আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

রক্তবেলী অথবা শ্বেত কপোত এর ইতিহাস



অনেকদিন পর আজ আমি শঙ্খমিত্রার কাছে যাই। মরে যাওয়া শঙ্খমিত্রার কাছে অনেক জীবনের ভীরে আমি আমার অশ্রুকে খুজেঁ ছিলাম। তাকে আমি কোথাও দেখিনি। আমার আজ অশ্রুর গল্প বলতে ইচ্ছে হয়। তখন আমি সকালে রুদ্রের ঘ্রাণ নিতাম, দুপুরে বিষণ্ণতা ছুঁয়ে ছুঁয়ে স্বপ্ন আঁকতাম, বিকালে বৃক্ষ নিলয় দুঃখ নিতাম।

সন্ধ্যায় মায়াবী কষ্টগুলো ছড়িয়ে দিতাম আঁধার-আলোয়, রাতে কল্পনায় ভরা শঙ্খমিত্রার উথাল ঢেউয়ে ডুবে ডুবে মরতাম। আহা কী সুখের জীবন ছিলো, আহা! একদিন দুপুরে আমি বিষণ্ণতা ছুঁয়ে ছুঁয়ে স্বপ্ন আঁকছিলাম। আমার স্বপ্নগুলো ছিলো কাশফুলের মত। আমার কাশফুলগুলো নদীর জল ছুঁতো না, তীর ঘেষে পড়ে থাকতো সারাক্ষণ। সেদিনও আমার স্বপ্নগুলো কাশফুল ছিলো।

তারপর এক আগন্তুক এসে আমার কাশফুলগুলো ছুঁয়ে দিল। আমার কাশফুলগুলো হয়ে গেল হলুদ, তারপর বুঝতে পারি এগুলো কাশফুল নয়, কোন নারীর হলুদ শাড়ি। আমি সেই হলুদ স্পর্শ করি, আমি অনুভব করি স্তন, পেট, নাভি, যোনী, উরু এবং একটা নদী। আমি বড় বেশি তাপ অনুভব করি আমার ভেতর। হলুদ শাড়িটা আস্তে করে খুলে নিয়ে দেখি সেখানে স্তন নেই, পেট নেই, নাভী নেই, যোনী নেই, উরু নেই; নদীও নেই।

সেখানে অসংখ্য ঘাসফুল আর শিশির এবং একটা অশ্রুঝর্ণা। আমার কী হয়, আমি জানিনা; আমি অশ্রুঝর্ণার নীচে দাঁড়াই, যেখান থেকে ঝর্ণা নদী হয়ে যায়, ঠিক সেখানে দাঁড়িয়ে আমি ভিজতে থাকি; আশ্চর্যের ব্যাপার হলো অশ্রুর আঘাতে আমি ক্ষত-বিক্ষত হই ভেতরে ভেতরে অথচ বাইরে আমি স্বাভাবিক থাকি অলৌকিক ভাবে। আমি একটি তরুণীর গল্প বলছি, যার নাম অশ্রু, সে লিখতো অশ্রুঝর্ণা। সে আমাকে চিঠি লিখতো; একদিন লিখেছিলো – ‘রুদ্র, তুমি আমাকে একটা ঘাসফুল দেবে? আমি সেটা শিশিরে ভেজাবো; তারপর আমি ঘাসফুলটি পরম যতনে রেখে দেব বুকের কাছে সঙ্গোপনে। ’ আমি তার সেই চিঠি পড়ে পথে, মাঠে, বাগানে ঘাসফুল অনেক খূজেঁছিলাম।

কিন্তু কোথাও আমি একটি ঘাসফূল খুজেঁ পাইনি। চোখ বুজলেই দেখতে পেতাম এক যুবতীর বুকের কাছে অসংখ্য ঘাসফুল ফুটে আছে। যদিও আমি অশ্রুকে দেখিনি তখনো। একদিন আমি এক বাগান থেকে তিনটে বেলী চুরি করেছিলাম। তারপর আমি অশ্রুকে লিখেছিলাম- ‘অশ্রু, আমার সব ঘাসফুল ঝরে গেছে রুদ্রে; তিনটে বেলী আমি চুরি করে এনেছি, তুমি বুকের কাছে রেখোনা, রেখো অন্য কোথাও – তোমার কাছাকাছি, যেখানে অন্যকারো হাত পরে না যখন-তখন।

’ তারপর অনেকদিন পর সে আমাকে তিনটে লাল বেলী পাঠিয়েছিল; লিখেছিল- ‘রুদ্র, তোমার সাদা বেলী তিনটে সবসময়ই আমার স্পর্শে রেখেছিলাম। সেখানে আমি ছাড়া আর কারো স্পর্শ পরেনি। কিন্তু তবু বেলী তিনটে শুভ্রতা হারালো আমার অনলে পুড়ে..................’ আমি দেখলাম, সত্যি বেলী তিনটে লাল নয়, ঠিক যেন পোড়া ছাই এর মত কিংবা রক্ত শুকিয়ে কালচে হয়ে আছে। আমি লিখলাম- ‘অশ্রু, আমার বেলী তিনটে তুমি ওখানে রাখলে কেন? যেখানে তোমার অনল প্রচুর? তুমি কী একদিন আমাকেও পোড়াবে ওমন করে?’ অশ্রু জবাব লিখলো, ‘রুদ্র, এছাড়া আর কোথায় বেলীগুলো রাখতে পারতাম বলো? হ্যাঁ, তোমাকে আমি পোড়াতে চাই, অনাদিকাল ধরে আমি তোমাকে পোড়াব। পুড়িয়ে পুড়িয়ে আমি তোমাকে মিশিয়ে নেব আমার ভেতর।

তুমি কি পুড়বেনা, রুদ্র অনলে আমার?’ আমি ওর ওই চিঠি পড়ে অনেকদিন চিঠি লিখিনা। কিন্তু আমি নিশি-দিন ওর অনলে পুড়ে ছাই হয়ে যেতে থাকি। আমি আমাকে ওর ভেতর আঁকতে চেষ্টা করি মনে মনে। আমি অজান্তেই নিঃশেষ হতে থাকি পুড়ে পুড়ে..

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.