আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

ওয়াল-মার্টের অনুমোদনহীন ২৫০ কারখানা

সাভারের রানা প্লাজা ধসে এক হাজার ১২৭ পোশাকশ্রমিক নিহত হওয়ার পর থেকে একের পর এক দুঃসংবাদ আসছে দেশের তৈরি পোশাক খাতে। সর্বশেষ ধাক্কা এল যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিশ্বখ্যাত খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ওয়াল-মার্টের কাছ থেকে।
সম্প্রতি ওয়াল-মার্ট বাংলাদেশের অনুমোদনহীন ২৫০টি পোশাক কারখানার তালিকা প্রকাশ করেছে। এই তালিকায় বিজিএমইএর নেতাদের কারখানাও আছে। মানোন্নয়ন না করা পর্যন্ত ওই সব কারখানা থেকে পণ্য কিনবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে ওয়াল-মার্ট।


জানা গেছে, এই তালিকায় থাকা অনেক কারখানার সঙ্গে ওয়াল-মার্ট কয়েক বছর ধরে ব্যবসা করছে না। এখন এসে এই তালিকা প্রকাশ করার উদ্দেশ্য হচ্ছে সাধারণ ক্রেতাদের চাপ সামাল দেওয়া এবং ক্রেতা প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজেদের দায়মুক্ত করা।
এদিকে ওয়াল-মার্টের এই তালিকা দেশের পোশাকশিল্পের জন্য একটি অশনিসংকেত বলেই মনে করছেন বিজিএমইএর নেতারা। অবশ্য
তাঁরা দাবি করেছেন, তালিকার অধিকাংশ পোশাক কারখানাই দুই থেকে ১০ বছর ধরে ওয়াল-মার্টের পোশাক তৈরি করছে না। ফলে কারখানাগুলোর বিষয়ে মার্কিন প্রতিষ্ঠানটির বাস্তব ধারণা নেই।


সমিতির একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, গত বছরের নভেম্বরে তাজরীনের ঘটনার পর নিজেদের বাঁচানোর জন্য প্রপাগান্ডা ছড়াচ্ছে ওয়াল-মার্ট। এটি দেশের ভাবমূর্তির জন্য ভালো কোনো বার্তা নয় বলে মনে করেন তাঁরা।
ওয়াল-মার্ট নিজেদের ব্যাখ্যায় বলেছে, পোশাক কারখানার শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে তারা কোনো আপস করে না। এ জন্য ওয়াল-মার্ট নিয়মিত তাদের অনুমোদিত কারখানাগুলো নিরীক্ষা করে। কোনো কারখানা ওয়াল-মার্টের মান এবং অগ্নি ও ভবন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারলে ‘অনুমোদনহীন’ হিসেবে চিহ্নিত হয়।

এই প্রক্রিয়াতেই এসব কারখানা ‘অনুমোদনহীন’ হয়েছে।
বিজিএমইএর প্রথম সহসভাপতি নাসির উদ্দিন আহমেদ চৌধুরীর ফ্রাঙ্ক গ্রুপের দুই কারখানা ফ্রাঙ্ক অ্যাপারেল ও ফ্রাঙ্ক গার্মেন্টস তালিকায় আছে। ওয়াল-মার্ট বলছে, দুটি কারখানাই ২০১১ সাল থেকেই অনুমোদনহীন।
জানতে চাইলে নাসির উদ্দিন বলেন, ‘আমরা বহু আগে থেকেই ওয়াল-মার্টের কাজ করছি না। আর কখনই তাদের সরাসরি কার্যাদেশে পোশাক তৈরি করিনি।

’ তিনি আরও বলেন, একেক প্রতিষ্ঠানের কমপ্লায়েন্সের শর্ত একেক রকম। ওয়াল-মার্ট শেয়ারড বিল্ডিংয়ে (অন্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এক ভবনে) গড়ে ওঠা কারখানায় কাজ করায় না। কিন্তু এসব কারখানাতেই বিশ্বের অন্যসব বিখ্যাত ব্র্যান্ড কাজ করাচ্ছে।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে নাসির উদ্দিন বলেন, ‘অল্প দামে কাজ করাতেই ওয়াল-মার্ট বাংলাদেশে আসে। এভাবেই তারা বহু বছর ধরে বাংলাদেশকে শোষণ করে চলছে।

’ অপ্রত্যাশিতভাবে প্রকাশিত এই তালিকা দেশের পোশাক খাতের জন্য ক্ষতির কারণ হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি সালমান এফ রহমানের ক্রিসেন্ট ফ্যাশন অ্যান্ড ডিজাইন, বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আনিসুর রহমান সিনহার সিনহা নিটিং এবং আব্দুস সালাম মুর্শেদীর প্যাসটেল অ্যাপারেলস ওয়াল-মার্টের অনুমোদনহীন কারখানার তালিকায় আছে।
সালাম মুর্শেদী বলেন, ‘আমরা ১০-১২ বছর ধরে ওয়াল-মার্টের কাজ করছি না। বর্তমানে ইউরোপের বড় কয়েকটি ব্র্যান্ডের কাজ করছি। ’ তালিকার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ঢালাওভাবে এটি বলা ঠিক হয়নি।

এ বিষয়ে ওয়াল-মার্ট কোনো ব্যাখ্যাও দেয়নি। এটি দুঃখজনক। ’
এ ছাড়া বিজিএমইএর বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের তিন পরিচালকের চার কারখানার নাম আছে ওয়াল-মার্টের তালিকায়। সেগুলো হচ্ছে মো. নাসির উদ্দিনের সাদমা ফ্যাশন ওয়্যার, মো. আবদুল ওয়াহাবের ডে গ্রুপের ডে অ্যাপরেলস ও ডে ফ্যাশনস এবং সাজ্জাদুর রহমান মৃধার অ্যাবা ফ্যাশনস। আছে সাবেক পরিচালক শেখ আতিয়ার রহমান দীপুর সাসেকা টেক্স (বিডি) এবং সর্বশেষ বিজিএমইএ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ফোরামের প্রার্থী মো. শহীদুল ইসলামের রুপা সোয়েটারের নাম।


এ ছাড়া দেলোয়ার হোসেনের তুবা গ্রুপের তাজরীন ফ্যাশনসসহ সাতটি পোশাক কারখানা অনুমোদনহীন হিসেবে উল্লেখ করেছে ওয়াল-মার্ট। গত বছরের নভেম্বরে তাজরীন ফ্যাশনসে অগ্নিকাণ্ডে ১১২ জন পোশাকশ্রমিক মারা যান। তারপর চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি তুবার সাত কারখানা থেকে পোশাক কেনা বন্ধ করে দেয় ওয়াল-মার্ট।
বিজিএমইএর সহসভাপতি শহিদউল্লাহ আজিম গতকাল রাতে প্রথম আলোকে বলেন, তালিকার অনেক কারখানাই ওয়াল-মার্টের কাজ করে না। তা ছাড়া তালিকার অনেক কারখানায় ভালো কর্মপরিবেশ আছে।

তিনি আরও বলেন, ‘এ বিষয়ে কী করা যায় তা নিয়ে আমরা আলাপ-আলোচনা করছি। ’
এই তালিকায় চলতি বছরে ৩১টি পোশাক কারখানা অনুমোদনহীন করা হয়েছে। আর তালিকার মোট কারখানাগুলোর মধ্যে ২০০৩ সালে অনুমোদনহীন করা হয়েছে, এমন কারখানাও আছে। ।

সোর্স: http://www.prothom-alo.com

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।