আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

ছবিতে উত্তরবঙ্গ : শেষ পর্ব- সিরাজগঞ্জ

বুকের ভেতর বহু দূরের পথ...
সিরাজগঞ্জ জেলার মফস্বল শহর শাহজাদপুরে কবিগুরু রবীন্দ্রণাথ ঠাকুরের কাছারিবাড়ির অবস্থান। কবি শাহজাদপুর বানানটি লিখেছেন সাহাজাদপুর। কাছারিবাড়ি ঘেষেই ছিলো ছোট্ট একটা নদী। ওই ছোট নদীর আগের নাম ছিল খোনকারের জোলা। কবিগুরু ঘরে বসেই প্রাণভরে ছোট নদী দেখতেন।

এ নদী দেখেই রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন, ‘আমাদের ছোট নদী চলে বাঁকে বাঁকে, বৈশাখ মাসে তার হাঁটুজল থাকে’। করতোয়া নদীর তীরেই শাহজাদপুর অবস্থিত। করতোয়ার একটা শাখা যুক্ত হয়েছিল বড়ালনদীর সঙ্গে। তিনি প্রায়ই ছোট নদী ও করতোয়ার তীরে গিয়ে বসতেন। বর্তমানে ছোট নদীটি ভরাট করে দেওয়া হয়েছে।

ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, শাহজাদপুরের কাছারিবাড়িটি তিন তৌজির অন্তর্গত ডিহি জমিদারি এক সময় নাটোরের রানি ভবানীর জমিদারির অংশ ছিল। ১৮৪০ সালে শাহজাদপুরে জমিদারি নিলামে উঠলে কবির পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর ১৩ টাকা ১০ আনায় শাহজাদপুরের জমিদারি কিনে নেন। জমিদারির সঙ্গে সঙ্গে শাহজাদপুরের কাছারিবাড়িও ঠাকুর পরিবারের হস্তগত হয়। এর আগে বাড়ির মালিক ছিল নীলকর সাহেবরা। ১৮৯০ থেকে ১৮৯৭ সাল পর্যন্ত আট বছর কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জমিদারি দেখাশোনার কাজে সাময়িকভাবে শাহজাদপুরে আসতেন, বসবাস করতেন।

একনাগাড়ে তিনি দুই মাস এখানে অবস্থান করতেন। ১৮৯৭ সালে কবির বাবা দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর জমিদারি ভাগাভাগি করে দিলে চাচা জ্ঞানেন্দ্রনাথ ঠাকুর শাহজাদপুরের, বড় ভাই সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর শিলাইদহের এবং কবি নিজে পতিসরের দায়িত্ব পান। এর পর থেকে তিনি আর আসেননি। শাহজাদপুরের কাছারিবাড়িটির দোতলার উত্তর পাশে লিচুগাছ, পূর্ব-দক্ষিণে দুটি তালগাছ ও শোভাবর্ধনের জন্য বাড়িটি নানা ফুলের গাছে ঘেরা। কাছারিবাড়ির চারপাশ প্রাচীর দিয়ে ঘেরা, প্রাচীরের চারদিকে রয়েছে দৃষ্টিনন্দন বৃক্ষের বাগান।

কবি নিজের হাতে যে বকুলগাছ লাগিয়েছিলেন, সেটি মরে যাওয়ায় নতুন করে বকুলগাছ লাগানো হয়েছে। কবিগুরু শুধু সাহিত্যকর্ম নিয়েই ব্যস্ত থাকতেন না। প্রচলিত জমিদারি ব্যবস্থায় হিন্দু, মুসলিম, ধনী, দরিদ্রদের মধ্যে যে বৈষম্য ছিল, তা তিনি দূর করেছিলেন। কবি কুষ্টিয়ার শিলাইদহ থেকে বজরা নৌকায় বড়াল নদের রাউতারায় এসে সেখান থেকে পালকিতে চড়ে কাছারিবাড়িতে আসতেন। তিনি এই এলাকায় দুধ ও মাছের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে গো-চারণ ভূমি ও জলমহালগুলো বিনা পয়সায় এলাকার নিকারি সম্প্রদায় ও দরিদ্র ব্যক্তিদের মধ্যে এককালীন প্রদান করেছিলেন।

কাছারিবাড়ির সামনে থাকা দুটি তালগাছ দেখেই ‘তালগাছ এক পায়ে দাঁড়িয়ে...’ কবিতাটি লিখেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। সেই জোড়া তালগাছ এখনো এক পায়ে দাঁড়িয়ে, সব গাছ ছাড়িয়ে। বয়স সার্ধশত বছরেরও বেশি। সেই সময়ের নিমগাছটাও আছে এখন। বর্তমানে আগের দোতলা কাছারিবাড়িটাকেই সংরক্ষণ করা হয়েছে।

দোতলায় রবীন্দ্র স্মৃতিজাদুঘর। এখানে কবির ব্যবহৃত খাট, সোফা, টেবিল-চেয়ার, টেবিল বেসিন, বাসনকোসন ইত্যাদি রয়েছে। রোববার বাদে এ জাদুঘর খোলা থাকে দর্শকদের জন্য। কাছারিবাড়ির প্রাঙ্গণে নতুন করে একটি মিলনায়তন তৈরি করা হয়েছে। এবার এ মিলনায়তনে কবিগুরুর সার্ধশতজন্মবার্ষিকী পালন করা হবে যা চ্যানেল আইতে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।

ছবিতে উত্তরবঙ্গ : প্রথম পর্ব- বগুড়া ছবিতে উত্তরবঙ্গ : দ্বিতীয় পর্ব- রংপুর ছবিতে উত্তরবঙ্গ : তৃতীয় পর্ব- দিনাজপুর ***আমার যত ভ্রমণ ও ছবিব্লগ***
 

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.