আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

রোম সম্রাটের কাহিনী ওবিশর হাফীর কাহিনী



ছওলতে ফারুকী নামক কিতাবে আছে রোম সম্রাট কায়ছার ইসলাম গ্রহণের পর একদা আমিরুল মোমেনীন ওমর রা এর কাছে বললেন,সব সময় আমার ভীষন মাথা ব্যথা থাকে । চিকিৎসার অনেক চেষ্টা করিয়াছি ,কিন্তু কোন ফল হয়নি । সম্রাটের এই কথা শু নে ওমর একটি কাল টুপি সেলাই করে সম্রাটের মাথায় দেওয়ার জন্য লোক মারফত পাঠিয়ে দিলেন । আমীরুল মোমেনীনেরতরফ থেকে একটি টুপি আসছে দেখে সম্রাট ভক্তি ভরে কিছুটা পথ এগিয়ে গেলেন এবং পরম ভক্তির সাথে টুপিটি নিয়ে মুকুটের মত মাথায় দিলেন আর এমনি তার দীর্ঘ দিনের মাথা ব্যথাভাল হয়ে গেল । যতক্ষন টুপিটি তার মাথায় শোভা পেত ততক্ষন তার মাথাব্যথা থাকতনা ।

আর যখনই উহা মাথা হতে খুলে রাখতেন,তখন আবার মাথা ব্যথা আরম্ভ হত । এই অবস্থা দেখে তিনি অবাক হলেন এবং এরকারণ খুজতে লাগলেন । তারপর খুঁজতে খুঁজতে তিনি দেখতে পেলেন টুপির সংগে একটুকরা কাগজ জড়নো এবং উহাতে লেখা আছে ' বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম 'কথাটি লেখা আছে। বুঝা গেল বিসমিল্লাহশরীফ সকল রোগের মহৌষধ । মাওলানা রুমি মসনভী শরীফে বলেছন 'তাসমিয়াহ আমদ এলাজে হার মারাজ,শুধরাওয়া হারকাস কে খানাদৈহার গারাজ '।

বিসমিরল্লাহ শরীফ হল যাবতীয় রোগের মহৌষধ ,যে ব্যক্তি উহা পাঠ করবে তার যাবতীয় মকছুদ পূর্ণ হবে। হযরত বিশরহাফী একজন বড় ওলী আল্লাহ ছিলেন । প্রথম জীবনে মদ্যপায়ী ছিলেন। একদিন তিনি মদের আড্ডা খানার দিকে যাচ্ছিলেন পথিমধ্যে তিনি বিসমিল্লাহ লেখা একখানা কাগজ দেখতে পেলেন । তিনি কাগজখানা হাতে নিয়ে ভক্তির সাথে চোখে লাগাইলেন, কাগজের ময়লা পরিষ্কার করিয়া উহাতে চুমা খেলেন।

অতঃপর এক পাক জায়গায় তাজীমের সাথে এটা রাখিয়া দিয়ে নিজে শরাবখানায় চলিয়া গেলেন। সেখানে শরাব পান করে তিনি নেশায় বিভো হয়ে গেলেন। অন্যদিকে আল্লাহর তরফ হতে সেই যুগের সর্ব শ্রেষ্ঠ ওলীআল্লাহ হযরত হাসান বছরী (রহঃ)-এর প্রতি এই বলে গায়েবী নির্দেশ হলঃ শীগ্গীর অমুক শরাবখানায় যাইয়া বিশর হাফিকে আমার পক্ষ থেকে খোশখবর দাও, আর আমার রহমতের দরজায় তাহাকে তুলে আন। বাস্তবিাই, আল্লাহর রহমতের নজর যাহার প্রতি পড়ে, সে এমনিভাবেই গোমরাহীর অতল হতে হেদায়েতের রাজপথে এসে দাঁড়ান। গায়েবী নির্দেশ অনুযায়ী হযরত হাসান বছ্রী (রহঃ) ঐ শরাবখনায় যেয়ে উপস্থিত হলেন।

হাছান বসরী সেখানে লোকজনতো অবাক । মানুষ জন বলবলি করতে লাগল হুজুর আপনি এখানে কেন , তাদের কথার জবাবে তিনি বললেন আমিতো নিজ ইচ্ছায় আসিনাই যে নিজ ইচছায় চলে যাব । আললাহ পাক আমকে পাঠিয়েছেন বিশরকে নিয়ে যাওয়ার জন্য। সে কোথায় ? লোকেরা বিশরকে নিয়ে এল । হাছান বছরী দেখলেন ,বিশর মাতাল হয়ে পড়ে আছেন।

কিছুক্ষণ পর বিশর এর হুশ ফিরে এলে হাছান বছরী তাকে খোশখবর শোনালেন । এমন সময় গায়েবী আওয়াজ হল 'হে বিশর তুমি আমার নামের ইজজত করেছ আমি আল্লাহ তোমার মর্যাদা উন্নত করে দিলাম । আর তুমি আমার নামকে ময়লা মুক্ত করেছ তার বিনিময়ে আমি তোমাকে পাপমুক্তকরে দিলাম এবং সৌরভযুক্ত করলাম । সোবহানআল্লাহ আল্লাহ তায়ালার দয়ার কোন সীমা নেই । এমন জঘন্য পাপীর পাপ শুধু বিসমিল্লাহ শরীফের তাজীমের বরকতে মুহূর্তের মধ্যে তিনি ক্ষমা করে দিলেন এবং নিমিষে তাঁকে কোন রকম যোগ্যতা ছাড়াই ওলী আল্লাদের দলে শামিল করে দিলেন ।

আল্লাহ আমাদেরকে বিসমিল্লার উসিলায় সরদ পথ দেখান আমীন । আমীন ইয়া রাববাল আলামীন ছুম্মা আমীন ।


এর পর.....

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।