আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

নযটার ট্রেন কয়টায় ছাড়ে?

রেলমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের প্রতিশ্রুতির জোয়ারে ভাসছে ট্রেন। কিন্তু সে অনুযায়ী যাত্রীসেবা মিলছে না। ঈদ সামনে রেখে একের পর এক শিডিউল বিপর্যয় ঘটছে ট্রেনে। সরেজমিন স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও সঠিক সময়ে ট্রেনের দেখা পাচ্ছে না যাত্রীরা। সকালের ট্রেন আসছে দুপুরে।

দুপুরের ট্রেন বিকালে। বিকালের ট্রেন রাতে আসবে কি-না তা যাত্রীরা জানেন না। যাত্রীদের অভিযোগ, অল্প সময়ে রেলসেক্টরে একের পর এক মন্ত্রী বদল হলেও রেলে সঙ্কট কাটেনি। বিশেষ করে ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয়ের কারণে যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। যাত্রীরা মনে করছেন বাংলাদেশ রেলওয়ের দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন হয়নি, কেবলই মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের প্রতিশ্রুতির জোয়ারে ভাসছে ট্রেন সার্ভিস।

আর এদিকে রেলমন্ত্রী বিভিন্ন সভা, সেমিনার ও সংবাদ সম্মেলনে একটা কথাই বলছেন, তিনি কাজে প্রমাণ করতে চান। শুধু প্রতিশ্রুতি দিতে চান না। এনিয়ে ক্ষুব্ধ এক যাত্রীর মতে, মন্ত্রী শুধু কথাই বলে যাচ্ছেন। শনিবার রাতে কমলাপুর স্টেশনে টিকিট হাতে ট্রেনের জন্য অপেক্ষমাণ যাত্রী ওয়াহিদুল ইসলাম বলেন, রেলমন্ত্রী টেলিভিশনের ক্যামরায় প্রতিশ্রুতির বয়ান দিচ্ছেন বাস্তবে ট্রেনের কোনো উন্নয়ন হয়নি। রেল মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি বলেছেন ৯টার ট্রেন ৯টায় আসবে অথচ ৯টার ট্রেনের খবর এখন দুপুর ১২টায়ও থাকে না।

গত চারদিন কমলাপুর স্টেশনে সরেজমিন দেখা গেছে, বেশিরভাগ ট্রেনই নির্ধারিত সময়ে আসেনি। এনিয়ে যাত্রীরা কমলাপুর রেলস্টেশন ম্যানেজারের কাছেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। নির্ধারিত সময়ে ট্রেন না আসার বিষয় স্বীকার করে কমলাপুর রেলস্টেশন ম্যানেজার খায়রুল বাশার জানান, নির্ধারিত সময়ে ট্রেন আসার জন্য রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ কাজ করে যাচ্ছে। একদিনে তো দীর্ঘদিনের সমস্যা নিরসন সম্ভব নয়। রেল সেক্টরের এখন মন্ত্রী আছেন, তিনি রেলের অভিভাবক, মন্ত্রী কাজ করছেন রেলের উন্নয়নে।

যাত্রীদের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, শিডিউল এলোমেলো হলে যাত্রীরা অভিযোগ করবে এটা স্বাভাবিক। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রেলের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ট্রেনে ইঞ্জিন-কোচসহ অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এসব কারণে ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় ঘটছে। এবারের ঈদে যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ট্রেনের সময়সূচি ভেঙে পড়ার কারণ জানতে চাইলে রেলের একাধিক ড্রাইভার জানান, মেয়াদোত্তীর্ণ ইঞ্জিন দিয়ে বেশিরভাগ ট্রেন চলছে।

এসব মেয়াদোত্তীর্ণ ইঞ্জিন দিয়ে ট্রেনের গতি বাড়ানো যায় না। যে কোনো সময় ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এবারের ঈদেও ট্রেনে শিডিউল বিপর্যয় হবে সে ব্যাপারে নিশ্চিত ট্রেন চালকরা। বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আবু তাহের জানান, শিডিউল বিপর্যয় যেন না হয়, সেজন্য তারা আন্তরিকভাবে কাজ করছেন। ঈদ উপলক্ষে যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখেই ট্রেনে কিছুটা ধীরগতিতে চালাতে হবে।

এর কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, কোনো কোনো ট্রেনে যাত্রীরা ছাদে বা ইঞ্জিনের চারপাশে এমনভাবে বসেন, যে ড্রাইভার সামনের কিছুই দেখতে পান না। ফলে বাধ্য হয়েই গতি কমিয়ে ট্রেন চালাতে হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, দক্ষ ট্রেন চালকদের অনেকেই অবসরে চলে গেছেন। অপরদিকে ইঞ্জিন ও বগি দেয়া হচ্ছে জোড়াতালি দিয়ে। তাই কোনো কারণে একটি ট্রেনের সময়সূচি ভেঙে গেলে অন্য ট্রেনের ওপরে তার প্রভাব পড়ে।

এদিকে যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের রোববার দুপুরে কমলাপুর রেলস্টেশনে সাংবাদিকদের বলেন, ঈদ উপলক্ষে ট্রেনের শিডিউল রাখতে পারবেন না। ঈদে সময়সূচি মেনে ট্রেন চালানো সম্ভব নয়। এর কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, রেলসেক্টরে তুলনামূলক উন্নতি হলেও সঙ্কট কাটেনি। বগি ও ইঞ্জিনে সঙ্কট থাকায় ট্রেনের শিডিউল ঠিক রাখা সম্ভব নয়। তাছাড়া সঠিক সময়ে যাওয়ার চেয়ে নিশ্চিন্তে যাতে মানুষ গন্তব্যে যেতে পারে সে বিষয়টিকেই তিনি গুরুত্ব দিচ্ছেন।

তবে রোববার কোনো শিডিউল বিপর্যয় ঘটেনি বলেও দাবি করেন মন্ত্রী। যদিও কমলাপুর স্টেশন সূত্রে জানা যায়, রোববারও নির্ধারিত সময়ে ট্রেন আসেনি কমলাপুরে। চট্টলা ট্রেন ছেড়েছে সাড়ে ৩ ঘণ্টা পর। এছাড়া ঢাকা মেইল ৩ ঘণ্টা, যমুনা ৩ ঘণ্টা ও অগি্নবীণা ২ ঘণ্টা পর কমলাপুর স্টেশন ছেড়ে গেছে। ট্রেনে লোকবলের সঙ্কট রয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, লোকবলের সঙ্কট আমাকে মন্ত্রী বানিয়েছে।

সুত্র: দৈনিক যায় যায় দিন ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.