আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

আমাদের ছেড়ে গেছেন মুক্তিযোদ্ধা বীর প্রতীক মুনসুরুল আলম দুলাল -টাকার অভাবে চিকিৎসা ব্যহত হয়েছে

একবন্ধুর পাওয়া চিঠি তুলে দিলাম। যখন এই চিঠিটি তুলছি তখন এই বীর মুক্তিযোদ্ধা আমাদের মাঝে আর নেই। মুক্তিযোদ্ধা বীর প্রতীক মুনসুরুল আলম দুলাল এই বাংলাদেশে আর ক-দিন? বাংলাদেশে খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে বর্তমানে জীবিত রয়েছেন ১৮২ জন, বীর প্রতীক মুনসুরুল আলম দুলাল (যার সনদ নং ৩০৭, বাংলাদেশ গেজেট নোটিফিকেশন নং ৮/২৫/ডি-১/৭২-১৩৭৮ তারিখ ১৫ ডিসেম্বর ১৯৭৩) তাদের একজন যিনি ঢাকার ধানমন্ডিতে আনোয়ার খান মর্ডান হাসপাতালে ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত হয়ে আইসিইউ-৬ এ মৃত্যুর সাথে লড়ছেন, টাকার অভাবে এই মক্তিযোদ্ধার চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারছেনা তার পরিবার। গতকাল পরিবারের সদস্যদের সাথে আলাপ করে যানা যায় ব্রাম্মনবাড়ীয়ার নবীনগরের সন্তান মুনসুরুল আলম দুলাল ১৯৭১ এ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে দেশ স্বাধীন করেছিলেন, পরিবারে এক মেয়ে এক ছেলে নিয়ে সাধারন জীবন যাপন করে আসছিলেন, ছেলে একটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এ পড়ছে। এতদিন পরিবারের পে যতটুকু সম্ভব বীর প্রতীক মুনসুরুল আলম দুলাল এর চিকিৎসা চালিয়ে এসেছি, ইতোমধ্যেই মধ্যবিত্ত এই পরিবারের সহায় সম্ভল যা ছিল তা শেষ করেছি।

এখন সহযোগীতা না হলে আর হাসপাতালে রেখে মুনসুরুল কে চিকিৎসা করানো যাবে না। চিকিৎসা না করালে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টাটাও তো ব্যহত হবে। তাই এই সময়ে সমাজের কাছে হাত পেতে একজন মুক্তিযোদ্ধাকে বাঁচানোর চেষ্টা করা ছাড়া আমাদের সামনে আর কোন পথ নেই বলে জানান তার স্ত্রী। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আদর্শে বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ সরকার পরিচালনায় থাকা অবস্থায় একজন বীর প্রতীক খেতাব প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা হাসপাতালে টাকার অভাবে চিকিৎসা নিতে পারবেনা এটা মেনে নেয়া যে কোন বাঙ্গালীর জন্য কস্টকর। আর এই কস্টের দায়ভার বর্তমান সরকারকেই বহন করতে হবে।

কারন চল্লিশ বছরেও আমাদের মুক্তি যোদ্ধাদের জন্য সত্যিকার অর্থে কোন সঠিক নীতিমালা তৈরী করতে পারেনি, এটা এমন কোন জটিল বিষয় ছিলনা যে এটা করতে গেলে নাগরিক অধিকার ুন্ন হবে, এটা এমন কোন বিষয় ছিলনা যে এটা করতে গেলে দেশের স্বার্বভৌমত্ব নিয়ে শংকা দেখা দেবে। শুধু আন্তরিকতা এবং ইচ্ছার অভাব। মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রনালয়ে নিশ্চই এখনও হিসাব আছে বর্তমানে আমাদের মাঝে কতজন মুক্তিযোদ্ধা বেচেঁ আছেন। আর তাদের খাদ্য, বস্ত্র , বাসস্থান এবং চিকিৎসা বাবদ কত টাকা ব্যায় হবে প্রতি বছর? নিশ্চই ৩০০ টি শুল্ক মুক্ত প্রাইভেট গাড়ী কিনার সমান নয়, নিশ্চই ঢাকা শহরে ২৮০টি প্লট বরাদ্ধের টাকা সমান নয়, তাহলে কেন এত উদাষিনতা? কার কারনে এদের এত অবহেলা? একজন মুক্তিযোদ্ধা মারা যাওয়ার পর তার কবরের জায়গা ঠিক খাকে না, একজন মুক্তিযোদ্ধা খেয়ে আছে না নাখেয়ে আছে তার হিসাব রাখার সময় হয়না, একজন মুক্তিযোদ্ধা চিকিৎসা পেল কি পেল না তার হিসেব নেই। তা হলে এই মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রনালয় রাখার প্রয়োজন কি? সাধারণ মানুষ প্রশ্ন করে তাদের কাজ কি? শুধু নতুন নতুন নাম ফলক উন্মোচন করার জন্য? বিভিন্ন দিবস উদযাপনে অতিথির আসন পাওয়ার জন্য? আপনারা যেই সংসদে বসে মুক্তিযুদ্ধের বুলি আওড়ান, সেই মুক্তি যুদ্ধের সহ যোদ্ধাদের ভূলে গিয়ে? ইতিহাস মুছা যায় না, মুনসুরুল আলম দুলাল তাই বলছিলেন ভাংগা ভাংগা গলায়, অস্পস্ট স্বরে বিভিন্ন জনের নাম দরে দরে, অনেককেই তিনি চিনেন, অনেকের সাথে যুদ্ধ করেছেন, অনেকের সহযোগীতায় তিনি কাজ করেছেন কিন্তু আজ তাদের কেউ এক বার এসে বলে না দুলাল ভাই কেমন আছেন? আব কখা বলতে পারে নি, বাক রুদ্ধ করে ফেল ফেল করে তাকিয়ে রযেছেন অনেকক্ষন, চোখ দুটো জলে টুপ টুপ করছে, করে ভিতন পিন পতন শব্দ নেই,শুধুই বাংলাদেশের সেই দিন গুলোর ছবি আজ এই মুক্তি যোদ্ধার চোখের জলে ভাসছে।

এ জল সরিয়ে দেবার সাহস আমার হয়নি, কারন আমি মুক্তি যুদ্ধ করিনি, আমি দেখিনি মুক্তি যুদ্ধ, তবে দেশস্বাধীন করার এই যোদ্ধাদের এমন কাতর বিমর্ষ অবস্থা দেখে আমার এখন নতুন একটা যুদ্ধ করতে ইচ্ছে হচ্ছে। আর যতি একটি মুক্তি যোদ্ধার অবহেলা করা হয় তাহলে এ বাংগালী আবার শুরু করবে এই অবহেলা কারীদের নিধন, সে নিধন শুরু হলে রা পাওয়ার জন্য কিন্তু আর কোন নৈনিতাল থাকবেনা। কারণ এই দুলাল ভাইরা বাংলাদেশে আর ক দিন থাকবে? তাদের মধ্যে আছেন তো ১৮২ জন, তাদের সংখ্যা প্রতি দিনই কমছে, একদিন শেষ সবাই, কিন্তু এই দেশ থাকবে, এর ইতিহাস থাকবে। আর যারা এই বাংলাদেশে বসে ব্যবসা করে যাচ্ছি, টাকার পাহাড় গড়ছি, তাদেরও তো সামান্য হলেও এই মুক্তি যোদ্ধাদের প্রতিদায়িত্ব রয়েছে। আমরা এমন সবই করছি কিন্তু একজন মুক্তিযোদ্ধার চিকিৎসাটা বিনা পয়সায় করে দেবার মত উদার বা সহ্রদ হতে পারি না কেন? আমাদের কি কোনই দায়িত্ব নেই এই দেশের প্রতি? এই দেশ বরেন্য সন্তান দের প্রতি? ইতিহাস বলে চিকিৎসকরা যুদ্ধ কালীন সময়ে পাকিস্থানী বাহিনীর চোখের আড়ালে লুকিয়ে লুকিয়ে রাত দিন কস্ঠ করে জীবন বাজি রেখে যুদ্ধের ময়দানে চিকিৎসা দিয়ে যুদ্ধাদের জীবন রা করেছেন, আজ কেন আপনারা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।

আসুন সকলে মিলে যে কজন মুক্তি যোদ্ধা বেচেঁ আছেন তাদের ভরণ পোষন এবং চিকিৎসার দায়িত্ব গ্রহন করি। সরকার এর তরফ থেকে তাদের জন্য বাংলাদেশের যে কোন হাসপাতালে বিনা মূল্যে সকল চিকিৎসাসেবা প্রাপ্তির নিশ্চয়তার বিধান করি, তাদের জন্য সামরিক বাহিনীর সদস্যদের মত প্রতি মাসে রেশন পাওয়ার ব্যবস্থা করে দেই। প্রকৃত অর্থ্যেই মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান দিয়ে নিজেদের কে অভিসাপ মুক্ত করি। সহযোগীতার জন্য যোগাযোগ এর ঠিকানা, বীর প্রতীক মুনসুরুল আলম দুলাল, আইসিইউ-৬, (কেবিন ৬১৭),আনোয়ার খান মর্ডান হাসপাতাল, ধানমন্ডি-৮, ঢাকা-১২০৫, মোবাইল ফোন: ০১৮১৮৭৫০৭৫৩ বীর প্রতীক মুনসুরুল আলম দুলাল এর পরিবারের প থেকে দেশবাসী সকলের কাছে সহযোগীতা ও দোয়া কামনা করছি। ধন্যবাদান্তে ইবনুল সাঈদ রানা চেয়ারম্যান নিরাপদ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।