বিজ্ঞানী কলিন্স পড়ে চাঁদে যাওয়ার দোয়া। আমি ইমরান মাঝি দেখো ছইয়ের মধ্যে শোয়া প্রায় বিশ বছর নেংটো থাকার পর মমতাজউদ্দিন বলে, আমি পাগল না। সঙ্গে সঙ্গে সে উঠে বসে আর সাদা বেড়ালটা তার পেটের উপর থেকে ছোট্র একটা বলের মত গড়িয়ে নামে। একটা ক্ষেমটা বাতাস এসে লোহার গেইটটা ঝাকিয়ে দেয়, আর ছোট গেইটটা প্রচন্ড ঝানুরঝুনুর শব্দে দুই দিকে বারি খায়। গাড়ির চাকার সঙ্গে আসা গ্রেজের বালুগুলো ঘূর্নি দিয়ে ওঠে আর এই সকাল বেলা আরও একবার বিদ্যুৎ চলে গিয়ে গ্রেজটা অন্ধকার হয়ে যায়।
বিড়ালটা মিউমিউ করে। পাশের নালা থেকে ভোটকা টকটক দূর্গন্ধ আসে। আর মমতাজউদ্দিনকে ১ নম্বর সিড়িতে দেখা যায়। তার পিঠের উপর প্রথম সূর্য্যের আলো । সে একবার খোলা পাছা চুলকায়।
একবার গু সুকিয়ে কঠিন ঝট পড়া চুলগুলোতে হাত দেয়। তার ধূলার আস্তরন পরা মুখটা ডান হাতে মুছে বাম হাত দিয়ে রেলিং টেনে টেনে সে দোতলায় উঠে আসে।
মমতাজউদ্দিন ভারি ময়লার আস্তরন পড়া কাঁথাটা দিয়ে তার ধোন ঢাকে। উপরের সিড়ির কার্নিশ হয়ে সুর্য্যের আলো এসে পড়ে তার শরীরের ডান দিকে। সে ভদ্র মানুষের মত ধীরে দরজা নক করে, এবং ভদ্র মানুষের মতই কিছুক্ষন অপেক্ষা করে।
খট করে মৃদু শব্দ করে দরজা খুলে যায়। আর একটা সুন্দরী মেয়ে উচ্চ স্বরে চিলের মত চিক দেয়। সে পাগলের মত ছুটে যায় ঘরের ভেতরে। মমতাজউদ্দিন দেখে। দরজা খুললেই ডাইনিং টেবিল।
এবং বিদ্যুৎ না থাকলেও মৃদু অন্ধকারে সে বড় ছেলেকে চিনতে পারে। অফিসে যাবে বলে ছেলেটা সেজেগুঁজে নাস্তা খাচ্ছে। এ সময় আসা ঠিক হলো কিনা এমন কিছু হয়তো মমতাজ ভাবে। তারপর ধীরে সুস্থ্যে কাঁথাটাকে আরও একটু শরীরে ঘুছিয়ে স্পষ্ট কন্ঠে বলে ‘বাবা আমি পাগল নই । ’ এমন সময় বিদ্যুৎ চলে আসে।
ফেনটা ঘুরে ওঠে, ডাইনিং ও ড্রইংয়ের মাঝখানের পর্দা একটু একটু কাঁপে। ঝুলিয়ে দেয়া ফোমের পাখিটা যেন প্রাণ পেয়ে যায়। সে কয়েকটা ঘূর্নি দেয়। ঘর থেকে বেড়িয়ে পড়া গরম বাসাটা মমতাজউদ্দিনকে ছুঁয়ে যায়। আর সেও যেন ঐ পাখিটার মত ডানে বায়ে দোলে এবং নিলির্প্ত কন্ঠে আবার বলে ‘বাবা আমি পাগল নই।
আমাকে গোসল করাও, আমাকে লুঙ্গি জামা দেও। ’ বলতে বলতে সে মনে হয় কিছু ধরবে বলে পায়ের বুড়ো আঙুলের উপর চাপ দিয়ে উপরের দিকে টানা দেয় ।
ঘরের ভেতর থেকে তন্দ্রাচ্ছন্ন দৃষ্টিতে দরজা খোলার পর থেকে তার দিকে তাকিয়ে আছে রকিব। তখন একই ভঙিতে মমতাজ আবার বলে ‘বাবা আমি পাগল নই। ’ রকিব গটাং করে উঠে দাঁড়ায়।
চেয়ারটা ঝুমুরঝামুর শব্দে পিছনে পরে যায়। ঘরে মধ্য থেকে সেই মেয়েটার আর্ত চিৎকার আবার শোনা যায়। সে মনে হয় কোন একটা ফুটা দিয়ে ঘটনা দেখছিল। আচমকা গায়ের কাঁথাটা ছুড়ে মেজেতে ফেলে দেয় মমতাজ। তারপর মাথাটা কে একটা ঝাকুনি দিয়ে সে একপা সামনে আসে।
এবং ডানে বায়ে আরও একটু বেশি করে দোলে। রকিব পিছনের দিকে সরে যায়। উল্টা দিক দিয়ে ডাইনিং টেবিলটার অধের্ক পযর্ন্ত আসে। তার চোখে কৌতুহল মিশ্রিত উদভ্রান্তি। সে জামার ইনটা ক্ষিপ্র হাতে টেনে খোলে।
তারপর আরও ক্ষিপ্র হাতে কোমড়ের বেল্টটা খুলে হাতে নেয়। এবং চোখ মুখ খিচিয়ে পাগলটার দিকে দেখে। মমতাজউদ্দিন টলতে থাকে। প্রচন্ড ঝড়ের মধ্যে পড়া একটা ছোট্র নরম ফুল গাছের মতই সে টলতে থাকে। মনে হয় সে পড়বে এখনই ধপাস করে মেজতে পরবে ছয়ফুট একটা দেহ।
ফলে রকিব প্রচন্ড ক্ষিপ্রতার সহিদ এক জামাটায় বাবাকে জরিয়ে ধরতে বাধ্য হয়। আর তার হাত থেকে বেল্টটা পরে যায়। একটা ঝাঝালো ভোটকা গন্ধ তার পেটে প্রবেশ করে এবং এই মাত্র খাওয়া ডিম পরটা বেরিয়ে আসতে চায়। রকিব মমতাজকে একটা চেয়ারে বসায়। নিজের শার্টের দুটি বোতাম ছিড়ে সেটি খোলে, ও পাগলটার লজ্জা স্থান ঢাকে।
তারপর কিছুক্ষন চুপ। তারপর মুখ সুকিয়ে যাওয়া চোখে মনে হয় কোন এক দূর লোক থেকে রকিব বলে, এখন কি করবা বাবা। ' মমতাজউদ্দিন শক্ত করে ছেলের হাত ধরে। এরং করুন কন্ঠে বলে আমাকে গোসল করাও। নাপিতের কাছে নিয়ে যাও, আমাকে জামা কাপড় দেও।
আমি পাগল না, তুমি আমাকে বিশ্বাস কর। '
রকিবের চোখে মুখে কেমন যেন একটা শান্তি চলে আসে। অপার শান্তি। মনে হয় তার পুনঃজন্ম হলো। মনে হয় তার শরীরটা হালকা হয়ে আসছে।
মনে হয় সে একটু পরেই কাগজের মত ফেনের বাতাসে উড়তে থাকবে। সে পিছনে দিকে একটু সরে গিয়ে টেবিলের উপর একটা হাত রেখে বাঁকা হয়ে দাঁড়ায়। ফলে তার আঙুলের চাপে ডালের বাটিটা উল্টে যায়। সে বোকা বোকা দৃষ্টিতে মমতাজের দিকে তাকিয়ে গলা উচিয়ে বলে শিউলি পানি ঘরম দেও, বাবা গোসল করবে। ' তার চোখে মুখে আবার কেমন একটা সন্দেহ আসে।
সে যেন কিছু বিশ্বাস করতে পারছে না। তার মাথাটা বুঝি শূন্য হয়ে আসে। কিন্তু ঘরে ভেতর থেকে কোন শব্দ আসে না। মনে হয় ঘরে ভেতরে কেউ নেই। ঘরটাকে তার মৃত্যু পুরির মত নিস্তব্ধ মনে হয়।
তারপর আবার কিছুক্ষন চুপচাপ। দক্ষিনের জানালা দিয়ে একটা বাতাস এসে ফেনটাকে ধূলিয়ে দেয়। তার শব্দ পরিবর্তন হয়। মমতাজ উঠে দাঁড়ায় এগিয়ে গিয়ে ছেলের হাত ধরে। সে কোলের উপর পরে থাকা শার্টটা টেবিলের উপর রাখে।
ছেলের দিকে নির্লিপ্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে সে একটু হাসে। তারপর বলে, তোমার শার্ট তো ছিড়ে গেল। গরম পানি করতে হবে না। তুমি বাথরুমটা দেখিয়ে দেও। ঘরে লুঙ্গি না থাকেলে দৌড়ে গিয়ে একটা লুঙ্গি কিনে আনো।
বউকে রুটি বানাতে বল। " তারপর সে হাটতে শুরু করে । চোখ বড় বড় করে মনে হয় বাথরুমই খোঁজে। মমতাজ বাথরুমে ঢুকে পরলে। রকিব বলে দরজা খোলা রাখেন।
' কিন্তু তার দিকে তাকিয়ে একটা মৃদু হাসি দিয়ে মমতাজ খটাশ করে দরজা বন্ধ করে দেয়। রকিব কিছুক্ষন দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকে। তারপর জলের শব্দ পাওয়া গেলে সে নিজের চুলে দুই হাত বুলাতে বুলাতে ডাইনিং টেবিলের পশ্চিম পাশের চেয়ারটায় বসে। সে বাঁকা হয়ে গালে হাত ঠেকায়। টেবিলে উপরে রাখা রুটি তরকারি ডিম আর ফলমূলগুলো দেখে।
দরজা তখনও খোলাই থাকে। রকিব দরজা দিয়ে বাহিরে তাকায়। বাতাসে দরজা একটু একটু কাঁপে। টুকটুক করে পাশের দেয়ালে বাড়ি খায়। উপর তলা থেকে কোন একটা মানুষ হয়তো নেমে আসে ।
জুতার খেচ খেচ শব্দ হয়। ফলে রকিব উঠে গিয়ে দরজা বন্ধ করে। সে ঘরের মধ্যে একটু হাঁটাহাঁটি করে। পাশের রুমের সামনে গিয়ে আস্তে করে দরজায় হাত দেয় কিন্তু তা ভেতর থেকে বন্ধ। বউটা তার বিষন ভয় পেয়েছে নিশ্চয়।
ফলে রকিব আগের চেয়ারটায় আগের মতই চুপচাপ বসে। দক্ষিনের জানলাটা আবার একটা বাতাস এসে কাঁপিয়ে দেয়। এবং সাদা বেড়ালটাকে চিকন হয়ে জানালার গিরিল দিয়ে ডুকতে দেখা যায়। তার চোখগুলো দিনের বেলায় ও রাতের মত জ্বলজ্বল করে।
তারপর বিকাল হতে না হতে পাড়া প্রতিবেশীরা আসতে শুরু করে।
প্রথমে আসে কুত্তাওয়ালা মেম ও তার দুই মেয়ে, তারপর মোকলেচ চাচা, বিনু খালা ,মতির মা, জব্বার মিয়া, চায়ের দোকানদার কাশেম, নীচ তলার কাজের বুয়া মোমেনা , একে একে সমস্ত পাড়াটা তাদের বাড়িতে উপচে পড়ে। তারা চা নাস্তা খায়। তার বাবাকে দেখে, কেউ তাকে উপদেশ দেয়। কেউ মসজিদে সিন্নি দিতে বলে। কেউ তাকে চিল্লায় যাওয়ার পরামর্শ দেয়।
এভাবে রাত নটা পযর্ন্ত চলে। এভাবে সাত আট দিন ধরে চিড়িয়াখানার জন্তর মতই তার বাবাকে লোকেরা দেখে। বিভিন্ন স্থান থেকে তাদের আত্বীয় স্বজনরা ফোন করে। রকিব অবশ্য একজন সাইকোলজিষ্টের সঙ্গে ইতোমধ্যে কথা বলেছে, যদিও তিনি পরামর্শ দেন যে, কেউ যেন তাকে ডিস্টাব না করে। কিন্তু শুক্রবার রাত নটা তিরিশ মিনিটের দিকে আবার কলিং বেল বেজে উঠলে তাকে দরজা খুলতেই হয়।
রকিব দেখে তার বড় খাল মরজিনা। ঘটনার দিনই তাকে খবর দেয়া হয়েছিল। ঘরে ডুকেই তিনি বলেন কই কোথায় তোর বাপ। ' বাবার বিছানার পাশে বসে বড়খালা কিছুক্ষন তাকিয়ে থাকে। তারপর বড় একটা নিঃস্বাশ ফেলে গোমটা খুলে নিজের চুলটা একবার বান্দে।
আঁচল থেকে পান খুলে মুখে দেয়। বাবার চোখের দিকে দেখে। তার চোখ অসম্বব নির্লিপ্ত। একটা করুন মুখ, অর্ধ খোলা চোখ নিয়ে তিনি মনে হয় খালার ঘারের দিকে তাকিয়ে থাকে। মনে হয় তিনি অসুস্থ্য।
ইতিমধ্যে তার চুল দাড়ি ফেলে দেয়া হয়েছে। এখন মাথাটা একটু কালো হয়ে উঠলেও খালি গায়ে তাকে শিশুর মতই লাগছে। কিন্তু সেই আগের চেহারাটা মোটেই আর নেই। তারা চুপচাপ বসে থাকে, হঠাৎ সে সোজা হয়ে বসে। তার চোখে মুখে একটা যন্ত্রনার ভাব আসে, সে কেমন যেন বিরক্ত হয়ে ওঠে।
খালা এবার পানের পিক পেটে চালান করে দিয়ে বলে কেমন আছো মমতাজ। ' বাবা ক্লান্ত ভাবে হাত উঠায়। খালার মাথাটা জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কাঁদে। খালাও কাঁদে। ফলে রকিবেরও হাতের উল্টা পিট দিয়ে চোখ মুছতে হয়।
এবং সে খেয়াল করে কখন যেন শিউলি এসে তার পিছনে দাঁড়িয়েছে। বউটার ভয় এখনও না কাটলেও একটু আগে মমতাজ কে দুধ সেই খাইয়েছে। খালাকে জরিয়ে ধরে বাবা কেঁদেই চলে এবং এক সময় মনে হয় সে খালার কাঁদের উপর ঘুমিয়ে পরে। কান্না একটু থেমে আসলে খালা একজন মায়ের মতই তাকে বিছানয় শুয়ে দেয় এবং তুমি ঘুমাও এখন তোমার অনেক ঘুম প্রয়োজন। আমি আছি কোন সমস্যা নাই।
'
মরজিনা খালা পাঁচ দিন ছিল। যাওয়ার আগে সে রকিবকে উপদেশ দেয় তোমার বাবা সত্যি সুস্থ্য হয়ে গেছে রকিব। এ আল্লার এক অসীম দান। একে অবহেলা করো না। বাড়িতে লোক আসা কমাও।
' মরজিনা খালা চলে গেলে বাকি থাকে বাবার কিছু বন্ধু বান্ধব আসা। এরা অনেক দিন থেকেই আসতে চাচ্ছে। এরা বলে মমতাজকে তো একটা কংরাচুলেশন জানাতেই হয়, সে রিটাংটু ওয়ান্ট। এতো দিন রকিব তাদের আত্নীয় স্বজনদের জামেলায় তাদেরকে বাড়িতে আনতে পারেনি । এখন আগামি তের তাকিখের ডেট দিয়ে সে সবাইকে একটা করে মেইল করে।
কাউকে কাউকে ফোন করে । সে মোটা মুটি একটা ভোজের আয়োজন করে। কেননা যারা আসবে তারা শহরের মোটামুটি ইস্টাবলিষ্ট ব্যবসায়ী আর যারা চাকুরিজীবি তারাও সব বড় বড় পোষ্টে কাজ করে। রকিব তার বাবার সাথে বিস্তারিত আলোচলা না করলেও তাকে জানায় বাড়িতে তোমার বন্ধুরা আসেছে। '
তের তারিখ সন্ধ্যা বেলা যে, তাদের বাড়িটা লোকে লোকারণ্য হয় তা নয়।
কিন্তু এতো গাড়ি তাদের বাড়ির সামনে দেখে এলাকার লোক বুঝতে পারে যে কিছু একটা আয়োজন চলছে বাড়িতে। দেখা যায় মমতাজ সবাইকেই চিনতে পারে। খাওয়া শেষে কারো কারো সেঙ্গে সে খোশ গল্প করে। গল্প অবশ্য তারাই বলে। তারা বহুত হাতি গোড়া মারে।
দেশ বিদেশে তাদের ব্যবসার অবস্থা বর্ননা করে। কেউ কেউ সরকারের সমালোচনা করে। বিশ্বের বর্তমান অবস্থা নিয়ে তর্ক বির্তক করে। যদিও বাবাকে রকিব দেখে, তার ছোট বেলার বন্ধু মমিন মিয়ার সেই কঙ্গেবল আলাপ করতে। যে কিনা একটা সাবান পেক্টরীর মালিক ।
এতো বড় বড় লোককে তার বাসায় দেখে রকিক ধারণা করতে পারে তার বাবা কত বড় মানুষ, গর্বে তার বুকটা ফুলে ওঠে। বউ একমাত্র পান খাওয়া করিম মিয়ার কে পান দিতে আসলে রকিব তার হাতে মৃদু চাপ দেয়। কিন্তু বউ তার দিকে তাকালে সে কিছুই বলতে পারে না। প্রায় এগারো টার দিকে সবগাড়ি গুলি চলে গেলে রকিব সবাইকে এগিয়ে দিয়ে একটা সিগারেট খেয়ে ফেরত এসে দেখে বাবা এরি মধ্যে ঘুমিয়ে পড়েছে। শিউলি তার পায়ের উপর কাথা তুলে দিচ্ছে।
তারপর ঘরের লাইট গুলো বন্দ করে দিয়ে তারাও ঘুমিয়ে পরে। অনেক দিন পর রকিব ভাবে। তাকে আবার অফিস যেতে হবে। অপিস থেকে সে এক মাসের ছুটি নিয়ে ছিল ।
রাত ২টোর দিকে এক ভদ্রলোককে ফল করে একটা পুলিশের গাড়ি।
ভদ্রলোক ছুটটাই জামাজুতা পরা। লম্বায় অন্তত ছয় ফুট হবে, তার গায়ের রং কুচকুচে কালো। মাথার চুলগুলো ছোট করে ছাটা। সে একবার ছয় নম্বর গলিতে ঢোকে আবার বের হয় । আবার নয় নম্বব গলিতে ঢোকে।
আবার সাত নম্বর । পুলিশের গাড়ি গলির মধ্যে না ঢুকলেও ভদ্রলোক যে গলিতে ঢোকে তার সামনে দাঁড়িয়ে থাকে। শেষে ভদ্রলোক পাগলটা ঘর থেকে বেরিয়ে যেখানে বসে থাকতো সেখানে এসে দাঁড়ায়। সে চোরের মত এদিক ওদিক তাকায়। আকাশের দিকে তাকিয়ে কি যেন খোঁজে।
মনে হয় সে পুলিশের গাড়িটাও দেখে না। তারপর ভদ্রলোক জামা কাপড় খোলে। পুলিশের গাড়ির হেড লাইটের আলোতে তাকে স্পস্ট দেখা যায়। গায়ের কোটটা খুলে সে এক দিকে ছুঁড়ে দেয়। পেন্টটা ধুমরে মুচরে অন্য দিকে ছুঁড়ে মারে।
জুতাগুলো লাথি দিয়ে সরিয়ে দেয়। শেষে ভদ্রলোক পুরপুরি নেংটো হয়ে মরচে ধরা চাঁদটার দিকে তাকায়। আর উচ্চ শব্দে একটা হাসি দেয়। ধ্বনি প্রতিধ্বনিত হয়ে সেই হাসি মনে হয় সারা এলাকায় ছড়িয়ে পরে। হাসির শব্দে অসংগতির মত দাঁড়িয়ে থাকা পাশের বটগাছটার পাতাগুলো হয়তো কেঁপে ওঠে।
লোকটার চোখে মুখে এখন একটা উদভ্রান্তি এসেছে । সে নাকমুখ খিচিয়ে এক দলা থু থু ফালায়। সেই নেংটো লোকটা পাখির ডানার মত করে হাত উচায়। তারপর হঠাৎ সে পুলিশের গাড়িটার দিকে খিচ্ছা দৌড় দেয়। পুলিশের গাড়িটা হয়তো ভয় পেয়ে যায়।
সেটা প্রথমে ব্যাকের দিকে ক্ষিপ্র গতিতে কিছু দূর গিয়ে রাস্তার ধূলায় এলাকটা অন্ধকার করে দিয়ে প্রচন্ড গতিতে দুরের দিকে মিলিয়ে যায়।
তারপর ছয় নম্বর গলি থেকে একটা কুকুর একটা সাদা বেড়ালকে তারা করে নিয়ে আসে। গুটগুটে অন্ধকারে চাঁদের আলোয় ছয় নম্বর গলির মাথায় এসে তারা পুকুর বেড়াল প্রচন্ড শব্দে ঝগড়া করে। এলাকায় যারা রাতে ঘুমাতে পারে না তারা সারা রাত একটা কুকুর আর বেড়ালের মধ্যে ঝগড়া শোনে।
কাক ভোরে কিছু মুসুল্লি পাগলটা সেখানে বসে থাকতো সেখানে কিছু একটা ঘিরে রাখে।
তারা নিরব দৃষ্টিতে কিছু একটা দেখে। ছয় নম্বর গলির ভেতর থেকে ক্ষিপ্র গতিতে বের হয় রকিব । তার চোখ মুখ উদদ্রান্ত। তাকে দেখে বোঝা যায় না কোন দিকে যাবে। শেষে জটলাটা দেখতে পেয়ে দ্রুত পায়ে সে সেই দিকে আসে ।
তাকে আসতে দেখে মুসুল্লি সবাই একটা লাইল হয়ে যায়। এবং সুর্য্যের লাল আলোয় দেখা যায় একটা বিড়াল মরে পড়ে আছে। রকিব কিছুক্ষন সে দিকে তাকিয়ে থাকে। শেষে পুলিশের গাড়িটা রাতে যে দিকে গেছে। সেই দিকে দ্রুত পায়ে হাঁটা দেয়।
তাকে অফিস গামিদের থেকে আলাদা করা যায়, কেননা তার পা ছিল সম্পূর্ন নগ্ন।
২৮/৪/২০১০
(অপ্রকাশিত) ।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।