আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

তাসলিমা নাসরিন বিষয়ক তরিৎ ভাবনা।

Miles to go before I sleep.....

তমসো দীপ নামক ব্লগারের পোস্টে তাসলিমা নাসরিন নিয়ে ব্যাপক আলোচনা দেখলাম, সেখানে দেখলাম আলোচনাটা তাসলিমাকে তার সাহিত্যকর্মের জন্য বিচার না করে, তার প্রতি কারও কারও অতিরিক্ত শ্রদ্ধা এবং কারও কারও অতিরিক্ত ঘৃণা প্রকাশ হয়েছে এবং দুক্ষেত্রেই সেটা হয়েছে মন্তব্যকারীদের ব্যক্টিগত ধর্মীয় বিশ্বাসের (বা অবিশ্বাসের) চরমতার উপর ভিত্তি করেই। কারও কাজকর্ম বিচার করার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত বিশ্বাস প্রচন্ডভাবে আলোচনাকে বাধাগ্রস্থ করতে আমি দেখেছি খুবই সুশিক্ষিত (স্বশিক্ষিত) এবং আপাতদৃষ্টিতে আলোকিত মানুষের মাঝেও, তাই আমাদের মত ছা-পোষা কেরানীদের সেটা হবেনা আশা করাটা অন্যায়। তাসলিমা নাসরিন সম্পর্কে আমার ধারনা কয়েকছত্রে প্রকাশ করা সম্ভব নয়, তবে তমসো-দ্বীপের পোস্টের এবং তৎপরবর্তী কয়েকটা কমেন্টের সু্ত্রধরে আমার তরিৎ-ভাবনা সেখানে কমেন্ট-আকারে লিখার পর পরবর্তীতে ইচ্ছে হলে আরো ভালমতে লেখার স্কোপ রাখার জন্য সংরক্ষণ করে রাখলাম। অনিচ্ছাবশত তাড়াতাড়ি কমেন্ট করতে গিয়ে অনেক ইংরেজী শব্দ ব্যবহার করে ফেলেছি, ক্ষমা করবেন। // তাসলিমা নাসরিনের দেশে ফেরার, থাকার সম্পুর্ণ অধিকার রয়েছে, যেমন আমার-আপনার রয়েছে।

তাকে দেশে আসতে না দিতে পারাটা আমাদের সকলেরই চরম পরাজয়। তবে তাসলিমা নাসরিনের লেখা খুব কম সময়ই সাহিত্যমান উর্ত্তীণ হয়। নির্বাচিত কলামটাই যা একটু ভাল লেগেছে, এরপর লজ্জায় সত্যঊচ্চারণ থাকলেও সাহিত্যমান খুবই নিম্ন মনে হয়েছে। যাস্ট কিছু ডিসপ্যারেট ফ্যাক্টস এখানে ওখানে ছড়িয়ে দেয়াটা ঠিক সাহিত্য না, যদিও থিমটা অসাধারণ ছিল নিঃসন্দেহে। লজ্জার পর আর কোন সাহিত্যকর্মই ভাল লাগেনি, শুধু ফরাসী প্রেমিকটাই হয়ত সাহিত্যমান উর্ত্তীণ বলা যেতে পারে এবং থিমটাও ভাল।

কবিতা আমি ভাল বুঝিনা, তাই সেটাতে মূল্যায়ণ করার সাহস নেই। এরপরে ক, খ এসব তো সম্পূর্ণ ছ্যাবলামি মনে হয়েছে। ইমদাদুল হক মিলন তাকে ব্যবহার করেছে, শামসুল হক করতে পারেনি। অথচ ইমদাদুল হক মিলনের প্রতি তার কোন ক্ষোভ নেই, কিন্তু সৈয়দ হকের প্রতি অনেক ক্ষোভ, সেটা বুঝতে পারিনি। তাছাড়া কনসেন্সুয়াল সেক্স-এ একটা ট্যাসিট এগ্রিমেন্ট কিন্তু থাকে যে সেটা কোথাও প্রকাশ করবেনা, তাসলিমা সেখানে ভুল করেছে।

তাসলিমার লেখায় মাঝে মাঝে এখানে সেখানে হঠাৎ অসম্ভব শার্প আর ব্রিলিয়ান্ট মনের ঝিলিক পাওয়া যায়, কিন্তু সেটা কখনও তার যা হওয়ার কথা ছিল তাতে রুপান্তর পাইনি। এর জন্য তার অতিরিক্ত খ্যাতি-কাতরতাই মনে হয় দায়ী। আফসোস আসলে পাঠকদেরই হওয়া উচিৎ, হয়ত তাসলিমার মধ্যে কাল-উর্ত্তীন লেখক হওয়ার যে সম্ভাবনা ছিল সেটা কখনই প্রস্ফুটিত হয়নি, নাহয় বাংলাদেশী পাঠকরা আরো অনেক চিন্তা-ভাবনার খোরাক পেত। পোস্ট-লেখক মনে হয় অরুন্ধতী রায়ের সাথে তাসলিমা নাসরিনের তুলনা করতেছেন, সেটা পোস্ট-লেখকের দুজন সম্পর্কেই অজ্ঞতার এবং চিন্তাভাবনার অপরিপক্কতার সুস্পষ্ট প্রমাণ। অরুন্ধতী রায়ের “গড অফ স্মল থিংস” এর মত লেখার সামর্থ্য তাসলিমা কেন, বিশ্বসাহিত্যে খুব কমই আছে।

আর অরুন্ধতী রায় একজন জীবন্ত বিপ্লবের নাম, তার সাথে কনফিউজড তাসলিমা নাসরিনকে মেশানোটা হাসির উদ্রেক করে, সেটা যে যাই বলুক না কেন। তাসলিমা নাসরিন কখনও ক্লিয়ার করে তার পয়েন্ট তুলে ধরতে পারেনা, অরুন্ধতি রায়ের কলামগুলো নোয়াম চমস্কি, এডওয়ার্ড সাইদের মতই লেখনী। তসলিমা নাসরিনের সাথে হুমায়ুন আজাদকে মেশানোটাও অন্যায়। হুমায়ুন আজাদ একজন পিয়র জিনিয়াস, তাসলিমার লেখা এমনকি তার ফ্যামিনিজম সম্পর্কিত ধারণাগুলোও কখনও মিডিয়ক্রিটি অতিক্রম করতে পারেনি। এটা কেন হয়েছে সেটা ভিন্নপ্রসংগ, তবে তাসলিমা কখনই মিডিয়কারের বেশি কিছু নয়।

প্রশংসা বা সমালোচনা সবসময়ই যার যা প্রাপ্য ততটাই দেওয়া উচিৎ, নাহয় প্রশংসা/সমালোচনা তার গুরুত্ব হারায়। আইডিয়লজিকাল এফিনিটি থাকলেই কাউকে প্রশংসা করতে হবে বা গ্রস ডিসএগ্রিমেন্ট থাকলে কঠোর সমালোচনা করতে হবে সেই ট্রেন্ড থেকে বের হয়ে আসতে হবে। // পোস্টটি আমার ব্লগে পূর্ব প্রকাশিত।

সোর্স: http://www.somewhereinblog.net     দেখা হয়েছে ৪১ বার

এর পর.....

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।