আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলে তুমুল লড়াই

Service of The people.

বিক্ষোভকারীদের হাত থেকে লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিতে ট্যাংক ও জঙ্গি বিমান নিয়ে গতকাল বুধবার কয়েকটি শহরে ব্যাপক অভিযান চালিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। তবে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে তুমুল লড়াইয়ের পর তারা পিছু হটতে বাধ্য হয়। এদিকে জঙ্গি বিমানবাহী মার্কিন দুটি রণতরী সুয়েজ খাল পেরিয়ে লিবিয়ার আরও কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। তবে লিবিয়ায় সামরিক অভিযানের ব্যাপারে পশ্চিমা বিশ্বকে সতর্ক করে দিয়ে দেশটির স্বৈরশাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফি বলেছেন, এতে করে এক ‘ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী’ যুদ্ধের সূচনা হবে। নিহত হবে হাজার হাজার মানুষ।

আর শেষ মানুষটি জীবিত থাকা পর্যন্ত তিনি লড়ে যাবেন। এই সংঘাতের মধ্যে লিবিয়া-তিউনিসিয়া সীমান্তে আটকে পড়ে চরম দুর্বিষহ দিন কাটাচ্ছে বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের হাজার হাজার মানুষ। খবর এএফপি, রয়টার্স ও বিবিসি। পূর্বাঞ্চলের প্রধান শহর বেনগাজি থেকে ২০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমের শহর ব্রেগার বাসিন্দারা জানান, গাদ্দাফির বাহিনী ট্যাংক ও সাঁজোয়া যান নিয়ে সেখানে হামলা চালিয়েছে। এরপর সেখানে তুমুল লড়াই হয়।

ব্রেগার ৪০ কিলোমিটার দূরের শহর আজদাবিয়াতে হামলা চালিয়েছে জঙ্গি বিমান। একটি অস্ত্রভান্ডার বিদ্রোহীদের দখলে চলে যাওয়ায় সেখানকার একটি সেনাঘাঁটি লক্ষ্য করে ওই বিমান হামলা চালানো হয় বলে সেখানকার বাসিন্দারা জানান। প্রত্যক্ষদর্শীরা দুজন নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছেন। পরে নিরাপত্তা বাহিনী হটে যায় এবং শহরটি আবার নিজেদের নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে দাবি করেছেন বিক্ষোভকারীরা। আজদাবিয়া থেকে পুলিশের এক শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা পরিচয় প্রকাশ না করে বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘ব্রেগা শহর এখন পুরোপুরি বিক্ষোভকারীদের নিয়ন্ত্রণে।

আজদাবিয়া থেকে বিক্ষোভকারীরা সেখানে গিয়েছেন লড়াই করতে। ’ আজদাবিয়ার বিদ্রোহীদের নেতা মেহদি সুলাইমান হুসেইন বলেন, ‘গাদ্দাফির বাহিনী ব্রেগায় হামলা চালিয়েছিল, লড়াই হয়েছে। কিন্তু এখন তারা পিছু হটছে। তবে এখনো কিছু ভাড়াটে খুনি বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। ’ এর আগে গত মঙ্গলবার ত্রিপোলির পাশের একটি শহর থেকে বিক্ষোভকারীদের হটিয়ে দেয় গাদ্দাফি-সমর্থক বাহিনী।

এ ছাড়া পার্শ্ববর্তী শহর জাওয়িয়া দখলে নেওয়ার জন্য অভিযান চালায় নিরাপত্তা বাহিনী। তবে বিদ্রোহী সেনাদের সহযোগিতায় বিক্ষোভকারীরা তুমুল লড়াই চালান। পরে গাদ্দাফির বাহিনী পিছু হটে। তবে পূর্বে ও পশ্চিমে বিক্ষোভকারীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা আরও কয়েকটি শহর দখলে নেওয়ার জন্য অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে গাদ্দাফি-সমর্থক বাহিনী। এদিকে জঙ্গি বিমানবাহী মার্কিন রণতরী ইউএসএস কেয়ারসেজ ও ইউএসএস পোন্স ধীরে ধীরে লিবিয়ার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

রণতরী দুটি গতকাল সকালে সুয়েজ খালে ঢোকে বলে জানায় মিসরীয় কর্তৃপক্ষ। সন্ধ্যার দিকে এগুলোর সুয়েজ খাল ছেড়ে ভূমধ্যসাগরে ঢুকে পড়ার কথা ছিল। ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের এক কর্মকর্তা এএফপিকে বলেন, ‘আমরা অবশ্যই লিবিয়ার দিকে রণতরী এগিয়ে নিচ্ছি। কেয়ারসেজের মতো একটি রণতরী অনেক ধরনের অভিযান চালাতে সক্ষম। ’ মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্ট গেটস বলেছেন, ‘সরাসরি বলতে গেলে, মধ্যপ্রাচ্যের আরও একটি দেশে আমাদের সামরিক শক্তি প্রয়োগের কথা চিন্তা করতে হচ্ছে।

’ তবে লিবিয়ায় সামরিক হামলার বিষয়ে বিভক্ত হয়ে পড়েছে ন্যাটো। ন্যাটোর সদস্য অনেক দেশ মনে করছে লিবিয়ায় হামলা চালানো হলে আরব বিশ্বের মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হবে। ফ্রান্স বলেছে, সামরিক অভিযান চালাতে হলে তা জাতিসংঘের সম্মতির ভিত্তিতেই হতে হবে। তবে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্ট গেটস বলেন, সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে ন্যাটোর মধ্যে কোনো বিভক্তি নেই। আর ন্যাটোর মহাসচিব অ্যান্দ্রেস ফগ রাসমুসেন বলেছেন, লিবিয়ায় সামরিক অভিযান চালানো খুবই কঠিন হবে।

কেননা, অনেক বিদেশি নাগরিক আটকা পড়ে আছে। এদিকে গাদ্দাফি পশ্চিমা বিশ্বকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বা ন্যাটো যদি লিবিয়ায় হামলা চালায়, তাহলে হাজার হাজার মানুষ নিহত হবে। গতকাল ত্রিপোলিতে নিজের সমর্থকদের একটি ছোট্ট সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। তাঁর ওই বক্তৃতা টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত হয়। তবে গাদ্দাফি আবারও এই সংকটের জন্য আল-কায়েদাকে দায়ী করেন।

তিনি বলেন, এই ষড়যন্ত্রের উদ্দেশ্য পরিষ্কার—লিবিয়ার ভূমি ও তেল। ষড়যন্ত্রকারীদের উদ্দেশ্য সফল হবে না জানিয়ে গাদ্দাফি বলেন, ‘এটা অসম্ভব, অসম্ভব। মহান আল্লাহর সহযোগিতায় আমরা শেষ পর্যন্ত লড়ে যাব। একজন পুরুষ, একজন নারীও জীবিত থাকা পর্যন্ত...। ’ লিবিয়ায় সামরিক আক্রমণ না চালানোর জন্য পশ্চিমা বিশ্বকে সতর্ক করে ইরান বলেছে, তাহলে দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে পরিণত হবে।

লিবিয়ায় গাদ্দাফির বাহিনীর হামলার নিন্দা জানিয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, তার পরও একটি দেশে সামরিক হামলা চালানোর জন্য এটি কোনো অজুহাত হতে পারে না। এদিকে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন থেকে লিবিয়ার সদস্যপদ স্থগিত করা হয়েছে। জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের মুখপাত্র সাইবেলা উইলকেস জেনেভায় সাংবাদিকদের বলেন, লিবিয়া-তিউনিসিয়া সীমান্তে আটকে পড়া লোকজন খুবই দুর্বিষহ অবস্থায় আছে। কয়েক দিন ধরে তারা উন্মুক্ত জায়গায় প্রচণ্ড ঠান্ডা ও বৃষ্টির মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। সংঘাত শুরু হওয়ার পর গত ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৮১ হাজার মানুষ সীমান্ত অতিক্রম করে তিউনিসিয়ায় ঢুকেছে।

এ ছাড়া আরও প্রায় ৪০ হাজার মানুষ সে দেশে ঢোকার অপেক্ষায় সীমান্তে আটকে আছে। তিউনিসিয়া সীমান্তে আসা লোকজনকে বুঝে নেওয়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কর্নেল মোয়েজ ডাচরাওয়ি জানান, প্রতিদিন গড়ে ১০ হাজার মানুষ তিউনিসিয়ায় ঢুকছে। কোনো কোনো দিন এ সংখ্যা ১৫ হাজারও ছাড়িয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, লোকজন যদি এভাবে আসতে থাকে, তাহলে মানবিক বিপর্যয়ের সৃষ্টি হবে, বিশেষ করে স্বাস্থ্যগত দিক দিয়ে। লোকজনকে আশ্রয় দিতে সীমান্ত থেকে ১০ কিলোমিটার ভেতরে একটি শিবির স্থাপন করা হয়েছে, কিন্তু তা ইতিমধ্যে পরিপূর্ণ হয়ে গেছে।


অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।