আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

প্রাদেশিক ব্যবস্থা সম্পর্কে আয়োজিত সেমিনারে বিশিষ্টজনের অভিমত:

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান, সাবেক ফল রাষ্ট্রপতি পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ও জাতীয় পার্টি

প্রাদেশিক ব্যবস্থা সম্পর্কে আয়োজিত সেমিনারে বিশিষ্টজনের অভিমত: আ স ম আবদুর রব জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) আর কেউ বা কোনো রাজনৈতিক দল এ প্রস্তাব সমর্থন করে কি-না আমি জানি না। তবে আমি আমার দলের পক্ষ থেকে প্রাদেশিক ব্যবস্থা প্রবর্তনের প্রস্তাবকে সম্পূর্ণভাবে সমর্থন করি। নীতিগতভাবেও আমি এই প্রস্তাবের সমর্থক। স্বাধীনতার পর এতটা সময় কেটে গেলেও এ দেশ থেকে ক্ষুধা, দারিদ্র্য দূর করা যায়নি। সকল ক্ষেত্রে স্থবিরতা নেমে আসছে।

আমাদের স্বাধীন দেশে যা হওয়া উচিত ছিল, আজও তা হয়নি। তাই নতুন করে চিন্তা-ভাবনা করার সময় এসেছে। এখন দেশকে কীভাবে সঠিক পদ্ধতি দ্বারা পরিচালনা করা যায় এবং জনগণের উন্নতি সাধন করা সম্ভব হয়, তার উপায় উদ্ভাবন করতে হবে। বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চের ভাষণে মুক্তির কথাটি আগে এবং স্বাধীনতার কথাটি পরে বলেছিলেন। মুক্তি বলতে তিনি অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক মুক্তিকে বুঝিয়েছিলেন।

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ যখন দেশে উপজেলা ব্যবস্থার প্রবর্তন করেছিলেন, তখন বাংলাদেশের একমাত্র রাজনৈতিক দল জাসদ সেই সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছিল। যা দেশ-বিদেশে স্বীকৃত ও দৃষ্টান্তস্বরূপ। বর্তমানে দেশে যে শাসনতান্ত্রিক দুরবস্থা রয়েছে তার প্রধান কারণ এককেন্দ্রিক শাসন ব্যবস্থা। বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নে পাকিস্তান ও ব্রিটিশ সংবিধানের নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছে। এই উপনিবেশবাদী সংবিধান পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে।

বর্তমান এককেন্দ্রিক সরকারই এদেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা। বর্তমানে পার্লামেন্টারি বোর্ডে কোনো গণতন্ত্র নেই। সংসদ নেতার একচ্ছত্র আধিপত্য বিরাজ করছে বর্তমান সরকার পদ্ধতিতে। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে মানুষ চিন্তিত। এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তির জন্য সরকার পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতেই হবে।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ সবাইকে এখন এক কাতারে দাঁড়িয়ে কাজ করতে হবে। ফেডারেল পদ্ধতির সরকার প্রবর্তনের জন্য সংবিধান পরিবর্তন করতে হবে। সংবিধান জাতীয় প্রয়োজনে পরিবর্তন করা যেতে পারে, কোনো ব্যক্তিবিশেষের কারণে নয়। যদি বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আহমদের জন্য সংবিধান পরিবর্তন করা যেতে পারে, তাহলে বাংলাদেশের সাধারণ জনগণের জন্য কেন তা করা যাবে না। এখন নতুনভাবেই সংবিধান প্রণয়ন করতে হবে।

সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ প্রাদেশিক সরকার প্রবর্তনে প্রস্তাব উত্থাপন করে প্রস্তাবিত ৮টি প্রদেশের যে নামকরণ করেছেন, তা চমৎকার। এই প্রস্তাব বাস্তবায়নের জন্য আমরা সব ধরনের সহযোগিতা করে যাব। মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ ইব্রাহীম সভাপতি বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি নীতিগতভাবে আমি সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের প্রস্তাবের সাথে একমত। প্রতিটি সংস্কারের জন্য সৎসাহস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংস্কার করতে সাহসের প্রয়োজন হয়।

সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ সাহেবের সেই সাহস আছে। তিনি অতীতেও একবার সাহস দেখিয়েছিলেন। আবার তিনি সংস্কারের প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন। তার জন্য আমি তাঁকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। কারণ সকলের এই সাহস থাকে না।

রাজনীতি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কথাকেন্দ্রিক হয়, কাজকেন্দ্রিক হয় না। প্রাদেশিক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তনের যে প্রস্তাব এসেছে তা এখন সময়ের দাবি। এ জন্যই আমি এ প্রস্তাবকে সমর্থন করি। আশা করি, সমগ্র জাতি এই প্রস্তাব সমর্থন করবে। এখন এই প্রস্তাবের পক্ষে সারাদেশের জনগণকে সম্পৃক্ত করতে হবে।

এ ব্যাপারে আমি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সাথে কাজ করে যেতে প্রস্তুত আছি। ড. আকবর আলি খান সাবেক উপদেষ্টা বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ প্রাদেশিক পদ্ধতি প্রবর্তনে যে প্রস্তাবটি উত্থাপন করেছেন, তার জন্য আমি তাঁকে ধন্যবাদ জানাই। এখানে বাংলাদেশের সমস্যাগুলো সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে। তবে শুধু প্রাদেশিক সরকার হলেই এসব সমস্যার সমাধান হবে না। ক্ষমতাকে কুগিত করা এবং জনগণ ও স্থানীয় সরকারের সাথে অংশীদারিত্ব না থাকাই সমস্যার প্রধান কারণ।

বর্তমান নির্বাচন পদ্ধতিতেও ত্রুটি রয়েছে। আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব না হলে অনেক সমস্যারই সমাধান হবে না। আমাদের এখানে ক্ষমতা কেন্দীভূত হয়ে আছে। এটা নিরসনের জন্য সংবিধান পরিবর্তন করতে হবে। প্রাদেশিক ব্যবস্থা প্রবর্তন করতে হলে সংবিধানের প্রথম অনুচ্ছেদ থেকে শুরু করে আগাগোড়াই পরিবর্তন করতে হবে।

এক্ষেত্রে এ আন্দোলনকে প্রাদেশিক সরকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে এর যথাযথ ফল পাওয়া যাবে না। প্রাদেশিক সরকার পদ্ধতি প্রবর্তন করা হলে দেশের বিরাজমান সমস্যার সমাধান হতে পারে। তবে সব সমস্যার সমাধান দিতে পারবে কি-না সে ব্যাপারে কিছুটা সন্দেহ থেকে যায়। এখন সংবিধান নিয়ে নতুন করে চিন্তা-ভাবনা করার প্রয়োজন আছে। প্রাদেশিক সরকার ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন হতে পারে- যদি সকলে এ ব্যাপারে এগিয়ে আসেন।

এ পদ্ধতি আমাদের উন্নতির দিকে নিয়ে যাবে। প্রাদেশিক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তিত হলে কেন্দ্রীয় ক্ষমতায় যারা আসবেন, তাদের একটি পূর্ব অভিজ্ঞতা হবে, যা বাংলাদেশের জন্য খুবই দরকার। এক্ষেত্রে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের উদাহরণ আমরা গ্রহণ করতে পারি। বর্তমান সরকার ব্যবস্থায় দীর্ঘ জটিলতার কারণে অনেক কাজ স্থবির হয়ে থাকে। প্রাদেশিক সরকার ব্যবস্থায় এই সমস্যা থাকবে না।

এক্ষেত্রে ধারণা করা যেতে পারে যে, প্রাদেশিক ব্যবস্থা বাস্তবায়নে যথেষ্ট ব্যয় হবে। এটি পুরোপুরি ঠিক নয়। সব দিক বিবেচনায় এটা ধরে নেয়া যায় যে, প্রাদেশিক সরকার ব্যবস্থায় সুবিধা অনেক। তবে এটা আমাদের মনে রাখতে হবে যে, প্রাদেশিক সরকার গঠন আমাদের লক্ষ্য পূরণের উপায় মাত্র। আসল ল্য হতে হবে মতা বিকেন্দ্রীকরণ, জনগণকে উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করা এবং রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।

এই প্রস্তাব বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেমন ৮টি প্রদেশ করা হলে, আরও প্রদেশ করার দাবি উঠতে পারে। সংবিধান ঢেলে সাজাতে হবে, প্রশাসনে ব্যাপক রদবদল আনতে হবে। আবার রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে বড় ধরনের সমস্যা হতে পারে। প্রাদেশিক সরকার দুইভাবে হতে পারে।

১. উপর থেকে ২. নিচ থেকে। উপর থেকে যেটি হতে পারে তার সুবিধা-অসুবিধাগুলো আগেই উল্লেখ করেছি। আর নিচ থেকে যে ব্যবস্থা- যা চীন দেশে চালু রয়েছে। এখানে ৮টি প্রদেশে ভাগ না করে ৮টি ডিভিশনের মধ্যেও হতে পারে। যদি ডিভিশনকে প্রদেশের মতো মতা দেয়া হয়।

এ ব্যবস্থার মধ্যে চলতে চলতে আগামী ১৫ থেকে ২০ বছরের মধ্যে সংবিধান পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রাদেশিক সরকার ব্যবস্থা চালু করা যায়। মাহবুবুল আলম সাবেক উপদেষ্টা বিশিষ্ট সাংবাদিক প্রাদেশিক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তনের ব্যাপারে সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ একটি প্রক্রিয়ার কথা বলেছেন। এটা এমন নয় যে, তা এখনই সম্পাদন করতে হবে। এটাকে তিনি চূড়ান্ত বলেও অভিমত দেননি। তিনি প্রস্তাবটির পরিবর্তন, পরিবর্ধন, পরিমার্জন এবং আরও সংস্কারের কথাও উল্লেখ করেছেন।

বর্তমানে দেশে যে অবস্থা বিরাজ করছে তাতে শাসনতান্ত্রিক ও প্রশাসনিক সংস্কারের আর কোনো বিকল্প নেই। বিকেন্দ্রীকরণ এখন জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান এককেন্দ্রিক সরকার ব্যবস্থায় এই বিশাল জনসংখ্যার দেশ সুষ্ঠুভাবে শাসন করা সম্ভব নয়। কোনো দেশে এ ধরনের সমস্যা বিরাজ করলে সেই দেশ বেশিদূর অগ্রসর হতে পারে না। উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যেতে হলে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে হবে।

সংস্কারের দিকে এগিয়ে যেতে হলে সংবিধানেরও আমূল পরিবর্তন করতে হবে। এর জন্য একটি সংবিধান সংশোধনী কমিশন গঠন করা যেতে পারে। সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ প্রাদেশিক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তনের যে প্রস্তাবটি উত্থাপন করেছেন, তা বাস্তবায়নের জন্য বর্তমান সরকার ভূমিকা রাখতে পারেন। এখন মহাজোট সরকার দেশ পরিচালনা করছেন। সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ মহাজোটেরই অন্যতম শরিক।

তাই তিনিও প্রাদেশিক সরকার প্রবর্তনের কথা সরকারের কাছে উপস্থাপন করে এটা বাস্তবায়নের ব্যবস্থা নিতে পারেন। ড. মিজানুর রহমান শেলী সাবেক মন্ত্রী সভাপতি সিডিআরবি প্রাদেশিক ব্যবস্থা প্রবর্তনের প্রস্তাবটি অত্যন্ত সময়োপযোগী। তবে এই ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে গেলে জনগণের চিন্তাধারায় পরিবর্তন আনতে হবে। এই প্রস্তাবের সুফলগুলো তাদের বোঝাতে হবে। সবাইকে এ ব্যাপারে ঐকমত্যে আসতে হবে।

তা না হলে এ সংস্কার হয়তো সম্ভব হবে না। প্রাদেশিক সরকার পদ্ধতির সুফলের কথা জনগণের কাছে পৌঁছাতে হবে। এ ব্যবস্থা বাস্তবায়নে অর্থনৈতিক দিক থেকে কোনো সমস্যা হবে না। প্রস্তাবটি বাস্তবায়ন করতে শুধু জনমত পক্ষে থাকলেও হবে না। তাদের প্রতিনিধিদেরও পক্ষে থাকতে হবে।

অর্থাৎ দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে এই প্রস্তাবের পক্ষে আসতে হবে। বিচারপতি আবদুর রউফ প্রাদেশিক ব্যবস্থা প্রবর্তনের এই প্রস্তাবকে আমি স্বাগত জানাই। এটা বাস্তবায়নে সবচাইতে বড় সমস্যা হচ্ছে সংবিধানে আমূল পরিবর্তন আনতে হবে। এটা প্রবর্তনের জন্য আমি সংবিধান সংশোধনের পক্ষে এ দেশের অনেক সমস্যারই মূল কারণ স্থানীয় সরকারের ক্ষমতাহীনতা। সংবিধানে জেলা পরিষদের ক্ষমতার কথা বলা হলেও কার্যত তা নেই।

উপজেলাকে অকার্যকর করার জন্য নানা ধরনের প্রচেষ্টা চলছে। এসব নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের ফলে প্রশাসনে দীর্ঘসূত্রতা বেড়েছে। বর্তমান সংবিধান অনুসারে প্রাদেশিক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা সম্ভব নয়। তার জন্য সংবিধান সংশোধন কমিশন গঠন করে প্রাদেশিক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তনের উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে। বর্তমান প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী (বীর উত্তম) সভাপতি কৃষক শ্রমিক জনতা পার্টি প্রাদেশিক সরকার ব্যবস্থার প্রতি আমার পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। আজ বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে এদেশে প্রাদেশিক ব্যবস্থা অনেক আগেই বাস্তবায়ন হয়ে যেতো। প্রাদেশিক সরকার ব্যবস্থা এখন সময়ের দাবি। এটা হবেই এবং হতেই হবে। গ্রামের মানুষের কাছে এই প্রস্তাবের কথা পৌঁছাতে হবে।

কারণ ৮০ ভাগ লোক এখনো গ্রামে বাস করে। এই প্রস্তাব বাস্তবায়নের জন্য আমি সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের হাতে হাত, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে যেতে চাই। মেজর (অব.) আবদুল মান্নান মহাসচিব বিকল্পধারা বাংলাদেশ আমি একটি রাজনৈতিক দলের মহাসচিব হিসেবে আমার দলীয় সিদ্ধান্ত পরে জানাব। তবে ব্যক্তিগতভাবে আমি বাংলাদেশে প্রাদেশিক সরকার পদ্ধতি প্রবর্তনকে একান্তভাবে সমর্থন করি। বর্তমান এককেন্দ্রিক সরকার ব্যবস্থায় দেশ চলছে না।

এটা পরিবর্তন করতেই হবে। প্রাদেশিক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তনের আর কোনো বিকল্প নেই বলে আমি মনে করি। সাবেক রাষ্ট্রপতি যে প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন, তাতে ৮টি প্রদেশের কথা বলা হয়েছে। এই প্রদেশের সংখ্যা আরো কমও হতে পারে। এ ব্যাপারে আরো গবেষণা করার প্রয়োজন আছে।

এটা বাস্তবায়নে সকল শ্রেণীর মানুষের সম্পৃক্ততা থাকতে হবে। এই প্রস্তাবের পক্ষে সকলের সমর্থন পাওয়া যাবে কী যাবে না তা বড় কথা নয়। আজ হোক আর কাল হোক এদেশে প্রাদেশিক ব্যবস্থা বাস্তবায়ন হবেই। বর্তমানে সারাদেশে যে সীমাহীন সমস্যা রয়েছে তা থেকে উত্তরণের জন্য ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। প্রাদেশিক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তনের বিষয়টি সংসদে উত্থাপন করা দরকার।

কারণ এই প্রস্তাব এখন বাংলাদেশের মানুষকে বাঁচানোর একটি অন্যতম উপায়। আশরাফুল হুদা সাবেক আইজিপি ১৯৭১ সালের আগে বাংলাদেশ পাকিস্তানের ৫টি প্রদেশের মধ্যে একটি ছিল। স্বাধীনতার পর এতটা সময় পার হয়ে গেলেও আমরা দেশকে কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে পারিনি। সাবেক রাষ্ট্রপতি ক্ষএরশাদ মতায় থাকাকালে দেশের ৬৪টি জেলা প্রতিষ্ঠা এবং উপজেলা প্রবর্তনের ফলে সকল ক্ষেত্রে উন্নয়নের ধারা সৃষ্টি হয়েছিল। বর্তমানে দেশে জনসংখ্যা প্রায় ১৬ কোটি।

এই ১৬ কোটি মানুষের দেশ এককেন্দ্রিক সরকারের পক্ষে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা সম্ভব নয়। ১৬ কোটি মানুষের দেশে একজন আইজিপি খুবই অপ্রতুল। একজন আইজিপিকে দিয়ে সারাদেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থতি নিয়ন্ত্রণে রাখা, পর্যবেক্ষণ করা কিংবা মনিটর করা সম্ভব নয়। এখানে প্রাদেশিক ব্যবস্থা থাকলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিও সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এই সরকার পদ্ধতি চালু করা হলে রাজধানী ঢাকা শহরের ওপর মানুষের চাপ কমে যাবে।

ড. সৈয়দ সফিউল্লা অধ্যাপক রসায়ন বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রস্তাবিত প্রাদেশিক সরকার পদ্ধতি প্রবর্তনের প্রস্তাবকে আমি সম্পূর্ণ সমর্থন করি। এই প্রস্তাব উত্তাপন করে সাবেক রাষ্ট্রপতি তাঁর প্রজ্ঞার পরিচয় দিয়েছেন। প্রস্তাবটি বাস্তবায়নের জন্য একটি সুনুর্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের প্রয়োজন আছে। এ ব্যাপারে সর্বসাধারণের মতামত গ্রহণ করতে হবে। সৈয়দ দিদার বখত সাবেক মন্ত্রী বাংলাদেশে এককেন্দ্রিক ব্যবস্থার ফলেই বেশিরভাগ সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।

মতার বিকেন্দ্রীকরণ করা হলে শোষণহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হবে। তার জন্য এখন সংবিধান সংশোধন করে প্রাদেশিক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হলে আমরা উত্তরণের পথ পেতে পারি। এই ব্যবস্থা বাস্তবায়িত হলে নতুন রাজনৈতিক নেতৃত্বের উদ্ভব ঘটবে। এর ফলে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা দূর হবে। যেহেতু প্রাদেশিক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তনের বিষয়টি একটি রাজনৈতিক ইস্যু- সেহেতু এই ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করতে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকেই এগিয়ে আসতে হবে।

----------------oooo---------------

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।