পিকনিকের গাড়ি দুর্ঘটনায় নিহত বেনাপোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৭ শিক্ষার্থীকে আজ বিকেলে পারিবারিকভাবে দাফন করা হয়েছে। এর আগে দুপুর দুইটায় বেনাপোল বল ফিল্ডে নিহতদের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
জানাজায় যশোরের জেলা প্রশাসক মো: মোস্তাফিজুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুল হক, বেনাপোল পৌরসভার মেয়র আশরাফুল আলম লিটনসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবকসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার অংশ নেন হাজার মানুষ অংশ নেন। এসময় সেখানে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শ্যামল কান্তি ঘোষ উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে যশোর জেলা প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
জেলা প্রশাসক মো: মোস্তাফিজুর রহমান জানান, চার সদস্যবিশষ্ট্যি তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) সাবিনা ইয়াসমিনকে। জেলা প্রশাসক বলেন, নিহতের পরিবারকে আর্থিক অনুদান দেয়ার জন্য জন্য প্রধানমন্ত্রীর অফিসে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
ওদিকে দুর্ঘটনার ব্যাপারে চৌগাছা থানায় পুলিশ বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছে। চৌগাছা থানার উপ-পরিদর্শক আবু কুদ্দুস জানান, মামলায় বাসটির চালক ইস্রাফিল, হেলপার মহব্বত এবং মান্দারতলা গ্রামের দুই ভাই শহিদুল ও আলমকে আসামি করা হয়েছে। এ দুই ভাই রাসত্মার উপর ডাটাশাক ফেলে রাখার কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সকালে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শ্যামল কানি্ত ঘোষ আহত শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর নিতে যশোর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) যান। সেখান থেকে তিনি বেনাপোলে যান নিহত শিক্ষার্থীদের স্বজনদের শান্তনা দিতে। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, স্কুল শিক্ষার্থীদের হতাহতের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রীসহ আমরা সবাই শোকাহত। আহতদের সুচিকিৎসার বিষয়টি আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদারকি করা হচ্ছে।
তিনি জানান, সিএমএইচে ভর্তি হওয়া আহতদের উন্নত চিকিত্সা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন সেনাপ্রধান।
গতকাল রাত ৮টার দিকে চৌগাছা-মহেশপুর সড়কের ঝাউতলায় স্কুল ছাত্রছাত্রী ভর্তি একটি পিকনিকের বাস (রাজশাহী মেট্রো-জ- ১১-০০৮০) খালে পড়ে সাত শিশু নিহত ও অন্তত ৪০জন আহত হয়। যশোরের বেনাপোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ওই বাসে মেহেরপুরের মুজিবনগরে পিকনিক শেষে ফেরার পথে দুর্ঘটনাকবলিত হয়। দুর্ঘটনায় নিহতদের লাশ গতকাল রাতেই চৌগাছা থানা পুলিশ বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। বেনাপোল পোর্ট থানার এসআই শফিক জানান, রাত ২টার দিকে লাশগুলো তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এদিকে, দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে ৩৯ জনকে চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং ১১ জনকে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পরে মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ১১ জনকে এবং চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চারজনকে যশোর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) স্থানান্তর করা হয়। এদের মধ্যে অন্তত তিনটি শিশুর অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছেন যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. ইয়াকুব আলী মোল্লা। আহত অন্যদের অবস্থা উন্নতির দিকে।
বেনাপোল পৌরসভার মেয়র আশরাফুল আলম লিটন বলেন, মর্মান্তিক এ হতাহতের ঘটনায় পৌরসভার পক্ষ থেকে তিন দিনের শোক কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি বলেন, নিহতদের স্বজনদের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে বেনাপোলের ব্যবসায়ীরা নিজেরা উদ্যোগী হয়ে আজ আধাবেলা তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখেন।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।