আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

বঙ্গোপ সাগর কি মতিঝিলে এসে পড়ল...........................................!

আমি জানি ভাল কিছু করার মাঝে প্রকৃত আনন্দ । আমি সব ভালদের সঙ্গী হতে চাই।

কোথায় নেই পানি?: রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকা মতিঝিলে ছিল কোমর পানি। বৈরি আবহাওয়ার কারণে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন নির্ধারিত সময়ের ১ ঘণ্টা পরে সকাল ১১ টায় শুরু হয়। ডিএসই'র নিচ তলায় পানি উঠে যায়।

রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত সড়ক মীরপুর রোড, বিজয় সরণি, শান্তিনগর, কাজীপাড়া, শ্যাওড়াপাড়া, ধানমন্ডি, লালমাটিয়া, মোহাম্মদপুর, বনানীর সড়কগুলো হাঁটু থেকে কোমর পানিতে ডুবে যায়। এসব সড়কে কিছু দূর পরপরই ব্যক্তিগত গাড়ি, অটোরিক্সাসহ বিভিন্ন যান নষ্ট হয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়। টানা বর্ষণে মীরপুর, হাজারীবাগ, জিগাতলা ও কল্যাণপুরসহ অপেক্ষাকৃত নিচু এলাকার বাসাগুলোতে পানি উঠে যায়। শ্যাওড়াপাড়ার ঘরে পানির উচ্চতা ৩ ফুটে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু বৃষ্টির যা বেগ দেখছি তাতে পানি আরও বাড়লে ঘর ছেড়ে দিতে হবে।

পল্টন, ফকিরাপুলের নিচু এলাকা রাতেই পানিতে ডুবে যায়। ফকিরাপুল এলাকার বাসিন্দা গোলজার জানান, তার বাসায় রাতেই পানি উঠে যায়। ঘরে পানির মধ্যে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়েই রাত পার করতে হয়। মগবাজারের ওয়ারলেস রেলগেইট থেকে মধুবাগ, টিএন্ডটি কলোনি, মীরবাগ ছিল পানিতে ডুবন্ত। রাস্তায় খোঁড়াখুঁড়ির কারণে আগে থেকেই রাস্তা ব্যবহার ছিল ঝামেলাপূর্ণ।

বৃষ্টির কারণে তা আরো ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এসব সড়কে রিক্সাই ছিল চলাচলের প্রধানতম বাহন। তবে ৫ টাকার ভাড়া ২০/২৫ টাকা দিয়েও অনেককে রিক্সা পেতে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে। বাসাবো, মুগদাপাড়া, মেরাদিয়া, পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকা, মগবাজার, মৌচাকসহ নিচু এলাকা পানিতে ডুবে যায়। অনেক এলাকায় চলে নৌকা।

শান্তিনগর এলাকার হাশেম আলী জানান, তার দোকানে পানি ঢুকেছে। বেশির ভাগ জিনিসপত্র ওপরে তোলা হয়েছে। কিন্তু তার আগেই পানি ঢুকে চালসহ কিছু জিনিসপত্র নষ্ট হয়েছে। ফ্রিজেও পানি ঢুকেছে। আদাবরের আবুল হোসেন জানান, ঢালু হওয়ায় রাজধানীর অন্যদিকের পানি সরে এসে আদাবরে চলে আসছে।

এ জন্য এখানে প্রায় সর্বত্র কোমর পানি। নিম্ন আয়ের মানুষরা ঘরবাড়ি ছেড়ে নির্মাণাধীন বহুতল ভবনে গিয়ে উঠছে। তিনি জানান, হাজার হাজার নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য জরুরি ত্রাণ না দিলে অনেককেই না খেয়ে থাকতে হবে। মোহাম্মদপুরের কৃষি মার্কেট ভাসছে পানির উপর। সেখানে অনেক দোকানই পানিতে তলিয়ে গেছে।

২০০৪ সালের পর সর্বোচ্চ বৃষ্টি : আবহাওয়া অধিদপ্তর গতকাল বেলা ৩টা পর্যন্ত ঢাকায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে ৩৪৩ মিলিমিটার। ২০০৪ সালে ঢাকায় সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয় ৩৩১ মিলিমিটার। তবে চট্টগ্রামে ২০০৭ সালের ১১ জুন ৪২৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য মতে, মোমেনশাহীতে বৃষ্টি হয়েছে ৩৮ মিলিমিটার, টাঙ্গাইলে ৬২ মিলিমিটার, ফরিদপুরে ৭৫ মিলিমিটার, মাদারীপুরে ২৬ মিলিমিটার, চট্টগ্রামে ৯০ মিলিমিটার, রাঙ্গামাটিতে ৬৫ মিলিমিটার, কুমিল্লায় ১২১ মিলিমিটার, চাঁদপুরে ৭০ মিলিমিটার, ফেনীতে ৬৭ মিলিমিটার, হাতিয়ায় ৯৬ মিলিমিটার, কক্সবাজারে ৩৬ মিলিমিটার, টেকনাফে ৫৪ মিলিমিটার, সিলেটে ৭৯ মিলিমিটার, দিনাজপুর ৪৫ মিলিমিটার, বরিশালে ৬৪ মিলিমিটার, পটুয়াখালীতে ১৫২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। প্রবল বর্ষণের কারণে রাজধানীর ভিকারুননিসা, আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজ, উদয়ন স্কুলসহ অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা ও ক্লাস এক দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

সরকারি ও বেসরকারি অফিসে উপস্থিতি ছিল অপেক্ষাকৃত কম। প্রশাসনের মূলকেন্দ্র সচিবালয়ে ছিল হাঁটু পানি। অনেক মন্ত্রণালয় তার পূর্ব নির্ধারিত প্রোগ্রাম বাতিল করে। রাজধানীর সড়কগুলোতে পানি জমে যাওয়ায় অনেক স্থানেই যান্ত্রিক যান চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়ে। সে সব জায়গায় রিক্সাই ছিল একমাত্র বাহন।

তাই রিক্সা পাওয়া যেমন ছিল দুস্কর, তেমনি এর দাম ছিল আকাশছোঁয়া। ১০/১৫ টাকার ভাড়া ৫০ টাকায়ও অনেক স্থানে রিক্সা পাওয়া যায়নি। সীমিত আকারে যে সব স্থানে বাস চলাচল করেছে, সেসব বাসে ১০ টাকার নিচে ভাড়া নিতে চায়নি।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.