আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

সৃজনশীলতা ও আমাদের পরির্বতনশীল শিক্ষাব্যবস্থা



বিষয়টি সবার জন্য জরুরী। কেননা আমাদের সবারই কেউ না কেউ স্কুলে পড়ছে। আমাদের সরকারগুলো সবসময়ই আমাদের নিয়ে নানা খেলায় মেতে আছে। সবথেকে খারাপ খেলাটা হলো আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে নানা পরীক্ষা নিরীক্ষা করা। সঠিক দিক নির্দেশনা ছাড়া গ্রেডিং সিস্টেম করা(২০০০),ইংরেজীতে একবার গ্রামার পড়ানো একবার কম্প্রিহেনসন পড়ানো,অপশনাল নাম্বার একবার যোগ করা একবার যোগ না করা ইত্যাদি নানা বিষয় নিয়ে আমাদের সাথে নানা পরীক্ষা করা হয়েছে এবং হচ্ছে।

সর্বশেষ সংযোজনটি হলো “সৃজনশীল” বা “কাঠামোগত শিক্ষা ব্যবস্থা”। এই শিক্ষাব্যবস্থার যে উদ্দেশ্য তা খারাপ না কিন্তু যে ভাবে তা প্রয়োগ করা হচ্ছে তা খারাপ ফলাফল বয়ে আনতে বাধ্য। তাই এর ভালো ফলাফল পেতে হলে আমাদের খারাপ দিকগুলো জানতে হবে এবং এর প্রভাব থেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করতে সচেষ্ঠ থাকতে হবে। কাঠামোগত শিক্ষা ব্যবস্থার সুফল আনতে হলে শুধু শিক্ষার্থীদের ভূমিকা যথেষ্ঠ না। এর সাথে জড়িত অর্থাৎ শিক্ষক অভিবাবক নিরিক্ষক(যারা খাতা দেখবেন) তাদের সবাইকে ভুমিকা রাখতে হবে।

নতুবা এই ব্যবস্থার উদ্দেশ্য অর্জিত হবে না। সৃজনশীলতার মানে হলো নিযে কিছু সৃষ্টি করা। এইক্ষেত্রে একটি বিষয় পরে শিক্ষার্থী যা বুঝলো তা নিজের মত লেখা। স্কুলে পড়ুয়া একজন ছাত্র/ছাত্রী তখনই তার সৃজনশীলতা দেখাতে পারবে যখন একজন প্রশ্নকর্তা সেইভাবে প্রশ্ন করবেন। আবার প্রশ্ন করার সময় এই বিষয়টাও খেয়াল রাখতে হবে যে প্রশ্নের উত্তর যারা দিবে তাদের বয়স সর্বোচ্চ ১৬ কি ১৭।

কিভাবে সৃজনশীলত প্রস্ন করতে হয় তা নিয়ে শিক্ষকদের কোন প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে বা হবে এমনটা আমার জানা নেই বা প্রশিক্ষন দেয়া হলেও তা খুব অল্প পরিসরে হয়েছে। তাছাড়া প্রশ্ন করার সঠিক নীতিমালাও নেই। এরপর আসি যারা উত্তর দিবে মানে শিক্ষার্থীদের কথায়। মাত্র ১৮০মিনিটে(২ঘঃ ২০মিঃ) তাদের ৬টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। প্রতিটি প্রশ্নের আবার ৪টি(ক,খ,গ,ঘ) ভাগ থাকে।

যদি মূখস্থ লেখা হত তাহলে এই সময় ঠিক ছিল। তাছাড়া তারা জানত কি ধরনের প্রশ্ন আসবে। কিন্ত এখানে প্রস্ন কাঠামোগত। গ এবং বিশেষ করে ঘ প্রশ্নের উত্তর দিতে তাদের চিন্তা করে দিতে হবে। যে সময় পাওয়া যায় তাতে উত্তর দিবে কখন আর চিন্তা করবে কখন? সবথেকে সমস্যা হচ্ছে যারা খাতা দেখবেন তাদের নিয়ে।

একজন শিক্ষার্থী উত্ত যথার্থ দিলেও তিনি ভালো নাম্বার দিচ্ছেন না কারণ লেখাটি ছোট হয়েছে এবং আরও বড় লিখতে পরামর্শ দিচ্ছেন। বড় লেখা কি সৃজনশীলতা?নাকি প্রশ্ন বুঝে যতটুকু দরকার ততটুকু লেখা দরকার?ফলে শিক্ষার্থীরা চলে যাচ্ছে পুরাতন ঠিকানায় – নোট বই। তাহলে লাভটা কি হচ্ছে? এইসব সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে অভিবাবকরাও মুখস্থ করার প্রতি জোড় দিতে বাধ্য হচ্ছেন। বাজার সয়লাব হয়ে গেছে সৃজনশীল নোট বই? দিয়ে। এমনকি টিভিতে বিজ্ঞাপনও দেখা যাচ্ছে! গত বছর যারা নবম-দশম শ্রেণীতে উঠেছিল তারা হঠাৎ করে জানতে পারে তাদের সৃজনশীল পদ্ধতিতে পরীক্ষা দিতে হবে।

যারা ছোটবেলা থেকে এক নিয়ম পড়ছে তারা হুট করে আরেক নিয়মে কিভাবে পরীক্ষা দিবে?পরে অবশ্য কিছুটা পরিবর্তন করা হয়। তারপর বলা হলো JSC হবে SSC হবে না। যারা SSC এবং HSC দিয়েছেন তারা জানেন এই দুইয়ের মাঝে কতটা ফারাক। এই সিদ্ধান্তও পরিবর্তন হয়েছে। ২০০১ এ গ্রেডিং আসলো।

৬১-৮০ A+ !!!4th subject এর নাম্বার যোগ হবে না। ২০০৩ এ নিয়ম আবার পরির্বতন। ৬০-৬৯ A- এবং ৭০-৭৯ A তারপর A+। ২০০৪ এ আবার পরিবর্তন। এইবার 4th subject এর নাম্বার যোগ হবে।

শিক্ষাব্যবস্থা কি ছেলে খেলা???

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.