পোষ্টের শুরুতেই একটি গল্প বলি । গল্পটি অনেকেরই পরিচিত-
এক প্লেনে ভ্রমনরত তিনজন পাশাপাশি যাত্রীর কার্যক্রম
একজন যাত্রী তার হাত থেকে একটি হীরার আংটি খুলে বাইরে ফেলে দিলেন।
অন্যান্য দুজন বললেন ভাই এটা কি করলেন?
প্রথম জন বললেন ভাই আমার দেশ দঃআফ্রিকা আর আমার দেশে এরকম আংটি অহরহ পাওয়া যায়।
এ ঘটনা দেখে অপর যাত্রী তার হাত থেকে প্লাটিনামের একটি ঘড়ি ফেলে দিলেন
এমতাবস্তায় অপর দু’জন বলল ভাই এটা কি করলেন?
দ্বিতীয় ব্যক্তি তখন বললেন “আমার দেশ সুইজারল্যান্ড, আর আমার দেশে এর থেকেও ভাল ঘড়ি পাওয়া যায়। ”
তার কিছুক্ষন পর এক বাংলাদেশী প্লেন থেকে অপর এক যাত্রীকে ফেলে দিলেন।
তখন সবাই অবাক হয়ে বলল ভা্ই একজন মানুষ ফেলে দিলেন ?
তৃতীয় ব্যক্তি তখন বলল “আমার দেশে অনেক মানুষ, এরকম অহরহ পাওয়া যাবে। ”
আসলেই আমাদের দেশে অনেক মানুষ- এভাবে একশ দু’শ মানুষ মরলে কি হয়। গার্মেন্টসে এভাবে ১২৪ জন মারা গেল। আমরা কেবল দুঃখ প্রকাশ করলাম, নিন্দা করলাম, এরপর এক সময় নাহয় ভুলেও গেলাম। কেনই বা ভুলবনা! মাত্র এক লক্ষ টাকার একটা প্রান।
সব মিলিয়ে এক কোটি টাকার প্রাণই না হয় গেল। যেখানে জাতি তিন-চার হাজার কোটি টাকার দুর্নিতি হাতের ময়লা হিসেবে দেখে। আরে! এ তো গার্মেন্টসের কর্মী তাই একলক্ষ টাকা। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্রের জীবনের দাম তো আরও কম। মাত্র পরীক্ষার খাতার চল্লিশ নাম্বার বা ক্লাসে ৭০ শতাংশ উপস্থিতি(মোট ক্লাস 20-30টি)!তা নাহলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ফয়সাল করিম অন্তু ফেল করার ঘৃণায় আত্মহত্যা করে।
কিছুদিন আগে প্রধান শিক্ষিার দ্বারা অপমানিত হওয়ার পর( শিক্ষিকা তাকে মুরগীর ব্যাপারী বলত) পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্র আত্মহত্যা করে। এবছরের প্রথম দিকে এক ছাত্রী SSC পরীক্ষার নিবন্ধন পত্র টাকার অভাবে পুরন করতে না পারায় তাকে শিক্ষক অপমান করে(নিবন্ধন করার টাকা নাই পড়তে আস কেন)। অপমানিত হয়ে ঐ ছাত্রী আত্মহত্যা করে। এভাবে কত শিক্ষার্থীয়ে যে শিক্ষকদের হাতে বন্দি তার কোন ইয়াত্তা নেই। এভাবে আত্মহত্যায় প্রচনার জন্য শিক্ষকদের ৩০২ ধারায় যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেওয়া দরকার।
সরকার তা করতে পারে না কারন সরকার এই মর্মে কোন আইন পাশ করে নাই। তারা আইন পাশ করে ক্ষমতা দখলের আইন। বিচার বিভাগের কাছে আমার আবেদন “আর কতটা ছাত্রের লাশের বিনিময়ে শিক্ষাদান নীতি তৈরী করতে অনুরোধ করবেন?”
বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে শিক্ষাদাননীতি না থাকায় শিক্ষকগন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সময় মত ক্লাস না নিয়ে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস নেয়। বছরের পর বছর ছুটি ভোগ করেন। স্যার আপনি একঘন্টা দেরি করে হয়ত চিন্তা করেন ছাত্রদের এক ঘন্টা সময় কিছু না।
কিন্তু কোন ছাত্র একমিনিট দেরি করলে আপনি ক্লাসে ঠুকতে দেন না। আবার আমরা যদি ৫০ জন হই তবে প্রত্যেকের এক ঘন্টা করে মোট ৫০ ঘন্টা জাতীয় সময় নষ্ট করেন। কারন এই ৫০ জন ছাত্র এক ঘন্টা সময় কোন না কোন কাজ করত। এবং এই কাজের পরিমান মোট দেশজ উৎপাদনে(GDP) অবদান রাখত। যার দ্বারা আপনার বেতন হয়।
একটা উদাহরন দেই-
ধরি, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে এক সেসনে সারা বাংলাদেশে এক লক্ষ ছাত্র পড়াশোনা করে। তারা যদি এক বছর পিছিয়ে যায় তাহলে জাতি এক লক্ষ বছরের উৎপাদন থেকে বঞ্চিত হয়। কেননা সে এক বছর পর একজন দক্ষ জনশক্তিতে(Knowledge worker) রূপান্তরিত হবে অথচ সরকার তার পিছনে অর্থ বরাদ্দ দিয়ে যাচ্ছে। যদি সে ২২ বছরের সময় জনশক্তিতে রূপান্তরিত হয় এবং তার কর্মজীবন যদি ৬০ হয় তবে তবে সে ৩৮ বছর দেশজ উৎপাদন করে। আর যদি ২৩ বছরের সময় বের হয় তবে সে জাতিকে ৩৭ বছর শ্রম দেয়।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স করে বের হতে ২৫ বছর লেগে যায়। অ র্থাৎ দেশ প্রতি সেসনে তিন লক্ষ বছরের উৎপাদন থেকে বঞ্চিত হয়।
এছাড়া শিক্ষকদের সেচ্ছাচারিতার জন্য অকৃতকার্যের হার বৃদ্ধি, অনিয়মিত ক্লাস, কম নম্বর প্রদান, মানহীন শিক্ষাদান, পাঠ্যক্রম শেষ না করা, পঠিত পাঠ্যক্রমের বাইরে প্রশ্ন প্রণয়ন, যৌন হয়রানি সহ আরও না বলা অনেক কথা।
শিক্ষকদের পাঠদান ব্যাপারে নিয়মনীতিতে বলা হয়েছে- সকল দায়িত্ব ও কর্তব্য শিক্ষকদের বিবেকের কাছে ছেড়ে দেওয়া হলো। সত্যিকার অর্থে এই বিবেক জিনিসটা মুষ্টিমেয় শিক্ষকগন ব্যতিত অধিকাংশ শিক্ষকদের নাই।
নাৎসি বাহিনীর আগ্রসনের সময়কার একটি জনপ্রিয় উক্তি বলি। উক্তিটি মোটামুটি নিন্মরূপ ছিল-
যখন তারা (নাৎসি বাহিনী) সকল শিক্ষাবিদদের ধরে নিয়ে গেল, তখন আমি নিশ্চুপ ছিলাম,
কারন আমি ঐ দলের অর্ন্তভুক্ত ছিলাম না।
যখন তারা সকল বুদ্ধিজীবিদের ধরে নিয়ে গেল, তখনও আমি নিশ্চুপ ছিলাম,
কারন আমি ঐ দলেরও অর্ন্তভুক্ত ছিলাম না।
যখন তারা সকল সাহিত্যিকদের ধরে নিয়ে গেল, তখনও আমি নিশ্চুপ ছিলাম,
কারন আমি ঐ দলের অর্ন্তভুক্ত ছিলাম না।
এভাবে তারা একে একে সকলকে ধরে নিয়ে যেতে লাগল…
যখন তারা আমাকে ধরে নিয়ে গেল, তখন বলার মত কেউ অবশিষ্ট ছিল না।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।