অনেকদিন পর আবারো পিকনিক হতে যাচ্ছে তাই আমি অনেক উত্তেজিত। এই উপলক্ষে ফেসবুকের নতুন ফিচার "Adding What You're Doing" ব্যাবহার করে একটা স্টাটাসও দিয়ে দিলামঃ Picnic,Bitches !! — feeling excited. বেশি উত্তেজনার কারনেই মনে হয় সপ্নে দেখলাম আমরা ৫ ব্যাটারী চালিত গাড়িতে চড়ে পিকনিক করতে যাচ্ছি আর গাড়ির সামনে বড় ব্যানারে লেখাঃ Picnic, Bitches !!(হে বেশ্যার দল, পিকনিক !!)
ভোরের সপ্ন মিথ্যা হতে দেয়া যায় না তাই ঘুম থেকে উঠেই প্রমান সাইজের উন্নত মানের একটা কাগজে ক্যপিটাল ক্যপিটাল লেটারে লিখে ফেললামঃ Picnic, Bitches !! আঙ্কেলের এই অশ্লীল নামকরন নিয়ে আমার হালকা চিকন আপত্তি ছিল তাই ব্যানারে নামের অনুবাদটা বাদ দিলাম। কিন্তু অবিলম্বে আবিষ্কার করলাম আমি ভূল করে হোয়াইট বোর্ড মার্কার দিয়ে লিখছি এবং হালকা ঘযাঘযিতেই লেখা মুছে যাচ্ছে। অতঃপর সব মুছে ফেলে পুনরায় পার্মানেন্ট মার্কার দিয়ে লিখে নিলাম। লেখার আশেপাশে কিছু কার্টুন আকঁতে গিয়ে মাথায় একটা আইডিয়া আসলো।
লটারীর ব্যাবস্থা করলে কেমন হয়? লটারীর টিকিটে ক্রমিক নম্বরের বদলে থাকবে মানবদেহের বিভিন্ন গোপন অঙ্গের কার্টুন চিত্র। ছোটকালে আমার কার্টুন আঁকার বিশেষ দক্ষতা থাকলেও অনেকদিন চর্চা করি না তাই কার্টুনগুলা আঁকতে বেশ সময় লেগে গেল। লটারীর জন্য প্রতিটা চিত্রের ২ কপি করে দরকার কিন্তু সময় অল্প তাই ভাবলাম যাবার পথে ফটোকপি করে নেয়া যাবে।
মাথায় ব্যাগী টুপী আর কাধে মালসামানার ব্যাগ ঝুলিয়ে বেড়িয়ে পরলাম।
যাবার পথে শোভনকে নিয়ে আঙ্কেলের বাসার সামনে গিয়ে ফোন কল দিলামঃ
"আঙ্কেল, তুমিতো দেখি এখনও ঘুম থেকে ওঠোই নাই।
রাতভর হাগছো নিকি? তাড়াতাড়ি বাইর হও মিয়া আমি তোমার বাসার সামনে। "
১৫ মিনিট হয়ে গেল আঙ্কেলের কোনও খবর নাই। আবার কল দিলামঃ
"ধুর মিয়া বাল, কি করতেছো তুমি? এখনও ওঠো নাই??"
ওপাশ থেকে বললোঃ
"ভাইস্তা কোথায় তুমি? ফ্যানতো এখনও ঠিক হয় নাই, বিকালে ফ্যান দেওয়ার কথা ছিলোতো। "
আমি তাৎক্ষনিক আবিষ্কার করলাম সাহবাব কে কল দিতে ভুল করে আমাদের বাসার ইলেক্ট্রিক মিস্ত্রীকে কল দিছি যিনি সত্যিই একজন আঙ্কেল বয়সের মানুষ। ওনাকে সরি বলে ফোন কেটে সঠিক নাম্বারে ডায়াল করলাম।
এইবার সাহবাবকেই পাওয়া গেল। ওকে কি কি লাগবে সবকিছু বুঝিয়ে দিয়ে আমি আর শোভোন বাজারের দিকে রওনা দিলাম। যাবার পথে একটা বিষয় লক্ষ করলাম, সাহবাবের নিকনেম আঙ্কেল হওয়াতে এর আগেও আমি বিরম্বনার স্বীকার হয়েছি। এইরকম বিভ্রান্তমূলক নিকনেম রাখলো কে? সম্ভবত ও নিজেই রাখছে।
বাজারে গিয়ে দেখলাম ডিয়ন, ভুটকা আর অমিত মিলে ষড়যন্ত্র করছে পিকনিক স্পট পরিবর্তন করে ভগবানের চর নির্ধারন করা হোক।
ভগবানের চর এলাকার অধিবাসীরা নাকি ওদের ভগবানের মতই ভক্তি শ্রদ্ধা করে। সুতরাং ওইখানে পিকনিক করলে বিশেষ সুযোগ সুবিধা পাওয়া যাবে। ওদের এই প্রস্তাব আমি সরাসরি নাকোচ করে দিয়ে ভুটকাকে দায়িত্ব দিলাম কি কি সদাই কিনতে হবে লিস্ট কর আর ডিয়নকে পাঠালাম কার্টুন চিত্রগুলা ফটোকপি করতে।
তালুকদার কাকার দোকান থেকে এক বোতল মোজো খেয়ে একটা গোল্ডলীফ ধরিয়ে ভুটকার কাছে গিয়ে দেখি সে এতক্ষন কোনও লিস্ট লেখে নাই। শুধু লিস্টের খাতার ওপরে সুন্দর করে লিখছেঃ "Picnic, Bitches !! হে বেশ্যার দল, পিকনিক !!" এর নীচে লিখছে পিকনিক ইভেন্টের ফেসবুক লিংক।
লিংকের পাশে একটা ফেসবুকের লোগোও আঁকছে। কালো বলপেনে অঙ্কিত লোগোটা এতই সুন্দর হয়েছে যে মার্ক জুকার্বার্গকে এই লোগো দেখানো গেলে আমি খুব শিওর উনি ফেসবুকের নীল লোগো সহ যত নীল রং আছে সব পরিবর্তন করে কালো করে দিতেন। হঠাৎ করে এমন কালোকরনের ঘটনা ঘটলে অঞ্জন জরূরী ভিত্তিতে আমাকে ফোন দিয়ে বলতোঃ "মামা কম্পিউটারে ভাইরাস ডুকছে! ফেসবুকের সবকিছু কালা হয়ে গেছে। তুই তাড়াতাড়ি একটা রিক্সা নিয়া আইসা ঠিক কইরা দিয়া যা। রিক্সা ভাড়া আমি দিয়া দিবো, তুই তাড়াতাড়ি আয়।
"
এদিকে ডিয়ন গোপন অঙ্গের কার্টুন চিত্রগুলা ফটোকপি করতে গিয়ে বিপদে পরছে। সে আমাকে ফোনে জানলো কেউ এইসব ছবি ফটোকপি করে দিতে চাচ্ছে না। আমি অতিরিক্ত মুল্যে ফটোকপি করার প্রস্তাব দিলাম। অবশেষে অল্প বয়স্ক একজন ফটোকপি করে দিল।
ভুটকা,আমি আর শোভন যা যা লাগবে সব কিনে ফেললাম।
আকীদ কাকা ফোনে বলে দিছিলো কি কি কতটুকু করে লাগবে। সেই কথোপকথন রেকর্ড করে রাখছিলাম। কেনার সময় রেকর্ডিং প্লে করে শুনে নিছি চাল ডাল তেল ইত্যাদি যা কিছু লাগবে। কেনার সময় “কতটুক নিবো” এইধরনের কনফিউশনেও পরতে হয় নাই। শুধু চালের দোকানদার ৫ টাকা কম নিতে বলায় হতাশাজনক দৃষ্টিতে তাকিয়েছিল।
আমরা এবার ৫ ব্যাটারী চালিত গাড়ি ঠিক করলাম। গাড়ীর সামনে ব্যানার টানায়ে দিলাম। Picnic, Bitches !! এদিকে লক্ষ করলাম কিছু উৎসুক জনতা আমাদের কর্মকান্ড দেখছে। এরা সম্ভবত ব্যানারের লেখার অর্থ বের করার চেষ্টা করছিল। এদের ভেতর এই শহরে অবস্থানকারী একজন আমেরিকান নাগরিক আমাদের দৃষ্টি আকর্ষন করলো।
এই সাদা চামড়ার ভদ্রমহিলা খুবই আগ্রহ এবং বিষ্ময় নিয়ে ব্যানারের লেখা পড়ছেন। ওনার দৃষ্টিভঙ্গি দেখেই বুঝা গেল উনি দেশে ফিরে গিয়ে অবশ্যই ওনার বন্ধুদের এই অশ্লীল নামকরনের কথা বলবেন। আমি একটা বৃটিশ আমলের ন্যাশনাল প্যানাসনিক রেডিও নিয়ে গেছিলাম। এটার অপারেটিং সিষ্টেম আপগ্রেড করা হয়েছে। এটা আইফোনের সাথে কানেক্ট করে উচ্চস্বরে গান বাজায় দিলাম।
গানের শব্দে উৎসুক জনতার ভীড় বাড়তে শুরু করলো। এই পর্যায়ে আমরা গাড়ী স্টার্ট দিয়ে দিলাম।
যাবার পথে একটা খরির দোকানের সামনে গাড়ী থামলো। খরি কিনতে হবে। দোকানের মালিক নাই।
কর্মচারী মাত্র ৪০ টাকায় অনেক খরি দিয়ে দিল। ৪০ টাকা হাতে পাবার পর তিনি খুবই বিশেষ আন্তরিক ভঙ্গিতে একটা হাসি দিলেন। ওনার বিশেষ ধরনের হাসি দেখে আমরা বুঝে গেলাম এই টাকার পুরাটাই ওনার লাভ। দোকানের মালিককে এই টাকা দেবার কোনও প্রয়োজন উনি বোধ করছেন না বরং ৪০ টাকা পরিমান অর্থ প্রাপ্তিতে আনন্দ বোধ করছেন। তাতে অবশ্য আমাদেরও কোনও কিছু গেল আসলো না।
“বাংলালিংক দামে খরি কিনছি” টাইপের একটা হাসি দিয়ে আমরা বিদায় নিলাম। ৫ ব্যাটারী চালিত গাড়ি আবার চলতে শুরু করলো।
ভাজনডাঙ্গা পদ্মা নদীর পাড় ও ঢোল সুমদ্র বাওড়, আলিয়াবাদ ইউনিয়ন, ফরিদপুর- আমাদের পিকনিক স্পট। অতীতেও এইখানে আমরা পিকনিক করছি। কিন্তু সবাই পেঁয়াজ রসুন কাটতে চায়, সবাই চূলা জ্বালাতে চায়, সবাই রান্না করতে চায় এই সব বিশৃঙ্খলা এবং অর্থ সংক্রান্ত জটিলতার কারনে আগের ২ বার “The Perfect Picnic Party” এবং “The Perfect Picnic Party Returnz” সফল হয় নাই।
তাই এবার স্পটে গিয়ে প্রথমেই যার যার দ্বায়িত্ব ভাগ করে দিলাম। টাকার হিসাবটা মেটানোর দ্বায়িত্ব দিলাম আঙ্কেলকে। বিভিন্ন খাতে ব্যায়িত টাকার পরিমানের সংখ্যাগুলা কোনওটা ইংরেজী সংখ্যায় আবার কোনওটা বাংলা সংখ্যায় লেখার কারনে আঙ্কেলকে খানিকটা বিরম্বনায় পরতে হল। আঙ্কেল তার আইফোনের ক্যামেরা অন করে হিসাবের পাতা ভিডিও করে নিল। তারপর ধারনকৃত ভিডিও প্লে করে এবং মাঝে মাঝে পজ করে হিসাব করা শুরু করলো।
আঙ্কেলের এই দীর্ঘমেয়াদী হিসাবকরন প্রক্রিয়া স্টপ করে আমি আর গেষ্ট সিফাত মুখে মুখে হিসাব করে ফেললাম।
ভুটকা আর আমার দ্বায়িত্ব সমস্ত রান্নার। ভুটকা পেঁয়াজ কাটতেইয়াছে, কাটতেইয়াছে... যেন অনন্তকাল থেকে সে শুধু পেঁয়াজই কাটতেছে। আবিষ্কার করা হল ভুটকা কালো সানগ্লাস চোখে দিয়ে পেঁয়াজ কাটতেছিল তাই হাত যেন না কেটে যায় এজন্য সে ধীরে ধীরে কর্তন করতেছিল। সানগ্লাস খুলে ফেলার কয়েক মিনিটের মধ্যেই কাটাকাটির প্রক্রিয়া সমাপ্ত হল।
শোভন আর ডিয়নকে চুলার দ্বায়িত্ব দিয়ে আমি, ভুটকা আর সিফাত হালকা নাসতা কিনে আনতে গেলাম।
স্থানীয় এক দোকানে দিয়ে দেখা গেল দোকানদার নিঃশব্দে ঘুমাচ্ছেন। ভুটকা ডাকলো কাকা, সিফাত ডাকলো জনাব। কিন্তু ভদ্রলোকের কোনও সারাশব্দ নাই। আমি বললাম জনাব মনে হয় মারা গেছেন।
ভুটকা ইন্নালিল্লাহি পড়তে পড়তে যেই চানাচুরের বয়ম খুলে চানাচুর নিতে গেল ঠিক সেই মুহূর্তেই ভদ্রলোক জেগে উঠলেন। এটা কি চোর ধরবার বিশেষ কোনও ফাঁদ নাকি ঠিক বোঝা গেল না। আমরা ৪ প্যাকেট জোনাকি কোম্পানীর বিস্কুট আর ১০০ গ্রাম চানাচুর কিনলাম। চানাচুরগুলা খুবই সুস্বাদু ছিল আর বিস্কুটে জোনাকি পোকার ফ্লেভারও পাওয়া গেল। এই বিস্কুটগুলা খুবই অদ্ভুত।
প্রথম কামড়ে সত্যি সত্যি জোনাকি পোকার ফ্লেভার আর পরের কামড় গুলোতে কমলালেবুর ফ্লেভার। রাতের বেলা এই বিস্কুট খেলে প্রথম কামড় দেবার সময় জোনাকি পোকার মত আলো জ্বলে কিনা একবার পরীক্ষা করে দেখা দরকার।
এতক্ষন সবকিছূই ঠিক ছিল। কিন্তু সবকিছূ ঠিকঠাক ভাবে হবে না এটাই প্রাকৃতিক নিয়ম। টুকটাক সমস্যা হবেই।
আমাদের চূলা নিয়ে টুকটাক না ভুটভাট ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হয়ে গেল। ৪০ টাকার যেই খরি কেনা হয়েছিল ওগুলা ভেজা খরি। অনেক কেরোসিন তেল খরচ করেও খরি জ্বালানো যাচ্ছে না। বিশৃঙ্খলা বেধে গেল। একজন বলে নতুন খরি কেনা উচিৎ, আরেকজন বলে খরি ফেরত দিয়া আসি।
“আশেপাশের কোনও বাড়ি থেকে খরি চুরি করে নিয়ে আসলে কেমন হয়?”এই প্রস্তাবও দিল একজন। রান্নাবান্না কিছুই শুরু করা যাচ্ছে না। কিন্তু সময় চলে যাচ্ছে। অচিরেই সবাই ক্ষুধার রাজ্যে প্রবেশ করবে। এত সুন্দর একটা পিকনিক স্পট থেকে ক্ষুধার রাজ্যে প্রবেশ করলে ব্যাপারটা হবে ভয়াবহ বেদনাদায়ক।
এই রাজ্য পুরাই গদ্যময়। এখানকার পিকনিক স্পটগুলা দুর্ভিক্ষময়। এখানকার আকাশে কোনও চাঁদও নাই। তার বদলে একটা ঝলসানো রুটি আছে। রুটিই এই রাজ্যে বসবাসকারীদের প্রধান খাদ্য।
আসলে রুটি ছাড়া আর কোনও খাবারই নাই। আমরা রুটি খাবো না।
কি করি আমি, কি করি আমি, কি করি আমি, কি করি? এমন সময় পাশের বাড়ীর ৭০/৮০ বছর বয়সী এক বুড়ী আমাদের অসহায় অবস্থা দেখে দিলে হালকা চোট অনুভব করলেন। উনি আমাদের সবাইকে ধমক দিয়ে চুলার আশপাশ থেকে কয়েক গজ দূরে সরায়ে দিলেন। মাত্র ৩০ সেকেন্ডেরও কম সময়ে উনি চুলায় ধাউ ধাউ করে আগুন জ্বালায় দিলেন।
বুড়ী তার বড়ি থেকে কিছু শুকনা খরিও এনে দিলেন। রান্না শুরু হয়ে গেছে। বেশ তাড়াতাড়িই সব রান্না সম্পন্ন হয়ে গেল। রান্নার মাঝে একদফা চায়ের আয়োজন করা হলো। অমিতের বানানো চা।
ভুটকা আর আমার চা পানের তেমন আগ্রহ বোধ হচ্ছিল না। কিন্তু সবার মধ্যে একটা গুজব ছড়ালো, চা নাকি খুবই অসাম হয়েছে। আমি একটু খানি চা মুখে ঢালামাত্র বুঝলাম গুজব নয় সত্যিই চা ভালো হয়েছে। ভুটকারেও একটু দিলাম। সে ঘোষনা করল শুধু ভলো না, চা অসম্ভব ভালো হয়েছে।
প্রশংসা শুনে আমিত জানালো সে আজকে ঈদের চেয়েও বেশী খুশী। আমার মনে হল এইরকম ভাবে যদি ঈদের চেয়ে বেশী খুশী হওয়া যায় তাহলে ঈদের আর দরকার কি? সবাই চা বানাবে। চা খেয়ে কিছু লোক প্রশংশা করবে। চা ম্যান ঈদের চেয়ে বেশী খুশী হয়ে যাবে। তার আর ঈদ করা লাগবে না।
ঈদ উপলক্ষে নতুন জামা কাপড়ও কেনা লাগবে না। টাকা পয়সা বেচে যাবে।
সব গোছগাছ করে আমরা পদ্মা নদীতে গোসল করতে নেমে গেলাম। শোভন ভুল করে চশমা পরেই নদীতে নেমে গেল। ডুব দিয়ে সে বুঝতে পারলো চশমা খোলা হয় নাই।
আমি সাঁতার পারি না ভালোমতো। সাঁতারের চেষ্টা করলাম মনে হল সফলামও হলাম। কিন্তু কয়েকজনকে বলাবলি করতে শুনলাম আমি নাকি সাঁতার কেটে সামনে না এগিয়ে ক্রমে ক্রমে পেছনের দিকে চলে যাচ্ছিলাম। এদিকে ভুটকা জানালো বারবার ডুব না দিলে মাথার তাপমাত্রা শরীরের তুলনায় বেড়ে গিয়ে একধরনের বিভব পার্থ্যক্য তৈরী হয় যেটা স্বস্থ্যকর না। আমি দেখলাম কথা সত্য।
তাই ঘনঘন ডুব দিতে থাকলাম। গোসল পর্বটা বেশ আনন্দদায়কই হলো।
খাওয়াদাওয়া শুরু হয়ে গেছে। প্রতিটা আইটেম ভরপুর সুস্বাদু। খাবার দুই দফা করে খেতে গিয়ে শেষই হয়ে গেল।
এবার উন্নত মানের প্লাস্টিকের প্লেটে খাবার পরিবেশন করা হয়ে হয়েছে। তাই গতবারের মত ওয়ান টাইম প্লেট গলে গিয়ে খাবার পরে যাবার মত কোনও দুর্ঘটনা ঘটে নাই। এই কারনে সবাই বেশ আনন্দিত ছিল। ঠান্ডা পানি এবং কোমল পানি উভয় ব্যাবস্থাই করা হল। ভুটকারে আমি একটু বেশী কোমল পানি দিতে চেষ্টা করলেও সফলকাম হতে পারলাম না।
বেশী কোমল পানি ঢালা ভুটকার গ্লাসটা অঙ্কেল চামে মেরে দিয়ে নিজের গ্লাস ভুটকারে ধরায় দিছে।
এবার সেই বিশেষ লটারী খেলা অনুষ্ঠিত হল। লটারীর টিকিটগুলা একটু অশ্লীল হলেও আসলে শিক্ষামুলক। মানব দেহের কিছু অঙ্গ প্রত্যঙ্গ আরও ভালো মত চেনা হলো। শোভন পুরষ্কার পেল কান খোঁচানোর কটন বার।
শোভন কটন বারের প্যাকেট খোলার কিছুক্ষন পরেই দেখা গেল সবাই যার যার কান খোঁচাচ্ছে। এর আগে কখনও একযোগে এতগুলা লোককে কান খোঁচাতে দেখা গেছে বলে মনে হয় না।
আমি ভাবলাম একটা "গণ কান খোঁচাখুঁচির মঞ্চ" তৈরী করলে কেমন হত? সেখানে ছোট বড় সব বয়সী নারী পুরুষ স্বপরিবারে দিন রাত ২৪ ঘন্টা কান খোঁচাবে। সরকার তাদের বিনামূল্যে কটন বার সাপ্লাই করবে। সবাই ঘরবাড়ি ছেড়ে এখানে এসে সারাক্ষন শুধু কান খোঁচাবে।
মাঝে মাঝে স্লোগান দিবেঃ
"ক তে কান, খ তে খোঁচা, কান খোঁচা তুই কান খোঁচা। "
হয়তো দেখা যাবে "হেফাযতে কান বাংলাদেশ" নামে কোনও সংগঠন এর প্রতিবাদ করবে। তারা দাবী পেশ করবে, এই দেশে অবাধে নারী পুরুষের কান খোঁচাখুঁচি চলবে না।
তবে কান খোঁচাখুঁচির মাধ্যমেই আমাদের পিকনিক সমাপ্ত হয়। আবার ৫ ব্যাটারী চালিত গাড়িতে চড়ে বাজারে ফিরে আসলাম।
বাজার থেকে যে যার যার বাড়ি। আমি কোনও রিক্সা পাচ্ছিলাম না। যেগুলা পাই ভাড়া বেশী চায়। তাই হাটা শুরু করলাম। শহরে কারেন্ট নাই।
রোডলাইট গুলাও বন্ধ। আকাশে চাঁদও নাই। ভালই অন্ধকার। ভাঙ্গাচুরা রাস্তা, আজকে বৃষ্টি হয় নাই তবুও রাস্তায় কাদা আছে। এক গর্তে পা পড়ে কাদা মাখায় গেল।
হাটছি, অসহ্য গরম লাগছে। একটা গোল্ডলীফ কিনতে গিয়ে দোকানের সামনে দাঁড়ানো খুবই রূপবতী একটা মেয়েকে দেখে মনটা ভালো হয়ে গেল। মনে হল প্রেমের রাজ্যে পৃথিবী আনন্দময়, পূর্ণিমার চাঁদ যেন এই মেয়েটি।
পরিচিত একটা রিক্সা পেয়ে গেলাম। রিক্সায় আরাম আয়েসী ভঙ্গীতে বসে গোল্ডলীফে লম্বা একটা টান দিলাম।
===================================
ভালো লাগলে লাইক দিয়েন কিন্তু
=====================================
আমাদের এই পিকনিকের ভিডিওচিত্র দেখতে পাবেন এখানে। ।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।