আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

মুহুরী নদীর ভাঙ্গনে পরশুরামের মানচিত্র বদলে যাচ্ছে

mamun.press@gmail.com

আবদুল্লাহ আল-মামুন ,ফেনী মুহুরী নদীর অব্যাহত ভাঙ্গনে ছোট হয়ে যাচ্ছে পরশুরাম উপজেলা। নদীর একদিকে ভাঙ্গনের কারণে আলোচিত বিরোধপূর্ণ মুহুরীর চরের আয়তন বাড়ছে। বর্ষা মৌসুমে নদীতে স্রোত বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে বাংলাদেশ অংশে ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারন করে। মুহুরী নদীর কালিকাপুর বিলোনীয়া অংশে অবিরল ভাঙ্গনে গত কয়েক বছরে প্রায় শতাধিক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে। ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন মুহুরী কহুয়া ও সিলোনীয়া বণ্যা নিয়ন্ত্রন প্রকল্পের কাজও এ অংশে বন্ধ হয়ে আছে।

হাজার হাজার তৈরিকৃত সিসি বক অযতœ অবহেলায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বিএসএফের আপত্তির মুখে নদী বাঁধে এসব সিসি বক বসানো যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছে নিজ কালিকাপুর বিওপি কমান্ডার। জানা যায়, ফেনী জেলার ভারত সীমান্তবর্তী উপজেলা পরশুরাম। উপজেলার বিলোনীয়া সীমান্ত দিয়ে মুহুরী নদী ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের পাহাড়ী এলাকা থেকে উৎপত্তি লাভ করে মতাইছড়াসহ অর্ধশতাধিক ছড়া-খাল অতিক্রম করে বাংলাদেশ ভূখন্ডে প্রবেশ করেছে। মুহুরী নদী ভারতের পাহাড়ী এলাকা থেকে উৎপত্তি লাভের পর থেকেই পাহাড়ী বন্যার প্রবল চাপে নদীবাঁধ ভেঙ্গে নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হতে থাকে।

যে নদী ছিল ভারতের ভিতরে সেটি বিশাল আয়তনের চর সৃষ্টি করে মূল অবস্থান থেকে সরে আসে। পরবর্তীতে বাংলাদেশ অংশে নদীর অব্যাহত ভাঙ্গনে চরের পরিধি ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকে। নদীর গতিপথ পরিবর্তনের ফলে যে চরের সৃষ্টি হয়, সেটি বিলোনীয়ার মুহুরীর চর নামে পরিচিত। এই চরের বিস্তৃতি ৯২.৩৩ একর। যার মাত্র ২.৫ ভাগ বাংলাদেশের আয়ত্বে রয়েছে।

২৪ ভাগ চর এলাকা একতরফাভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে ভারত। বাকী ৬৫.৮৩ একর চর এলাকাকে বিরোধপূর্ণ ঘোষনা করে অমিমাংসিত রাখা হয়েছে। অমীমাংসিত এ চর নিয়ে বহুবার সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। দেশ স্বাধীনের ৩৯ বছর পরও এর কোন সমাধান হয়নি। এদিকে মুহুরী নদীর অব্যাহত ভাঙ্গনে বিলোনীয়া ও নিজ কালিকাপুর গ্রামের শতাধিক ঘরবাড়ি, ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।

মুহুরীর বিভিন্ন এলাকায় ভাঙ্গনে ছোট হয়ে যাচ্ছে পরশুরাম উপজেলা। অপরদিকে ভারতের সাথে বিরোধপূর্ণ মুহুরীর চরের আয়তন ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। ভাঙ্গন কবলিত নদী এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপ বিডিআরের সহযোগিতায় সিসি বক বসাতে চাইলে বিএসএফের বাধার কারনে তা স্থাপন করা যায়নি। ফলে শুধু নিজ কালিকাপুর গ্রামেই ৮ হাজার সিসি বক বেকার পড়ে আছে। ভারতের একতরফা নদীশাসনের কারনে প্রতিবার বর্ষা মৌসুমে মুহুরী নদীর প্রবল পানির চাপে এ জনপদ পাবিত হয়।

নদীভাঙ্গনের ফলে বিলীন হয় ঘরবাড়ি, ফসলি জমি। যার তির রেশ বাংলাদেশীরা কাটিয়ে উঠতে পারে না। স্থানীয় এলাকাবাসীর দাবি, বিতর্কিত মুহুরীর চর সমস্যা সমাধান করে ভাঙ্গন রোধে ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় সিসি বক স্থাপন করা হোক।

সোর্স: http://www.somewhereinblog.net     দেখা হয়েছে বার

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।