আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

সালাম-ই-‘পাগলা’ আশিক

এটা আমার রাজত্ব সেমিনার কক্ষ... ছেলেপুলে সব এসে ভিড় করে রয়েছে এখানে। সবাই সিরিয়াস। পড়াশোনায় ব্যাস্ত। সামনে যে পরিক্ষা। ইফতিরও তাই আগমন সেমিনার এ।

যদিও সে লাইব্রেরী। সেমিনার আর ক্লাসরুম শ্রদ্ধাভরে এড়িয়ে চলে ইফতি। পড়াশোনা সারা বছর না করলেও পরিক্ষার আগে সেও সিরিয়াস হয়ে যায়। তাকে যদি নোট বলে পত্রিকা কাটিং ধরিয়ে দেয়া হয় তাও সে সংগ্রহ করে আগ্রহভরে। সেমিনারে সব বেঞ্চিই ফাঁকা।

তবে এক বেঞ্চের কোনায় একজনের বসার মত জায়গা আছে। ইফতি গেল বেঞ্চ দখল করতে। রাজনীতির সাথে যুক্ত ইফতি ধরা কে সরা জ্ঞ্যান করে তবে সে এক জায়গায় অতি দুর্বল... বেঞ্চে বসা সাকের। ইফতি ধমকে সাকেরকে বলল, ‘হারামজাদা সর, বসতে দে। ' মিন্মিন করে সাকের বলল, ‘ভাই, এখানে তো আফরোজ বসছে।

ঠিক আছে বস এখানে’। ইফতি বসেনা বেঞ্চে। ‘না থাক, আফরোজা বসছে না? বসলে আবার ও রাগ করবে থাক’- ইফতি আশ্বস্ত করল সাকের কে। ইফতির হৃদয়ে ব্যান্ড বেজে ওঠে আফরোজার কথা শুনলে। জামাকাপড়, ব্যাগ, মোবাইল আর মেকাপ মিলে ২৫ কেজি ৭০০ গ্রাম ওজনের ভেটকি হাসি মারা মেয়েটাকে কেন যে ইফতির এতো পছন্দ তা নিয়ে বোধ হয় স্বয়ং ঈশ্বরও দ্বিধাগ্রস্ত।

ইফতি দেখল টেবিলে একটা শীট রয়েছে তার উপরে নাম আফরোজার। আফরোজা ক্লাসের ফার্স্ট গার্ল। তাই সে আর লোভ সাম্লাতে পারলনা। সাকের কে বলল, ‘ওই, আফরোজা আসলে কইস ইফতি ভাই শীট নিছে। ফটোকপি কইরা আইনা দিব।

১০ মিনিটের মধ্যে’। ছুটে চলে গেল ইফতি শীট ফটোকপি করতে... আধা ঘন্টা পর আফরোজা আর ইফতি সামনা সামনি। বাঘও যে ভালবাসার সামনে বিড়ালে পরিনত হয় ইফতি কে দেখলে তার প্রমান হয়ে যাবে অবলীলায়। কাচু মাচু হয়ে দাঁড়িয়ে আছে আফরোজার সামনে। আফরোজা তাকে ঝাড়ছে ঝুল ঝাড়ার মত করে... - তুমি শীট নিয়েছ কাকে বলে? - ‘সা-আ-আ...কের কে বলে...ছি...লাম’ শুকিয়ে যাওয়া গলায় টেনে টেনে জবাব দিল ইফতি।

- শীট কার? সাকেরের না আমার? তোমার কত্ত বড় সাহস তুমি আমাকে না বলে আমার শীটে হাত দিয়েছ। ফাজিল। ইতর। - আমি তো... - চুউপ। - লজ্জা নাই তোমার।

আমার সামনে থেকে যাও। যত্তসব বেয়াদব ছেলে। সেমিনারের সবাই হা করে তাকিয়ে দেখছে ইফতির এই বলাতকার হবার দৃশ্য। ইফতিও আর কথা না বাড়িয়ে চলে এল সেখান থেকে। ... ২ বছর পর... আড্ডায় বসে আছে ইফতি আর রাসিদ এক কফি শপে রাসিদ - ওই ইফতি, হুনছস আফরোজার বিয়া হইয়া গেছে।

ইফতি - বিমর্ষ ভাবে আকাশের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে ‘হুম’ - কিরে বে? মন খারাপ ওর লাইগা? - আবারও ‘হুম’। - কিরে শালা মাইয়া বিয়া কইরা এতক্ষনে টুট কি টুট কইরা ফালাইছে আর তুই শালা হুম হুম মারাচ্ছিস। - হুম - ভাই কছম লাগে হুম হুম বাদ দিয়া কিছু ক। - কি কমু ক? খুব ভাল বাসতাম মাইয়াডারে। কইতেও পারলাম না।

তার আগেই বিয়া হইয়া গেল। - দোস্ত, মন খারাপ করিসনা। ওই আফরোজা না তোকে সবার সামনে ঝাড়ছিল। এই কথা মনে করে ওরে ঘৃণা করার চেষ্টা কর। দেখবি ভুলে গেছিস।

- না রে। ওই ঝাড়ি এতো সুন্দর ছিল এখনও আমার কানে বাজে। রাগলে ওরে অপরুপা লাগে রে। ওরে তো ভুইলা যামুই কোন না কোন একদিন। কিন্তু আপাতত ওরে ভালবাইসা কষ্ট পাইতে দে।

রাসিদ নির্বাক। চেয়ে রইল ইফতির দিকে। আর ভাবল ‘স্লা, ঝাড়িও রোমান্টিক হইতে পারে... যে এই পোলা সেই ঝাড়ির কথা মনে কইরা দুক্ষবিলাস করতেছে। আজিব ব্যাপার। এই কারনেই বোধ হয় কবি বলেছেন, পিরিতির আগুন এমনই আগুন তাতে পুড়লেও ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা লাগে’।

সোর্স: http://www.somewhereinblog.net     দেখা হয়েছে বার

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।