আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

পদ্মপাতায় জল (নটরডেম কলেজ থেকে বিদায়ের সময় লেখা)

ইতিহাস, নেই অমরত্বের লোভ/ আজ রেখে যাই আজকের বিক্ষোভ...

২০০০ সালে যখন নটরডেম কলেজ থেকে বিদায় নিচ্ছি তখন গ্রুপ ওয়ানের বন্ধুরা মিলে একটা স্যুভেনির বের করা হয়- 'অনিত্রী'। আজকে এত বছর পরে হঠাৎ ওটা হাতে নিয়ে চোখে পড়ল আমার একটা লেখা। লেখা পুরনো হলেও পেক্ষাপট এখনো প্রায় সেরকমই আছে। তাই শেয়ার করছি; অপ্রাসঙ্গিক হবেনা আশা করি। ১. প্রতিদিন ভোরে আমাদের বাসার সামনে দিয়ে একটা লোক যায়।

‘ঘুম হতে নামায ভালো, ঘর হতে মসজিদ ভালো- ও মুমিন ভায়েরা উঠে যান’। একদিন সত্যি সত্যি উঠে পড়লাম। জানালা দিয়ে উঁকি মেরে দেখি অথর্ব এব বৃদ্ধ- কী নিঃস্বার্থ তার আহ্বান। আমি ধার্মিক নই- তবু বুঝতে পারি কোন পার্থিব লালসার বশবর্তী হয়ে নয়, স্রেফ ঘুমন্ত মানুষকে ডেকে তোলার জন্য, তার শ্রম। আমরাও তো শ্লোগান দিই।

রক্ত চাই, গদি ছাড়ো, আগুন জ্বালো- এসবের বদলে আমরা কি বলতে পারিনা- ‘ভাত দে হারামজাদা….’। ওই স্বর্গলোভী বৃদ্ধের মত নিঃস্বার্থ হবার প্রয়োজন নেই। আমরা আমাদের রুগ্ন, অপুষ্ট, শীতার্ত ভাই বোনদের জন্য শ্লোগান দিতে পারি। কিন্তু দিইনা কেন? ২. ‘একদিন, কলেজ ছুটির পর বাদাম খাচ্ছিলাম। ক্যাম্পাস মোটামুটি ফাঁকা।

বাদাম খাচ্ছি আর আনমনে খোসা ফেলছি; খোসা ফেলছি আর হেঁটে বেড়াচ্ছি। বেশ কিছুক্ষণ পর দেখি একটা খোসাও পড়ে নেই। ব্যাপার কি? হঠাৎ তাকিয়ে দেখি- আমি খোসা ফেলতে ফেলতে যাচ্ছি আর ফাদার পিশোতো সেগুলো খুটে খুটে তুলছেন। আমার দিকে চোখ পড়তেই মুচকি করে হাসলেন, কিছু বললেন না। এর পর থেকে আমি কোনদিন কোন জায়গায় বাদামের খোসা ফেলিনি’।

- একজন এক্স নটরডেমিয়ানের কথা। আমরা যখন বাইরের কোন দেশে বেড়াতে যাই এক টুকরা ময়লাও পথের ধারে যেখানে সেখানে ফেলিনা। তবে এই সচেতনতাটুকু নিজের দেশে কাজ করেনা কেন? ৩. খুব ছোট ছোট কতগুলো কাজ আছে যেগুলো আমরা অনায়াসেই করতে পারি। যেমন: বাসে করে যাচ্ছি- বেশ ভীড়। একজন বৃদ্ধ কষ্ট করে চড়লেন।

আমরা বিনীতভাবে উঠে তাঁকে জায়গাটা ছেড়ে দিতে পারি। একবার করেই দেখুন। বুকের ভেতরটা কি অদ্ভুত প্রশান্তিতে ছেয়ে যায়। অথবা ম্যাক্সিতে করে যাওয়ার সময় যাত্রী আর কন্ডাক্টরের বচসা। আমরা একটু সাহস করে বলেই দেখিনা- ‘ভাই একটু ধৈর্য্য ধরুন, একটু শান্ত হোন।

একটু সুন্দর করে হাসি মুখে সুন্দর করে কথা বলে দেখুন। আহা দেখুনই না ভালো লাগে কি মন্দ লাগে’। আপনার বাসায় ছোট কাজের লোক আছে। সারাক্ষণ খিটখিট করছেন। একদিন একটু কাছে বসিয়ে ক, খ, গ, ঘ শেখানো যায়না? আপনার সোনামনির জন্য দামী পোষাক কিনেছেন।

দামী দরকার নেই- কাজের ছেলেটার জন্য হঠাৎ কোন উপলক্ষ ছাড়া একটা খেলনা, একটা শার্ট কিনে দিয়ে দেখুন। মুখ জুড়ে কী অদ্ভুত মায়াবী হাসি- আগে কখনো লক্ষ করেছেন? ৪. আমি জানি এসব কথা বলে লাভ নেই। আমরা ভীষণ ব্যস্ত। আমাদের সময় কোথায় পদ্ম পাতায় এক ফোঁটা জল ধরার?

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।