আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

নাঈমুল (নাঈমুল ইসলাম খান)- এর আমলনামা

I Love Bangladesh

'আমাদের সময়' এর সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খান বাংলাদেশের মিডিয়া জগতে মোটামুটি পরিচিত নাম। একটি বড় জাতীয় দৈনিকে একসময় কাজ করতাম। তখন সাংবাদিক আমীরুল ইসলামের (বাংলাভিশনে মাঝে মাঝে রাত বারটার সংবাদপত্র বিশ্লেষণ অনুষ্ঠানের উপস্থাপক) কাছ থেকে শুনেছিলাম অনেক বড় সাংবাদিক তৈরিতে নাঈমুলের ভাল ভূমিকা আছে। কিন্তু দুঃখজনক ভাবে এই নাঈমুল বর্তমানে সাংবাদিক হিসাবে দেশের জন্য খারাপ ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। তার পত্রিকা সরকারী দলের স্তাবকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। সরকারের পদলেহনের কৌশল যে তিনি এই আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রথম নিয়েছেন তা নয়। মইন ফকিরের নেতৃত্বাধীন বিগত অবৈধ আধাসামরিক সরকারকে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছিলেন নাঈমুল। ঐ সরকারের প্রশংসা করে নিয়মিত নিজের পত্রিকায় কলাম লিখতেন তিনি। টিভি টক শোতে মইন ফকিরের প্রশংসায় মুখে ফেনা তুলতেন। মইনের ডাকা সাংবাদিক সন্মেলনে প্রথম আলোর মতিউর ও ডেইলি স্টারের মাহফুজের পাশাপাশি এই নাঈমুল জোরালো ভাবে ঐ অবৈধ সরকারের প্রতি তার সমর্থন জানান। মইন রাষ্ট্র ক্ষমতা দখলে ইচ্ছুক নয় মর্মে মইনের বড় সাক্ষাতকার ছাপেন আমাদের সময়ে। পরবর্তীতে অবশ্য জনস্রোত মইন ফকেরের বিরুদ্ধে চলে যাওয়ার পর তিনি ঐ সরকারের সমালোচনা শুরু করেন। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পরপরই তিনি আওয়ামী ভক্ত হয়ে ওঠেন। বাংলাদেশকে পানি না দেওয়ার ভারতের যুক্তিগুলো চমৎকার করে একাধিক টিভি টক শোতে উপস্থাপন করেন। ভারত সরকারের আমন্ত্রণে ভারত সফর করে এসে আওয়ামী লীগের পাশাপাশি ভারতের স্তুতিতে মুখর হয়ে ওঠেন। নাঈমুল ও তার পত্রিকা বর্তমানে মুখর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে প্রতিদিন সত্যমিথ্যা রিপোর্ট ছাপা হয় নাঈমের পত্রিকায়। ভাল, খুব ভাল। তবে একটা তথ্য জানলে সম্ভবত অনেক পাঠক অবাক হবেন। এই নাঈম একজন রাজাকারের সন্তান। এ তথ্য দিয়েছেন নাঈম নিজেই। বিগত মইন ফকিরের আধা সামরিক শাসন আমলে নাঈম এ বিষয়ে নিজেই কলাম লিখে সত্যটি জাতিকে জানিয়ে দিয়েছিলেন। নাঈমের স্বীকৃতি মতেই মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকবাহিনীর সহযোগী ছিলেন নাঈমের পিতা। অধুনা যুদ্ধাপরাধী হিসাবে যাদের নাম নাঈমের পত্রিকায় প্রকাশিত হচ্ছে তাদের অনেকের বয়স মুক্তিযুদ্ধের সময় ৪ থেকে ৮ বছরের মধ্যে ছিল বলে অভিযুক্তরা জানিয়েছেন। তারা যুদ্ধাপরাধের কথা সরাসরি অস্বীকার করেছেন। কিন্তু নাঈমের স্বীকৃতি মতেই তার পিতা একজন যুদ্ধাপরাধী। একজন রাজাকার ও যুদ্ধাপরাধীর সন্তান তার পত্রিকায় নিয়মিত অন্যদের যুদ্ধাপরাধী হিসাবে গালি দিচ্ছে এবং তাদের বিচার দাবী করছে। বাহ্ বেশ। তবে যুদ্ধাপরাধের বিচার চাওয়ার এই সাহস নাঈম দেখাচ্ছেন কিভাবে? পিতার প্রতি কি তার কোন দরদ নাই? এই প্রশ্নেরও উত্তর আছে। নাঈমের পিতা এখন আর এই নশ্বর পৃথিবীতে নাই। ফলে হাসিনা সরকারের এই সাজানো বিচারের মুখোমুখি হওয়ার কোন আশংকাও নেই। নাঈম এখন এ ব্যাপারে নিশ্চিন্ত। পাশাপাশি রাজনৈতিক ভিন্নমতাবলম্বীদের যুদ্ধাপরাধী বলে প্রচার করে নিজেকে যদি মুক্তিযুদ্ধের সোচ্চার স্বপক্ষ শক্তি প্রমাণ করা যায় মন্ত কি? তবে এই নাঈমের ব্যাপারে একটা ভবিষ্যৎ বাণী আগেই করে রাখি। সামনে যদি বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় যায় তাহলে এই নাঈম নিজেকে জাতীয়তাবাদী ইসলামীর আদর্শের স্বপক্ষ শক্তি বলে নিজেকে প্রচার করবে এ ব্যাপারে আমার কোন সন্দেহ নাই। তার অতীত ইতিহাস তাই বলে।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.