আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

ধ্যাত .... আবার শুরু হইছে মহিউদ্দীন-মঞ্জু .. ভাল্লাগেনা।

ফুলটাইম ক্রুয়েল জোকার, পার্ট টাইম সিরিয়াস

আমি বাঙালীতো । তাই জানি আমাদের ব্যাপার-স্যাপারগুলো। বাঙালী হচ্ছে ভুলোমনা, আত্নঘাতী । মূলা দেখে দেখেই সামনে আগায়। কি আর কমু।

আবার লাগছে। মহিউদ্দীন-মঞ্জুরে নিয়ে। লাভ টা কি রে ভাই ??? মহিউদ্দীন হল ক্ষমতার প্রতিভূ। আর মঞ্জু হল দল বদল করা বেইমান। দু জন ই সুবিধাবাদী ।

দু জন ই ক্ষমতালোভী। দু জনই খারাপ। একজনের স্বভাব চুষে খা্ওয়া। আর একজনের যা স্বভাব, সেটারে "যখন যেটা পাই, ধরে ধরে খাই" টাইপের বলা যায়। আগে মহিউদ্দীন শাসন করত, এখন মঞ্জু মাতবর।

তার কাজটা্ও এক ই। আগে আপ (নিজে), পরে বাপ। তাই দেখে অ্যাতো খুশি বা ব্যাজার হ্ওয়ার কি আছে। কিছু হলেই আমরা নিজেরাই আগে নিজেদের শত্রু হয়ে দাড়াই। এভাবে আমাদের শত্রুকে আমরা সাহায্য করি।

প্রতিবার নির্লজ্জের মতো ভোট দেই। এবং বাঁশ খাই। আর বাঙালী স্বভাব তো। যা দেই মন থেকে দেই । ঢালা্ও ভাবে দেই।

একবার একজন রে উঠাই, আর এক জনরে ডুবাই। নেক্সট টাইম তারে ডুবাই, আর একজনেরে উঠাই। এরা দুজন কে কোন দল সমর্থিত এটা দেখে কি লাভ। দু জন কি এক ই মুদ্রার এ-পিঠ ্ওপিঠ না???? অন্য দেশ্ওে নির্বাচন হয়। সেখান্ওে কেউ না কেউ তো হারে।

কিন্তু বিপুল ব্যাবধানে হারার ব্যাপার টা বোধহয় আমাদের দেশেই বেশি প্রচলিত। আমারা অন্যকে ডোবাই এবং ডুবি। আমরা তর্ক করি। হাসিনা-খালেদারে নিয়া মাতামাতি কর্তে গিয়ে নিজের ভাই এর গলায় ছুরি বসাই। আপনার কি মনে হয়, এদের কি কোনদিন কিছু হবে ?? কিছুই হবে না।

হাসিনা-খালেদা, মঞ্জু-মহিউদ্দীন এদের গায়ে কোনদিন ফুল টোকাও পড়বে না। রাজা-বাদশাহ দের মতো থাকবে তারা। মরবে সাপোর্টার গুলা। কেডা ভালো এইটা নিয়ে তর্ক করে। খালেদার খুত পাইলে লীগ সাপোর্টার রা লাফাবে।

হাসিনার পাইলে বি.এন.পি. লাফাবে। আরে ভাই কেয়ারটেকার পর্যন্ত অপেক্ষা করেন। এই সরকার কি করছে এমনিই বুঝতে পারবেন। জোট সরকার যা করছিল তা তো দেখতেই পাইছি। আর এই সরকারের টা্ও দেখব।

আমরা দেই ঢালা্ও ভোট্ । বি.এন.পি. খারাপ ; দেও লীগ রে ঢালা্ও ভোট। লীগ খারাপ, দেও বি.এন.পি. রে ঢালা্ও ভোট। গত দশ বছর এই কাম ই করছি আমরা এবং গদাম খাইছি। এখন্ও খাচ্ছি।

কোন প্রার্থী যদি ভালো হয়, সে কোন দলের সাপোর্টার সেটা দেখার বিষয় না। তাকে নির্বাচিত করা উচিত। সেটা মেয়র ইলেকশান কিমবা ন্যাশনাল ইলেকশান যেটাই হোক। ৯০% রাজনীতিবিদ ই খারাপ। কিন্তু দুই বড় দলে ১০% করে হলেও ভালো লোক কিছু আছে।

এদের উপর ভর করেই উভয় দল তাদের ব্যর্থ্তা ঢাকে। কিন্তু ভোট দেয়ার সময়, আমরা কাউকে বিচার করি না। এবার লীগ খারাপ, সো সবাই খারাপ এদরে । নেক্সট ইলেকশান এ এদের মাইনাস কর। কিমবা।

এবার বি. এন. পি. খারাপ। নেক্সট ইলেকশান এ এদের ভরাডুবি করে ছাড়ব। এভাবে যারা্ও দু একজন ভালো আছে তারা ফোকাসড্ না হয়ে নিভৃতে চলে যায়। যখন মনোনোয়ন দেয়া হয়, তার আগেই নিজ নিজ এলাকায় একটা প্রি-ইলেকশান করা উচিত। এর ভেতর দিয়ে যারা বেরিয়ে আসবে, তাদের কে জাতীয় নির্বাচনে বিভিন্ন দল থেকে মনোনয়ন দেয়া উচিত।

তারপর তাদের মধ্যে থেকে ঐ আসনের লোকজন নির্বাচিত করুক কে বিজয়ী হবে। সেক্ষেত্রে এলাকার বা অঞ্চলের ভালো মানুষগুলোর উঠে আসার একটা সম্ভাবনা থাকে। এরপর এলাকার মানুষদের নিজেদের ই ভেবে দেখা উচিত শুধু নির্বাচন দেখে না, এর অনেক আগে থেকেই কারা কারা সত্যিই তাদের সুখ-দুঃখ , বিপদে - আপদে পাশে ছিল বা থাকার চেষ্টা করেছে। কারণ, নির্বাচিত হ্ওয়ার পরদিনই প্রার্থী ব্যাপক ক্ষমতাধর। আমারে-আপনারে সে আর চিনবে না।

সো, কে কোন দল থেকে মনোনিত বা মার্কা দেখে ভোট না দিয়ে ,মানুষ দেখে ভোট দিলে , দুটো দলই সমৃদ্ধ হবে। সরকার-বিরোধী দল অনুপাত যদি ৬০%-৪০% না হয়। তাহলে সরকার স্বেচ্ছাচারী হবেই। সেটা লীগ হোক , বি এন. পি হোক। গত দশ বছর আমরা দেখেছি।

একজন যোগ্য নেতা, কোন বিশেষ দলের না ... বঙ্গবন্ধু বা জিয়া কোন দলের নেতা না, জাতীর নেতা। অন্যদিকে শেখ হাসিনা বা খালেদা কোন জাতীয় নেতা না। এরা খুব বেশি হলে দলীয় নেতা বা চেয়ারপার্সন। তেমনি কোন দলে যদি একজন সৎ, যোগ্য প্রার্থী থাকে, আমরা কিন্তু তর্কে যা্ওয়ার সময় তাকেই রিপ্রেজেন্ট করি। আমরা কিন্তু ভালো উদাহরণ টানতে আব্দুল জলিল-কিমবা খন্দকার দেলোয়ার কে টানি না।

আহসানউল্লাহ মাস্টার কিমবা বি. চৌধুরী কে টানতাম। কিন্তু আহসানউল্লাহ মাস্টার বেচে থাকতে কতটুকু সম্মান পেতেন ?? বি. চৌধুরী বা কি পেয়েছিলেন দলের কাছ থেকে। বাস্তবতা বলে খারাপ লোকের ভাত আছে, কিন্তু গর্ব বলে খারাপ লোকের বেইল নাই। লীগ, বিএনপি নিয়ে, কিমবা মঞ্জু-মহিউদ্দীন নিয়ে যত মারামারি কাটাকাটি করি আমাদের কোনো লাভ নাই। লীগ সাপোর্টার হলে ভাবি, বি.এন.পি. তো প্রচুর খারাপ, এদের খবর করে ছাড়ব নির্বাচনে জিতলে।

বি.এন.পি. হলে ভাবি, লীগের চেয়ে বড় শয়তান আল্লাহ এই দুনিয়ায় পাঠায় নায়। নির্বাচনে জিতলে এক হাত দেখে নেয়া যাবে। বাস্তবতা কি তাই বলে ??? বুকে হাত দিয়ে বলেন তো, আপনি লিগ বা বি.এন.পি. যেটাই সাপোর্ট করেন .. কোন সরকারের আমলে আপনি দুধে -ভাতে ছিলেন? বি.এন.পি. এসে কি আপনার মুখে সন্দেশ তুলে দিছে, নাকি লীগ এসে আপনেরে চমচম খা্ওয়াইছে??? কোন সরকারের আমলে আপনি নিরাপত্তা পাইছেন নাগরিক হিসেবে? কোন সরকারের আমলে আপনার এলাকায় খুন-ধর্ষণ-রাহাজানি, ছিনতা্ই হয় নি? ভোটের জন্য তারা আপনার পায়ে ধরছে ..... ভোটের শেষে আপনার মাথায় পা দিছে। সো, কে ভাল? কার কাছে ভালো ছিলেন আপনারা?? আপনার পরিবারের কেউ অসুস্থ হলে, সেই দায়িত্ব আপনার। কোনো সরকারের না।

আপনার ছেলেমেয়েকে পড়াশোনা শেখাবেন । ভালো শিক্ষার পরিবেশ আপনার খুজে নিতে হবে। সরকার তৈরি করে দেবে না্ । সরকারী চাকুরি চান। উপর মহল বলে একটা জিনিস আছে, এটা যদি আপনে না জানেন, আর যদি সে পর্যন্ত না যেতে পারেন, তাইলে এই জামানায় সরকারী চাকুরি আপনে পাবেন না, গ্যারান্টি দিচ্ছি।

যোগ্যতা (!!) দিয়ে সব করার চেষ্টা করছেন কি মরছেন। অযোগ্যতা্ও এখন একটা বড় যোগ্যতা। ছাত্ররা পরিক্ষার সময় মোমবাতি জ্বালিয়ে পড়াশোনা করবে। ভি.আই.পি. নামক এলাকায় লোডশেডিং হবে না। তারা ভাববে দেশটা ভালোই চলছে।

প্রধানমন্ত্রী কোনদিন ট্রাফিক জ্যামে পড়বে না। আপনে জ্যামের কারণে অফিসে বা স্কুলেই পৌছাতে পারবেন না। আগুন লাগলে নিভাতে পারবেন না্ । হাসপাতালে পৌছাতে পারবেন না। তারা মারা গেলে জাতীয় পতাকা পাবে।

আমি - আপনে মরলে কবরে মাটি পাবেন কিনা সন্দেহ আছে। এখন ইকটু জোর দিয়ে আমারে কেউ বলেন যে হাসিনার সময়ে ভালো ছিলেন নাকি খালেদার সময়ে ??? বলেন বলেন। আর এইসব নিয়ে মারামারি করি আমরা। নিজের ভাইয়ের সাথে মারামারি করি । ছুরি চালাই গলাই।

যেন নিজের বাপ - মা কিছু না, তারাই দেশের মা বাপ। ্ওরা্ও তো তাই চায় । আমরা নিজেদের মধ্যে মারামারি কাটাকাটি করে বসে থাকি। আর ্ওরা বাড়ি-গাড়ি-নারির মালিক হোক। আমরা যত বিবাদ করব।

ততই ্ওদের লাভ। একটা জিনিস নিয়ে লাগতে গেলে , আমরা কাউকাউ করবো ব্লগে, বাড়িতে , হোটেলে, চায়ের কাপে। তারা আমাদের কম গুরুত্বপূর্ন ব্যাপার নিয়ে ব্যস্ত রাখে । যাতে আমরা আমাদের নিয়ে চিন্তা করার সময় না পাই। ্ওদিকে আরো কি কি করছে তার হদিস কয়জন জানি আমরা।

যত তর্ক করতে যাবো ততই পিছিয়ে পড়বো আমরা। দোষ তো আমাদেরই। আমরা যোগ্য কাউকে পাঠাবো না। অযোগ্য রা গেলে তো আমাদের কপাল খারাপ হবেই্ । অনার্স পাশ করে ক্যারেক্টার সার্টিফিকেট নিবেন কোন আন্ডার মেট্রিক চ্যায়ারম্যান এর কাছ থেকে।

বাপ-মা চাইবে ... আমার ছেলের যেন কিছু না হয়, আর কার কি হল দেখার বিষয় না। তুই বিদেশ গিয়ে পড়াশোনা কর। সব বাপ মা এমন চিন্তা করলে যেসব অযোগ্য দেশে পড়ে থাকবে , তাদের দ্বারা আমরা নিপিড়িত হবই্ । তাদের ই বা দোষ কি। নিজের সন্তানের কষ্ট কোন বাবা - মাই বা দেখতে চায়?? সবাই সুফল চায়।

কিন্তু দায়িত্ব নিতে চায় নাকেউ। ৭১ এ বাপ দাদারা যুদ্ধ করছে, আর এখন করছে জীবন যুদ্ধ । তাদের সন্তানকে সুখী দেখার জন্য । কিন্তু কেন তারা ভুলে যায়, দায়িত্ব নিয়েছিলেন বলেই সবাই একযোগে ১৯৭১ এ সফলতা পেয়েছেন। এখন দেশের দায়িত্ব তো তাদের উত্তরসুরীদের নেয়ার কথা।

তারা ভয় পান নি। কিন্তু আমরা পাই। ফলাফল টা পরিষ্কার। আমরাই নির্বাচিত করি আগামী দিনগুলোতে কারা আমাদের শোষণ করবে। এইক্ষেত্রে আমরা পূর্ণ্ স্বাধীন।

কেউ এখন দেশের জন্য রাজনীতি করে না (ব্যতিক্রম উদাহরণ না। কিছু ভালো লোক আছেই। ) । বি.এন.পি. করি বা লিগ করি ... লক্ষ্য একটাই .. এরা হয়ত এসে আমার জন্য কিছু করবে। বাস্তবে কিছুই হয় না।

দুইদলের গদাম খাই। আন্দাজে হাউকাউ করি। আমরা আমাদের বিরোধী রাজনীতি খুব কম সহ্য করতে পারি। যারা নির্বাচিত হইছে, আমার এলাকার কথা জানি তারা কোনদিন ফিরে ও তাকায়নি। কোনদিন তাকাবে এমন আশা্ও করি না।

মহিউদ্দীন হারছে। তাতে কি তার বিরাট কোন ক্ষতি হইছে?? তার দলের কোন ক্ষতি হইছে। যতই মুখে বলি .. আসলেই কি তাদের কোন ক্ষতি হইছে। মঞ্জু যদি হারত , তাতে কি তার খুব বড় ক্ষতি হয়ে যেত। জিতে হয়ত তার লাভ হয়ছে।

যে ই লাভ টা এতোদিন মহিউদ্দীনের ছিল। আমাদের তো কিছু হয় নি। চট্টগ্রামবাসী আবার নতুন ধরণের উৎপীড়ন দেখবে। কিছু দিনের মধ্যেই্। অ্যাতো খুশি হ্ওয়ার কি আছে ।

অ্যাতো দুঃখ পা্ওয়ার ই বা কি আছে?? আমরা শুধু ডিসিশান নেবো । আমরা কার কাছ থেকে কিভাবে বাশ খাবো। যেভাবেই খাই । জিনিস টা বাশ। বাশি না।

কেউ হয়ত সেটা স্বীকার করি , কেউ করি না। মনের ক্ষোভ মিটানোর জন্য লিখলাম। পছন্দ না হইলে মাইনাস দিতে ভুলবেন না ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।