আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

বিলাতে বাংলাদেশি গে’র বিয়ে!

কিন্ত যে সাধেনি কভু জন্মভূমি হীত স্বজাতির সেবা যেবা করেনি কিঞ্চিত, জানাও সে নরাধম জানাও সত্বর অতীব ঘৃনীত সেই পাষন্ড বর্বর ছেলেটার সঙ্গে অনলাইনে পরিচয়। মাঝে মাঝে ফেসবুকে চ্যাট হয়। হঠাৎ করে একদিন তার লন্ডনের মিডশিপ পয়েন্টের বাসার ঠিকানা দিয়ে তাকে একটি বিয়ের শুভেচ্ছা কার্ড পাঠাতে অনুরোধ করেন। এটি তার আইনজীবীর পরামর্শ। কার্ডে কী লিখতে হবে তাও লিখে দেন।

সংক্ষেপ কাহিনী ব্যক্তিজীবনে তিনি একজন গে’। বিলাতের অভিবাসনের আশায় গে’ বিয়ে করতে যাচ্ছেন। গে’ হিসাবে কোর্টে নিজেকে উপস্থাপন-প্রমানের জন্যে ওয়েডিং সেরিমনির তেমন কিছু শুভেচ্ছা কার্ড তার দরকার। কার্ড পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিলে থ্যাংকু ভাইয়া বলে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। মনে করা যাক বাংলাদেশি ছেলেটির ছদ্মনাম শোভন।

ঢাকার শাহজাহানপুরের কাছাকাছি একটি এলাকায় তাদের বাসা। ছ’বছর হয় বিলাতে আছেন । এখনও তার হাতে আছে ২ বছরের পোষ্ট স্টাডি ওয়ার্ক পারমিট ভিসা। কিন্তু বিলাতে স্থায়ী অভিবাসনের জন্য গে’ ম্যারাজের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি! কিন্তু যাকে বিয়ে করতে যাচ্ছেন তিনিও আসলে গে’ না। বলা যায় এক ধরনের এ্যারেঞ্জড অথবা কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ! এই ছেলেটির নাম লুকাস।

ব্রাজিলিয়ান আর ইতালিয়ান মিক্সড। মারিয়া লুকাসের এক্স গার্লফ্রেন্ড। মারিয়ার মাধ্যমে শোভনের সঙ্গে লুকাসের পরিচয়। ক্রমশঃ তাদের তিনজনের বন্ধুত্ব গাঢ় হয়। লুকাস-মারিয়া জানেন শোভন একজন গে’।

পরষ্পরের সঙ্গে আলোচনা করে তারা শোভনের অভিবাসনের ব্যাপারে সাহায্যের সিদ্ধান্ত নেন। এর পিছনে একটি অর্থনৈতিক কৃতজ্ঞতাও কাজ করেছে! গত বছর ব্রাজিলে লুকাসের মা অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি টাকার সমস্যায় পড়েন। বন্ধুর বিপদে এগিয়ে আসেন শোভন। নিজের জমানো সব টাকা তুলে দেন লুকাসের হাতে। শোভনের দেয়া টাকার চিকিৎসায় ব্রাজিলের হাসপাতালে সুস্থ হয়ে ওঠেন লুকাসের মা।

পরে টাকাগুলো ফেরত দিতে চাইলেও শোভন তা নেননি। বাংলাদেশি বন্ধু শোভনের মহানুভবতায় লুকাস-মারিয়া দু’জনেই অভিভূত হন। শোভনের জন্য তারা কিছু একটা করার তাদের সংকল্পটি আরও জোরদার হয়। বিলাতের মতো দেশে বিদেশি একজনের কাছে সোনার হরিনের নাম অভিবাসন। মায়ের চিকিৎসায় সহায়তার কৃতজ্ঞতার বিনিময়ে শোভনকে তেমন আকাঙ্খার সোনার হরিন হাতে তুলে দেবার সিদ্ধান্ত নেন লুকাস।

সেই অভিবাসন স্বপ্নেই শুক্রবার (২৩-০৯-২০১১) শোভন-লুকাসের বিয়ের অনুষ্ঠানটি হয়েছে। বিয়েতে তাদের আইনজীবী, মারিয়াসহ ঘনিষ্ঠ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশি বরের সাজে বিয়ের অনুষ্ঠানে যান শোভন। পাঞ্জাবি-পাজামা-চপ্পল। শুধু বরের পাগড়িটি ছাড়া।

লুকাস পরেন তার অভ্যস্ত ইংলিশ পোশাক। বিয়ের দলিলে স্বাক্ষরের সময় পরষ্পর পরষ্পরের পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তোলেন। বিলাতে এ ধরনের বিয়ের নাম সিভিল পার্টনারশীপ। এখন তারা বিয়ের দলিলপত্র, ছবি, শুভেচ্ছা কার্ডসহ সমুদয় ডকুমেন্টস নিয়ে সিভিল পার্টনারশীপ’এর আইনি অনুমোদনের জন্য আদালতে যাবেন। আদালত অনুমোদন দিলেই ভিসা স্ট্যাটাস বদলে যাবে শোভনের।

বারবার ভিসার মেয়াদ বাড়ানো, ফি গোনার টেনশন তাকে পোহাতে হবেনা। শুক্রবার বিয়ের ছবি পাঠিয়ে শোভন তার জন্য দোয়া করতে বলেছেন। সবশেষ গত বছর তিনি দেশে বেড়াতে গিয়েছিলেন। বললেন, বাবা-মা তখন তাকে বিয়ের জন্য চাপাচাপি করেন। তার বক্তব্য, কিন্তু আমিতো গে’।

বাংলাদেশের সমাজ বাস্তবতার কারণে তা পরিবারকে খুলে বলাও সম্ভব না। এখন একজন গে’ হিসাবে বিলাতে অভিবাসন তথা স্থায়ী বসবাসের স্বপ্ন শোভনের! জীবনের প্রয়োজনে তার বয়সের একজনের কাছে যেন যে কোনভাবে বিলাতের মতো দেশে অভিবাসনটাই বড়! দেশও যেন আর স্বাভাবিক স্বপ্ন দেখাতে পারছেনা শোভনদের! সূত্র:এখানে দেখুন ।


এর পর.....

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।