আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

বেহেশতি মহিলা

রাসূল সা. এর নিকট একজন মহিলা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হল। যে নফল ইবাদত খুব একটা বেশি করতো না। শুধু ফরজ ওয়াজিবগুলো যতœসহকারে আদায় করতো, বড় জোর স্ন্নুাতে মুআক্কাদার গুরুত্ব দিত। প্রতিবেশীর সঙ্গে তার আচরণ ছিল সন্তোষজনক। প্রিয়নবী সা. ইরশাদ করলেন, সে বেহেশতে যাবে।

হজরত উম্মে সালমা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলে আকরাম সা. বলেছেন, যে মহিলা এমতাবস্থায় মারা গেল যে, তার স্বামী তার উপর সন্তুষ্ট, তাহলে সে সরাসরি জান্নাতে প্রবেশ করববে। তিরমিযী শরীফ ফাতিমা রা. এর আদর্শ অনুসরণ করতে হবে নবী-কন্যা হজরত ফাতিমা রা. বেহেশতি নারীদের নেত্রী। তিনি বিয়ের পর হজরত আলী রা. এর ঘরে আসেন। তাঁরা উভয়ে মিলে সিদ্ধান্ত নেন, হজরত আলী রা. বাইরের সকল কাজ আঞ্জাম দিবেন। আর ঘরের সব কাজ হজরত ফাতেমা রা. করবেন।

হজরত ফাতেমা রা. ঘরের কাজ সম্পন্ন করতে অনেক কষ্ট স্বীকার করতেন; কিন্তু অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথেই করতেন। তবুও স্বামীর খেদমতে কোনো অলসতা করতেন না। তার কাজগুলো খুব কষ্টের ছিল। বর্তমান বিজ্ঞানের যুগে কাজ করা তেমন কষ্টের বিষয় নয়। সুইচ টিপ দিলেই খাবার রেডি হয়ে যায়।

হজরত ফাতিমা রা. কে সকালে নিজ হাতে আটা পিষতে হতো। রুটি বানিয়ে তন্দুরে সেঁকতে হতো। তারপর তৈরি হতো রুটি। এভাবে রুটি প্রস্তুত করতে এবং চাক্কি ঘুরাতে হজরত ফাতিমা রা. কে হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করতে হতো। খাইবরের যুদ্ধের পর রাসূলে আকরাম সা. এর নিকট প্রচুর পরিমাণে গনিমতের মাল আসলো।

আসলো অনেকগুলো গোলাম-বান্দি। রাসূলে আকরাম সা. সাহাবায়ে কিরামের মাঝে তা বন্টন করে দিতে লাগলেন। তখন এক সাহাবি এসে হজরত ফাতিমা রা. কে বললেন, আপনি রাসূলে আকরাম সা. এর নিকট একজন কাজের বাদির আবেদন করুন যে আপনাকে সাহায্য করবে। হজরত ফাতিমা রা. হজরত আয়েশা রা. এর ঘরে আসলেন এবং তাকে অনুরোধ করলেন, আপনি আব্বাজানকে বলুন, আটার চাক্কি ঘুরাতে ঘুরাতে আমার হাতে দাগ পড়ে গেছে। পানির মশক টানতে টানতে আমার বুকেও দাগ পড়ে গেছে।

এখন তো গনিমতের প্রচুর গোলাম-বাদী এসেছে। যদি একটিা গোলাম বা বাদী আমাকে দেন তাহলে এতো কষ্ট-পরিশ্রম থেকে হাফ ছেড়ে একটু বাচতে পারি। একথা বলে হজরত ফাতিমা রা. চলে গেলেন। তারপর রাসূল সা. যখন ঘরে আসলেন। হজরত আয়েশা রা. রাসূলে আকরাম সা. এর দরবারে আরয করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার আদরের দুলালী ফাতিমা এসেছিল এবং এই কথাগুলো বলে গেছে।

প্রিয় পাঠক! রাসূলে আকরাম সা. তো হজরত ফাতিমা রা. এর বাবা। হজরত ফাতিমা রা. তার একান্ত আদরের কন্যা, কলিজার টুকরা। তাকে বলা হচ্ছে তার কলিজার টুকরার দুঃখ-দুর্দশার কথা। চাক্কি চালাতে চালাতে আর মশক টানতে টানতে ফাতিমার হাতে ও বুকে দাগ পড়ে গেছে। কলিজার টুকরা সন্তানের কষ্টের কথা শুনে একজন হৃদয়বান বাবা কতটা অস্থির হয়েছেন তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

কিন্তু রাসূলে আকরাম সা. যা করলেন তা চিরদিন হৃদয়ের গভীরে গেথে রাখার মতো। তিনি হজরত ফাতিমা রা. কে ডাকলেন এবং বললেন, ফাতিমা! তুমি আমার কাছে একজন গোলাম বা বাদী চেয়েছ। কিন্তু যতক্ষণ পর্যন্ত মদীনার প্রতিটি ঘরে গোলাম কিংবা বাদী না পৌঁছবে ততক্ষণ পর্যন্ত আমি মুহাম্মদ সা. তার কন্যাকে গোলাম বা বাদী দেয়া পছন্দ করি না। মেয়েদের সর্বোত্তম জিনিস তাসবিহ ফাতেমি অতঃপর রাসূলে আকরাম সা. বললেন, তবে মা! আমি তোমাকে একটি আমল শিখিয়ে দিব যে আমলটি গোলাম-বাদির থেকেও উত্তম হবে। রাতের যখন তুমি ঘুমোতে যাবে তখন ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদু লিল্লাহ এবং ৩৪ বার আল্লাহু আকবার পাঠ করবে।

এটা তোমার জন্য গোলাম-বাদি থেকে উত্তম হবে। হজরত ফাতিমা রা. বিশ্বনবী মুহাম্মদ সা. এর কন্যা। প্রতিবাদ করা তার স্বভাব নয়। খুশি মনে রাসূল সা. এর কথা মেনে নেন। সরলতা নারীর শোভন আধুনিক যুগের বাতাস বইছে উল্টো দিকে।

আভিজাত্যের হাওয়ায় গা এলিয়ে দিয়ে অনেকেই অনেকটা বদলে গেছে। চিন্তা ধারারও পরিবর্তন ঘটেছে অনেক। নইলে প্রকৃত সত্য হলো, পুরুষের জন্য যা দোষণীয় নারীর জন্য তা অনেক ক্ষেত্রে দোষণীয় নয়, বরং নারীকে তা করে তুলে আরো মনোহর। কুরআন শরিফের প্রতি গভীর মনোযোগ দিলে বোঝা যায়, অনেক বিষয় যা পুরুষের জন্য অমার্জিত, নারীর জন্য তা ভূষণ। যেমন, পুরুষের জন্য মূর্খতাসূলভ স্বভাব ও সরলতা শোভনীয় নয়।

দুনিয়া সম্পর্কে উদাসীন থাকা পুরুষের জন্য বে-মানান। কারণ, জাগতিক কাজ-কারবারের দায়িত্ব আল্লাহ পুরুষের কাধে দিয়েছেন। সুতরাং তার জাগতিক জ্ঞান থাকতে হবে। তাকে হতে হবে যথেষ্ট সতর্ক । যদি সে উদাসীন থাকে।

থাকে অসতর্ক ও অসচেতন তাহলে সেটা তার জন্য মোটেও মানানসই হবে না। অথচ উদাসীনতা গুণ, সারল্যের বৈশিষ্ট্য নারীর জন্য প্রশংসনীয়। তার জন্য এটি ভূষণ ও শোভাবর্ধক। কুরআন শরিফে সূরা নূর-এ এরশাদ হয়েছে- ‘যারা সতীসাধ্বী সরলমনা ঈমানদার নারীদের প্রতি অপবাদ আরোপ করে.....’। এ আয়াত থেকে বুঝা গেল, নারী যদি জাগতিক ব্যাপারে অসচেতন হয়।

সমাজে চলার মতো জ্ঞান এবং সাংসারিক প্রয়োজনীয় কাজগুলো তার জানা থাকে তাহলে তা দোষের কিছু নয়। বরং এটা তার ভাল গুণ। কুরআন শরীফে গুণটি উত্তম হিসেবেই আখ্যায়িত হয়েছে। নারীর উত্তম গুণাবলী রাসূল সা. বলেছেন, কোনো ঈমানদার পুরুষ কোনো ঈমানদার নারীর প্রতি ঘৃণাভাব পোষণ করতে পারবে না। অর্থাৎ তাকে একেবারে অপদার্থ হিসেবে আখ্যায়িত করতে পারবে না।

এটাও বলতে পারবে না, তার মধ্যে ভাল বলতে কিছুই নেই। কারণ, তার কোনো কথা পছন্দ না হলেও এমন কিছু অবশ্যই তার মধ্যে আছে যা পছন্দনীয়। মহানবী সা. উক্ত মূলনীতির বর্ণনা এভাবে দিয়েছেন, দু’জন মানুষ এক সাথে এক জায়গায় থাকলে কখনো কোনো কথা ভাল লাগে আবার কোনো কথা খারাপ লাগে। তাই কোনো কথা খারাপ লাগলে তাকে একেবারে পুরোপুরী মন্দ বলা ঠিক হবে না। বরং তখন তার ভাল মন্দ উভয়টাকে স্মরণ করে ভাবা উচিত, তার মধ্যে ভাল গুণও তো আছে।

তার এই ভাল গুণটির প্রতি লক্ষ করে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় কারা উচিত। যাতে ভালোর আলোয় মন্দের তমসা কেটে যায়। বাস্তবেই মানুষ অকৃতজ্ঞ। দু’চার কথা অপছন্দ হলে একটা কিছু যেন হয়ে যায়। সেই বিষয়টি নিয়েই সে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।

তখন খুজে বের করে তার এই দোষ ঐ দোষ। যেন কোনো দিন তার গায়ে ভালোর বাতাসও। এই নিয়ে কতো কান্নাকাটি। সব সময় তার দোষ চর্চা করতে থাকে। তার সাথে ভাল ব্যবহারের তো প্রশ্নই উঠে না।

রমণীর ভাল গুণের দিকে লক্ষ কর আল্লাহ তা’আলা বলেছেন, “যদি তোমাদের (বিবাহে আবদ্ধ) নারীদেরকে অপছন্দ কর। তবে হয়তো তোমরা তাদের এমন কোনো বিষয় পছন্দ করছ যাতে আল্লাহ তা’আলা অনেক কল্যাণ রেখেছেন। ” তাই নির্দেশ হলো, রমণীদের ভাল গুণের প্রতি তাকাও। এতে তোমাদের অন্তরে প্রশান্তি আসবে এবং অসদাচরণের পথ বন্ধ হবে। জনৈক বুযুর্গের একটি শিক্ষণীয় ঘটনা হাকিমুল উম্মত হজরত মাওলানা আশরাফ আলি থানবি রহ. জনৈক বুযুর্গের একটি ঘটনা লিখেছেন।

বুযুর্গের স্ত্রী ছিল খুব ঝগড়াটে প্রকৃতির। ঝগড়া-ঝাটিতে সে মেতে থাকতো সর্বক্ষণ। ঝগড়া-ঝাটি, গাল-মন্দ আর লা’নত দিয়ে মহিলা নিজ ঘর যেন এক অগ্নিস্ফুলিঙ্গে পরিণত করেছিল। অবস্থা দেখে বুযুর্গকে কেউ বলল, বকা-ঝকা, ঝগড়া-ফ্যাসাদের এই মানুষটিকে আপনি লালন করছেন কেন? তাকে তালাক দিয়ে ‘কিসসা খতম’ করে দিলেই তো হয়। উত্তরে বুযুর্গ বললেন, তালাক দেয়া তো খুবই সহজ।

ইচ্ছা করলেই দিতে পারি। কিন্তু আসল ব্যাপারটা হলো, মহিলাটির মাঝে যেমন বহু দোষ আছে তেমন তার মাঝে একটি গুণও আছে। সে গুণটির কারণে তাকে আমি কখনো ছাড়বোনা। তালাকও দিব না। গুণটি হল, কৃতজ্ঞতা।

সে এমন কৃতজ্ঞ যে, কথার কথা যদি আমি কোনো কারণে গ্রেফতার হয়ে পঞ্চাশ বছরও জেলে থাকি তাহলে আমার বিশ্বাস, তাকে আমি যেখানে রেখে যাবো সেখানেই বসে আমার জন্য অপেক্ষ করবে। অন্য কারো প্রতি দৃষ্টিপাতও করবে না। আর কৃতজ্ঞতা এমন একটি গুণ জাগতিক কোনো বস্তুতে তার কোনো মূল্য হতে পারে না। হজরত মির্যা জানে জাঁনা রহ. এর নাজুক তবিয়ত হজরত মির্যা জানে জাঁনা রহ. এর নাম নিশ্চয়ই শুণে থাকবেন। তিনি ছিলেন একজন বড় মাপের আল্লাহর ওলি।

স্বভাব ছিল তাঁর খুবই নাজুক। খুবই উন্নত। তাঁর দরবারে কেউ কলসীর মুখে গ্লাস বাঁকা করে রাখলে যথারীতি তার মাথা ব্যাথা শুরু হয়ে যেত। স্বভাব যার এতোটা পরিশীলিত নাযুক যে, শয্যা বস্ত্রের সামান্য এলোমেলোয় যার মাথা ব্যাথা সৃষ্টি হয়ে যেত। কিন্তু তার স্ত্রীটি ছিল ভীষণ বদমেজাজী।

অসদাচরণ, নিয়ন্ত্রনহীন বাক-বিতণ্ডা, বকা-ঝকা ইত্যাদি অমার্জিত কিছু একটা নিয়ে সে মেতে থাকত সারাক্ষণ। আল্লাহ তা’আলা তার নেক বান্দাদেরকে অভিনব পদ্ধতিতে পরীক্ষা করেন। যেন তারা পরীক্ষায় সফলতা লাভ করে পৌঁছে যেতে পারেন মর্যাদার শীর্ষ চূড়ায়। মির্যা জানে জাঁনা রহ. এর জীবনেও ছিল এমন এক পরীক্ষা। এমন একজন বদস্বভাবের মহিলাকে নিয়ে তিনি পুরো জীবনটা কাটিয়ে দিয়েছেন।

তিনি প্রায়ই বলতেন, আল্লাহ তা’আলা হয়তো এ অসিলায় আমার গুণাহসমূহ মাফ করে দিবেন। মেয়েরা দুনিয়ার হুর হাকিমুল উম্মত হজরত আশরাফ আলি থানবি রহ. বলতেন, ভারতবর্ষের মেয়েরা পারিবারিক জীবনের জন্য হুরতুল্য। কারণ হিসেবে তিনি বলতেন, ভারতবর্ষের মেয়েদের মধ্যে কৃতজ্ঞতার গুণ আছে। তবে পশ্চিমাদের নিয়ন্ত্রনহীন সভ্যতার পাদুর্ভাবের পর থেকে ধীরে ধীরে সমাজ ও সভ্যতা থেকে এসব গুণ হারিয়ে যাচ্ছে। এরপরও ভারতবর্ষের মেয়েদের মধ্যে স্বামী-ভক্তির অনুপম বৈশিষ্ট্য এখনও বিদ্যমান।

সংসারে যতো কিছুই ঘটুক স্বামীর জন্য তারা প্রয়োজনে জীবন দিতেও প্রস্তুত। স্বামীই তাদের সকল আশা-ভরসার কেন্দ্রবিন্দু। তারা স্বামী ছাড়া অন্য কোনো পর-পুরুষের প্রতি দৃষ্টি তুলে তাকায় না। মূলকথা হলো, এই সমস্ত বুযুর্গানে দীন বাস্তবে এই হাদিসটির উপর আমল করে দেখিয়েছেন, ‘একটি বিষয় অপছন্দ হলে অন্যটি পছন্দ হতে পারে। ’ সেই গুণটির প্রতি তাকাও।

পছন্দের গুণটির প্রতি লক্ষ করে তার সাথে সদাচরণ কর। আমাদের সমাজের সব নষ্টের মূল এটাই। আমরা শুধু মন্দটাই বলি ভাল গুণের প্রতি তাকানর প্রয়োজনবোধও করি না। এক বোকা নারী থেকে শিক্ষা নাও হাকিমুল উম্মত হজরত আশরাফ আলি থানবি রহ. বলতেন, এক বোকা অশিক্ষিত মেয়ে থেকে শিক্ষা নাও। একটি বোকা মেয়ে দু'টো কথা উচ্চারন করে একজন পুরুষের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করে।

একজন বলে, আমি তোমাকে বিয়ে করলাম। অন্যজন বলে আমি কবুল করলাম। এই দু'টো কথাকে মেয়েটা এতটুকু সম্মান করে যে, যার জন্য সে মাতা-পিতা, ভাই-বোন বংশ পরিবারসহ সবকিছুর মায়া ত্যাগ করে একমাত্র স্বামীর জন্য হয়ে যায়। স্বামীর গৃহবন্দী হয়ে যায়। ছোট্ট দু’টি কথার মূল্যায়ন তার কাছে এতো বেশি! হজরত থানবি রহ. বলেন, একটি বোকা মেয়ের দু'টো মাত্র কথার প্রতি এতোটা গভীর আস্থা, শ্রদ্ধা ও হৃদ্যতা যে, সে এ দু'টো কথার সম্মান রক্ষার্থে সবকিছু পরিত্যাগ করে স্বামীর জন্য উৎসর্গিত হয়ে যায়।

অথচ তোমরা তো এতটুকুও পার না। তোমরাও তো দু'টো কথা এভাবে উচ্চারণ করেছ। কালিমায়ে তাইয়্যিবা- ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মদুর রাসূলুল্লাহ’ অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই। হজরত মুহাম্মদ সা. আল্লাহর রাসূল। কথাটুকু উচ্চারণ করেছ।

অথচ তোমরা যার জন্য দু'টো কথা পাঠ করলে তার জন্য উৎসর্গিত হতে পার না। এই কালিমার প্রতি বোকা মেয়েটির সমান আস্থা ও শ্রদ্ধাশীল হতে পারলেনা। মেয়েটি দু’টো কথার ইজ্জত রক্ষা করল, তার সবকিছু স্বামীর জন্য নিবেদন করে। কিন্তু তোমরা তো পারলে না আল্লাহর জন্য নিবেদিত হতে। নারীদের অসংখ্য কুরবানি তোমাদের জন্য প্রিয় পাঠক! নারীরা পুরুষের জন্য কত কষ্ট স্বীকার করে! অথচ বিধান যদি এর উল্টো হত? পুরুষকে যদি বলা হত, বিয়ের পর তোমরা তোমাদের পিতা ছেড়ে, বংশ পরিবার সর্বস্ব ত্যাগ করে চলে যেতে হবে স্ত্রীর বাড়িতে।

একটু ভাবুন! তখন কতো কঠিন হত! একটি নতুন পরিবেশ, অপরিচিত ঘর, অজানা অচেনা মানুষদের সঙ্গে সংসার পাতার উদ্দেশ্যে নারী স্বামীর গৃহাবদ্ধ হয়ে যায়। তাই রাসূলে আকরাম সা. বলেন, এর পরেও কি তোমরা নারীর এ ত্যাগের মূল্যায়ন করবে না? তাদের সাথে ভালো ব্যবহার করবে না? তাদের ত্যাগের সঠিক মর্যাদা দান তোমাদের জন্য আবশ্যক। (সংগৃহীত) ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।