আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

ভোট হচ্ছে তৃণমূলে টেনশন কেন্দ্রে

ভোট হচ্ছে তৃণমূলে আর টেনশনে আছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। দুই দফায় হয়ে যাওয়া ২১২টি উপজেলা নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিতে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। যা হওয়ার হয়ে গেছে, সামনের নির্বাচনগুলোয় কীভাবে আরও ভালো করা যায় তার কৌশল নির্ধারণে ব্যস্ত উভয় দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতারা। বিএনপি, আওয়ামী লীগের বাইরেও জামায়াতে ইসলামী ও ছোটখাটো দলগুলোও কম-বেশি স্বল্পপরিসরে চিন্তাভাবনা করছে তাদের স্ব স্ব সম্ভাব্য এলাকাগুলোয় দল সমর্থিত প্রার্থীদের বিজয়ী করে আনার। এ মুহূর্তে বড় দুই দল দুই পর্বের নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে নতুন করে হিসাব-নিকাশে ব্যস্ত।

তৃতীয় পর্বের নির্বাচনে দিন যতই ঘনিয়ে আসছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কেন্দ্রে ততই টেনশন বাড়ছে। বাস্তবিক আওয়ামী লীগ ও বিএনপিতে এ নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। ৫ জানুয়ারি বিএনপিবিহীন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে পুনরায় ক্ষমতায় এলেও জাতীয় নির্বাচনের মাত্র দেড় মাস পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দল সমর্থিত প্রার্থীদের পরাজয়ে প্রভাবশালী মন্ত্রী-নেতারা তোপের মুখে পড়েছেন দলীয় হাইকমান্ডের। নিজ নিজ এলাকায় দল সমর্থিত প্রার্থীদের পরাজয়ের পরিপ্রেক্ষিতে নিজেদের ইমেজ সংকটেও ভুগছেন তারা। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াতের প্রার্থীরা জয়লাভ করায় আগামীতে সরকার পতনের আন্দোলন আরও বেগবান করতে পারে এমন আশঙ্কাও করছেন কেউ কেউ।

পাশাপাশি প্রভাবশালী এসব মন্ত্রী-এমপি-নেতাকে দলীয় সভানেত্রীর কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হচ্ছে নিজ এলাকার প্রার্থীদের ভরাডুবির কারণে। এ জন্য সামনের উপজেলা নির্বাচনগুলোয় নিজ নিজ প্রার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম টেনশনে ভুগছেন তারা।

অন্যদিকে, প্রথম ও দ্বিতীয় দফা নির্বাচনে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও আগামীতে ভোট কারচুপির আশঙ্কায় টেনশন করছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। তাদের ধারণা, প্রশাসনকে ব্যবহার, কেন্দ্র ও ভোট বাঙ্ দখলসহ বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছে আওয়ামী লীগ। এসব ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তা চেয়েও অনেক স্থানে বিএনপির প্রার্থীরা পাচ্ছেন না।

আবার তৃণমূল থেকে কেন্দ্রে এসব বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে বললেও কেন্দ্রের কথাও শুনছে না প্রশাসন কিংবা নির্বাচন কমিশন। সব মিলিয়ে এ শঙ্কা ও টেনশনের মাঝেই আগামী নির্বাচনগুলোয়ও জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চায় বিএনপি। কিন্তু তাদের টেনশনে ফেলেছে ক্ষমতাসীনদের কেন্দ্র দখল ও ভোট ডাকাতির আশঙ্কা। বিশেষ করে প্রভাবশালী মন্ত্রীদের এলাকায় বিএনপি এ ভয়টা বেশি পাচ্ছে। কারণ আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীদের লোকজন অনেক এলাকায় এরই মধ্যে ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ হুমকি-ধমকি দিতে শুরু করেছেন- বিএনপির অনেক প্রার্থী এরই মধ্যে নির্বাচন কমিশনে এমন অভিযোগও জানিয়েছেন।

এ সম্পর্কে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, উপজেলা নির্বাচন নিয়ে আমরাও 'সিরিয়াস'। কিন্তু হচ্ছেটা কী! সরকার ও প্রশাসনের ছত্রছায়ায় দেশজুড়েই ভোট ডাকাতির মহোৎসব চলছে। ফলে এ নির্বাচন নিয়ে সংগত কারণেই আমরা টেনশনে আছি।

অন্যদিকে, কেন্দ্রের টেনশনের কথা সরাসরি স্বীকার না করলেও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ বলেন, দলের সাংগঠনিক দুর্বলতা ও বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় দ্বিতীয় দফায়ও আশানুরূপ ফলাফল আমরা করতে পারিনি। তবে এখন হাতে বেশ কয়েক দিন সময় আছে।

আগামীতে এ ভুল আর হবে না। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয় দলেই উপজেলা নির্বাচন উপলক্ষে কেন্দ্রীয়ভাবে মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে এবং সেল দুটো সক্রিয়ভাবে কাজও করছে। বিশেষ করে নির্বাচনের ভোট গ্রহণের দিন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ধানমন্ডিতে দলীয় সভানেত্রীর কার্যালয়ে আর বিএনপি তাদের নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে প্রতি ঘণ্টায় সংবাদ ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করছে। এরশাদের জাতীয় পার্টি ছাড়া সব দলের কেন্দ্রীয় পর্যায়েই এ নির্বাচন নিয়ে কম-বেশি তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ও দলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানকের নেতৃত্বে সাত বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদকরা সারা দেশে একক ও তৃণমূলে সব মহলে গ্রহণযোগ্য প্রার্থী নিশ্চিতে কাজ শুরু করেছেন।

এদিকে প্রধান দুই দলের বাইরে জামায়াতে ইসলামীও এবারের উপজেলা নির্বাচনে নীরব বিপ্লব প্রদর্শন করে চলেছে। ২১২ উপজেলার মধ্যে তারা ২০টিতে চেয়ারম্যান এবং বেশির ভাগ ভাইস চেয়ারম্যান পদেই বিজয় ছিনিয়ে নিয়েছে। বিশেষ করে এত ধরপাকড় আর সরকারের দমন-পীড়নের পরেও ভাইস চেয়ারম্যান পদে ভোটবিপ্লব ঘটিয়েছে জামায়াত। আর এ নির্বাচনে নীরবে-নিভৃতে প্রধান দুই রাজনৈতিক দলকে ডিঙিয়ে জামায়াতে ইসলামীর এ বিজয়কে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির জন্য আরেকটি টেনশনের বিষয় বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

 



অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।