আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

দেশটা চিরে খাও



আজ সকালে অসুস্থ শরীরে দিনের পত্রিকাগুলোতে চোখ বুলাচ্ছিলাম। খবরগুলো পড়তে তেমন ভাল লাগছিল না। একটি খবরে চোখ আটকে গেল। সেটি ছিল বাংলাদেশ ও ভারত সচিব পর্যায়ের বৈঠকের খবর। একটি ইংরেজি দৈনিকে খবরটি পড়লাম।

পড়ে বুঝতে পারলাম, ভারত বাংলাদেশের ইছামতি নদী ড্রেজিং করবে। এক্ষেত্রে যত খরচ হবে তার সব বহন করবে ভারত। বাংলাদেশ শুধু অনুমতি দিয়েই খালাস। তিস্তার পানি চুক্তির ব্যাপারে কোন আলোচনায় হয় নি। এ তিস্তায় উজানে বাঁধ দিয়ে ভারত আমাদের উত্তরাঞ্চল পুরোপুরি মরুভুমি করে রেখেছে।

শত আলোচনা করেও কোন লাভ হচ্ছে না। যত আলোচনা করা হোক না কেন, সবই বুঝি ও মানি কিন্তু তালগাছটি আমার। ভারতের আচরন যেন এমনই। উত্তরাঞ্চলে কত কৃষক যে পানি জন্য চোখের জল ফেলছেন তার ইয়াত্তা নেই। যদি কৃষকদের চোখের জল একত্র করা যেত তবে হয়তরা একদিন ছোটখাট একটি তিস্তা না হোক মরা বুড়িগঙ্গা সৃষ্টি হতে পারত।

পানি অভাবে আবাদ করতে পারেন না সেখানের কৃষকরা। অনেক কৃষক আবাদ না করতে পেরে পথে বসেছেন। টিপাইমুখ বাধ নিয়েও তো তারা কম করল না। খরবটি পড়ে এসব চিন্তা করছিলাম। সেই ভারত হঠাৎ করে আমাদের বন্ধু হবে ভাবতে পারি নি।

ভাবছিলাম ভারত ঘেষা আওয়ামী সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনের পর প্রথম ভারতে যাচ্ছেন, হয়তবা এ জন্যই একটু আলাদা খাতির। হলফ করে বলতে পারি আমি এ সংবাদে বেশ খুশী হয়েছিলাম। একটু পর বাংলা দৈনিকটি হাতে নিয়ে একই সংবাদটি আগাগোড়া পড়তে লাগলাম। সংবাদটি পড়ে আমি যারপর নাই হতাশ হলাম। প্রতিবেদক লিখেছেন, ভারত ইছামতি নদী ড্রেজিং করবে কারন, ভারতে পাশে ইছামতি নদীর তীরে প্রতিবছর ব্যাপক ভাঙ্গন হয়।

এ ভাঙ্গন প্রতিরোধ করার জন্যই এ ব্যবস্থা। আর বাংলাদেশের লাভ প্রতিবছর বাংলাদেশের ইছামতির তীরে ভাঙ্গন। আবার ভারত ইছামতি নদীর বাংলাদেশ অংশ থেকে পানি নিয়ে সেচ করবে ভরতে। সাবাস ভারত তোমার কাছ থেকে এইতো চাই। তুমি আমাদের প্রতিবেশি না।

তুমি তো আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছে। আমাদের ত্রিশ লাখ শহীদের রক্তরে মুল্য আছে তোমার এ অবদানের কাছে। আমাদের মা-বোনের ইজ্জতের দাম আছে তোমার এ অবদানের কাছে। বিনিময়ে তুমি কিছুই পাওনি। চাও নি কোন প্রতিদান।

বিম্শ্বদরবারে তুমি সেজেছ মহান দরদী। নিরবে শুধু আত্মসমার্পন করা পাকিস্থানী বাহিনীর অস্ত্রগুলো নিয়ে ভেগেছ। না তুমি তো ভাগতে চাও নি। সদ্য স্বাধীন হওয়া নিরাপত্তার দ্বায়িত্বও তো নিতে চেয়েছিলে? বঙ্গবন্ধু তোমার এ দুরভিসন্ধী বুঝতে পেরেছিলেন বলেই তো তোমাদের তাড়ানো ব্যবস্থা না করা পর্যন্ত দেশে পা রাখেন নি। তোমার নিষ্ঠুর, নির্মম বিএসএফ বাহিনীর হাতে আমার দেশের কত শিশু-কিশোর-বৃদ্ধ-নারী যে প্রান দিরো তার কোন খবর আছে।

কই আমাদের বাহিনী তো তোমাদের কোন নাগরিকের প্রান কেড়ে নেয় নি। তোমরা স্বাধীনতা দিয়েছ বলে তাই? আর কত খেলতে চাও? এবার শান্ত হও। আমাদেরকে নিজের মত করে থাকতে দাও। যদি পৃথিবীর বুকে আমাদের নাই দেখতে চাও তবে দাওনা তোমাদের মহাশূন্যযানে করে ১৫ কোটি বাঙ্গালীকে মহাশূন্যে পাঠিয়ে, দেশটা তখন চিরে চিরে খেও।


অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।