আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

প্রিয়জনদের স্বপ্নভঙ্গের কষ্টেই ব্যথিত নাসরিন

কতটা স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিল নাসরিন। এক দিন তিনি ইঞ্জিনিয়ার হয়ে বের হবেন । মা-বাবা যে স্বপ্ন দেখতেন স্বেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারলেই তো বাবা মার মুখে হাসি ফুটবে। সেই আশাতেই তার এগিয়ে যাওয়া। প্রতিনিয়ত নিজের আপন মনে স্বপ্ন বুনা ক্যারিয়ার নিয়ে।

পাস করে বের হয়ে কোথায় নিজেকে দেখতে চান তাই নিয়ে কত শত পরিকল্পনা করেন তিনি। মায়ের স্বপ্ন মেয়ে ইঞ্জিনিয়ার হবে আর সেই আশা যেন পূরণ হয় তার জন্য মায়ের যে কি পরিমাণ ত্যাগ তা সহজেই বুঝা যায় তার কথা থেকে। কারণ, সকালে জ্ঞান ফিরলে ওয়ার্ডে আনার পরই বন্ধুদের জিজ্ঞাসা করলেন, ‘মা কি জানে?’ এক পা কাটার যন্ত্রণা নিয়ে এখন হাসপাতালের বিছানায় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্রী শাম্মা নাসরিন। এত শারীরিক যন্ত্রণা, মানসিক আঘাতের পরও মেয়েটি চুপচাপ। বন্ধুরা বলছেন, প্রিয়জনদের স্বপ্নভঙ্গের কষ্টেই তিনি ব্যথিত বেশি।

এ যেন নিজের স্বপ্ন ভঙ্গের বেদনার হতাশা নয়, হতাশা মায়ের স্বপ্ন পূরণের পথে একটি বাধা পড়ায়। কারণ দীর্ঘ অস্ত্রোপচারের পর গত রোববার রাতে চিকিৎসকেরা মেধাবী মেয়েটির বাঁ পা হাঁটুর নিচ থেকে কিছু অংশ কেটে ফেলেছেন। সারা রাত অচেতন অবস্থায় অস্ত্রোপচার-পরবর্তী কক্ষে ছিলেন। রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাসে উঠতে গিয়ে সেই বাসেরই তলায় চাপা পড়েন শাম্মা। তাঁর দুই পায়ের ওপর দিয়ে চলে যায় বাসের চাকা।

রোববার রাতেই জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পংগু হাসপাতাল) দীর্ঘ অস্ত্রোপচারের পর তাঁর বাঁ পা হাঁটুর নিচ থেকে কেটে বাদ দেন চিকিৎসকেরা। আজ তাঁর আরেকটি অস্ত্রোপচার হতে পারে। ইতিমধ্যেই শাম্মার শরীরে আট ব্যাগ রক্ত দিতে হয়েছে। তাঁর সহপাঠীরা রক্তদাতাদের সংগঠন বাঁধনের সহযোগিতায় ‘ও নেগেটিভ’ রক্তের জোগান দিয়েছেন। আরও রক্ত লাগতে পারে।

দেশে যেন একের পর এক দুর্ঘটনা বেড়েই চলছে। নেই এর কোন প্রতি কার। এর হাত থেকেই প্রতিনিয়ত অকালে ঝড়ে যাচ্ছে অনেক প্রাণ। শারীরিক ভাবে অক্ষম হচ্ছেন শত শত মেধাবী নাসরিন। স্বপ্ন ভঙ্গের কষ্টে প্রতিনিয়ত তারিয়ে বেড়ায় তাদের ।

এ যেন স্বপ্ন ভঙ্গের এক অন্তিম যাত্রা। ।

সোর্স: http://www.somewhereinblog.net     দেখা হয়েছে বার

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।