আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে প্রশ্নঃ হাবিবুর রহমানের স্থলে বি এস এফ কর্তৃক আপনার ছেলে জয় এমন অত্যাচারিত হলে প্রধানমন্ত্রী নয় মা হিসেবে আপনার প্রতিক্রিয়া কি হতো?

সীমান্তে হাবিবুর রহমানের অত্যাচারিত হওয়ার ভিডিওটি প্রযুক্তির বদৌলতে আমরা কম বেশি সবাই দেখেছি। আসলে কি বলবো? এক কথায় আমি বাকরুদ্ধ। নিষ্ঠুরতা ও বর্বরতায় এ যেন মধ্যযুগকেও হার মানিয়েছে। হাবীব এর শরীরের প্রতিটি আঘাত একেকটি শেলসম হয়ে আমার বুকে বিঁধেছে। নগ্ন তো হাবীবকে নয় আমার সমগ্র বাংলা মাকে করানো হয়েছে।

দাঁতে ঠোঁট কামড়ে চোখের জল ধরে রাখার বৃথা চেষ্টা করলাম। লাভ হল না। দু’ চোখ বেয়ে বেরিয়ে এলো নোনা জল। আর কত? আর কত রক্ত চোখের জলের বিনিময়ে নব্য রাজাকার দালালরা ভারত হতে তাদের যথাযথ প্রাপ্য বুঝে পাবে। আজ আমরা যুদ্ধাপরাধের ইস্যুতে আন্দোলন করি।

কেন? দেশের প্রতি ভালবাসার টানে। এই আমাদের ভালবাসা। যে ভালবাসা দিয়ে আমরা আমাদের বাংলা মায়ের সম্মান বাঁচাতে পারি না। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে বলতে হয়, না বলে পারি না। ঐ একাত্তরে যারা দালাল ছিল, রাজাকার ছিল তারা ছিল পরাধীন দেশে; আজ আমরা কি পেরেছি স্বাধীন দেশকে নব্য তৈরি হওয়া দালাল, রাজাকার মুক্ত করতে? জানি না কোন স্বার্থে আজ আমরা এমন ভাবে নগ্নভাবে বিক্রি।

কিউবান সাহিত্যিক নিকলাস গুইলেন (Nicolás Cristóbal Guillén Batista) এর একটি লাইন, ভাই ভাইকে মারতে পারেনা। কথায় কথায় আজ আমরা বলতে শুনি কূটনৈতিক (DIPLOMATIC) ভাষা, ভারত আমাদের বন্ধু প্রতিম দেশ। এই তাহলে বন্ধুত্বের নমুনা। আমরাতো এমন বন্ধু প্রত্যাশা করি না। একবার একটা লেখা পড়েছিলাম কোন এক বিজ্ঞ জনের।

লেখাটি এমন বিশ্বের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কোন দেশ অন্য দেশের বন্ধু হতে পারে না। মুখে মুখে যে বন্ধু প্রতিমতার কথা বলা হয় তা আসলে স্বার্থ উদ্ধারেরই ছদ্মবেশী এক ভয়ংকর রুপ। কথাটা এখন হারে হারে টের পাচ্ছি। এমনটি হতে পারে হাবিবুর রহমান অপরাধী ছিলেন। খুব ভালো কথা।

অপরাধীর অপরাধ কেউ সমর্থন করে না। কিন্তু তার বিচারের জন্য প্রশাসনিক আইন রয়েছে। আইনের উর্ধ্বে কেউ নয়। বিএসএফ কি পারত না ঐ প্রক্রিয়ায় যেতে। কিন্তু তারা অন্যায় ভাবে আমার ভাইয়ের গায়ে হাত তুলেছে।

হরণ করেছে মানবাধিকার। আমার মা কে বিবস্র করেছে। চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে আমাদের মেরুদণ্ডহীন অসহায়ত্ব। আমরা কি এতই দুর্বল? আজ হাবিবুর রহমান অপরাধী এই ইস্যুতে যদি আমাদের নীতিনির্ধারকরা চুপ থেকে থাকেন; তাহলে বলতেই হয় কেউ ধোয়া তুলসি পাতা নয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশের জনগনকে অন্ধ ভাববেন না।

আপনাদের খবর এদেশের জনগন কম বেশি রাখে। কার সন্তান কতটা সাধু মা হিসেবে স্বীকার না করলেও দেশের জনগন খুব ভালো করে জানে। ঐ দিকে যাব না। তবে প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চাই আপনার ছেলে যদি এরূপ আচরণের স্বীকার হতো আপনার প্রতিক্রিয়া কি হতো? প্রধানমন্ত্রী নয় একজন মা হিসেবে আশা করি উত্তরটা দেবেন। জানি প্রধানমন্ত্রীর কাছে এরূপ উত্তর আশা করলে পাওয়া যাবে না।

তাই একজন মায়ের কাছে উত্তর প্রত্যাশা করলাম। এবার একটু অন্য প্রসঙ্গে বলি। আমি নিজে কিছুদিন আগে বাংলাদেশে ভারতীয় সিনেমা প্রদর্শনের সমর্থনে লিখিছিলাম। এর কারণ ছিল দুটো। এক, প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হয়ে আমাদের চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নতির সম্ভাবনার ক্ষেত্র তৈরি দুই, ওদের ইদানিং কালের বেশ কিছু শিক্ষণীয় সিনেমা থেকে বিনোদনের মাধ্যমে আমাদের জনগনের কিছু ব্যতিক্রমী বিষয়ে শিক্ষা গ্রহণ।

আজ আমি নিজে আমার ঐ লেখার তীব্র বিরোধিতা করছি। কারণ যে সিনেমাগুলো নিজের দেশের মানুষকে মানবতার শিক্ষা দান করতে পারে নি, সে সিনেমা থেকে অন্য দেশের মানুষ কি শিক্ষা নেবে? মন থেকে বলছি আমি কেউ নই। আমি বাংলাদেশের একজন সাধারণ নাগরিক। একজন সাধারণ নাগরিক হয়ে দেশের নামে কসম খেয়ে বলছি জীবন থাকতে আমি সজ্ঞানে কোন দিন ভারতীয় পণ্য ব্যবহার করব না। আজ ভারতের সর্ববৃহৎ বাজার আমার সোনার বাংলায়।

আমাদের ব্যবহার করে তারা আজ তাদের অর্থনীতি সচল রাখছে। আর আমরাই কিনা নির্যাতিত হচ্ছি ভৌগোলিক এবং শারীরিকভাবে। পাঠক বৃন্দ হতে পারে আমি আপনাদের অনুরোধ করার মতো কেউ নই তারপরে ও বলছি আপনারা ও ভারতীয় পণ্য বর্জন করুন। হতে পারে আমাদের সাময়িক কিছু অসুবিধা হবে কিন্তু এমন নয় যে এ সমস্যাগুলো উত্তরণ যোগ্য নয়। তাই আসুন নিজের দেশকে ভালবেসে আরেকবার ভেবে দেখি ; সময় এসেছে ঘুরে দাঁড়াবার।

 ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.