আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

সাওপাওলো এয়ারপোর্টে ধুমপানের কোনো জায়গা খুঁজে পেলাম না!

যখন বিকাল হতে থাকে, হতে হতে সূর্যটা ঢলে পড়ে, পড়তে থাকে

সাওপাওলো এয়ারপোর্টে এক চিলতে জায়গা খুঁজে পাচ্ছি না ধুমপান করার। এয়ারপোর্টের ভেতরে যে হোটেলটাতে এমিরেটস উঠিয়েছে সেখানে ধুমপান নিষেধাজ্ঞার ফেডারেল ল বড় বড় করে লেখা আছে। লাস্ট ১৫ ঘন্টায় একটা সিগারেট খেতে পারি নি। ভেবেছিলাম সাওপাওলোতে নামলে খাওয়া যাবে, কিন্তু টোটাল এয়ারপো্র্টে ধুমপান নিষিদ্ধ। তারমনে সান্তিয়াগো পৌছানোর আগে ধুম্রপানের চেষ্টা বাদ দিতে হবে।

তারমনে আরো ১৬ ঘন্টা! ফাস্ট স্লিপ যে হোটেলটাতে আছি সেখানে ম্যানেজার একজন সাম্বা, মানে স্ফীত বুক দেখে তাই মনে হলো। স্প‌্যানিশ ছাড়া কিছু না বুঝলেও আমার দুরাবাস্থা টের পেয়ে বললো, বাথরুমে ট্রাই করতে পারো, কিন্তু ধরা পড়লো জেলজরিমানা হবে! এমন ভয় দেখালে সিগারেট খাই কি ভাবে? বরঞ্চ সাম্বা দেখতে দেখতে ঘুমেই পড়াই সংগত মনে করলাম। আটলান্টিক তখনও পাড়ি দেয়া শেষ হয়নি, নিচে দেখলাম সন্ধ্যা নেমেছে। কয়েক স্তর বিশিষ্ট মেঘ। একদিক থেকে সন্ধ্যা ধেয়ে আসছে আবার দূরে দেখা যাচ্ছে সূর্যের আলো।

চমৎকার আইসক্রিমের মত মনে হচ্ছিলো মেঘের পুঞ্জকে। এমন সময় একটা ছবি দেখছিলাম। মরগান ফ্রিম্যান অভিনয় করেছেন ম্যান্ডেলার চরিত্রে। একজন নেতাকে কিভাবে জাতীয় ঐক্যের জন্য নেতৃত্ব দিতে হয় তার একটা ডেমোনেস্ট্রেশন রয়েছে ছবিটিতে। দক্ষিণ আফ্রিকার সদ্য প্রেসিডেন্ট হয়েছেন ম্যান্ডেলে, কালো মানুষের শাষন শুরু হয়েছে।

এমন সময় দক্ষিণ আফ্রিকার জনপ্রিয় রাগবি দলের জাতীয়তবোধে ফাটল দেখা দেয়। রাগবি দলের অধিনায়ক ম্যাট ডেমনকে ম্যান্ডেলা এরপরে সাদা-কালোর উপরে উঠে ঐক্যবদ্ধ চেতনা জাগ্রত করার জন্য তার জেলজীবনের সংগ্রামের কতা শোনান। এতে রাগবি দলের প্লেয়াররা উজ্জীবিত হয়ে ওঠে সেই সাথে বিরাজিত বর্ণগত বৈসম্যও কমাতে সাহায্য করে। ছবিটা আমার ভীষণ ভালো লেগেছে। প্রথমত ক্লিন্ট ইস্টউডের পরিচালনার মধ্যে একটা মাদকীয় রিয়েলিটি আছে মানে রাজনীতি, সমাজবাস্তবতার উপস্থাপনা এত নাটকীয়ভাবে ঘটে থাকে যে অবিভূত হতে হয়।

আরো একটা বিষয় মনে হলো, ক্লিন্ট ইস্টউড প্রচুর উদ্ধৃতিমূলক ডায়লগের জন্ম দেন তার ছবিতে। একটু চেষ্টা করলে আগের ছবিগুলো থেকেও কয়েকটা ডায়লগ মনে করতে পারবো তবে এই ছবিতে ম্যান্ডেল যখন বলেন, রাগবি একটা রাফ খেলা যেমন পলিটিক্সও একটা রাফ গেম। দুটোতেই নির্বাচিত নেতাকে দল পরিচালনা করতে হয় নিদারুণ কৌশলে। দীর্ঘ সময়ে শুধু ছবিই দেখলাম। দি রিবাউন্ড হচ্ছে জেটাজোনসের অসম প্রেমের তরতাজা কাহিনী, দা লাস্ট স্টেশন হচ্ছে টলস্টয়ের শেষ দিনগুলোর উপরে নির্মিত ছবি যখন তার স্ত্রীর সাথে সম্পত্তির উইল বিষযক বিরোধ শুরু হলো, লিপইয়ার হচ্ছে আমেরিকান নারী ও আইরিশ পুরুষের বলিউডি মার্কা প্রেমের ছবি।

তান্জানিয়ার ডিও ও ক্রিস্টিয়ানন, পাকিস্থানের আউব ও বাংলাদেমের বিজয়কে নিয়ে আমরা একটা সিক্রেট সামিট করবো আজ রাতেই মানে আমি যখন লিখছি তখন ব্রাজিলে রাত ৮টার মত, বাংলাদেশে এখনও ঘুম থেকে কেউ ওঠেনি নিশ্চয়ই - সে সময়ে।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।