আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

আমার চীন ভ্রমণ-২ (ওয়ার্ল্ড এক্সপো সাংহাই ২০১০)

শূন্য হৃদয়ে ডঙ্কা বাজে এ কিসের, জানো কি হে!
বিশ্বের বৃহত্তম মিলনমেলা ওয়ার্ল্ড এক্সপো ২০১০। চীনের সাংহাই নগরী এখন নানা বর্ণে উচ্ছ্বাসমুখর এই মহা আয়োজনকে ঘিরে। আর মাত্র ক'দিন বাদে ৩১ অক্টোবর থামবে সে কোলাহল। সাংহাই নগরীর বুকে বিশ্ব দেখার এই পর্ব, এক্সপোর গল্প। চীন ভ্রমণের প্রথম পর্ব Click This Link চীন আজকে নিজেদের যে জায়গায় নিয়ে গেছে সেটা অনেকটা বিস্ময়কর।

বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তিটি আজকে সারা বিশ্বে তাদের অবস্থানকে দৃঢ় করেছে সব দিক দিয়ে। অর্থনীতি, রাজনীতি, সমাজ, সংস্কৃতি ও উন্নয়নের দিক দিয়ে বিশ্বের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এগুচ্ছে চীনারা। আগামী দিনগুলোতে বিশ্বের অন্যতম সেরা অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরাশক্তি হিসেবে দেশটি আবির্ভূত হবে এটা শুধু চীনারা নয়, চীনকে নিয়ে ভাবেন যারা- সেই বিশেষজ্ঞরাও একমত। ২০১৫ সালের মধ্যে জাপানকে টপকে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম সম্পদশালী দেশে পরিণত হবে চীন। সুইজারল্যান্ডের ক্রেডিট সুইস রিসার্চ ইনস্টিটিউট শুক্রবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

এতে বলা হচ্ছে- আগামী ৫ বছরে চীনের সম্পদ দ্বিগুণেরও বেশি হবে। ১০ বছর আগে চীন ছিল সপ্তম সম্পদশালী দেশ। দেশটি বর্তমানে ১৬ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার সম্পদের মালিক। চীনের সম্পদের পরিমাণ ফ্রান্স থেকে ৩৫ শতাংশ এবং ভারতের চেয়ে ৫ গুণ বেশি। :: এ দেশটি কিভাবে যে নিজেদের এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে সত্যিই বিস্ময়কর :: এই বিশাল অর্থনৈতিক শক্তির দেশটিতে বসেছে বিশ্বের বৃহত্তম মিলনমেলা ওয়ার্ল্ড এক্সপো ২০১০।

চীনের সাংহাই নগরী এখন নানা বর্ণে উচ্ছ্বাসমুখর এই মহা আয়োজনকে ঘিরে। বেইজিং অলিম্পিকের আয়োজনের মাধ্যমে নিজেদের সক্ষমতা পুরো বিশ্বকে জানান দেয়া চীন এবার অলিম্পিকের চেয়েও বড় এই ওয়ার্ল্ড এক্সপোকে সফলভাবে আয়োজন করে আবারও নিজেদের নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। ১ মে সাংহাই ওয়ার্ল্ড এক্সপোর প্রবেশদ্বার খোলার পর থেকেই নানা দেশের মানুষের ভীড়ে সাংহাই এখন অন্যতম জনবহুল স্থানে পরিণত হয়েছে। বিশ্ব জনগনের এ উৎসবটি শেষ হবে এ মাসের অর্থাৎ ৩১ অক্টোবর। উদ্বোধনের পর থেকে গত ৮ অক্টোবর ৮টা পর্যন্ত, মোট ৬ কোটি ১ লক্ষ ৯৯ হাজার ৩'শ পর্যটক সাংহাই ওয়ার্ল্ড এক্সপো পরিদর্শন করেছে।

পর্যটকরা লাইনে দাড়িয়ে অপেক্ষায় একেকটি প্যাভিলিয়নে প্রবেশের জন্য। আয়োজকদের ধারণা, সাংহাই এক্সপো চলাকালে ৭ কোটির বেশি দর্শকের মধ্যে ৫ কোটি ৮৫ লাখ চীনের অন্য প্রদেশ এবং বিদেশ থেকে আসবে। এতো বিপুল সংখ্যক অতিথির অভ্যর্থনা সাংহাইয়ের অতিথিশালা ও হোটেলগুলোকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। কর্মীবাহিনীকে সুপ্রশিক্ষিত করে গড়ে তুলতে ২০০৮ সালের শেষ দিক থেকে সাংহাইয়ের বিভিন্ন অতিথিশালা ও হোটেল পরপর 'ওয়ার্ল্ড এক্সপো জ্ঞান', 'ওয়ার্ল্ড এক্সপো ইংরেজি' ও ওয়ার্ল্ড এক্সপোর আদব কায়দা শেখানোর কাজ করেছে। রাতে আলো ঝলমলে হুয়াংপু নদীর দুই তীরের দিকে যদি উপর থেকে চোখ পড়ে তাহলে ভাসবে নদীর তীরে ছড়িয়ে ছিটিযে থাকা মুক্তোর দৃশ্য।

সাংহাই নগরী ও এক্সপোর আশে পাশে সব স্থানেই জমকালো আলোকসজ্জা। সবখানেই এই দৃশ্য দেখে মনটাই ভরে যাবে। ব্রীজ দিয়ে দুই তীরকে সংযুক্ত করা হয়েছে অত্যন্ত মনোরমভাবে। এ সময় খানিক ভাবনাও হলো- এত আলো আমাদের ওখানেও কি সম্ভব? বিদু্ত আসবে কোত্থেকে। কিন্তু কূল কিনারা না পেয়ে ভাবনা সেখানেই শেষ।

এক্সপোতে যত আলো সবকিছূর পেছনে এল ই ডি বাতি। এক্সপো পার্কের প্রধান পরিকল্পনাকারী উ চি ছিয়াং বলেন, সব বাতিই এল ই ডি। সৌরশক্তির মাধ্যমে উৎপাদিত বিদু্ত দিয়ে চলছে। এগুলোর কারণে সাংহাই নগরীর রাতের দৃশ্য আরো উজ্জ্বল ও রহস্যময় হয়ে উঠেছে। মেলা প্রাঙ্গণে অসংখ্য বাস পর্যটকদের বহন করার কাজ করছে।

যেগুলোর সবই চলছে বিদু্তে। গাড়িতে কোনো কার্বন নির্গমন নেই। এক্সপোর রাস্তাগুলো বানানো হয়েছে পরিত্যক্ত পুরনো টায়ার দিয়ে। এসব রাস্তা দিয়ে পানি সহজে মাটির সঙ্গে মিশে যায়। মেলার পরিবহন ব্যবস্থার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে রেলপথ, পাবলিক বাস, জলপথ, বিনিময় যাতায়াত আর এক্সপো পার্ক থেকে বাইরের বদলি বাস।

এসব যানবাহনে ৩০ জুন পর্যন্ত মোট ৫ কোটি ১০ লাখ যাত্রীকে বহন করা হয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ৮ লাখ ৩০ হাজার যাত্রী আসা-যাওয়া করছে। যাত্রীদের চাহিদা মেটানোর জন্য উদ্যানের পাবলিক বাসের লাইন পূর্বের পাঁচটি থেকে বাড়িয়ে নয়টি করা হয়েছে। দু'মুখী পরিবহনের দৈর্ঘ্য ৪৭.৬ কিলোমিটার। এক্সপোতে বিদেশী স্বেচ্ছাসেবকদের দলপতি নয়ান রোনা।

বিশ বছর ধরে চীনে থাকাকালে তিনি নিজে দেখেছেন, অর্থনীতির দ্রুত উন্নয়নের কল্যাণে সাংহাই বিশ্বের বৃহত্তম শহরগুলোর কাতারে স্থান পেয়েছে । কিন্তু এখন বহির্বিশ্ব সম্বন্ধে সাংহাইবাসীদের যেটুকু জানা দরকার সেটুকু জানা তাঁদের নেই । বিশেষ করে বিদেশের সংস্কৃতি ও রীতিনীতি সম্পর্কে তাদের জানা অতি অল্পই । তার মতে, মেলার সফলতা শুধু চীনা জনগণের নয় , তার মত অবস্থানরত বিদেশীদেরও গৌরব। ওয়ার্ল্ড এক্সপো উদ্বোধনের পর এক্সপো পাসপোর্ট আছে এমন দোকানগুলো বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

আর প্রধান পণ্য যেন হয়ে গেছে এক্সপো পাসপোর্ট। মেলা পার্কে এই পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে একদল পর্যটক ও দর্শক হুমড়ি খেয়ে পড়েছে। তারা বিভিন্ন সংস্করণের ওয়ার্ল্ড এক্সপো পাসপোর্ট সংগ্রহ করছে। বিভিন্ন দেশের প্যাভিলিয়নে গিয়ে নিজের পাসপোর্টে সীল লাগাচ্ছে। গুনছে কয়টি পাতায় কয়টি ভিসা লাগলো।

তাই ভিসা সংগ্রহ আর ছবি তোলা এ মেলার দর্শকদের কাছে প্রধান কাজ বলে মনে হয়েছে। লোকজনকে জিজ্ঞেস করেও তার প্রমাণ পাওয়া গেলো। সব প্যাভিলিয়নেই দেখলাম ভিসা কালেকশনের ভীড়। প্রতিটি প্যাভিলিয়নের মাঝেই আছে সীল দেয়ার লোকজন। সংশ্লিষ্ট দেশের ডাকটিকিটও লাগিয়ে দেয়া হচ্ছে পাসপোর্টে।

কিছূ প্যাভিলিয়নের কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকরা ওয়ার্ল্ড এক্সপোর বিশেষ স্মৃতি ধরে রাখার জন্য মেলা বিষয়ক বিভিন্ন ধরনের কোট পিনও বিনিময় করছে। সীলমোহর, কোটপিন বা নামের সাক্ষর সংগ্রহ করে মেলার স্মৃতিকে কাছে টানার জন্য ছুটছে তরুন তরুণী এমনকি বৃদ্ধ বৃদ্ধারাও। চাইনিজদের দৌড়ই এখানে বেশি মনে হলো। [ সাংহাই এক্সপোতে বাংলাদেশের অংশগ্রহন, বাংলাদেশের প্যাভিলিয়ন, এক্সপোতে বাংলাদেশ দিবস উদযাপনসহ নানা বিষয় নিয়ে পরের পোস্টে থাকবে বিস্তারিত। ] সঙ্গে থাকার আমন্ত্রণ, সবাইকে।

দ্র. [ এই লেখার কিছু তথ্য চীন, ঢাকার গনমাধ্যম থেকে নেয়া হয়েছে]
 

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।