আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

সকালটা শুভ হবে যেভাবে

Shams কথায় আছে 'মর্নিং শো'জ দ্যা ডে'। দিনের শুরুটা যদি ঠিকমতো না হয় তবে তা 'শুভ সকাল' না হয়ে, হয়ে যায় 'অশুভ সকাল', আর পুরো দিনটায় থাকে তার প্রভাব। কারণ ঘুম থেকে উঠার পর সতেজ মস্তিষ্কটা এটা ওটার ঝামেলায় পড়ে গেলে সাড়া দিলে এনার্জিটা পুরো খয়ে যায়। কিন্তু একটু সতর্ক থাকলে শুভ সকালটা শুভই থাকে বিরক্তিকর কিংবা অশুভ হয় না। তাই শুভ সকালকে 'শুভ' রাখারঃ কৌশলগুলো হচ্ছে: ভোরে ঘুম থেকে উঠা : ঘুম থেকে যত ভোরে উঠা যায় তত ভালো।

এক তো এটা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো অন্যদিকে অভিভাবকরা এটা খুব ভালো চোখে দেখে না। ঘুম থেকে জেগে বিছানায় গড়াগড়ি অভ্যাসটা পরিত্যাগ করতে হবে। অলসতাকে একেবারে প্রশ্রয় দেয়া যাবে না। ঘুমকে ফুটবল বানিয়ে ফ্রি কিক মেরে মাঠের বাইরে পাঠিয়ে দিতে হবে। সকাল সকাল উঠলে পড়া, ক্লাস, পরীক্ষা কিংবা প্রাইভেটের জন্য তৈরি হতে হতে অনেক সময় পাওয়া যায়।

সবচেয়ে বেশি ঝামেলা তৈরি করে অনিয়ন্ত্রিত ঘুম কিংবা দেরি করে উঠা। এ জন্য সময় কমে যায়, দেখা দেয় যত অব্যবস্থাপনা । সুতরাং তাড়াতাড়ি ঘুমাতে যেতে হবে এবং তাড়াতাড়ি উঠতে হবে। এটা করতে পারলে তাহলে অর্ধেক ঝামেলা শেষ। সকালের পরিবেশ : নির্দিষ্ট সময় ঘুম ভেঙে গেলে আলসেমি করে বিছানায় পড়ে না থাকা ভালো।

ঘুম থেকে জেগেই বিরক্তিকর ও ঝামেলা হতে পারে এমন কাজ কাজ এড়িয়ে চলতে হবে। ঘুম থেকে উঠে ইতিবাচক চিন্তা করতে হবে কোন দুশ্চিন্তা বা নেতিবাচক চিন্তা আসলে তা ঝেড়ে ফেলতে হবে। ঘরের আলো বাতাসের ব্যবস্থা থাকতে হবে। ভোরের সজীব বাতাস অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর এবং উপকারী। রাতের পোশাক পাল্টিয়ে পরিষ্কার নতুন পোশাক পরলে দেখা যাবে মেজাজটা অনেক ফুরফুরে হয়ে যাবে।

ভোরের প্রার্থনা অনেক মানসিকশক্তি ও আত্মবিশ্বাস যোগায় তাই তা নিয়মিত পালন করার প্রয়োজন। সকালের ব্যায়াম করেই কোনোভাবেই বিশ্রামে যাওয়া যাবে না দ্রুত গোসল করে নতুন দিনের জন্য প্রস্তুতি শুরু করতে হবে। আগামী দিনের পরিকল্পনা : প্রতিদিন রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে আগামী দিনে কি কি কাজ আছে তার তালিকা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করে রাখতে হবে। সেটা পড়াশোনার সঙ্গে সম্পর্কিত যেমন: ক্লাস, পরীক্ষা, টিউশন বাড়ির গৃহস্থালির কাজ কোন বিল জমা দিতে হবে কি না, বাজার করতে হবে কি না, কোথাও যেতে হবে কি না এভাবে ভেবে চিন্তে কাজের তালিকা করে রাতেই হোয়াইট বোর্ডে বড় করে লিখে রাখতে হবে এমনভাবে যাতে ঘুম ভাঙলেই চোখে পড়ে। কারণ সময়ে সঙ্গে সঙ্গে দায়িত্ব বাড়বে, আর দায়িত্ববানরাই জীবনের সাফল্যের সিঁড়ি বেয়ে খুব সহজে উপরে উঠতে পারে।

যতটা সম্ভব এগিয়ে থাকা : সকালের কাজ রাতেই কিছুটা করে রাখলে একেতো সময়ের আগে চলা যায় আবার সময়ও বাঁচে। পড়া থাকলে যে সাবজেক্টেও বই পড়তে হবে তা টেবিলে ওপরে রাখ, স্কুল-কলেজের ব্যাগটা গুছিয়ে রাখা, আগামীকালে যে পোশাক পরা হবে তা ঠিক করে নির্দিষ্ট স্থানে রেখে দেয়া, ব্যাংকে যেতে হলে তার স্লিপ আগেই লিখে রাখা, শেভ করা লাগলে রাতে করে নেয়া, সকালের ও দুপুরের খাবারের কি খেতে ইচ্ছা করছে তা বলে রাখা, অপরিচিত কোথাও যেতে হলে রাতেই সে স্থান সম্পর্কে জেনে নেয়। শুরু করা যাক দিনটা : সকালটাকে প্রাণবন্ত ও সারা দিন ভালো কাটানোর জন্য সকালের নাশতাটা হতে হবে স্বাস্থ্যসম্মত। তেল জাতীয় খাবার যতটা সম্ভব পরিহার করতে হবে। মনে রাখতে রাতের পরে সকালের নাশতাই আপনার দেহের প্রথম জ্বালানি।

তাই এমন কোন খাবার খাওয়া যাবে না যা শরীর খারাপ করে। সকালের নাশতা করে সংবাদপত্রে চোখ বুলিয়ে নেয়া দরকার। এর পর সময় নষ্ট না করে একটু আগেই দিনের কাজগুলো শুরু করে দিতে হবে। মনে রাখতে হবে দিনের শুরুটা ভালো হলে সারা দিনটা ভালো যায়। ।


এর পর.....

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।