আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

বাংলাদেশ সব খেলাতে হারবে বলতে বলতে মুখ দিয়ে ফেনা ওঠার দশা সিধুর। সে বাংলাদেশ কে সহ্য-ই করতে পারেনা। কিন্তু কেন?

সকালের মিষ্টি রোদ পেরিয়ে আমি এখন মধ্যগগনে,
কথায় বলে, 'কয়লা ধুলেও ময়লা যায় না'। ভারতের সাবেক ওপেনার নভজোত সিধুকে দেখার পর প্রবাদটির সার্থকতা আরেকবার প্রমাণিত। বাংলাদেশ ক্রিকেট নিয়ে এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় নোংরা কথার খেলায় নেমেছেন সাবেক ভারতীয় ওপেনার এবং ইএসপিএন-স্টার স্পোর্টস ধারাভাষ্যকার এই সিধু। কোনো কারণ ছাড়াই বাংলাদেশকে নিয়ে যা ইচ্ছা তা-ই বলে যাচ্ছেন তিনি। সভ্যতা-ভব্যতা এসব তো অনেক দূরের ব্যাপার, লাজ-লজ্জারও কোনো বালাই নেই তার কথার মধ্যে! ইএসপিএন-স্টার চ্যানেলে বাংলাদেশ বিষয়ে সিধুর মন্তব্যগুলোকে বর্ণবাদ নীতিমালার সরাসরি লঙ্ঘন বলেও উল্লেখ করেছে বিশ্ব ক্রিকেট শাসক সংস্থা আইসিসি।

সিধুর কারণে ইএসপিএন-স্টারকে সতর্কও করে দিয়েছে আইসিসি। কিন্তু কোনো কিছুতেই বন্ধ হচ্ছে না সিধুর মুখ! বাংলাদেশ নিয়ে সিধুর নোংরামি কোন পর্যায়ে পেঁৗছেছে সেটা অনুধাবনের জন্য একটি তথ্যই যথেষ্ট। বাংলাদেশ- আয়ারল্যান্ডের ম্যাচে প্রথম থেকে বাংলাদেশ হারবে বলতে বলতে মুখ দিয়ে ফেনা ওঠার দশা হয় তার। ম্যাচে ২৭ রানে জিতে তার মুখে ঝামা ঘষে দেয় বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। অন্য কেউ হলে লজ্জায় মাথা নিচু করে থাকত।

কিন্তু ও যে সিধু! যার অভিধানে লাজলজ্জা বলতে কোনো পদার্থ নেই! ম্যাচ শেষে সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক আথারটন বললেন, 'এই বাংলাদেশ কিন্তু কোয়ার্টার ফাইনাল খেলতে পারে। ' এর জবাবে সিধু যা বললেন তা কেবল বদ্ধ উন্মাদের পক্ষেই সম্ভব। তার ভাষায়, 'তেলাপোকাও তার নিজের রাজ্যে রাজা। ' তখন কেউ যদি পাল্টা প্রশ্ন করে যে ১৯৮৭-এর বিশ্বকাপে স্বাগতিক ভারতীয় দলের ওপেনার ছিলেন আপনি। নিজের রাজ্যে তো আপনি দলে থাকার পরও ভারত ফাইনালে ওঠেনি! তার মানে ধরে নেওয়া যেতে পারে ভালো জাতের তেলাপোকা হওয়ার যোগ্যতাও আপনি রাখেন না! সিধুর এসব মন্তব্য নিয়ে আইসিসির কাছে বাংলাদেশের ছেলে দীপন একটি ই-মেইল বার্তা পাঠান।

তার ই-মেইলের পরিপ্রেক্ষিতে আইসিসি সিধুর ভিডিও ফুটেজও পর্যালোচনা করেছে। সিধুর এ ধরনের কথা আইসিসির বর্ণবাদ নীতিমালার সরাসরি পরিপন্থী বলে উল্লেখ করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন আইসিসি চিফ এক্সিকিউটিভ হারুন লরগাত। দুঃখ প্রকাশ করে দীপনের ই-মেইলের জবাবও দিয়েছেন আইসিসি প্রধান নির্বাহী। এত কিছুর পরও সিধু কেন এমন করে বড় হয়ে উঠছেন? প্রশ্ন এটাই। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড পরিচালক জালাল ইউনুসের ভাষায়, 'কিছুটা জোকারি আর পাগলামি করে সিধু আসলে আলোচনায় থাকতে চায়।

দু'দেশের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্কে সমস্যা তৈরি করতে পারে, এমন কাজেই বেশি উৎসাহ সিধুর। ' রকিবুল হাসান-তামিম ইকবালসহ বাংলাদেশের সাবেক ও বর্তমানের প্রায় সব ক্রিকেটারই সিধুকে উন্মাদ, অপ্রকৃতিস্থ বলে অ্যাখায়িত করেছেন। রকিবুল হাসান তার বিরুদ্ধে বিসিবিকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, সিধু অপ্রকৃতিস্থ, অসুস্থ। না হলে কেউ কি মানুষ খুন করে? আর সে যে এত বড়াই করে কথা বলে, দলে থাকতে তো পেসারদের খেলতে হবে এই ভয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ-অস্ট্রেলিয়া সফরে যেত না। সিধুর আচরণের কড়া সমালোচনা করে রকিবুল হাসান আরও বলেন, ইএসপিএন-স্টার আইসিসির সহযোগী।

বিশ্বকাপের অংশ। এভাবে দিনের পর দিন একজন একটি স্বাধীন, সার্বভৌম জাতিকে অপমান করে যাচ্ছে, কেউ কিছু বলছে না। ইএসপিএন তা সরাসরি সম্প্রচারও করছে। বিসিবিও নিশ্চুপ, বিষয়টি আমাকে অবাক করছে। রকিবুলের মতো চটেছেন তামিম ইকবালও।

তার কথা, সমালোচনা করা যেতেই পারে। কিন্তু এসব কী ভাষা? বাংলাদেশ ১০ বছরে কী উন্নতি করছে তা তো গত বিশ্বকাপেই প্রমাণ হয়ে গেছে। ইংল্যান্ডকে হারানোর পর তো সিধুর কথা অসারই। সমকাল/১৩/০৩/২০১১
 

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।