খবরে ধান্দাবাজি ইসলাম ধর্মের নবী হযরত মুহম্মদ নিয়ে সিনেমা তৈরি করায় বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। হত্যা করা হয়েছে সিরিয়ায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে। পাকিস্তানে এ নিয়ে সংঘর্ষে ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাকিস্তানের রেলমন্ত্রী গোলাম আহমেদ ইতিমধ্যে বিতর্কিত ছবির মার্কিন পরিচালকের হত্যাকান্ডে ১ লাখ মার্কিন ডলার ঘোষণা করেছেন। এজন্য তিনি তালেবান বা আল-কায়েদাকে উদ্বুব্ধ করছেন।
বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে ইসলামী দলগুলোর আন্দোলনের মুখে সরকার ইউটিউব বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে। শনিবার পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের প্রেক্ষিতে দেশের ১২টি ইসলামী দল রবিবার হরতাল ডেকেছে। এদিকে সামহোয়ারইনব্লগে হযরত মুহম্মদ নিয়ে কার্টুনভিত্তিক (ফেসবুক থেকে নেওয়া) একটি বিতর্কিত পোস্ট নিয়ে মডারেটরদের অসচেতনতাকে দায়ী করে শুক্রবার রাতে ব্লগারদের একটি গোষ্ঠী তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। প্রতিক্রিয়ামূলক পোস্টগুলোতে কেউ কেউ সামু বন্ধেরও হুমকি দিয়েছেন। একদিকে সরকার অনলাইন সংবাদমাধ্যমে নীতিমালার নামে মুক্তমতের আন্তর্জালিক মুখে টেপ লাগাতে চাচ্ছে।
অন্যদিকে ধর্মীয় উগ্রবাদী দলগুলো সহিংস হয়ে উঠছে। এই স্পর্শকাতর সময়ে সামু নিয়ে এমন পরিস্থিতি তৈরি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাই এই মুহূর্তে সামুর ব্লগারদের কাছে সহনশীল আচরণ প্রত্যাশা করছি।
শুক্রবার রাতের ওই ঘটনাকে কেউ কেউ পরিকল্পিত মনে করছেন। যার উদ্দেশ্য সামুর সর্বনাশ ডেকে আনা।
ফেসবুক পাতা থেকে নেওয়া দাঁড়িপাল্লার পোস্টটি নিঃসন্দেহে নোংড়া মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ। কিন্তু এর সূত্র ধরে ব্লগারদের একটি গোষ্ঠীর নোংড়া প্রতিক্রিয়াও যে ঠিক হয়নি তা নিয়ে চমৎকার একটি পোস্ট পড়লাম ব্লগার এস্কিমোর। কেউ কেউ এমন বিতর্কে সামু ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন ।
এটা ঠিক ব্লগার , ব্লগস্পট বা অন কোনো ফ্রি ব্লগে আমরা ব্লগিং করতে পারবো। কিন্তু সামুকে আমি মনে করি বাংলা ব্লগারদের ভার্চুয়াল সেন্টার।
যে কোনো আন্তর্জাতিক, জাতীয় বা আঞ্চলিক ইস্যুতে একজন সাধরণ ব্লগারও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানানোর জন্য সামুতে আসেন। আবার প্রতিক্রিয়া পড়ার জন্যও কেউ কেউ সামুতে আসেন। যারা ব্লগিংয়ে মডারেটরের দাদাগিরি পছন্দ করেন না, নিজের মত প্রকাশে কারো হস্তক্ষেপ মানতে পারেন না, যাইচ্ছেতাই (অবশ্যই সুকুমার চিন্তা হলে ভালো) প্রকাশ করতে চান; সামু তাদের জন্য স্বর্গরাজ্য। এখানে আছে মত প্রকাশের অবাধ স্বাধীনতা। আর এই স্বাধীনতার অপব্যবহার করে কতিপয় ব্লগার যে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি তৈরি করেছেন, তা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।
সার্বিক পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, পানি আরো ঘোলা হবে। কুচক্রিরা এ থেকে ঠিকই সুবিধা আদায় করে নিবে। মাঝখান থেকে আমরা হারাতে পারি আমাদের মত প্রকাশের অবাধ স্বাধীনতা। সেই দুঃসহ পরিস্থিতি আসার আগেই আসুন আমরা নিজেদের উদারতার পরিচয় দেই। আরো বেশি সহনশীল হই।
বিরুদ্ধ মত পেলেই আক্রমণ নয়, (বিরোধীদের প্রতি যথেষ্ট সম্মান রেখে) পাল্টাযুক্তি দাঁড় করাই। যার যার মতপথ অনুযায়ী যুক্তি আর তথ্য দিয়ে নিজেদের চিন্তা ও বিশ্বাসকে উপস্থাপন করি।
এছাড়া দুই দিনের পরিস্থিতি নিয়ে কর্তৃপক্ষ একটা নোটিশ পোস্ট করতে পারে। যাতে ঘটনার ব্যাখ্যা এবং সামুর অবস্থান ব্লগারদের কাছে আরো স্পষ্ট হবে। এতে আমার মনে হয়, পরিস্থিতি আপাতত শান্ত হতে পারে।
হ্যাপি ব্লগিং। ।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।