আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

আমার দেখা ত্রিনিদাদ: কিছু তথ্য



ত্রিনিদাদের প্রখ্যাত ইউনিভার্সিটি আর্থার লক জ্যাক গ্র্যাজুয়েট স্কুল অফ বিজনেসে তিন দিনের লেকচার দেওয়ার আমন্ত্রণ পেয়ে ক্যারিবিয় দ্বীপপুঞ্জের ত্রিনিদাদ ও টোব্যাগোতে এসেছি ৬ ডিসেম্বর। আজ ১১ তারিখ লন্ডন ফিরছি। পৃথিবীর একেবারে অপর প্রান্তের এই দেশটিতে আসার আগে এই জায়গাটি সম্পর্কে আমার কোনো ধারণাই ছিলো না। গত ছয় দিনের অভিজ্ঞতা থেকে এই দেশ সম্পর্কে পাওয়া কিছু তথ্য শেয়ার করছি- * এ দেশে দুটি সিজন, ড্রাই সিজন ডিসেম্বর থেকে এপ্রিল-মে, রেইনি সিজন মে-জুন থেকে নভেম্বর-ডিসেম্বর। সারা বছরই আরামদায়ক উষ্ণতা, ২০-৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এই ডিসেম্বরেও এখানে গাছে গাছে পাকা আম ঝুলছে। * এদের কোনো নিজস্ব ভাষা নেই। ইংরেজিই এদের মাতৃভাষা। প্রত্যেকে তাই এই ভাষাতেই কথা বলে, যদিও একসেন্ট ভিন্ন, তাই মাঝে মধ্যে বুঝতে অসুবিধা হয়। * সাধারন মানুষ খুবই আন্তরিক।

ইংরেজি মাতৃভাষা বলে কথপোকথনে কোনো অনুবিধা নেই। * রাজধানীর নাম "পোর্ট অফ স্পেন"। বিমানবন্দরও এই নামে পরিচিত। * আমাদের মতো এ দেশের প্রধানমন্ত্রীও একজন নারী। * অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ হয়েছিলো।

তিনিও অর্থার লক জ্যাক ইউনিভার্সিটির প্রফেসর ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী দুজনই ভারতীয় বংশোদ্ভুত। অর্থমন্ত্রী অনর্গল হিন্দিতে কথা বলতে পারেন। * এ দেশের মানুষ মূলত ভারতীয় ও আফ্রিকান বংশোদ্ভুত। এই দুই জাতের মানুষের মধ্যে ঠান্ডা লড়াই আছে।

যদিও এখানে ধর্মীয় সম্প্রীতি অসাধারণ। এরা ক্রিসমাসে যেমন আনন্দ করে, তেনমি দিওয়ালী বা অন্যান্য প্রধান পূজাগুলোও আড়ম্বরের সঙ্গে পালন করে। আর ঈদে এদের সরকারি ছুটি থাকে। * সমুদ্রঘেরা দেশ হলেও কোনো একটি বিচিত্র কারণে এখানে সামুদ্রিক মাছ সহজলভ্য নয়। অবশ্য মারাকাস বিচে গিয়ে আমি দারুন সুস্বাদু "বেকেন সার্ক" বা গ্রিল করা হাঙ্গর মাছ খেয়েছি।

* এখানে স্থানীয় মুদ্রা টিটি ডলারের পাশাপাশি ইউএস ডলার সমানভাবে চলছে। বিনিময় হার: ১ মার্কিন ডলার = ৬ টিটি ডলার। সে হিসেবে ১ টিটি ডলার = ১২ টাকা (প্রায়)। * এ দেশের খাদ্য ও নিত্য প্রয়োজনীয় পন্যের পুরোটাই আমদানি নির্ভর। তাই জিনিসপত্রের দাম অস্বাভাবিক বেশি।

উদাহরণ: ৯ কেজি চালের (ভালো মানের) এক প্যাকেটের দাম বাংলাদেশের টাকায় প্রায় ১১,০০/- টাকা। আমি রাস্তার পাশে ফুটপাত থেকে চারটি কলা ও তিনটি আপেল কিনে বাংলাদেশের টাকায় প্রায় ২৫০/- টাকা দাম পরিশোধ করেছি। ল্যাপটপ কানেরশনের জন্য একটি প্লাগ কিনেছি প্রায় ৭০০ টাকায়, বাংলাদেশে এর দাম কোনোভাবেই ১০০ টাকার বেশি হবে না। তিন বেডরুমের ফার্নিশ একটি বাড়ির ভাড়া মাসে ১,২০০ মার্কিন ডলার (বিদু্ৎ বিল আলাদা)। * এ পর্যন্ত আমি যতোগুলে দেশ ভ্রমন করেছি (জাপান, হংকং, চায়না, সুইডেন, নফনল্যান্ড, ইউকে, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ড, জার্মানি, ইউএসএ- উল্লেখযোগ্য) তার মধ্যে ত্রিনিদাদকেই সবচেয়ে বেশি ব্যয়বহুল দেশ বলে আমার মনে হয়েছে।

* অপরাধের ঘটনা অত্যন্ত বেশি। ছোট্ট এই দ্বীপে এ বছর হত্যাকান্ড ঘটেছে ৫৭৪টি। প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রুপের সঙ্গে প্রকাশ্যে গোলাগুলির ঘটনা এখানে প্রায় প্রতিনিই ঘটছে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ত্রিনিদাদ সরকার এ বছর কানাডা থেকে চুক্তিতে পুলিশ প্রধান ও তার একজন সহকারী এনেছে। কিন্তু তাতেই কাজ হচ্ছে না।

স্থানীয় পুলিশদের সঙ্গে অপরাধীদের সখ্যই এর মূল কারণ বলে মনে করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। * প্রাকৃতিক গ্যাস ও তেল সমৃদ্ধ ত্রিনিদাদে জ্বালানি তেল বিক্রি হয় পানির চেয়েও কম দামে। এক লিটার ডিজেলের দাম প্রায় ১৪ টাকা। এখানে তাই প্রত্যেকেরই নিজস্ব গাড়ি আছে। এক একটি পরিবারে গাড়ি সংখ্য ৩-৫টি।

ট্রাফিক জ্যাম তাই একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে ত্রিনিদাদে। তবে এখানে হাইওয়েগুলো বেশ ভালো এবং প্রশস্ত। আর গাড়ি চালকরা ট্রাফিক আইন মেনেই গাড়ি চালান।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.