আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

~~~ জেনে নিন দশটি মারাত্মক ব্লগীয় রোগের নাম ও বর্ণনা ( ২য় পর্ব ) ~~~

কলম চালাই ,এইগুলো লেখার পর্যায়ে পরে কি না তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে :) ব্লগের বয়স বছরের উপরে দেখালেও নিয়মিত লিখছি ১৭ আগস্ট ২০১২ থেকে :) ব্লগীয় মারাত্মক দশটি রোগ নিয়া গত পর্বে আলোচনা করিয়া ব্যাপক সাড়া পাইয়াছি ( যারা মিস করেছেন তাহারা এইখানে খোঁচা দেন ) অনেকেই রোগের সত্যতা স্বীকার করিয়া দাওয়াই চাহিয়াছেন । আসুন এখন আরও কিছু রোগের সাথে পরিচিত হই । তবে নিন্মোক্ত রোগগুলি নিরাময়যোগ্য । আপনা আপনি সারিয়া যায় । সিরিয়াস কিছু নয় ।

১) রোগের নামঃ পোস্ট ফোবিয়া ( Post phobia ) বর্ণনাঃ ব্লগ লিখছেন ৪ বছর , পোস্ট করেছেন ৪ টি ( মাঝে মাঝে '' ০ '' ও থাকে ) এইরকম দেখিলেই বুঝিবেন তাহারা এই রোগে আক্রান্ত । লক্ষণ অনেকটা জন্ডিস রোগের ন্যায় । জানা গেছে পোস্টাওপাইটিস - বি নামক এক ভাইরাসের কারনে এই রোগ হয়ে থাকে । ২) রোগের নামঃ কপিওপেস্টালারিয়া (Copiopestalariya ) বর্ণনাঃ ইহারা পোস্ট থেকে কিছু অংশ কিংবা অন্য কমেন্টের কিছু অংশ কপি পেস্ট করিয়া কমেন্ট করিয়া থাকেন । ইহারা সাধারণ আইলসা প্রজাতির রোগী ।

৩) রোগের নামঃ ইমূমায়োসিস ( Imumayosis ) বর্ণনাঃ এই রোগীরা অন্য ব্লগে / পোষ্টে গেলে উনাদেরকে বোবায় ধরে । উনাদের জবান বন্ধ হইয়া যায় । কমেন্ট করাতে পারে না । কয়েকটা ইমূ দিয়া চলিয়া আসেন । ইহা ভালো রোগ ।

৪) রোগের নামঃ স্কিপ রিপ্লাইটিস ( SkipRiplaitis ) বর্ণনাঃ ইহারা শুচিবায়ু রোগে আক্রান্ত । বাছিয়া বাছিয়া মন্তব্যের উত্তর দেয় । এই রোগ খুবই নিচু মানের ব্যাকটেরিয়ার কারনে হইয়া থাকে । ( এই রোগের গবেষণায় সাহায্য করেছেন '' শিপু ভাই '' আমার আগের পোষ্টে ) ৫) রোগের নামঃ তালগাছোকুলেসিস Talgasoculosis বর্ণনাঃ উহাদের প্রচন্ড দাপট ব্লগে । এই টাইপের ব্লগাররা নিজেদের ভাবে সবজান্তা শমসের ।

অনেকে আবার গর্দভের মত জাহির করে মেকি পাণ্ডিত্ব, শেষ পর্যন্ত বুদ্ধিপ্রতিন্ধি হিসাবে ধরা খায় । ৬) রোগের নাম হাইপোচ্যাথার্মিয়াঃ বর্ণনাঃ ব্লগকে ইয়াহু চ্যাটরুমের মত ইউস করা । সামাজিক রোগ ! ( রোগ ৫ এবং ৬ এর আবিষ্কর্তা ব্লগার '' ফাহাদ চৌধুরী '' ) ৭) রোগের নামঃ ক্যাচাল্লাগাইসোসিস ( Kyacallagagaisosis ) বর্ণনাঃ ইহাদেরকে বলবেন '' ভাই ভালা আছেন ? '' জবাব পাবেন '' ঐ ব্যাটা খারাপ থাকমু ক্যান ? '' ভালো খারাপ নাই , উহারা ক্যাচাল করিবার জন্য রেডি থাকে । ইহা অনেকটা মানবকুলের গুঁড়াকৃমি রোগের ন্যায় উপসর্গ বহন করে । ৮) রোগের নামঃ প্রবলেমসলভাইটোসিস ( Problemsolvaitosis ) বর্ণনাঃ এই রুগীরা কিছুক্ষণ পর পর '' পিলিস হেল্প মি '' জাতীয় পোস্ট দিয়া থাকেন ।

অনেকে তাদের উপশম করিয়া থাকেন । এই রোগের কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নাই । ৯) রোগের নামঃ ভালগারি্যাযিমা ( Vulgarzazima ) বর্ণনাঃ এরা অশ্লিল শব্দ ব্যবহারে খুব এক্সপারট। এই ধরনের রোগি থেকে দুরে থাকুন। ইহা ছোঁয়াচে রোগ ।

( ৮ ও ৯ নাম্বার রোগের আবিষ্কারে ব্যাপক ভূমিকা পালন করেছেন ব্লগার '' দুঃখজাগানিয়া '' ) ১০) রোগের নামঃ দি ইনভিজিবিলিটি সিনড্রোম ( The invisibility syndrome ) বর্ণনাঃ এই রোগীরা পোস্ট '' ব্লগে প্রকাশ করুন '' এ গুতা মারিয়াই লজ্জাবতী নববিবাহিত রমণীর ন্যায় পলায়ন করিয়া থাকেন । অনেদিন পর আসিয়া আবার একই ঘটনা আবার করিয়া থাকেন । ইহা খারাপ রোগ না । ১০.১) রোগের নামঃ হিংশুটারিয়া ( Hingshutariya ) বর্ণনাঃ ইহা একটা বোনাস রোগ । এই রোগের আবিষ্কর্তা '' ঘুড্ডির পাইলট '' ভ্রাতা ।

এই রোগের রোগীরা অন্য ব্লগারদের (বিশেষ করে নতুন ব্লগারদের ) হিট দেখলে তাহাদের মস্তকের তালু জ্বলিয়া যায় । জানা গেছে তাহাদের গায়েও নাকি কিছু উপসর্গ পরিলক্ষিত হয় । ইহা একপ্রকার চর্মরোগ । ৫ ও ৭ নাম্বার রোগের জন্য নতুন ওষুধ '' ঘাড়া সিটামল '' এর ফ্রি হোম ডেলিভারি দিচ্ছেন ভ্রাতা '' ঘুড্ডির পাইলট '' তাহার লেগিয়া তালিয়া তবে গত পর্বে কিছু কিছু রোগ সময়ের অভাবে বর্ণনা করিতে পারি নাই । তাই উক্ত রোগে আক্রান্ত কাউকেই সেই পোষ্টে পাই নাই আজকে তাহা নিয়াই এবং আরও কিছু নতুন রোগ নিয়া আলোচনা করিব ।

আপুরা শাড়ি কোমরে পেঁচাইয়া বসেন , আর ভাইয়েরা লুঙ্গির গিঁট টাইট করিয়া বসেন । ১) রোগের নামঃ ছাগুওলাইসিস ( Chaguolaisis ) বর্ণনাঃ ইহারা কাঁঠালপাতা খায় । মাঝে মাঝে জুতার বাড়িও খায় । ইহারা রাজাকারদের একনিষ্ঠ সমর্থক । ইহারা হিব্রু ভাষায় পেঁচাইয়া পেঁচাইয়া মাঝে মাঝে এমুন পোস্ট দিয়া থাকে , যাহার মর্ম মানবকুলের পক্ষে বুঝা সম্ভব নহে ।

ছাগু নামে ইহাদেরকে আমরা একডাকে চিনিয়া থাকি । ইহাদের লেঞ্জা আছে । ২) রোগের নামঃ হনুলারিয়া ( Honulariya ) বর্ণনাঃ এই রোগ অনেকটা ছাগুওলাইসিস রোগের মতনই । ইহারা কাঁঠাল পাতা না খাইলেও জুতার বাড়ি খাইয়া থাকে । ইহারা মানবকুলের তৈরি একখানা ত্যানা ( ছেঁড়া কাপড় ) এর গঠন , গুন ও আবিষ্কারকের প্রতিভা ও বুদ্ধি লইয়া গো-এষণা করিয়া মস্তকের চুল সব নাই করিয়া ফালায় ।

তবে তার নিজের শরীরের গঠন নিয়া মনে করিয়া থাকে উহা আপনা আপনি ই সৃষ্টি হইয়াছে । তবে উহাদের উক্ত মতবাদ লইয়া আমার কোন অভিযোগ নাই । তবে কোন জায়গায় একজন অমুসলিম একখানা চলার ( শুকনা কাঠ ) বাড়ি খাইয়া আহত হইলে পোস্ট দিয়া কান্দিতে কান্দিতে ব্লগ কাস্পিয়ান সাগর বানাইয়া দেয় । আর নিজের দেশে কিংবা বিদেশে কয়েকশত মুসলিম মরলেও ফিরিয়া চাহে না । ইহাদেরও লেঞ্জা রহিয়াছে ।

৩) রোগের নামঃ ভাদামায়সিস ( Vasamaysis ) বর্ণনাঃ ইহা এক প্রকার পরজীবী রোগ । অনেকটা কৃমি রোগের ন্যায় । ইহারা ভা দা ( ভারতীয় দালাল ) ভারতের দাদা ও দিদাদের গুনকীর্তন করিতে করিতে উহাদের প্রাণ ওষ্ঠাগত হয় । আমরা প্রায়ই উহাদেরকে উস্টা দিয়া থাকি । ৪) রোগের নামঃ পাদাথোসিস ( Padathosis ) বর্ণনাঃ ইহাও এক প্রকার পরজীবী রোগ ।

অনুসর্গ অনেকটা ভাদামায়সিস রোগের ন্যায় । তবে তাহারা পা দা ( পাকি দালাল ) তাহারা বাংলাদেশকে এখনও পূর্ব পাকিস্থান বলিয়া জানে ও মান্য করিয়া থাকে । উহারা বায়বীয় দুর্গন্ধ না ছড়াইলেও , ব্লগিয় দুর্গন্ধ ছড়াইয়া থাকে । ৫) রোগের নামঃ মুরিদোবেসিস ( Muridobesis ) বর্ণনাঃ এই প্রজাতির রোগীরা এক প্রকার ভয়াবহ ধরনের ছত্রাক জনিত রোগে আক্রান্ত । তাহারা তাহাদের বাবাদের জন্য জান-প্রাণ , গরু-ছাগল , কিংবা নিজের বিবিকেও বাবার নামে বাবাকে দান করিয়া দেওয়ার মনোবল রাখে ।

পাঠকদের বুঝার সুবিধার্থে নিচে এক বাবার ছবি সংযুক্ত করিয়া দেওয়া হইল । উনার নাম ' ঝোলা বাবা '' উনার দিকে নেক নজর নিয়া তাকাইবেন কইলাম ! উল্লেখিত রোগসমূহ দ্যা ডিজিজ '' এক্স '' ( The disease '' X '' ) নামক রোগের শ্রেণীভুক্ত । ইহা সবচে' ভয়ানক রোগ । এই রোগের ওষুধ এখনও আবিষ্কার হয় নি । যদিও প্রচলিত ওষুধ ইহার আরোগ্য হইবার তেমন কোন সম্ভাবনা নেই ।

সেহেতু ইহাদের প্রাচীন পদ্ধতি অনুসরন করিয়া ট্রিটমেন্ট দেওয়া হইয়া থাকে । তাহা হইল '' গদাম '' / '' ব্যাম্বো ট্রিটমেন্ট '' / '' বাংলায় বাঁশ ডলা / স্যান্ডেলাইসিস / ঝাড়ুমাইসিস ইত্যাদি ! ব্লগের হাতুড়ে ডাক্তাররা '' ফাইটার '' নামে তাহারা পরিচিত , দেশ ও জাতির উন্নতির স্বার্থে সেচ্ছাসেবক হয়ে বিনে পয়সায় নিরলসভাবে এই রোগের চিকিৎসা দিয়া থাকেন । আর ইহাদেরকে নিন্মোক্ত স্টাইলে দাওয়াই দিয়ে হবে । এই স্টাইলের নাম '' কোপা সামসু '' শেষকথাঃ শেষ পোষ্টে অনেক রোগীই তাহাদের দাওয়াই এর সুবিধার্থে একখানা '' ডায়াগন্সটিক '' সেন্টার খুলিবার পরামর্শ দিয়াছিলেন । বিষয়টা আমি গুরুত্ত সহকারে ভাবিতেছি ।

সরকারী তহাবিলের অনুদান পেলে কার্যক্রম শুরু করার মনোবাসনা পোষণ করিতেছি ।  ।

সোর্স: http://www.somewhereinblog.net     দেখা হয়েছে বার

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।