আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

কোকিলা কালো বলে গান শোনে না কে

লিখে খাই, সবার ভাল চাই কোকিলা কালো বলে গান শোনে না কে/কেশ কালো তার নয়ন কালো/আমি সে কালোকে বাসি ভালÑ গীতিকবির এ কবিতা গান হয়ে শিল্পীর মধুর কণ্ঠ থেকে বেরিয়ে গেঁথেছে মানুষের হৃদয়ে। কবি কালোকে দূরে ঠেলে না দিয়ে কাছে টেনে নেয়ার আকুতিই জানিয়েছেন এ কবিতায়। তাই তিনি কালো ও বিশ্রী কোকিলের গানকে টেনে এনেছেন সামনে। কিন্তু কালোকে আমরা ক’জন সম্মান করি? পৃথিবীটাই তো সুন্দরের পূজারী। সুন্দরের জন্য মানুষ পাগল।

জীবন পর্যন্ত দিয়ে দেয়। কেউ তার পুত্রকে বিয়ে করাবে। পাত্রী খোঁজা হচ্ছে। সবার কথা, পাত্রী কালো হলে চলবে না। সুন্দর হতে হবে।

তাই বলে কি কালো মেয়ের বিয়ে হয় না? তবে সমাজে কালো মনের মানুষের অভাব নেই। যত সুন্দর আছে সব তাদের কাছে অসুন্দর। একজন শিশু কালো অক্ষর দিয়েই তার শিক্ষা জীবন শুরু করে। অ আ শিখতে শিখতে বড় হয়। অনেক বড়।

কেউ সুন্দর মনের অধিকারী হয়। তার কাছ থেকে সমাজ, সংসার কিছু পায়। আবার কেউ কালো মনের অধিকারী হয়। যেমন, বনখেকো ওসমান গণি। গ্রামের বাড়িতে তার মা ভাঙা ঘরে বসবাস করতেন।

টাকার অভাবে না খেয়ে থাকতে হয়েছে। আর ওসমান গণি’র বালিশের ভেতরে, চালের বস্তায় থাকতো তার টাকা। সমাজে আরও কত ধরনের কালো মনের মানুষ আছে। যারা সমাজটাকে কলুষিত করে রেখেছে। অন্ধকার থেকে তারা আলোতে বেরিয়ে আসারও চিন্তা করে না।

বরং সমাজকে অন্ধকারে ডুবিয়ে রাখতে নানা কৌশল করে। অপচেষ্টা করে। তাদের কাছে যেন সবাই জিম্মি। পক্ষান্তরে সমাজে সুন্দর মনের মানুষও আছেন, যারা অন্ধকারকে দূরে ঠেলে আলোকে জাগিয়ে তুলতে চান। কিন্তু তারা কতটুকু সফল হতে পারছেন? কালো মনের মানুষগুলো তো যে কোন কাজ করতে দ্বিধা করেন না।

আর সুন্দররা অর্থাৎ সাদা মনের মানুষগুলো নীরবে নিভৃতে চেষ্টা করে যাচ্ছেন। যত বাধাই আসুক তারা পিছপা হন না। লাঞ্ছনা সহ্য করেও এগিয়ে যান তারা। লক্ষ্য পূরণ করতে তারা নিজের অর্থ ঢালেন নির্দ্বিধায়। সমাজটাকে সুন্দর করতে, মনকে সাদা করতে মরণপণ লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।

এখানেই কালো আর সাদার পার্থক্য। আসলে আমাদের স্বশিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে। এ শিক্ষার শুরু করতে হবে নিজ ঘর থেকে। কালোকে কালো, সাদাকে সাদা বলা শেখাতে হবে। তবেই বদলে যাবে সমাজ।

বদলে যাবে মানুষ। কালো মানুষের কথা উঠলেই মনে পড়ে কাইল্লানি দাদির কথা। তিনি খুবই কালো। একবারে বিদঘুটে। একদিন তার সঙ্গে কালো নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল।

বললেন, আমি কালো হলে কি হবে? তোর দাদা তো আমার জন্য পাগল। আমাকে ভালবেসে বিয়ে করেছে। কে আমাকে কাইল্লানি বললো বা অন্য কিছু বললো তাতে কিছু আসে যায় না। বললাম, সমস্যা তো অন্যখানে। হাদিসে আছে, কালো মানুষ কখনও বেহেস্তে যাবে না।

কথা শোনে দাদি তো মহাচিন্তায়। এক পর্যায়ে কেঁদে ফেললেন। জানতে চাইলেন, সত্যিই কালো মানুষ বেহেস্তে যাবে না? বললাম, দাদি এটা আমার কথা নয়, হাদিসের কথা। তুমি যদি কালো হয়ে থাক তাহলে কোনদিন বেহেস্তে যেতে পারবে না। দাদি বললেন, কালো হয়ে থাকবো কি? আমি তো সত্যিই কালো।

ও আল্লাহ গো তুমি আমারে কেন কালো করে সৃষ্টি করলা? কি দোষ করেছিলাম আমি? বলেই চিৎকার করে কাঁদতে লাগলেন। দাদিকে থামিয়ে বললাম, এখানে ‘তবে’ আছে। ‘তবে’ কি? তাড়াতাড়ি বল। বললাম, রঙ কালো না, মন কালো। হাদিসে বলা হয়েছে যাদের মন কালো তারা কখনও বেহেস্তে যেতে পারবে না।

হাফ ছেড়ে বাঁচলেন দাদি। বললেন, রঙ কালো হলেও আমার মন সুন্দর। দাদির মতো সবার মন সুন্দর হোক। সবাই সাদা মনের অধিকারী হোক এমনটাই চায় মানুষ। তাহলেই কবির কবিতা আর শিল্পীর গান ‘কোকিলা কালো বলে, গান শুনে না কে’ সার্থক হবে।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।