আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

এম এল এম ভাইরাসে আক্রান্ত হতে সাধনার প্রয়োজনঃ এ বুক রিভিউ

যে মুখ নিয়ত পালায়......। ।

কিছুদিন আগে ডেস্টিনি সিন্ড্রোম নিয়ে একটি পোস্ট লিখেছিলাম। সিন্ড্রোম আক্রান্ত কয়েকজন(তাদের উদ্দেশ্যেই লেখাটা ছিল) এবং তাদের দ্বারা আক্রান্ত কয়েকজনের মধ্যে তা ব্যপক সাড়া ফেলতে সক্ষম হয়। কিন্তু যত যা ই হোক না কেন ডেস্টিনি সিন্ড্রোমে আক্রান্তরা তাদের কার্যকলাপ চালিয়ে যান এবং সর্বশেষ খবরে জানা গেছে আমার পরিচিত দুই ব্যক্তি যারা ডেস্টিনির বিরুদ্ধে কথা বলতে বলতে কমরেডের পর্যায়ে চলে গিয়েছিলেন তারা নাকী ডেস্টিনি তে যোগ দিয়েছেন।

আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই, কারণ জগতে অনেক বিচিত্র জিনিসই ঘটে। এটিও তাদের মধ্যে একটি। ডেস্টিনি তে যারা যোগ দেন তাদের সিন্ড্রোমে আক্রান্ত হওয়াটা আসলে একদিনে হঠাৎ করে হয়ে যায় না। সাধারন রোগব্যধী যেমন উদাহরনস্বরুপ ডায়রিয়া পায়খানা করে সাবান বা ছাই দিয়ে হাত না ধুয়ে খাবার গ্রহন করলে হয় থাকে। এটি তেমন কোন জীবানু বাহীত রোগ নয় বলে এটি তে আক্রান্ত হতে একটি প্রসেসের মধ্য দিয়ে যেতে হয়।

ডিজিটাল ভাইরাস এমএলএম নিজেদের ব্রেইনে ঢোকানোর জন্য একজনকে রীতিমত সাধনা করতে হবে। এই সাধনার জন্য যে বইটা অতি গুরুত্বপূর্ন তার নাম “ইনভাইট ফলো ক্লোজিং জয়েনিং”। এ বইটির পা থেকে মাথা পর্যন্ত মানে আপাদমস্তক কৌশলে পরিপূর্ন। শুধু কৌশল আর কৌশল। প্রথমেই আছে আমন্ত্রনের কৌশল।

অর্থাৎ কীভাবে আমন্ত্রণ করবেন। তারপর আছে কীভাবে কথা বলবেন তার কৌশল। এখানে উল্লিখিত একটি কৌশল যা নিরীহ জনগন যারা ডেস্টিনির সাথে সংযুক্ত নন তাদের জন্য বিরাট ভয়াবহ। এই কৌশলটি দেখে আমি রীতিমত আশ্চর্য হই। কৌশলটি হচ্ছে, একজন ডেস্টিনি কর্মীকে পরিচিত পাচঁশ ব্যাক্তির নাম এক জায়গায় নোট করে রাখতে হবে।

উদ্দেশ্য এদের আমন্ত্রন করা। এই পাচঁশ ব্যাক্তি কীভাবে পাওয়া যাবে তার কৌশলও বর্নিত আছে বইটি তে। কৌশল সমূহ হচ্ছে, ১। ইংরেজি এ থেকে জেড পর্যন্ত অক্ষর মনে মনে এনে দেখতে হবে এই অক্ষর দিয়ে কয়টি নাম পরিচিত। এগুলো লিখতে হবে।

২। ফোনের ইনডেক্স চেক করে দেখতে হবে এখানের কেউ বাদ গেল কি না। ৩। বিভিন্ন সময়ে আপনার হাতে আসা ভিজিটিং কার্ডগুলো থেকে নাম যোগ করতে হবে। ৪।

বাসার সবগুলো এলবামের ছবি দেখে বের করতে হবে পরিচিত কেউ লিস্ট থেকে বাদ গেল কি না। ৫। মনে মনে ঠিক করতে হবে কোন বিবাহ উপলক্ষে পাচঁশ মানুষকে দাওয়াত করবেন। এই পাচশ জনের মধ্যে যারা মূল লিস্টে নেই তাদের যোগ করতে হবে। এই কৌশলগুলো আলোচনা করা আছে বইটিতে।

অতএব নাম লিস্টে ধোকানোর কৌশল দেখে দেখা যাচ্ছে, ডেস্টিনি সিন্ড্রোমে আক্রান্ত ব্যাক্তির হাত থেকে আপনার নিস্তার নাই। একমাত্র ভাগ্যদেবী সহায় নাহলে আপনি পাচঁশ জনের সেই লিস্ট থেকে বাদ পড়তে পারবেন না। মাথা ঘুরে পড়ে গেলেও না। বইয়ে আরো আছে ১৮ থেকে ৩০ বয়সীদের কাছে বলতে হবে পার্টটাইম জবের কথা,৩০ থেকে পঞ্চাশের কাছে আরেকরকম আর পঞ্চাশের উপরের বয়সীদের কাছে বলতে হবে তার ছেলে মেয়ের ভবিষ্যতের কথা। বইয়ে আছে ড্রেস কোডের কথা, যেমন পুরুষের ড্রেস হবে, ম্যাচিং স্যূট ,টাই, মোজা,সার্ট,ঘড়ি এবং রুমাল!নিয়মিত শেভ করতে হবে।

খেয়াল রাখতে হবে যেন সার্টের বোতাম ও প্যান্টের জিপার খোলা না থাকে! আরো কিছু কৌশল বলা আছে। যেগুলো সাধারন জনগন জানলে ডেস্টিনি আক্রান্তদের বুঝতে পারবেন সহজে। যেমন ডেস্টিনি সিন্ড্রোমে আক্রান্তদের উদ্দেশ্যে বলা আছে, ১। মুখ যেন সবসময় হাসি হাসি থাকে। ২।

যার সাথে কথা বলা হচ্ছে(সহজ ভাষায় মগজ ধোলাই করার চেষ্টা করা হচ্ছে) তার চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলতে হবে। নায়িকা মৌসুমী দেখেছিলাম এক ছবিতে গান গাচ্ছিলেন চোখ যে মনের কথা বলে। এরাও মৌসুমীর গানের কথায় বিশ্বাস করে চোখে চোখ রাখার কথা বলেছেন। ৩। করমর্দন করতে হবে।

যাকে ইংরেজিতে বলে হ্যান্ডশেক। নট দিপিকা শেক। ৪। সাক্ষাতকারে(মগজ ধোলাইয়ে) কোন কিছু খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। ৫।

শ্রবণ করতে হবে এবং উত্তর প্রদান করতে হবে। ৬। এমন স্থানে সাক্ষাতকার যেখানে তৃতীয় শক্তির উপস্থিতি নাই। আরো বিভিন্ন নিয়ম সুন্দর ভাবে ব্যাখ্যা করে উপস্থাপন করা হয়েছে এই বই “ইনভাইট ফলো ক্লোজিং জয়েনিং” এ। বাংলা সাহিত্যে এত সুন্দর সৃষ্টিকর্ম অনেক কমই হয়েছে বলে আমার ধারনা।

মোবাইল দিয়ে তাই কয়েকটা ছবি তুলেছিলাম, প্যান্টের দরজা নিয়মঃ বৈজ্ঞানিক কথাবার্তা মনে হচ্ছে, ম্যানেজ করার জন্য ক্যামনে কি করবেনঃ কতিপয় শর্ত, বস মানে বিগ অয়েলিং স্মল স্যালারি! এই সেই গোল্লা গোল্লা জিনিস!এগুলো বুঝা অনেক কঠিন কর্ম! এই সেই বইঃ এই অমর বই কিনতে হলে গুনতে হবে টাকায় চল্লিশ টাকা এবং ডলারে মাত্র এক ডলার!

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।