আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

সাড়ে আট হাজার মাইল দূরে

আজি হতে শতবর্ষ পরে কে তুমি পড়িছো বসি আমার ব্লগখানি কৌতুহল ভরে www.leoirfan.tk

ঈদ স্পেশাল ব্লগ : স্নেহাঃ আমার সুইজারল্যান্ড থেকে সব পেপার চলে এসছে। অমি কিছু বলে না। তার দৃষ্টি অন্য কিছুতে স্থির। কিছু একটা দেখছে। বোঝার চেষ্টা করছে।

স্নেহাঃ কিছু একটা বললাম আমি। অমিঃ কবে যেতে চাচ্ছ ? স্নেহাঃ ভিসা হলে এই সেপ্টেম্বরেই। অমিঃ শীতের কাপড় আছে তো? সাড়ে আট হাজার মাইল দূরে, শুধু শাল দিয়ে কিন্তু ওই দেশে শীত যাবে না। স্নেহাঃ তাকিয়ে আছে অমির দিকে। বোঝার চেষ্টা করছে ওর মাথায় কি চলছে।

অমিঃ আম্মু কে বলো শীতের কাপড় কিনে দিতে। স্নেহাঃ (শান্ত স্বরে) তুমি কি জীবনে একবারের জন্যেও একটু সিরিয়াস হতে পারো না? অমি হেসে ফেলে। স্নেহাঃ চলে গেলে আমি আর দেশে আসতে পারব না। অমিঃ একটা কাজ করো। আমার জন্যে প্রতিমাসে এক বাক্স করে চকলেট পাঠিও।

আর কিছু লাগবে না। স্নেহাঃ চোখ সরিয়ে নিল। তার চোখে পানি চলে আসছে। অমি নদীর পানির থেকে চোখ সরায়। ঘুরে বসে স্নেহা এর দিকে।

স্নেহা আগের মতই অন্য দিকে তাকিয়ে। সে কোনোভাবেই তাকাবে না অমির দিকে। অমিঃ (বড়রা বাচ্চাদের ঠিক যেভাবে বোঝানোর চেষ্টা করে ঠিক সেভাবে) শোনো! তুমি চলে গেলে আমি কি উধাও হয়ে যাব নাকি। সারা দিন এস ম এস , ফেসবুক, স্ক্যপি যা আছে সব দিয়ে তোমার সাথে কানেক্ট । তার মনে হচ্ছে সে কোনোভাবে উঠে পালিয়ে যেতে পারলে বাঁচত।

তার চোখ ভেঙে পানি আসছে। অমিঃ (আপনমনে) আমি চাইলেও দেশ ছাড়তে পারবো না। আর তুমি চেয়েও ওই দেশ ছাড়তে পারবে না। অমির মনে পরে তার একটা বন্ধুর কথা কেমন জানি ছন্দ করে বলছিল “চোখের বাইরে তো মনের ও বাইরে”। এমন হবে না তো আবার! আবার আপন মনে চিন্তায় আসে না এমন হবে না।

স্নেহাঃ ( থেমে থেমে) আমার খুব কষ্ট হচ্ছে। অমি খুব মনোযোগ দিয়ে দেখে স্নেহা কে । চুলগুলো ঘাড়ের কাছ থেকে ছড়িয়ে আছে। লম্বা চুলে স্নেহা সুন্দর লাগে। কিন্তু তারপরও সেদিন একটু চুল পার্লারে গিয়ে চুল কাটিয়ে এসেছে।

চুল কাটার পরে টানা তিন দিন দেখা করেনি স্নেহা সাথে। অমির কেমন লেগেছিল শুধু অমিই জানে। কিন্তু অমি রাগ করতে পারেনি। স্নেহার চেহারায় কিছু একটা আছে। একটু তাকিয়ে থাকলেই কেমন যেন লাগে।

এ কেমনটা কি অমি জানেনা। খুব ইচ্ছে হয় স্নেহার হাতটা মুঠোয় নিয়ে বসে থাকতে কোন ব্যস্ত রাস্তার রিক্সার মধ্যে, কোন ব্যস্ত রাস্তার ফুটপাত দিয়ে হাঁটায় । হাত ভর্তি চুড়িগুলো গুণে গুণে দিন গুলো শেষ করে দিতে। স্নেহা না তাকিয়েও বুঝতে পারে অমি তার দিকে তাকিয়ে চিন্তায় হারিয়ে গেছে। প্রায় সময় বেচারার এমন হয়।

কথা বলতে বলতে হঠাৎ স্নেহা এর চোখের দিকে তাকিয়ে হারিয়ে যায়। এরপর কিছুই বলেনা। স্নেহা আড়ষ্ট ভঙ্গিতে বসে থাকে। সামান্য হা হয়ে থাকা অমির বোকা মুখটা দেখতে তার বড্ড মায়া লাগে। হাওয়াই মিষ্টি নিয়ে এক পিচ্চি এসে দাঁড়িয়েছে সামনে।

লাল, নীল, বেগুনি রঙের। ছোটকালে হাওয়াই মিষ্টিওয়ালা আসলে সবাই দৌড়ে বের হত। হাওয়াই মিষ্টিওয়ালা চর্কির মত কি একটা যেন ঘোরাতে থাকত। আঁশের মত কিছু কাঠির আগায় পেঁচিয়ে তাদেরকে দেয়া হত। স্নেহার বড় ইচ্ছে হয় অমির সাথে ভাগাভাগি করে হাওয়াই মিষ্টি খেতে।

একই ছাদের নিচে কি কখনও এমন হবে? কোনো এক মেঘলা কালো দিনে তারা হাঁটবে। সারাদিন শুধু হাঁটবে। ভেজা পথ শেষ হবে না। গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি শেষে আবার ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি নামবে। পথচারীরা দৌড়ে একটা আশ্রয় খুঁজবে।

তাদের দুজনের কোনো ব্যস্ততা থাকবে না। তাদের কাজ শুধু হাঁটা। এসময় অমি শক্ত করে ধরে রাখবে হাত। জীবনের খুব ছোটখাটো চাওয়াগুলো আলাদা ভাবে চাইতে হয়। তারপরেও পাওয়া যায়না।

আলাদা একটা দীর্ঘশ্বাস জড়িয়ে থাকে প্রতিটা চাওয়ার সাথে। মাঝে মাঝে তার কাছে আকাশটা একটা ছাদ মনে হয়। স্নেহাঃ শুনছো! অমিঃ ( অস্পষ্ট স্বরে) হু। স্নেহাঃ এই যে খোলা আকাশ। এই আকাশ কি আমাদের ছাদ হতে পারেনা? আকাশ খুব দ্রুত কাল হয়ে আসছে।

যে কোনো মুহূর্তে বৃষ্টি শুরু হবে। দমকা হাওয়ায় বালি উড়ছে। স্নেহার ওড়না গলার কাছে এসে পেঁচিয়ে যায়, চুল গুলো এসে মুখ ঢেকে দেয় অমির । অমির অগোছালো চুলগুলো বাতাসে এলোমেলো। অমিঃ ( উপরের দিকে তাকিয়ে) এই ছাদে শত সহস্র ফুটো আছে।

ফুটোগুলো ঢাকার সামর্থ্য প্রকৃতি আমাকে দেয়নি। বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। আকাশ চৌচির করে দিচ্ছে আলো। অন্য এক আলোতে অমির মুখটাও আলোকিত হয়ে উঠছে। স্নেহার শক্ত করে জড়িয়ে ধরা অমি কে স্বপ্নের জগতে নিয়ে যাচ্ছে।

ঝরে পড়তে লাগলো মুশুল ধারে বৃষ্টি.................. দেখতে দেখতে সেপ্টেম্বর এসে পড়ল। গরম আর তেমন নাই। প্রকৃতি কেমন জানি শুষ্ক ভাব নিয়ে বসে আছে। সকাল এ ঘুম ভাঙ্গার আগে একটু একটু শীত ও লাগে। মনে হয় কয়েক দিন পর শীত এসে পরবে।

। অমি তার রুম থেকে বারান্দায় যায়, গাছের থেকে পাতা পড়ে বারান্দায় মেঝে ভরে আছে........................। অমির দৃষ্টি বারান্দার লতানো গাছের আবরণ ভেদ করে দূর আকাশ এর দিকে......... ঝিরি ঝিরি কণ্ঠে গায়... “ও গান তুমি, ও গান তুমি ভেসে যাও আলোকের কণায়। গান ভেসে যাও তরঙ্গ মূর্ছনায়। গান ভেসে যাও অতলান্তিক ঘুরে ভেসে যাও গান তুমি প্রশান্ত ঘুরে সাড়ে আট হাজার মাইল দূরে সাড়ে আট হাজার মাইল দূরে” ফেবুতে আমি : http://www.fb.com/irfanmahmud95


অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.