আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

অসাধারণ এক জন মা-এর কথা

বাংলায় কথা বলি,বাংলায় লিখন লিখি, বাংলায় চিন্তা করি, বাংলায় স্বপ্ন দেখি। আমার অস্তিত্ব জুড়ে বাংলা ভাষা, বাংলাদেশ। মা-মনি মিহি -----ড. নিয়াজ উদ্দীন পাশা উচ্চ শিক্ষার্থে মালয়েশিয়ায়। সাথে স্ত্রী- আশা, ছোট্ট মেয়ে- মিহি; দেশে মা। মিহিকে আমি আম্মু বলে ডাকি।

আমার শ্বশুর মিহিকে আমার মা’র নামে ’নেক বানু’ বলে ডাকে। তার শানে নজুল হচ্ছে, মিহির জন্মের পর পর আশা মেয়েকে আমার কোলে তুলে দিয়ে বলেছিল, ”তুমি চেয়েছিলে মেয়ে তোমার শ্বাশুরীর মতো হউক, এই দেখ, মেয়ে আমার শ্বাশুরীর মতো হয়েছে। ” অর্থাৎ মেয়ে আমার মা’র মতো হয়েছে। তাই এ পোনো। ছেলে ফাহিম দেশে থাকে।

মিহিকে নিয়ে আমাদের সব কর্মকান্ড। কিছু নিয়ে রাগ করলে, মিহি’র হুমকি, ” তোমাকে আমি আর ঔষধ, পানি দেব না। ” আমি বলি, ”আমার দু’টি মা, তুমি না দিলেও সে দেবে!” কোথায়, তোমার আর একটা মা ? তার জিজ্ঞাসু প্রশ্ন। ’তাঁকে তুমি দেখতে চাও?’ মিহি’র হ্যাঁ সূচক জবাবে আমি বড় একটা আয়না তার সামনে ধরে বলি, দেখতে পাচ্ছ ? তার সহজ সরল উক্তি ”এ তো আমি, আমার মুখ। ” আমি বলি, ’হ্যাঁ! তুমি যে আমার মা, মায়ের ছায়া, মায়ের মুখ-প্রতিছবি।

’ ভাবি, আমি মা’র রক্তে মাংসে গড়া, আর মেয়ে আমার। এখন মেয়েই আমার তদারকি করে। মেয়েই হয়ত মা হয়ে ফিরে আসে ! দেশে ফিরে প্রচন্ড অসুস্থ হয়ে পরি। বাইপাস অপারেশনের পর কিডনীতে সমস্যা দেখা দেয়। ডাক্তারের পরামর্শ, কিডনী প্রতিস্থাপন করতে হবে, চলছে হেমো ডায়ালাইসিস।

এজন্য প্রচুর অর্থ ও একটি সুস্থ কিডনী দরকার। আমি অত্যন্ত সুভাগ্যবান। আমি কৃতজ্ঞ। আশা জাগানিয়া ভালবাসা নিয়ে দেশ-বিদেশে অবস্থানরত আমার বন্ধুরা এগিয়ে আসেন। সব ক’টি মহাদেশে আমার জন্য মুনাজাত, দোয়া হয়।

অন্যদিকে আত্নীয়-স্বজন খোজ করছেন কিডনী দাতার। তাঁদেরও যে কিডনী রয়েছে, সেটা তাঁরা ভুলে গেলেন! ভূলেননি একজন। আর তিনি হচ্ছেন- আমার মা! এ বৃদ্ধ বয়সেও তাঁর নাড়ি-ছেড়া ধন, প্রথম সন্তানের প্রাণ বাঁচাতে গ্রাম থেকে ছুটে আসেন। আমি অবারও মা’র অফেরতযোগ্য, নিঃস্বার্থ ভালবাসায় সিক্ত হই। মনে পরে, আমার মা, হাওরাঞ্জলের সাধারণ এক কৃষক বধূ, ছেলেকে পড়ানোর অদম্য সাধনা।

তাঁকে পড়িয়েছেনও, দেশের সেরা স্কুল-কলেজে, বিশ্ববিদ্যালয়ে। যৌথ পরিবারে মা আমার- ভাল খাবার, দুধের সর, দই এর ডাইলা (হাড়ি) আগলা করে রাখতেন; গোপনে ’বৈশাখে’ ধান বিক্রিতে নিরব থাকতেন; হাঁস পালন ও মুরগীর ডিম বিক্রি করে টাকা জমাতেন; ঘি তুলে রাখতেন, ছেলেকে দেবেন বলে। মা’র দেয়া ডিম বিক্রি করে বাজারে গিয়ে মামলেট খেতাম। গ্রামের মেঠো পথে এখনো পথ পানে চেয়ে থাকেন। আমি ডায়াবেটিকস জনিত বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছি।

মা, নিয়মিত ফোন না পেলে কান্না সঙ্গী। নিজের জীবনের বিনিময়ে হলেও তিনি সন্তানের আরোগ্য কামনা করেন। মানুষের দোয়াতেই আমি বেঁচে আছি, আমি তাঁদের কাছে ঋণী। আমার কামনা, হে আল্লাহ! এ ঋণ শোধের; মা, মানুষ আর মাতৃভূমির সেবা; তাঁদের ভালবাসার প্রতিদানের শক্তি, সামর্থ, সাহস ও মানসিকতা দাও। আমার মা, আর সব মায়ের মতো, সব বিলিয়ে নিজের নামটাও মিশিয়ে দিয়েছেন, ’নিয়াজ’র মা’র মাঝে।

মানুষ বাঁচে কর্মে, বয়সে নয়, সন্তানের মাঝে! এ এক্ষেত্রেও তেমন ব্যতিক্রম নয়। ড. নিয়াজ উদ্দীন পাশা, কৃষি প্রকৌশলী, সার্ক কৃষি কেন্দ্র, ফার্ম গেট, ঢাকা। ফোন:- ০১৭২ ৭০৭৪ ৫৮৪ ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।