আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

রাগ বশীকরণ ও সাফল্যের প্রাথমিক মন্ত্র

রাগ কে ডিলিট করুন, ঝেরে ফেলুন একে বারে মন থেকে। আমাদের শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির অন্যতম কারন হচ্ছে রাগ। এই জন্যই বলা হয় “রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন”। একে বাড়েই রাগহীণ মানুষ পাওয়া এই বিংশ শতাব্দীতে বিরল। এটা মানুষের একটা সহজাত প্রবৃত্তি।

আপনার এই প্রবৃত্তিকে কি ভাবে আপনি নিয়ন্ত্রণ করছেন তার উপর আপনার সাফল্যর একটা বিরাট অংশ নির্ভর করছে। রাগ আপনাকে নিয়ন্ত্রণ করার পূর্বে আপনিই রাগের উপর নিয়ন্ত্রণ নিন, যেকোন কাজের গভীরে মনোনিবেশ করুন, সুক্ষভাবে পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনা করুন রাগ অনেকাংশে কমে যাবে। আপনার কম্পিউটার এর মাউস আর কীবোর্ড এর মতো নিজের মন কে নিয়ন্ত্রণ করুন। যখন একে বারেই পারবেননা মনের ইচ্ছার বিরুদ্ধে হলেও নিচের কাজ গুলি করুন। • ১ খুব হাশি খুশি একজন মানুষের সাথে কথা বলুন আমাদের সমাজে আমাদের আশে পাশে এমন কিছু মানুষ থাকে যারা একে বারেই টেনসন লেস।

কোন বিপদকেই যারা ভুরুক্ষেপ করেননা। কথা বলুন আত্ম বিশ্বাস বেড়ে যাবে রাগও কমে যাবে। অথবা আপনার সবচেয়ে পছন্দের মানুষটির সাথে প্রান খুলে কথা বলুন রাগ অনেকাংশে কমে যাবে হাল্কা হয়ে যাবেন। (আত্ম পরিক্ষিত) • ২ নরমাল পানির সাথে ঠাণ্ডা পানি মিলিয়ে পান করুন, সম্পূর্ণ মুখটিকে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন, এখন বিশাল আকাশ টার দিকে তাকিয়ে দেখুন আর চিন্তা করুন আপনি কত তুচ্ছ, নগন্য, কত ছোট আপনার জীবন। • ৩ চোখ বন্ধ করুন, বড় বড় করে ধীরে ধীরে ৩/৪ সেকেন্ড পর্যন্ত শ্বাস ভিতরে রাখার চেষ্টা করুন এই সময় রাগের বিষয় ভুলে যান শুধু শ্বাস প্রশ্বাস হিসেব করুন ।

• ৪ যতটা সম্ভব সংশ্লিষ্ট বিষয় পরিবর্তন করুন সেটা যাই হোক মানুষ, কথা, খাবার, অবস্থান, চিন্তা প্রভৃতি। • ৫ উল্লেখিত বাক্যাংশ গুলো ব্যাবহার করবেননা সবসময়, অবশ্যই, কখনও, কর্তব্য, সঠিকনয়। • মানসিক ভাবে শক্ত হন। মনে রাখবেন আপনার মনের পরিচালক আপনি নিজে। আপনি পারবেনই, পারতেই হবে, অসাধ্য কিছু নেই।

মানসিক ভাবে শক্ত মানুষেরা চাপের অধিনে তাদের সেরা কাজ উপহার দেয়। মানুষকে সামর্থ্যনুযায়ী সাহায্য করুন। মনে রাখবেন আপনি যখন অন্য কেউকে টেনে তুলছেন তার পূর্বে ভালো ভাবে দেখে নিন আপনার পায়ের নিচের মাটি যেখানে আপনি দাড়িয়ে আছেন সেটা যথেষ্ট শক্ত কিনা। খুব ভালোভাবে চিন্তা ভাবনা না করে কোন কাজ না করার জন্য আমরা ছোট বেলা থেকেই উপদেশ পাই। তার পরও আমরা এই ভুল বারে বারে করি তার প্রধান কারন নিম্নরুপঃ • আমরা যে কোন কাজের জন্য খুব দ্রুত সাফল্য চাই।

• পরিশ্রমের চাইতে সাফল্য বেশী চাই। • কর্মফল বা সাফল্যের জন্য বৃহৎ পরিসরের কোন চিন্তা করি না। • সাময়িক ও দ্রুত ফল লাভের চেষ্টা করি। স্ব সন্ধেহের চাইতে বেশী কাজ করুন। মনে রাখবেন আপনার চাইতে সফল ব্যক্তিরও দৈনিক সময় ২৪ ঘণ্টা।

ডাইরিতে লিপিবদ্ধ করুন আপনার চিন্তা - ধারণা, অনুভূতি এবং ব্যক্তিগত বিকাশের অগ্রগতির রেকর্ডিং, যা কাজ করবে একটি দৈনিক পত্রিকার মত। প্রতিদিন নিজের জন্য সময় বের করুন চোখ বুলিয়ে নিন আত্ম পত্রিকা। সমান গুরুত্ব ও মনোযোগ দিয়ে সফল ও ব্যর্থ মানুষের ঘটনা শুনুন, আপনি নিজেও জানেননা কবে ও কিভাবে তা কাজে লাগবে। কারো প্রতি কোন রাগ, ক্ষোভ, হিংসা, বিদ্বেষ ও ঘৃণা কিছু রাখবেননা এমন কি শত্রুর সাথেও না। বিপদজনকও অপছন্দনিও মানুষ থেকে দূরে থাকুন।

মানুষ ও জীব কে মন থেকে ভালবাসতে শিখুন আপনিও তার চাইতে বেশী ভালবাসা পাবেন চ্যালেঞ্জ। খুব মনোযোগ দিয়ে বক্তার কথা শুনুন কারন সে অন্যের সম্পর্কে যা বলছে, আপনার সম্পর্কেও একই ভাবে বলে আর একজনের সাথে। কোন পছন্দের মানুষদের সহচর্য পেতে তাদের পছন্দের মানুষকেও যতটা সম্ভব ভালবাসতে ও সন্মান করতে হবে। বিখ্যাত মনোবিজ্ঞানী ক্যাথরিন এলিসন বলেন “মনোযোগ, আবেগ নিয়ন্ত্রণ এমনকি ভালোবাসার মতো দক্ষতাও নিজের ইচ্ছা শক্তি দ্বারা পারা সম্ভব ” মনোবিজ্ঞানীদের দ্বারা নির্ণীত রাগের বর্ত্ম মনোবিজ্ঞানী এডওয়ার্ড ডি ব্রুনো বলেন “আপনি আপনার মনকে পরিবর্তন করতে না পারলে কিসের জন্য এটি আছে?” আপনি নিজেই নিজের মনের নিয়ন্ত্রনকারি হন, আপনার সর্বোচচ সাফল্য, সুস্থতা, পবিত্রতা নিজেই নিয়ন্ত্রণ করুন। আল্লাহ সহায় হন।

সোর্স: http://www.somewhereinblog.net     দেখা হয়েছে ১৯ বার

এর পর.....

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।