দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে আত্রাই নদীর ওপর নির্মিত গমিরাহাট সেতুটি ভেঙে পড়ার দুই যুগেও পুনর্নির্মাণ হয়নি। দীর্ঘ ২৪ বছরে এ এলাকার মানুষের ভাগ্যে জোটেনি আশ্বাস ছাড়া কিছুই। সেতুটি না হওয়ায় উপজেলার ৫০ গ্রামের মানুষকে সদরসহ বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করতে হচ্ছে বিকল্প পথে। আর বিকল্প পথে চলতে গিয়ে প্রতিনিয়ত চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে হাজার হাজার মানুষের।
এলাকাবাসী জানান, ১৯৬২ সালে গমিরাহাটে আত্রাই নদীর ওপর এ সেতুটি নির্মিত হয়।
নির্মাণের ২৭ বছরের মাথায় ১৯৮৯ সালের বন্যায় এটি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে। সেই থেকে অদ্যাবধি পুনর্নির্মিত হয়নি সেতুটি। আত্রাই নদীর পশ্চিম পাড়ে রয়েছে গমিরাহাট উচ্চবিদ্যালয়, গমিরাহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পোস্ট অফিস, তুলসীপুর দাখিল মাদ্রাসা। আর পূর্ব দিকে গোবিন্দপুর কেরামতিয়া দাখিল মাদ্রাসা, গোবিন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও আমবাড়ি হাট। সেতুটি নির্মিত না হওয়ায় পুনট্রি, তুলসীপুর, খেড়কাটি, মথুরাপুর, শ্যামনগর, বাসুদেবপুর, পাইকান, কালীগঞ্জ, ভিয়াইল, শান্তিবাজার, গোবিন্দপুর, ফুলপুর, কুতুবডাঙ্গা, ভবানীপুরসহ ৫০ গ্রামের শিক্ষার্থীসহ হাজার হাজার মানুষ এসব প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করতে সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে।
শুধু তাই নয়, সেতু না থাকায় উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারে আনা-নেওয়া এবং অন্য মালামাল বহনে হচ্ছে নানা ভোগান্তি। স্থানীয় ব্যবসায়ী সাহাব উদ্দিন মণ্ডল ও লঙ্কেশ্বর চন্দ্র রায় জানান, সেতুটি নির্মাণ না হওয়ায় এলাকার মানুষের যাতায়াতে দুর্ভোগের শেষ নেই। মালামাল পরিবহনেও খরচ করতে হচ্ছে অতিরিক্ত অর্থ। কৃষক নেজাম উদ্দিন জানান, উৎপাদিত কৃষিপণ্য পারাপারের অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হয়। আবার সেগুলো সময়মতো বাজারে পেঁৗছাতে না পাড়ায় ভালো দাম পাওয়া যায় না।
অনেক সময় বাড়িতেই নষ্ট হয় কষ্টের ফসল। পল্লী চিকিৎসক ধীরান্ন চন্দ্র রায় জানান, সেতুটি না থাকায় এলাকার রোগীরও দুর্ভোগের কমতি নেই। যথাসময়ে তারা চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হন। শিক্ষক মোশাররফ হোসেন বলেন, 'বর্ষাকালে আমাদের কি পরিমাণ দুর্দশা হয় তা ভাষায় প্রকাশের নয়। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আতিয়ার রহমান বলেন, 'সাবেক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর কাছে সেতুটি পুনর্নির্মাণের জন্য আবেদন করেছিলাম।
তিনি প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন। কিন্তু অদ্যাবধি সেতুটি নির্মাণ করা হয়নি। '
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।