আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

নামকরণ-০১ নামকরণ আর নামবদলের রাজনীতি

Only I know what is my goal, My heart is my temple.

কাজী সায়েমুজ্জামান: রাজধানী থেকে শুরু দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত বিভিন্ন স্থান, স্থাপনা, প্রতিষ্ঠানের নাম শেখ মুজিব, তার স্বজন ও আওয়ামী লীগ নেতাদের নামে নামকরণের হিড়িক পড়েছে। একই সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বী দলের নেতাদের নামে প্রতিষ্ঠিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামবদল করেও আপন দলীয় নেতাদের নাম স্থাপন করা হচ্ছে। গত ১৪ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে চারদলীয় জোট সরকারের সময়ে যেসব স্থাপনা বা প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করা হয়েছিল, সেসব স্থাপনা ও প্রতিষ্ঠানের আগের নাম পুনর্বহাল করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তন করেও ‘ঢাকা হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর’ রাখার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ফলে নামকরণ আর নামবদল নিয়ে রাজনীতির মাঠও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।

আওয়ামী লীগ তার নির্বাচনী ইশতেহারে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, বিদ্যুৎ সরবরাহ, বিচার বহির্ভূত হত্যা বন্ধ, যুদ্ধাপরাধিদের বিচারসহ বেশ কয়েকটি বিষয়ে প্রতিশ্র“তি দিয়েছিলো। কিন্তু সরকার গঠনের এক বছরেও এসব প্রতিশ্র“তির কোন অগ্রগতি সাধন করতে পারেনি। অথচ অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে ক্ষমতা নেয়ার পরপরই সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নামকরণের ওপর জোর দিচ্ছে। নামবদলের এ তালিকায় খেলার মাঠ, সেতু, ছাত্রাবাস, সড়কসহ বিভিন্ন স্থাপনা, এমনকি প্রকল্পের নামও বাদ যাচ্ছে না। অন্যদিকে নামবদল নিয়ে বিএনপি তীব্র প্রতিবাদ করেছে।

দেশের হাজারো সমস্যার বিরুদ্ধে সক্রিয় তৎপরতা না দেখালেও নামকরণের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী আন্দোলন গড়ে তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি। ফলে আইনশৃংখলা পরিস্থিতির অবনতি, টিপাইমুখ বাঁধ, তেল ও গ্যাস রপ্তানী, ভারতের সঙ্গে চুক্তিসহ অসংখ্য ইস্যু এর আড়ালে হারিয়ে যায় কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কিছুই বাদ যাচ্ছেনা: ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলায় একটি ইউনিয়নের নাম দেয়া হয়েছে মুজিবনগর। আগের চরকলমি ইউনিয়নকে ভেঙ্গে মুজিবনগর ছাড়া আরও একটি ইউনিয়ন সৃষ্টি করা হয়েছে। এটির নাম দেয়া হয়েছে নজরুলনগর।

নজরুল হলেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের এমপি জ্যাকবের পিতা। একটি চরের নাম তার পিতার নামে দিতে গিয়ে ঢাল হিসেবে অন্য চরের সঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম ব্যবহার করা হয়েছে। এভাবে ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে বদলে যাচ্ছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনার নাম। শুধু চর নয় কোন সরকারী স্থান দখল করে বঙ্গবন্ধুর নাম দিয়ে তৈরী করা হচ্ছে মার্কেট। একশ্রেণীর তোষামোদীরা এখন খোদ রাজধানীর নাম পাল্টে বঙ্গবন্ধু সিটি করার জন্য চিৎকার করছে।

সাবেক সচিব ও মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মাদ মুসা গত ৫ আগস্ট রাজধানীতে একটি অনুষ্ঠানে পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর উপস্থিতিতে রাজধানীর নাম পাল্টে শেখ মুজিব সিটি করার দাবি জানান। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকেও যাচ্ছে নামবদলের নির্দেশনা। এর মধ্যেই শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের প্রথম সরকারের দেয়া নামগুলো পূণর্বহাল করা হয়েছে। এখনও দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগ নেতারা বিভিন্ন স্থাপনার নাম বদলের জন্য উচ্চ পর্যায়ে যোগাযোগ করছেন। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা আর রোষানলে ক্ষমতা ছাড়ার আগ মূহুর্তে দেশজুড়ে বিএনপি জোট সরকারের মন্ত্রী এমপিদের স্থাপিত ভিত্তিপ্রস্তরের বেশিরভাগ ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে।

অনেকস্থানে প্রতিবাদ সমাবেশ করেও নাম ফলক ভেঙ্গে ফেলে নতুন নাম ফলক স্থাপন করা হয়েছে। চার দলীয় জোট সরকারের আমলে ভেঙ্গে ফেলা নাম ফলকও বর্তমান সরকার ক্ষমতা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুনরায় স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়াও আগের একশ দিনের কর্মসৃজন কর্মসূচীর নামও এ সরকার পরিবর্তন করে অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান সৃজন কর্মসূচী রেখেছে। যেভাবে শুরু: স্বাধীনতার পরপরই দেশের বিভিন্ন স্থাপনার নামকরণ ও নামবদল শুরু হয়। ঢাকার জিন্নাহ এভিনিউ পাল্টে বঙ্গবন্ধু এভিনিউ রাখা হয়।

চট্টগ্রামের আগ্রাবাদের জিন্নাহ সড়কের নাম পাল্টে হয় শেখ মুজিব সড়ক। মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় বাংলাদেশের প্রবাসী সরকার শপথ নিয়ছিল। পরে বৈদ্যনাথতলাকে মুজিবনগর নাম দেয়া হয়। এসব নাম বদল আর নামকরণের পেছনে ঐতিহাসিক ন্যায্যতা ছিল বৈকি। ফলে জনগন এসব নামকরণে খুশি হয়েছিল।

শেখ মুজিবুর রহমান রেসকোর্স ময়দানসহ বেশকিছু স্থানের নামকরণ অন্য নেতাদের নামে করলেও তিনি নিজের নামে কোন স্থাপনার নামকরণ করেননি। এরপর জিয়াউর রহমানের সময়ও তার নামে নামকরণের প্রবণতা ছিলনা। তারা নামের কাঙাল ছিলেননা। তবে বিচারপতি সাত্তার ক্ষমতায় গিয়ে ১৯৮৩ সালে ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও ১৯৭৯ সালে প্রতিষ্ঠিত শিশু পার্ককে জিয়ার নামে নামকরণ করেন। এরশাদ ক্ষমতায় গিয়ে নামকরণ অব্যাহত রাখেন।

তবে তিনি কারও নাম বদল করেননি। তিনি বনানীতে একটি স্টেডিয়ামের তৈরী করে নিজের নামে এরশাদ আর্মি স্টেডিয়াম রাখেন। আর নিজের নামকে টিকিয়ে রাখতে কৌশল হিসেবে শেখ মুজিবুর রহমান ও জিয়াউর রহমানের নামে হল তৈরীসহ বেশ কিছু স্থাপনার নাম দেন। তবে ১৯৯০ সালে স্বৈরাচার এরশাদ সরকারের পতনের পর দেশব্যাপী বিভিন্ন স্থাপনা থেকে এরশাদের নাম মুছে ফেলা হয়। ১৯৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় গিয়ে স্টেডিয়াম থেকে এরশাদের নাম মুছে বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়াম রাখে।

এ নামটি পাল্টে গেলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এরশাদ প্রতিষ্ঠিত দুটি ছাত্রবাসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমানের নাম বহাল থাকে। ১৯৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় গিয়েও জিয়ার নামে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের নামকরণ করে। এরপর ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গিয়ে দেখতে পায় নাককরণের জন্য কোন প্রতিষ্ঠানই বাকী নেই। নতুন প্রতিষ্ঠান বা স্থাপনা তৈরী করে তা নামকরণ এদেশের প্রেক্ষাপটে একদিকে যেমন ব্যয়বহুল তেমনি সময় সাপেক্ষ। এছাড়াও বাজেটের সীমাবদ্ধতার কারণে এটা সম্পূর্ণ অসম্ভব ব্যাপারও ছিল।

এ কারণেই তারা ব্যাপকভাবে পুরানো স্থাপনার নামবদল করে বঙ্গবন্ধুর নামে নামকরণ করে। শুরু হয় নামকরন ও নাম বদলের রাজনীতি। ২০০১ সালে চার দলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় গিয়ে এসব নাম বদলে নিজেদের ইচ্ছেমতো নাম দেয়। বর্তমানে দিন বদলের নাম দিয়ে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতা নিলেও বিএনপির দেয়া নাম মুছে নিজেদের দেয়া নামের সাইনবোর্ড স্থাপন করছে। রাজধানীতে নামকরণ ও নামবদল: রাজধানীতে জিয়ার মাজারকে কোন দিনই আন্তরিকভাবে মেনে নিতে পারেনি আওয়ামী লীগ।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ মতায় গিয়েই রাজধানীর শেরে বাংলা নগরস্থ সংসদ ভবন সংলগ্ন জিয়ার মাজারকে জৌলুসহীন করার পদক্ষেপ নেয়। এছাড়াও সংসদের আশাপাশে বঙ্গবন্ধুর নামে স্থাপনা তৈরীর উদ্যোগ নেয়া হয়। এসব প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনা নামকরণ ও নাম বদলের মুখে পড়ে। সম্মেলন কেন্দ্র: সংসদ ভবনের উত্তর পাশে চীনের সহায়তায় একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয় শেখ হাসিনার প্রথম আওয়ামী লীগ সরকার। চীন সরকারের আর্থিক সহায়তায় ১৯৯৯ সালে এর নির্মাণ কাজ শুরু হয়।

আওয়ামী লীগ এর নাম দেয় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র। বিএনপি এ স্থাপনা বঙ্গবন্ধুর নামে দেয়াকে জিয়ার মাজারকে গুরুত্বহীন ও আশাপাশে বঙ্গবন্ধুর নাম দিয়ে ঢেকে ফেলার কৌশল হিসেবে দেখে। ফলে ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় গিয়েই আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রটির নাম দেয় বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ২০০২ সালের ১২ জানুয়ারী এ সম্মেলন কেন্দ্র উদ্বোধন করেন। এবার আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় গিয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের নাম ফের বঙ্গবন্ধুর নামে বহাল করে।

প্রতিমন্ত্রী আব্দুল মান্নান খান গত ১৯ জুলাই পূর্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে জানান, পরবর্তী এক সপ্তাহের মধ্যে এটির নামকরণ হবে ‘বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টার’। তবে মন্ত্রীর ঘোষণার একদিন আগেই আওয়ামী লীগ এ সম্মেলন কেন্দ্রকে ‘ বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টার’ উল্লেখ করে পোস্টার ছাপায়। দলের জাতীয় কাউন্সিল এ সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠানের জন্য এ পোস্টার ছাপানো হয়। বিএনপির কাউন্সিলও এ সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তারা রাজধানীতে টাঙানো পোস্টারে একে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র বলেই উল্লেখ করে।

চারবার বদল হলো নভোথিয়োটারের নাম: সংসদ ভবনের পূর্ব পাশে প্রতিষ্ঠিত দেশের একমাত্র নভোথিয়েটারটিও এ পর্যন্ত পাঁচবার নাম করণের মুখে পড়েছে। চারবার বদল করা হয়েছে এর নাম। এর বর্তমান নাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার। জানা গেছে, মহাকাশ গবেষণার জন্য ১৯৯৫ সালে বিএনপি সরকার ৫২ কোটি টাকার এ প্রকল্পের কাজ শুরু করে। একনেক ১৯৯৭ সালের ১৭ মার্চ এ প্রকল্প অনুমোদন করে।

এর নাম ঢাকা নভো থিয়েটার হবে বলেও সিদ্ধান্ত হয়। তবে তারা কাজ শুরু করে যেতে পারেনি। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা ছাড়ার কিছু দিন আগে ২০০১ সালের ২৬ জুলাই এ প্রকল্পে কিছু সংশোধনী এনে ১৩৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়। তারা ঢাকা নভো থিয়েটার নাম পাল্টে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে রাখে। পরে চার দলীয় সরকার ক্ষমতায় গিয়ে আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে ফের ঢাকা নভোথিয়েটার রাখে।

কিন্তু সম্পূর্ণ ভিন্ন কারণেই কয়েকদিন পরেই এ নাম পাল্টে মাওলানা ভাসানীর নামে রাখা হয়। তারা ১২০ কোটি টাকা বরাদ্দের মাধ্যমে প্রকল্পটি শেষ করেছিল। ২০০৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়া নভোথিয়েটারটি উদ্বোধন করেছিলেন। হাসপাতাল নিয়ে টানাহেচড়া: বর্তমান সরকার গত ১ জুন সংসদ ভবনের উত্তর পশ্চিম কোনে অবস্থিত বেগম খালেদা জিয়া সরকারী মেডিক্যাল কলেজ ও শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের নামও পরিবর্তন করে। এর বর্তমান নাম শহীদ সেহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।

এর আগে চার দলীয় জোট সরকার ২০০৬ সালের ৬ মে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে এ মেডিকেল কলেজটি উদ্বোধন করেছিল। উদ্বোধনের দিনেও আওয়ামী নেতাকর্মীরা সোহরাওয়ার্দীর নাম পরবর্তন করে খালেদা জিয়ার নামে কলেজ করার প্রতিবাদ জানান। এসময় চার দলীয় জোট সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয় আগের সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের নাম ঠিকই রয়েছে। এ ভবনে অস্থায়ীভাবে খালেদা জিয়া মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা হয়েছে। পরবর্তীতে এ হাসপাতালের পাশে ১৯.৮ একর জায়গায় কলেজ সরিয়ে নেয়ার কথা বললেও তা করা হয়নি।

শেখ হাসিনার প্রথম সরকার শাহাবাগে অবস্থিত দেশের একমাত্র চিকিৎসা গবেষণার প্রতিষ্ঠান আইপিজিএমআর পরিবর্তন করেও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করে। যদিও লোকজন এখনও এ প্রতিষ্ঠানকে পিজি হাসপাতাল নামে চেনে। বিএনপি ক্ষমতায় গিয়ে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়কে ফের পিজি হাসপাতালে ফিরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। এজন্য কর্মচারীদের দিয়ে আন্দোলন করিয়ে কয়েকবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইনবোর্ডও ভেঙ্গে ফেলা হয়। তবে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার কারণে ব্যর্থ হয়ে বঙ্গবন্ধুর নামে বিশ্বাবিদ্যালয় বহাল রাখতে বাধ্য হয়।

তবে এ বিশ্ববিদ্যালয়কে তারা স্বজনদের ডাম্পিং স্টেশন ও লুটপাটের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলেছিল। পার্ক ও স্টেডিয়াম: ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গিয়ে সংসদ ভবন সংলগ্ন জিয়া উদ্যানের নাম পাল্টে ফেলে। এর নাম দেয়া হয় চন্দ্রিমা উদ্যান। ২০০১ সালে বিএনপি চন্দ্রিমা উদ্যানের আগের নাম জিয়া উদ্যান বহাল করে। এ পার্ককে ফের চন্দ্রিমা উদ্যান করার প্রক্রিয়া চলছে।

আওয়ামী লীগ জাতীয় স্টেডিয়ামটিও বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম নামকরণ করে। বিএনপি এ স্টেডিয়াম থেকে বঙ্গবন্ধুর নাম না মুছলেও তার ম্যূরালের পাশে জিয়ার ম্যূরাল স্থাপন করা হয়। তবে এ সরকার ক্ষমতায় আসার পর জিয়ার ম্যূরাল রাতের আধারে ভেঙে ফেলা হয়। প্রশিক্ষণ কেন্দ্র: ২০০০ সালে আওয়ামী লীগ সরকার বঙ্গবন্ধুর স্ত্রী বেগম ফজিলাতুন্নেসার নামে রাজধানীর মিরপুরে একটি ও সাভারের জিরানীতে একটি মহিলা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করে। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় গিয়েই মিরপুরের কেন্দ্রটির নাম মহিলা কারিগরী প্রশিক্ষণ কেন্দ্র করে।

আর জিরানীর কেন্দ্রটির নাম দেয়া হয় বিবি আয়শা প্রশিক্ষণ কমপেপ্লক্স। এবার আওয়ামী লীগ সরকার দুটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রেই ফজিলাতুন্নেসার নাম পূনর্বহাল করেছে। সাভারের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান গেট এলাকায় বিগত আওয়ামী সরকার শেখ হাসিনার নামে জাতীয় যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেছিল। বিএনপি ক্ষমতায় গিয়ে শেখ হাসিনার নাম মুছে জাতীয় যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রাখে। তবে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসর পরপরই এটি শেখ হাসিনার নাম ফিরে পেয়েছে।

অন্যান্য নামকরণ: রাজধানীতে ৩২ নম্বরের বঙ্গবন্ধুর বাড়িটিকে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে রুপান্তরিত করা হয়েছে। তবে এই বাড়িটি বঙ্গবন্ধুর নিজস্ব সম্পত্তি । রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরে একটি অডিটোরিয়ামের নাম রাখা হয়েছে জিয়ার নামে। এছাড়াও সেনানিবাসের জাহাঙ্গীর গেট সংলগ্ন সড়কটি নাম বীরউত্তম জিয়াউর রহমান সড়ক। কয়েকদিন আগে এ নামফলকটি ভাংচুড় করা হয়।

গাজীপুরের কবীরপুরে জিয়াউর রহমানের নামে ১০৫ একর জমির ওপর জিয়া ফিল্ম সিটি নির্মাণ করা হয়েছে। ১৯৮০ সালে জিয়ার সরকার এ জমি এফডিসিকে দিয়েছিল। এর নামপরিবর্তনের প্রক্রিয়াও চলছে। ধানমন্ডির আবাহনী মাঠও এবার নাম করণের পাল্লায় পড়েছে। কয়েকদিন আগে এর নাম দেয়া হয়েছে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব মাঠ।

এক ঘোষণায় ১২ স্টেডিয়ামের নামকরণ: গত ২৮ জুন এক ঘোষণায় সরকার ১২ টি স্টেডিয়ামের নাম পরিবর্তন করে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের এক ঘোষণায় বলা হয়- এসব স্টেডিয়াম আগের নামে পরিচিত হবে। এ ঘোষণার ফলে চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্টেডিয়াম বঙ্গবন্ধুর সহচর জহুর আহমেদ চৌধুরীর নামে, খুলনা বিভাগীয় স্টেডিয়াম বঙ্গবন্ধুর ভাই শেখ আবু নাসেরের নামে, রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়াম চার নেতার একজন শহীদ কামরুজ্জামানের নামে, বরিশাল জেলা স্টেডিয়াম বঙ্গবন্ধুর ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাতের নামে, কিশোরগঞ্জ জেলা স্টেডিয়াম চারনেতার আরেকজন সৈয়দ নজরুল ইসলামের নামে, রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্স বঙ্গবন্ধুর পূত্রবধু সুলতানা কামালের নামে, নরসিংদী জেলা স্টেডিয়াম আওয়ামী লীগ নেতা মুসলেহ উদ্দিন ভূইয়ার নামে, গাইবান্ধা জেলা স্টেডিয়াম গণপরিষদের স্পীকার শাহ আবদুল হামিদের নামে, ফেনী জেলা স্টেডিয়াম ভাষা শহীদ আবদুস সালামের নামে, গোপালগঞ্জ স্টেডিয়াম বঙ্গবন্ধুর পূত্র শেখ কামালের নামে, পঞ্চগড় জেলা স্টেডিয়াম মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলামের নামে এবং নাটোর আধুনিক স্টেডিয়াম শঙ্কর গোবিন্দ চৌধুরীর নামে পরিচিত হবে। এসব স্টেডিয়ামের মধ্যে গত ১ জুলাই শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান আনুষ্ঠানিকভাবে চট্টগ্রাম স্টেডিয়ামে জহুর আহমেদ চৌধুরীর নাম ফলক উম্মোচন করেন। ২০০১ সালের ১৭ জুন তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার জহুর আহমেদের নামেই এ স্টেডিয়ামটি উদ্বোধন করেছিল।

তবে ওই বছরের অক্টোবরে চার দলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় গিয়ে এর নাম দেয় বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন স্টেডিয়াম। এ নামটি সাত বছর বহাল ছিল। খুলনা বিভাগীয় স্টেডয়ামটির নির্মান কাজ ১৯৮৩ সালে শুরু হলেও ১৯৯৮ সালে শেষ হয়। আওয়ামী লীগ সরকার ১৯৯৭ সালে শেখ মুজিবুর রহমানের বড় ভাই শেখ আবু নাসেরের নামে এর নামকরণ করে। পরে ২০০৩ সালে বিএনপি সরকার এর নাম পাল্টে বীরশ্রেষ্ঠ ফাইট ল্যাফটেনেন্ট মতিউর রহমান বিভাগীয় স্টেডিয়াম রাখে।

গত ১১ জুলাই এ নাম মুছে ফের শেখ আবু নাসেরের নাম লেখা হয়েছে। ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকে স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষকে একটি চিঠি দিয়ে শেখ আবু নাসের স্টেডিয়াম রাখতে নির্দেশ দেয়া হয়। এভাবে রাজধানীর একমাত্র মহিলা ক্রীড়া কমপেপ্লক্সের নাম নিয়েও কয়েক দফা টানা হ্যাচড়া হয়েছে। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার এ কমপ্লেক্সের আগে বঙ্গবন্ধুর পূত্রবধু ক্রীড়াবিদ সুলতানা কামালের নাম জুড়ে দেয়। তবে বিএনপি ক্ষমতায় গিয়েই এ নাম বাতিল করে আগের নাম বহাল রাখে।

বর্তমানে আওয়ামী লীগ আবারও সুলতানা কামালের নাম জুড়ে দিয়েছে। এছাড়াও শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের প্রথম সরকার নারায়নগঞ্জের ফতুল্লা স্টেডিয়ামটিরও নামকরণ করে। এর নাম রাখা হয় খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়াম। তিনি আওয়ামী লীগ নেতা শামিম ওসমানের দাদা। তবে বিএনপি ওসমানের স্থলে ওসমানী নাম বসিয়ে বাকী শব্দ বাদ দেয়।

ফলে নামের খুব বেশি পরিবর্তন না হলেও ব্যক্তি পরিবর্তন হয়ে যায়। এভাবে আওয়ামী লীগ সরকার কমলাপুরে স্থাপিত একটি স্টেডিয়ামের নাম রাখে বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়াম। আওয়ামী লীগের অভিযোগ, কামাল শব্দটির প্রতি এ্যালার্জির কারণেই বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার পর স্টেডিয়ামের নাম থেকে কামাল বাদ দেয়া হয়। বঙ্গবন্ধুর নামে আন্তর্জাতিক একটি একটি ফুটবল টুর্ণামেন্টের নাম রাখা হয়েছে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক গোল্ডকাপ ফুটবল। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গেলেই এ কাপের খেলা চালু হয়।

আর বিএনপি গিয়ে বন্ধ করে দেয়। রণতরীর নাম নিয়ে রাজনীতি: আওয়ামী লীগ সরকার দক্ষিণ কোরিয়ার দাইয়ু কোম্পানী থেকে একটি ফ্রিগেট কিনে ২০০১ সালের ২০ জুন নৌবাহিনীতে যুক্ত করে। সরকার এর নাম দেয় বিএনএস বঙ্গবন্ধু। পরে চার দলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় গিয়ে এ ফ্রিগেটটি কেনার েেত্র দুর্নীতির অভিযোগ করে। তারা এর নাম পাল্টে বিএনএস খালিদ বিন ওয়ালিদ রাখলেও এক পর্যায়ে তা নৌবাহিনী থেকে প্রত্যাহার করে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ২০০৭ সালের ১২ মে এ ফ্রিগেটকে চট্টগ্রামের ইশা খান জেটিতে কমিশন দিয়ে নৌবাহিনীতে ফের যুক্ত করে। তবে তারা খালিদ বিন ওয়ালিদ নামই বহাল রাখে। এ নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সাজেদা চৌধুরী সরকারের কড়া সমালোচনাও করেছিলেন। এবার ক্ষমতায় গিয়ে আওয়ামী লীগ সরকার তার নাম পাল্টে আগের নাম বিএনএস বঙ্গবন্ধু রেখেছে। যমুনা সেতু নিয়ে টানাহেচড়া: সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর ওপর স্থাপিত দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম ও দেশের সবচেয়ে বড় সেতুর নামকরণ নিয়ে শুরু থেকেই রাজনীতিতে মেতে রয়েছে রাজনীতির দুটি পক্ষ।

বিএনপি সরকার এর নাম যমুনা বহুমুখি সেতু রেখেছিল। এ নামকরণকে স্থায়ী করতে পাঁচ টাকার কয়েনের ওপর সেতুর ছবি ও নাম দিয়ে বাজারেও ছাড়া হয়। ১৯৯৪ সালে সেতু নির্মাণকালে পূর্ব প্রান্তে খালেদা জিয়া এর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় গিয়ে সংসদে বঙ্গবন্ধু সেতু নাম পাস করে।

১৯৯৮ সালের ২৩ জুন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু সেতু নাম দিয়ে এর উদ্বোধন করেন। পরে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় যাওয়ার পর পুনরায় এর নাম পাল্টে যমুনা বহুমুখি সেতু করা হয়। ক্ষমতা নেয়ার একদিন পরই তারা বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার নাম মুছে ফেলে। তবে কাগজপত্রে এটি বঙ্গবন্ধু সেতু নামেই পরিচিত ছিল। বর্তমান আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতা নেয়ার পর গত ১৫ জানুয়ারী সেতু কর্তৃপক্ষ আগের ‘বঙ্গবন্ধু সেতু’ নামে উদ্বোধনী ফলক পুন: স্থাপন করেছে।

এবার তারা সেতুর দুপাশেই নতুন করে উদ্বোধনী ফলক স্থাপন করেছে। এ সেতু ঘিরে তিনটি রাজনৈতিক দল নিজেদের কৃতিত্ব জাহির করছে। আওয়ামী লীগের দাবী বঙ্গবন্ধু এ সেতুর স্বপ্ন দেখেছিলেন। বিএনপিও জিয়ার উদ্যোগের কথা প্রচার করেছে। তবে এরশাদ ১৯৮৮ সালের ১ ফেব্রয়ারী এ সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন বলেও দাবী করছেন।

প্রতিষ্ঠানের নামকরণে বঙ্গবন্ধু পরিবার: সারাদেশে বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের নামে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামকরণ করা হয়েছে। দেশের দুটি সরকারী বিশ্ববদ্যালয়ের নাম রয়েছে বঙ্গবন্ধুর নামে। এর একটি গাজীপুরের সালনায় বঙ্গবন্ধু øাতোকোত্তর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। আগে এর নাম ছিল পোস্ট গ্রাজুয়েট স্টাডিজ ইন এ্যাগ্রিকালচার বা ইপসা । ১৯৯৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার একে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করে বঙ্গবন্ধুর নামে রাখে।

অন্যটি শাহবাগস্থ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়। বঙ্গবন্ধুর নামে তিনটি সরকারী কলেজ রয়েছে। এর একটি বগুড়ায় সরকারী মহিলা কলেজ, একটি গোপালগঞ্জে এবং অন্যটি নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে। তার নামে সারাদেশে অন্তত ৩৩ টি কলেজ রয়েছে। এগুলো রাজধানীর মীরপুরে, মেহেরপুরের দরিয়াপুরে, গোপালগঞ্জের পাটগাতি গ্রামে, টাঙ্গাইলের সখীপুরে, সিরাজগঞ্জ সদরে, ফরিদপুরের বোয়ালমারিতে, ধামরাইয়ের রাওয়াইলে, গাজীপুরে, রাজবাড়ি, শরিয়তপুরের বিকে নগরে, ময়মনসিংহের তারাকান্দায়, জামালপুরের ঝাউগাড়ায়, রাজশাহীতে, নাটোরের চন্দ্রকোলায়, রংপুরের খালাসপীরে, নীলফামারীর শিমুলবাড়িতে, দিনাজপুরে, ঠাকুরগাঁওয়ের নেকমরদে, চাঁদপুরের কচুয়ায় দক্ষিণ গোহাটে, দক্ষিণ কচুয়ার ও কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায়, পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার ভাঙ্গিরহাটে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

তার নামে মহিলা কলেজগুলো সিরাজগঞ্জে, মংলায়, বাগের হাটের চিলমারিতে, সাতক্ষীরায়, জামালপুর সদরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কারিগারি কলেজগুলো লাঙ্গলকোটে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ও ঢাকার গুলশানে অবস্থিত। বঙ্গবন্ধুর নামে বগুড়ায় একটি কৃষি কলেজ রয়েছে। এছাড়াও বঙ্গবন্ধুর নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট পাঁচটি আবাসিক ছাত্রাবাস রয়েছে। বঙ্গবন্ধু নামে পঞ্চগড়ের চাকলার হাটে একটি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও রংপুরের পীরগঞ্জে একটি উচ্চ বিদ্যালয়সহ দেশব্যাপী অনেক স্কুল রয়েছে।

বঙ্গবন্ধুর স্ত্রী ফজিলাতুন্নেসার নামে ভোলায় ও গোপালগঞ্জে দুটি সরকারী মহিলা কলেজ রয়েছে। তার নামে কম হলেও আটটি মহিলা কলেজ ও একটি ফিসারিজ কলেজ রয়েছে। মহিলা কলেজগুলো নাটোরের বড়ইগ্রামে, টাংগাইলে, ফুলবাড়িয়ায়, বগুড়ার সোনাতলায়, কুমিল্লার সদরে, যশোরের শার্শায়, ফকিরহাটে ও টেকনাফের উখিয়ায় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ফজিলাতুন্নেসার নামে জামালপুরের মেলান্দহে একটি ফিসারিজ কলেজ রয়েছে। এছাড়াও তার নামে ডিমলায় একটি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় এবং মুকসুদপুরে একটি মহিলা সিনিয়র আলিম মাদ্রাসা রয়েছে।

তার নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি আবাসিক ছাত্রাবাস রয়েছে। শেখ মুজিবের পিতা শেখ লুৎফর রহমানের নামে কোটালিপাড়ায় একটি সরকারী কলেজ রয়েছে। শেখ হাসিনার নামে মাদারীপুরে, গোপালগঞ্জে, ফকিরহাটে অন্তত তিনটি কলেজ রয়েছে। এছাড়াও মাদারীপুরে ও কোটালিপাড়ার কালাবাড়িতে শেখ রাসেলের নামে দুইটি কলেজ, শেখ কামালের নামে জামালপুরের ঘোষের পাড়ায় একটি কলেজ রয়েছে। বঙ্গবন্ধুর ভাই শেখ নাসেরের নামেও বাগের হাটের কচুয়ায় একটি মহিলা কলেজ রয়েছে।

জিয়া ও খালেদা জিয়ার নামে প্রতিষ্ঠান: ওদিকে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নামে দুইটি সরকারী কলেজ রয়েছে। এর একটি ফেনীতে, অন্যটি বগুড়া মেডিকেল কলেজ। এছাড়াও তার নামে অন্তত ২৫ টি বেসরকারী কলেজ রয়েছে। এগুলো কেরানীগঞ্জের বাস্তা, রাজশাহীর চারঘাটের ইউসুফপুর, নাটোরের মিস্ত্রিপাড়া, বগুড়ার গাবতলীর নাসিরপুর, গাবতলি সদর, বাগবাড়ি, নীলফামারী, চট্টগ্রামের হাটহাজারী, সাতীরার তালা, ভোলার চরফেশনের ওসমানগঞ্জ, কুমিল্লার সদর, চান্দিনা, হবিগঞ্জের লাখাইয়, জামালপুর, জয়পুরহাট, খুলনার দৌলতপুর, পঞ্চগড়ের টুনিরহাট, পিরোজপুরের নাজিরপুর, বরিশালের সাহেবের হাট, আগৈলঝাড়ার ছায়াগ্রামে, চকরিয়ার পেকুয়া এলাকায় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এর মধ্যে চারটি মহিলা কলেজ ঢাকার মীরপুরে, ডেমরায়, ভোলার সদর, টাঙ্গাইলে স্থাপন করা হয়েছে।

ময়মনসিংহে রয়েছে শহীদ জিয়া টেকনিক্যাল কলেজ। যাত্রাবাড়িতে তার নামে রয়েছে শহীদ জিয়া গার্লস স্কুল ও কলেজ। জিয়ার নামে কেরানীগঞ্জ এলাকায়ই চারটি উচ্চ বিদ্যালয় রয়েছে। এছাড়াও বেগুড়ার গাবতলী সদরে সেনালায়ে, খুলনার পাইকগাছার গদাইপুর, মহেশ্বরপাড়া, গৌরনদীর ছয়গ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় অনেক বিদ্যালয় রয়েছে। জিয়াউর রহমানের নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে, কুষ্টিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ও টাঙ্গাইলে মাওলানা ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট চারটি আবসিক ছাত্রাবাস রয়েছে।

এছাড়াও চারদলীয় জোট সরকার বরিশালে শহীদ জিয়াউর রহমান নামে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করছে। খালেদা জিয়ার নামে নাটোরের হয়বতপুর, সাতীরার কলারোয়া ও ফেনীতে মোট তিনটি মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। তার নামে রাজধানীতে একটি মেডিকেল কলেজ করা হলেও বর্তমানে তা পাল্টে ফেলা হয়েছে। খালেদা জিয়ার নামে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ, কিশোরগঞ্জের গুরুদয়াল কলেজে মোট পাচঁটি আবাসিক ছাত্রবাস রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে খালেদা জিয়ার নামে একটি হল প্রতিষ্ঠার জন্য কার্জন হলের পাশে ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করা হলেও তা এখনো তৈরী হয়নি।

এছাড়াও তার নামে পঞ্চগড়ের ভজনপুরে উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এরশাদ: সাবেক প্রেসিডেন্ট এরশাদের নামে মেহরপুরের গাংনীতে একটি ও কুমিল্লার বুড়িচংয়ে আরেকটি বেসরকারী কলেজ রয়েছে। এছাড়াও তার নামে বেশকিছু সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অস্তিত্ব রয়েছে। ভোলায় রওশন এরশাদের নামে একটি বালিকা বিদ্যালয় রয়েছে। এরশাদ ক্ষমতায় থাকাকালে অনেক সরকারী কলেজ রওশনের নামে করা হলেও তা ৯১ সালেই মুছে ফেলা হয়েছে।

নামকরণ আর নামবদলের রাজনীতি-০২......... Click This Link

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।