আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

চলচ্চিত্রে নারীনির্মাতাদের সাফল্য

১৯৫৬ সালের ৩ আগস্ট মুক্তি পায় ঢালিউডের প্রথম বাংলা চলচ্চিত্র 'মুখ ও মুখোশ'। সে হিসাবে ঢালিউডের বয়স এখন ৫৭ বছর। এ সময়ে শতাধিক নির্মাতা কয়েক হাজার চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন। কিন্তু একই সময়ে নারীনির্মাতা এসেছেন মাত্র ১২ জন। এদের মধ্যে ১১ জনের ১৫টি চলচ্চিত্র মুক্তি পেয়েছে এবং সাফল্য লাভ করেছে।

পুরুষের চেয়ে নারীনির্মাতা কম হলেও তাদের কর্মের সাফল্য বেশি। সম্প্রতি বিষয়টি অনুধাবন করে সরকার নারীনির্মাতাদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে। এতে আনন্দিত ও উৎসাহিত হয়েছেন নারীনির্মাতারা।

১৯৭০ সালে চলচ্চিত্র নির্মাণে আসেন প্রথম নারী রেবেকা। তিনি নির্মাণ করেন 'বিন্দু থেকে বৃত্ত'।

এ চলচ্চিত্রটি দর্শক ও বোদ্ধা মহলে ব্যাপক প্রশংসা লাভ করে। এর ১৫ বছর পর নির্মাণে আসেন অভিনেত্রী রোজী। তার নির্মাণে ১৯৮৬ সালে মুক্তি পেল 'আশা নিরাশা'। এ চলচ্চিত্রটিও ব্যবসাসফল হয়। এরপর ১৯৮৮ সালে অভিনেত্রী সুজাতা নির্মাণ করলেন 'অপর্ণ'।

এটিও বড়মাপের ব্যবসায়িক সফলতা পায়। এর এক যুগ পর ১৯৯৯ সালে আরেক দর্শকনন্দিত অভিনেত্রী সুচন্দা পরিচালনা করলেন 'সবুজ কোট কালো চশমা'। এ চলচ্চিত্রটিও দর্শকগ্রহণযোগ্যতা পায়। এর তিন বছর পর ২০০২ সালে সুচন্দা ফের নির্মাণ করলেন জহির রায়হানের উপন্যাস অবলম্বনে সরকারি অনুদানে 'হাজার বছর ধরে'। এ চলচ্চিত্রটি দর্শক-প্রশংসার পাশাপাশি শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রসহ বেশ কয়েকটি শাখায় জাতীয় পুরস্কার লাভ করে।

২০০২ সালে চলচ্চিত্র নির্মাণে এগিয়ে এলেন আরেক নারী নির্মাতা নারগিস আক্তার। তিনি নির্মাণ করলেন 'মেঘলা আকাশ'। প্রথম নির্মাণেই দক্ষতার পরিচয় দেন। দর্শক আনুকূল্যসহ কয়েকটি শাখায় লাভ করেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। পরবর্তীতে তার নির্মিত আরও তিনটি চলচ্চিত্র মুক্তি ও দর্শকগ্রহণযোগ্যতা পায়।

এগুলো হলো- 'মেঘের কোলে রোদ', 'চার সতীনের ঘর' ও 'অবুঝ বউ'। ২০০৩ সালে পরিচালনায় আসেন জনপ্রিয় নায়িকা মৌসুমী। তিনি নির্মাণ করলেন 'কখনো মেঘ কখনো বৃষ্টি'। এ চলচ্চিত্রটি সর্বমহলে প্রশংসিত হয়। ২০০৫ সালে মৌসুমী দ্বিতীয়বার নির্মাণ করলেন 'মেহের নিগার'।

এটিও দর্শকগ্রহণযোগ্যতা পায়। ২০০৬ সালে অভিনেত্রী কবরী নির্মাণ করলেন 'আয়না'। চলচ্চিত্রটি সর্বমহলে ব্যাপক প্রশংসিত হয়। এ বছরই টিভি অনুষ্ঠান উপস্থাপক ও সংবাদ পাঠক সামিয়া জামানের নির্দেশনায় মুক্তি পায় 'রানী কুঠির বাকী ইতিহাস'। এ চলচ্চিত্রটিও দর্শকগ্রহণযোগ্যতাসহ বেশ কয়েকটি শাখায় জাতীয় পুরস্কার লাভ করে।

২০১০ সালে রুবাইয়াত হোসেন নির্মাণ করেন 'মেহেরজান'। এটি দেশে ব্যাপক আলোচিত ও বিদেশে পুরস্কৃত হয়। ২০১২ সালে মুক্তি পায় শাহনেওয়াজ কাকলীর 'উত্তরের সুর'। এটিও প্রশংসিত হওয়ার পাশাপাশি ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি দেশে পুরস্কৃত হয়েছে।

বর্তমানে নির্মাণাধীন রয়েছে নারগিস আক্তারের 'পুত্র এখন পয়সাওয়ালা', 'পৌষ মাসের পিরিত' এবং 'যৈবতী কন্যার মন', সামিয়া জামানের 'ছেলেটি', ক্যাথরিন মাসুদের 'কাগজের ফুল', শাহনেওয়াজ কাকলীর 'জল রং', আফসানা মিমির 'রান', ইসমত আরা শান্তির 'মায়ানগর' এবং রুবাইয়াত হোসেনের 'আন্ডার কনস্ট্রাকশন'।

নারী চলচ্চিত্রকারদের এই সাফল্যে গত ২১ আগস্ট এফিডিসিতে এক অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, সরকারি অনুদানসহ সর্বক্ষেত্রে নারী নির্মাতাদের অগ্রাধিকার ও অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এতে চলচ্চিত্র পরিচালনায় নারীরা উৎসাহিত হবে ও ব্যাপকহারে এগিয়ে আসবে এবং সাফল্যের স্বাক্ষর রাখবে।

তথ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন নারগিস আক্তার, সামিয়া জামান, রুবাইয়াত হোসেন, মৌসুমী প্রমুখ নারী নির্মাতরা। তারা বলেন, এতে আমাদের সুনির্মাণে দেশীয় চলচ্চিত্র ভাণ্ডার পূর্ণ হবে।

 

 



সোর্স: http://www.bd-pratidin.com/

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।