পেজটি আপডেট করা হয়। একসাথে সকল খবর জানতে এই পেজটির সাথে থাকুন সবসময় ।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।