আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

মালিবাগে ছাত্রী হোস্টেলের নামে অসামাজিকতা!



ঢাকা: রাজধানীর পশ্চিম মালিবাগের ২০ নম্বর ভবনের একটি তলায় দেহ ব্যবসা চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ভবনে চলছিলো সাইনবোর্ডহীন একটি ছাত্রী হোস্টেল। আর তারই আড়ালে দিনরাত সেখানে চলতো অসামাজিক কার্যকলাপ। ২০ নম্বর পশ্চিম মালিবাগের ওই কথিত ছাত্রী হোস্টেলে শুক্রবার সকালে এক ছাত্রীর মৃত্যু ও অপর এক ছাত্রী গুরুতর অসুস্থ হওয়ার ঘটনায় এ তথ্য ফাঁস হয়। ভবনটিতে একটি ফোরে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরের অস্থায়ী কার্যালয় অবস্থিত।

এতে ৫৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলরের সাইনবোর্ড লাগানো দেখা গেছে। তবে কথিত ছাত্রী হোস্টেলটির মালিক আবদুর রাজ্জাক জানিয়েছেন কেয়া-প্রিয়া নামের হোস্টেলটি তিনি দুই বছর ধরে চালিয়ে আসছেন। শুক্রবার বিকেলে এ ঘটনায় মামলা নিয়ে রমনা থানা পুলিশ আবদুর রাজ্জাককে গ্রেপ্তার করে। এর আগে আব্দুর রাজ্জাককে রমনা থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। ুব্ধ স্থানীয়রা বাংলানিউজকে জানান, দীর্ঘ দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে ছাত্রী হোস্টেলের নামে সেখানে অসামাজিক কার্যকলাপ চললেও পুলিশ ছিল নীরব দর্শক।

এ ব্যাপারে বারবার অভিযোগ দিলেও তা আমলে নেয়নি রমনা থানা। তাদের অভিযোগ কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের ফাঁদে ফেলে এখানে দেহ ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন আবদুর রাজ্জাক ও তার স্ত্রী সালেহা। সালেহাকে হোস্টেলের ‘সর্দারণি’ বলে ডাকা হতো। ওই বাড়িটিতে কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তার হরহামেশা যাতায়াত ও আড্ডা ছিল বলেও অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে রমনা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আশরাফ বাংলানিউজকে বলেন, ‘ছাত্রী হোস্টেলটিতে শুক্রবার ভোরের দিকে সিদ্ধেশ্বরী কলেজের ডিগ্রি ১ম বর্ষের ।

এছাত্রী জেরিন আক্তারের (১৮) রহস্যজনক মৃত্যু হয়। এছাড়া গুরুতর অসুস্থ হন শাহজাহানপুর মির্জা আব্বাস ডিগ্রি কলেজের ২য় বর্ষের ছাত্রী তান্নিসা (২০)। সেখানে কিভাবে অবৈধ ছাত্রী হোস্টেল চালানো হচ্ছিল তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ’ এক প্রশ্নের জবাবে এসআই আশরাফ বলেন, ‘কেউ জোর করে ছাত্রী দু’জনকে বিষ খাইয়ে হত্যার চেষ্টা করেছিল কি না তাও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। ’ এসআই আশরাফ জানান, মৃত জেরিনের বাড়ি নোয়াখালীর গ্রামে।

আর মালিবাগ আল শাফেনা হাসপাতাল নামে এক কিনিকে চিকিৎসাধীন তান্নিসার গ্রামের বাড়ি খুলনায়। কথিত ছাত্রী হোস্টেল পরিচালনাকারী আব্দুর রাজ্জাক বাংলানিউজকে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার গভীর রাতে জেরিন ও তান্নিসা কীটনাশক জাতীয় কিছু পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান। ’ কিন্তু দু’জন ছাত্রী একইসঙ্গে কেন আত্মহত্যার চেষ্টা করতে চাইলেন সে ব্যাপারে কিছুই জানাতে পারেননি তিনি। তাছাড়া ছাত্রী হোস্টেলটির চিহ্নিত সর্দারনী সালেহা বেগমকে নিজের স্ত্রী বলে দাবি করলেও তার শ্বশুরালয়ের ঠিকানা পর্যন্ত বলতে পারেননি আব্দুর রাজ্জাক। আব্দুর রাজ্জাক ও তার কথিত স্ত্রী সালেহা বেগম বাংলানিউজকে জানান, ১৬ হাজার টাকায় মাসিক ভাড়ায় ২০ নম্বর পশ্চিম মালিবাগের বাড়িটির ২য় তলায় চার রুমের একটি ফ্যাট নেন তারা।

বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানিসহ অন্যান্য বিল মিলিয়ে মাসে প্রায় ২০/২১ হাজার টাকা ব্যয় হতো তাদের। এ ফ্যাটেরই দুটি রুম তারা ৬ জন ছাত্রীকে ভাড়া দিয়ে হোস্টেল হিসেবে পরিচালনা করেন। প্রতি ছাত্রীর কাছ থেকে প্রতিমাসে ৪ হাজার টাকা করে ভাড়া আদায় করা হয়। কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আশপাশের বাসিন্দারা কেউই ওই ফ্যাটে ছাত্রী হোস্টেল থাকার বিষয়টি জানতেন না। তারা সেখানে বিভিন্ন শ্রেণীর লোকজনের অবিরাম আসা-যাওয়া দেখতে পান বলেও পুলিশকে জানিয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা আরও জানান, আব্দুর রাজ্জাক ও সালেহা বেগম পাশের ১৯ নম্বর বাড়িতেও একটি ফ্যাট ভাড়া নিয়ে কয়েকজন মেয়েকে রাখতেন। এদিকে শুক্রবার সকালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে কর্তব্যরত ডাক্তার জেরিন আক্তারকে মৃত ঘোষণা করার পরপরই কথিত ছাত্রী হোস্টেলটিতে তালা ঝুলিয়ে সবাই পালিয়ে যায়। আর ময়নাতদন্ত ছাড়াই জেরিনের লাশ নিতে ঢামেক হাসপাতালের সামনে রহস্যময় ভূমিকা পালন করে কিছু লোক। সেখানে সামসুদ্দিন নামে একজন নিজেকে জেরিনের চাচা বলে পরিচয় দিয়ে বাংলানিউজকে বলেন, ‘পুলিশ সব বিষয় দেখছে। এখানে সাংবাদিকদের কোনো কাজ নেই।

’ এরপর জেরিনের মৃতদেহ তাড়াতাড়ি নিয়ে যাওয়ার জন্য হাসপাতাল মর্গ ও থানা পুলিশের সঙ্গে শলাপরামর্শে ব্যস্ত হয়ে পড়েন তিনি। সামসুদ্দিন নিজেকে ব্যাংক কর্মকর্তা বলে পরিচয় দিলেও জেরিনের বিস্তারিত পরিচয় জানাতে রাজি হননি। জেরিনের মৃত্যু কেন হলো তাও জানেন না বলেও স্বীকার করেন তিনি। এদিকে মালিবাগের সাফেনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তান্নিসাকে কয়েকজন ষণ্ডা প্রকৃতির যুবক কড়া পাহাড়ায় রেখেছে। তাকে কোনো সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলতে দেওয়া হচ্ছে না।

সাফেনা হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক শরিফুল ইসলাম শুভ বাংলানিউজকে বলেন, ‘পুরো বিষয়টি রহস্যজনক। ’ বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম.বিডি বাংলাদেশ সময়: ২২৩০ ঘণ্টা, নভেম্বর ১২, ২০১০

সোর্স: http://www.somewhereinblog.net     দেখা হয়েছে ১০ বার

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।