আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

"বউ আমার ভার্জিন হতেই হবে"- কয়েকজন ধর্মপ্রাণ(??) মুসলিমের সাথে আলাপ

আমি নিজেকে সাধারণ মুসলিম হিসেবেই চিন্তা করি। নামাজ খুব একটা নিয়মিত পড়ি না, ইসলামের বিভিন্ন নিয়ম কানুন গুলো কেন তৈরি হল, সেটার ব্যাখ্যা খুঁজি মাঝে মাঝে। এই কারণে ভার্সিটির কয়েকজন ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের নিকট আমি নাস্তিক। ভার্সিটিতে কয়েকজন ধর্মপ্রাণ মুসলিমের সাথে পরিচয় আছে, এই মানুষগুলো ফিলিস্তিনের মানুষের জন্য কান্নাকাটি করে, বাসায় গিয়ে পর্ন দেখে, পরের দিন সকালে ইসলামের মাহাত্ম্য নিয়ে জোর গলায় বক্তৃতা চালায়। তারা নিজেরা জানে না কুরআনে কী লিখা আছে, কিন্তু মানুষকে বলে বেড়ায়, কুরআনে সব আছে।

সব আছে বলতে তারা কী বোঝায় এইটাই আমি বুঝি না। যদি আমি জিজ্ঞেস করি যে, “কুরআনে কি থার্মো ডাইনামিক্স এর দ্বিতীয় সূত্রটা আছে?” তবে তাদের ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত লাগবে। (তারা সব কথাকেই আক্ষরিক অর্থে নেয়। কুরআনে সব আছে বলতে এটা বুঝানো হয়েছে যে এই গ্রন্থে মানবজাতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সকল বিষয় যেমন অর্থনীতি, বিজ্ঞান, গণিত প্রভৃতি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। ) আর ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত লাগলে তারা সেই মানুষটিকে পারলে গণপিটুনি দেয়, কিন্তু শুধুমাত্র গালিগালাজ করেই তাদের থামতে হয়।

ইদানিং তাদের সাথে বেশ ভালই সংঘর্ষ হচ্ছে আমার। ঘটনা ১ একদিন ফেসবুক চ্যাটে ধর্মপ্রাণ মুসলমানের সাথে কথা হচ্ছিল, ধর্মপ্রাণ মুসলিম ১ঃ তোর বউ যদি ভার্জিন না হয়, মানে বিয়ের আগে যদি অন্য কারো সাথে শারীরিক সম্পর্ক থাকে, তবে তোর কোন সমস্যা আছে? তথাকথিত নাস্তিকঃ না। আমার কোন সমস্যা নাই। এই কথা বলার পর আমি “মুক্তমনা” আর “আধুনিক” হিসেবে ট্যাগড হয়ে গেলাম। এই আলাপের পরপরই আমি ধর্মপ্রাণ মুসলিমকে একটা মেসেজ পাঠিয়েছিলাম কেন আমার কুমারী বউ থাকতেই হবে, এমন বাধ্যবাধকতা নেই।

মেসেজটা তুলে দিলাম, অধিকাংশ মানুষের কাছেই শরীরটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সব পুরুষই চায় তার বউ কুমারী হোক, বিয়ের আগে যাতে তার সতিচ্ছেদ না হয়। কিন্তু সেই পুরুষরা আবার নিজেরাই সুযোগ পেলে যে কারো সাথে দৈহিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়তে আগ্রহী। তারা নিজদের খুব সাধু দেখানর চেষ্টা করে। ইসলামে এইসব করতে নিষেধ আছে।

কিন্তু তার প্রেমিকা তাকে সুযোগ দিলে সে শারীরিক সম্পর্ক করতে পিছপা হবে না, এটাও সে স্বীকার করে। “নিশ্চয়ই মানুষের দেহে এমন একটা মাংসের টুকরা আছে, যা কলুষিত হলে সম্পূর্ণ দেহই কলুষিত হয়ে পড়ে, আর সেই টুকরাটি পরিষ্কার থাকলে সম্পূর্ণ দেহই পরিষ্কার হয়ে যায়। সেই মাংসের টুকরাটি হল ক্বালব (হৃদয়)” নাইনের ইসলাম শিক্ষা বইয়ে হাদিসটা পড়েছিলাম। পুরাপুরি কোট (quote) করতে পারি নাই, তবে এই রকমই ছিল কথাটা। দেখতে পারিস।

আরেকটা হাদিস মনে পড়ে, “সকল কাজের সাফল্যই নিয়তের উপর নির্ভরশীল” এইটা বইয়ের এক নাম্বার হাদিস ছিল। তো এইখানে দুটো কথা শিখলাম। নিয়তটাই আসল। আর আরেকটা হচ্ছে তোমার মনই যদি কলুষিত হয় তাহলে তুমিও কলুষিত। একটা সিচুএশন চিন্তা কর, ধরে নিলাম তোর প্রেমিকা কুমারী।

কিন্তু কয়েক বছর আগে মন থেকে সে অন্য একজনের সাথে রিলেশন ছিল। সেই ছেলেটার সাথে শারীরিক সম্পর্ক করার জন্য তার তীব্র ইচ্ছা ছিল কিন্তু কোন কারণে হয়ে উঠেনি। ধরে নিচ্ছি শারীরিক সম্পর্কের চূড়ান্ত পর্যায় বাদ দিয়ে বাকি সবই তারা করেছে। এই পরিস্থিতিতে তুই কী করবি? খেয়াল কর ওই মেয়ের নিয়ত ছিল শারীরিক সম্পর্ক। যদিও সে কুমারী রয়ে গেছে।

এখন, তোর বউ যদি এই টাইপের কুমারী হয়, তাইলে সেইটাও কি তুই মেনে নিবি? আবার ধরে নে, কোন একটা মেয়ে, এম্নিতে বেশ ইনোসেন্ট, ভালবেসে একজনের সাথে শারীরিক সম্পর্ক করল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের সম্পর্ক টিকলো না। এখন মেয়েটা কি খারাপ হয়ে যাবে? এই মেয়ের চিন্তা ছিল আমি ছেলেটাকে ভালবাসি, এখন শারীরিক সম্পর্ক করলে কীই বা আসে যায়। পরে সে ভুল বুঝতে পারল আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করল। মাঝখানে তার সম্পর্কটাও ভেঙে গেল।

ওই মেয়ে তোর কাছে আসল। তুই কি এখন ওকে গ্রহণ করবি না? আমার মেসেজটা পেয়ে সেই ধর্মপ্রাণ মুসলমানের মেজাজ খুব খারাপ হয়েছিল, কেন হয়েছিল তা ব্যাখ্যা করেনি সে। ধর্মপ্রাণ মুসলিমের জন্য সকল ব্যাপার ব্যাখ্যা করা জরুরী না। এবং আমি তার দৃষ্টিতে হয়েছিলাম আবাল। মুহাম্মদ (সঃ) থেকে তারা ধৈর্যের শিক্ষা গ্রহণ করেছেন বলে মনে হয় না।

ধৈর্য ধরে কথা শোনার প্রতি তাদের কোন আগ্রহ নেই। নিজের মতের সাথে না মিললে তারা আরেকজনকে আবাল, ছাগল বিভিন্ন উপাধিতে ভূষিত করতে খুব ভালবাসেন। ঘটনা ২ এইবারের ঘটনাও বউকেন্দ্রিক। ধর্মপ্রাণ মুসলিম* ১ঃ তোর বউ যদি বিয়ের পর টাইট জিন্স টাইট শার্ট পরতে চায়, তুই কি দিবি? তথাকথিত নাস্তিকঃ দিব। আমার সমস্যা নেই।

(আশে পাশের ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের মাথায় যেন বাজ পড়ল। অনেক চিল্লাচিল্লি আলোচনা সমালোচনার পর সবাই সিদ্ধান্তে আসল যে ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের প্রথমজন আমার বউকে ধর্ষণ করবে) ধর্মপ্রাণ মুসলিম* ২ঃ ওই মেয়েকে তো ধর্মপ্রাণ মুসলিম ১ রেপ করবে। তথাকথিত নাস্তিকঃ আচ্ছা, তুই এখন বল, যদি ২টা রুমে দুইজন মেয়ে থাকে, একজন বোরকা পরে, আরেকজন টাইট জিন্স পরে। তুই কাকে রেপ করবি? ধর্মপ্রাণ মুসলিম* ২ঃ আগে টাইট জিন্সকে করে যদি শক্তি থাকে তবে বোরকাওয়ালিকে করব। (১ম জনের বদলে ২য় জন উত্তর দিয়ে দিল) এই উত্তর শোনার পর আমি আর কথা বলার প্রয়োজন মনে করিনি।

শুধু ভেবে অবাক হয়েছি তারা নিজেদের মুসলিম ভাবে, আর আমাকে নাস্তিক। তাদের কাছে দুইজন মেয়েই সমান। যে বোরকা পরে, যে পরে না। চান্স পেলে দুইজনকেই ধর্ষণ করবে। যদি শুধু টাইট জিন্সকে করবে বলত, তাতেও হয়ত মেনে নেয়া যেত, মেয়ে পর্দা মানে নি বলে “ঈমান রক্ষা করার জন্য” মেয়েটাকে সে ধর্ষণ করেছে ।

কিন্তু সে তো পর্দা মানা নারীটিকেও ধর্ষণ করবে, যদি তার “শক্তি”তে কুলায়! ধর্মপ্রাণ মুসলমান ১ কে মেসেজে আরও লিখেছিলাম, একটা জিনিস আমি মনে প্রাণে বিশ্বাস করি সেইটা হচ্ছে আমাদের মধ্যে প্রায় সবাইই খারাপ (এই বিবাহপূর্ব যৌনতার ব্যাপারে) , কিন্তু আমরা নিজেদের চরিত্র ফুলের মত পবিত্র মনে করি কারণ আমরা কখনো চরিত্রের পরীক্ষাই দেই নাই। আমাদের মধ্যে কতজন একটি মেয়ের আমন্ত্রণে কোন রুমে তাকে একা পেয়ে তার সাথে শারীরিক সম্পর্ক করতে আগ্রহী হবে না? আমার ধারণা শতকরা ১০ জন লোকও একটি মেয়ের আমন্ত্রণ অবহেলা করতে অক্ষম। আমরা সবাই ই মূলত সুযোগের অভাবে চরিত্রবান। সুযোগ পেলে কখনোই আমরা হাতছাড়া করতাম না। এইখানে আমি তোর কথা বলতেসি না।

তুই হয়ত ওই ১০ জনের মধ্যে পড়বি, কিন্তু বেশিরভাগ মানুষই বিয়ের আগ পর্যন্ত ভার্জিন থাকে, কারণ তারা কখনো সুযোগই পায় নাই ভারজিনিটি লুজ করার। এখন এই লোকগুলা ভার্জিন, এই কারণে তাদের গর্ববোধ করার কিছু নাই। এই লোকগুলা যদি দাবি কইরা বসে যে আমার সতি সাবিত্রী বউই লাগবে, সেইটা মানতে কষ্ট হয়। তো দেখা গেল ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের ২য় জনই চান্স পেলে বোরকা পরিহিত একটা মেয়েকে রেপ করবে। ভালবাসার সঙ্গম না, সরাসরি ধর্ষণ।

কিন্তু বিয়ে করার সময় কুমারী মেয়ে না হলে তার চলবে না!!! পোস্টটির শিরোনাম প্রথমে ছিল "কয়েকজন ধর্মপ্রাণ মুসলিমের সাথে একজন সাধারণ মুসলিমের আলাপ" কিন্তু এতে ভুল বোঝাবুঝির অবকাশ থাকায় বর্তমানে শিরোনামটি সামান্য পরিবর্তন করা হয়েছে। ।

সোর্স: http://www.somewhereinblog.net     দেখা হয়েছে বার

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।