আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

আওয়ামী লীগের ঘুরে দাড়ানো-আ লষ্ট কজ!

যুদ্ধে আছি!! ৫ সিটি কর্পোরেশন বিশাল ব্যবধানে পরাজয়ের পর আওয়ামীলীগের ভেতরে বাইরে যে কথাটা সবচেয়ে বেশী আলোচিত হচ্ছে তা হলো আওয়ামী লীগ কে ঘুরে দাড়াতে হবে । ইট ওয়াজ আ অয়েক আপ কল! কিন্তু আওয়ামী লীগের পক্ষে কি আসলেই ঘুরে দাড়ানো সম্ভব এই প্রশ্নের উত্তরে আসার আগে আমাদের যে উত্তর টা খুজতে হবে তা হলো আওয়ামী লীগ কি গুড ফর্মে আদৌ কখনো ছিলো? আমার সোজা সাপ্টা উত্তর হবে না । অনেকে হয় তো শাহবাগ আপরাইজিং এর কথা বলার চেষ্টা করবেন কি আসলেই কি এটা তাদের কে খুব একটা ভালো অবস্থানে নিয়ে এসেছিলো? শাহবাগ আন্দোলন ছিলো মুলতো শহর কেন্দ্রিক একটি আন্দোলন । যার প্রচার এবং প্রসার এর পিছনে মুলতো কাজ করেছে সোস্যাল ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া । মিডিয়ার প্রচারেই মূলতো আন্দোলন টা ব্যপকতা লাভ করেছে ।

আমরা যদি শুরু থেকে আন্দোলনে অংশগ্রহণ কারীদের সামাজিক অবস্থান বিবেচনা করি তবেই জিনিস টা আস্তে আস্তে আমাদের কাছে পরিস্কার হবে । শাহবাগে বিপুল ভাবে অংশ গ্রহণ করে সোস্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট ব্যবহার করা তরুণরা । অংশ গ্রহণ ছিলো বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের । আর অনেক ক্ষেত্রেই দেখেছি প্রো আওয়ামী লীগ মানুষ জনের উৎসাহ । সত্যিকার অর্থে এই অংশগ্রহণ কারীরা সমাজের খুব ছোট একটা অংশ ।

শাহবাগ আন্দোলন আওয়ামী লীগের যে উপকারটা করেছে তা হলো আওয়ামী লীগের যে সমর্থকরা লজ্জায় নিজেদের নিরেপেক্ষ বলে দাবি করতেন তাদের জন্য নিজেদের আওয়ামী লীগ সমর্থক বলে দাবি করার একটা ভিত্তি করে দিয়েছে । অর্থাত যে ছেলেটা বন্ধু মহলে কখনো প্রকাশ করতে পারতো না সে আওয়ামী লীগ সমর্থক সে তা প্রকাশ করার নৈতিক ভিত্তি পেয়েছে । যদি আন্দোলনটা নির্বাচনের ৩ মাস আগে হতো তাহলে আন্দোলনটার একটা প্রভাব নির্বাচনে থাকলেও থাকতে পারতো কিন্তু এই মুহুর্তে আন্দোলনের কোন বেনেফিট আওয়ামী লীগ পাবে না বলেই আমার বিশ্বাস । কিন্তু আন্দোলনের ফলে আওয়ামী লীগ টেকনিক্যালি বিভিন্ন দিক দিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে । প্রথমত আওয়ামী কওমি মাদ্রাসায় তাদের যে বিশাল ভোট ব্যাংক ছিলো তা হারিয়ে ফেলেছে ।

আর কওমি মাদ্রাসার সুত্র ধরে হারিয়েছে গ্রাম বাংলা ,এবং মফশ্বল শহরের বিশাল এমাউন্টের একটা সুইপিং ভোট । যারা হয়তো বা সবকিচুর পরও আওয়ামী লিগেই ভোট দিতো কিন্তু এখন তার বিপরীত পক্ষে ভোট দিবে । আর একটা বেশ ভালো সংখ্যক ভোটার ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকবে বলেই আমার বিশ্বাস । এরা মুলতো আওয়ামী লীগের ভোটার কিন্তু নানা কার ণে আওয়ামী লীগের উপর ত্যাক্ত বিরক্ত হয়ে ভোট কেন্দ্রেই যাবে না । (গত ৫ টি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ভোট কাষ্টিং প্যাটার্ণ আমার কথার পক্ষেই সাক্ষী দেয় খুব সম্ভবত ।

)আওয়ামী লীগ যেটা চেষ্টা করতে পারে তা হলো এই ভোটারদের রিচ করা। কিন্তু গণ জাগরণ মঞ্চ আওয়ামী লীগ কে সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ করেছে এই জায়গাতেই । আওয়ামি লীগের বেশ ওয়েল ম্যানেজড মিডিয়া পাওয়ার ছিলো । ইনডিপেন্ডেন্ট ,সময় , একাত্তর নাম বলতে থাকলে তালিকা বড় হতে থাকবে । এই বিশাল মিডিয়া হাউজ গুলো তাদের বিশ্বাস যোগ্যতা হারিয়েছে শাহবাগ আন্দোলনের সময় ।

হেফাজত ইস্যুতে এই মিডিয়া গুলোর অবস্থান তাদের গ্রহণ যোগ্যতা কে আরো খেলো করেছে । সো এই বিশাল ফায়ার পাওয়ার অকার্যকর হয়ে পরেছে । (আমার মতে এই রাগ থেকে হলেও ছাত্রলীগের ছেলে পেলের উচিত গণ জাগরণের মাথা মোটা কয়েকটা নেতাকে ভালো মতো ধোলাই করা)আর এই মুহুর্তে তাদের জন্য রুট লেভেলে পৌছানো খুবই দুরুহ ও কঠিন ব্যপার হবে । কারণ তৃণমুল পর্যায়ে আওয়ামী লীগ বলতে এখন কিছু নেই । আওয়ামী লীগ আর প্রশাসন একাকার হয়ে গেছে ।

থানার ডিউটি অফিসার অনেকতা দলীয় কর্মীর মতো দায়িত্ব পালন করছেন । আর দলীয় কর্মীরা হলো অবহেলিত । তাদের সেলফ কনফিডেন্স লেভেলটাও এখন যথেষ্ট খারাপ । আর এই মুহুর্তে দেশের একটা বিশাল জনগোষ্ঠী (মাদ্রাসা শিক্ষক ও ছাত্র ) স্বপ্রণোদিত হয়ে আওয়ামী লীগের বিপক্ষে কাজ করবে । ( লক্ষ করুন বিএনপির পক্ষে নয় আওয়ামী লীগের বিপক্ষে) আর শাহবাগ আন্দোলনের ফলে আওয়ামী লীগ তাদের গত নির্বাচনের ট্রাম্প কার্ড হারিয়ে ফেলেছে ।

মুক্তিযুদ্ধ ও এর চেতনার কথা বলে এখন খুব একটা কাজ হবে না বলেই আমার বিশ্বাস । গণ জাগরণ মঞ্চ এ ক্ষেত্রে আত্মঘাতী বোমার মতো কাজ করেছে । মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নাম করে আওয়ামি লিগ সরকারের যে কোন দমন পীড়ন কে সীকৃতি দেবার চেষ্টা করা মুক্তি যুদ্ধের চেতনা নামের ট্রাম্প কার্ড কে নষ্ট করেছে । আর কোটা বিরোধী আন্দোলনে নির্লজ্জ ভাবে সরকারের পক্ষাবলম্বন করায় বিশ্ববিদ্যালয় প র্যায়ে তাদের যে জনসমর্থন তা শুণ্যের কোঠায় নেমে এসেছে । তবে মুল প্রতিশোধটা নিবে মিডল ক্লাস সোসাইটি ।

একটা সমাজের মেরুদন্ড হলো মধ্যবিত্ত শ্রেণি । আর এই সরকারের আমলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে মধ্যবিত্ত শ্রেনী। আওয়ামী লীগের কিছু লোক জন এখনো এই শিক্ষিত মধ্যবিত্ত সমাজের ভোটের আশায় আছেন!মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মজার বেপার টা হল এরা কখনো রাস্তায় নামেনা । শেয়ার ব্যবসায় বিনিয়োগ করে যে ভদ্র লোকের ক্যপিটাল ৫০ লক্ষ টাকা থেকে ১০ লক্ষ টাকায় নেমে এসেছে সে রাস্তায় নামবে না । ঘরে বসে সময়ের অপেক্ষায় থাকবে ।

বিদ্যুত বিল ৫ গুণ বাড়ানোর ফলে যে গৃহিনী সংসার খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছে সেও রাস্তায় নামবে না । সময়ের অপেক্ষায় থাকবে । এরা কিন্তু মধ্যবিত্ত শহুরে শ্রেনী । এদের আরেকটা বৈশিষ্ট হল এরা রাস্তায় নামে না । কিন্তু রাস্তায় নামলে রাস্তা ছাড়ে না ।

তো আওয়ামী লীগ এখন কি করবে?একক নির্বাচন করে এই মধ্যবিত্তশ্রেণী কেও তাদের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামাবে?নাকি সেনাবাহিনীর হাতে ক্ষমতা তুলে দিবে?ওয়েল সেনা বাহিনীর হাতে ক্ষমতা তুলে দিলে তাদের জন্য আপাত দৃষ্টিতে ভালো । তারা বিদেশে পালাবার সময় পাবে । কিন্তু শেয়ার মার্কেটে বিনিয়োগ কারীদের একটা বড় অংশ যে শান্তি রক্ষা মিশন ফেরত সেনা অফিসার এটা জানার পর তারা সেই পথে আর আগানোর কথা ভাববে না বলেই আমার বিশ্বাস । কারণ তাহলে তাদের নেতারা আরামে থাকতে পারে কিন্তু মাঠ পর্যায়ে আওয়ামী লীগ নেতা কর্মীরা যে মারটা খাবে ভাবতে আমারই ভয় লাগতেছে!বিডিয়ার বিদ্রোহের কথা তো বাদই দিলাম! আওয়ামী লীগ তাহলে কিভাবে ঘুরে দাড়াবে?প্রতিদিন তাদের আওতা কমছে । প্রতিদিন প্রশাসন রূপ বদলাচ্ছে ।

প্রতিদিন গণ অসন্তোষ বাড়ছে!তাহলে কিভাবে ঘুরে দাড়াবে আওয়ামী লীগ?কিভাবে? আওয়ামী লীগের কিছু অনলাইন এক্টিভিষ্ট দের দেখলাম “লষ্ট দ্যা ব্যাটল এন্ড উইন দ্যা ওয়ার” থিউরী কপচাইতে!আরে গাধার বাচ্চারা ব্যাটল আর ওয়ার দুইটাই যে লষ্ট হয়ে গেছে সেই খেয়াল আছে?ইউ পিপল হ্যাভ অলরেডি বিন বার্নড ইন্টু অ্যাসেজ। । এন্ড নাও ইট’জ আ লষ্ট কজ টু ট্রাই টু রিভাইভ ফ্রম অ্যাসেজ । রেস্ট ইন পিস “বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ!”ইট ওয়াজ নাইস নোয়িং ইউ! লেখক কে গালাগালি করার জন্য ফেসবুক প্রফাইল ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.