আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

আইলায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের পাশে দাঁড়ানোর এখনই সময়

কেউ কেউ একা

প্রাকৃতিক দুর্যোগ আমাদের দেশে নতুন নয়। নদীমাতৃক বাংলাদেশে বন্যা আসে, সিডর আসে, আইলার মত দুর্যোগ ভাসিয়ে নিয়ে যায় ঘরবাড়ি, নষ্ট হয় ফসলের মাঠ। কৃষকের স্বপ্নগুলো ভেঙ্গে খান খান হয়ে যায়। তারপরও কৃষক উঠে দাঁড়ায়। মাঠে লাঙ্গল চালায়, বীজ বুনে, আগাছা পরিষ্কার করে, সার দেয়, সোনালি ধানের স্বপ্ন নিয়ে অপেক্ষায় থাকে নতুন ফসলের।

আমাদের দেশের শিক্ষিত কর্তা ব্যক্তিরা মুখে মুখে কৃষককে 'দেশের প্রাণ', 'সব সাধকের বড় সাধক' উপাধিতে অভিহিত করেন। তাদের জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন বক্তব্য বা কথার বেশির ভাগই জুড়ে থাকে কৃষকের কথা। যে কৃষক দেশের সর্বেসর্বা সেই কৃষক যখন প্রাকৃতিক দুর্যোগে শিকার হয়ে দিশেহারা তখন কজন মানুষ তাদের পাশে গিয়ে দাঁড়ায় আজ আমার প্রশ্ন সেটাই? বেশকিছু দিন আগে সিডরের তাণ্ডবে বিধ্বস্ত দেশের ক্ষয়ক্ষতি এখনও দেশের মানুষ পুষিয়ে উঠতে পারিনি। এরপরই দেশের উপকূলীয় আঞ্চলে আঘাত হানল আরেক আতঙ্ক আইলা। প্রথমে আইলার ক্ষয়ক্ষতি চোখে না পড়লেও বিভিন্ন মিডিয়ার বদৌলতে দিনে দিনে স্পষ্ট হয়ে উঠল উপকূলীয় ক্ষয়ক্ষতির চিত্র।

পানির তোড়ে ভেসে গেছে মানুষের ঘরবাড়ি, নিজের ঘরবাড়ির ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছে অনেকেই বেড়িবাঁধসহ নানা জায়গায়। তারা বাস করছে খোলা আকাশের নীচে। তাদের ঘরের সবকিছু পানির তোড়ে ভেসে গেছে। ঘরতো দূরের কথা, ঘরের মাটিও নেই। আর যে ঘরে মাটি নেই সে ঘরেতো কিছুই থাকার কথা নয়।

উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষকদের কিছুই নেই। সকালে আধপেটা খেয়ে দুপুরে কী খাবে তার কোন সংস্থান নেই। বিশুদ্ধ পানি নেই, পানিবাহিত বিভিন্ন রোগ-জীবাণুর আক্রমণে আসুস্থ হয়ে পড়ছে ছেলে-বুড়ো সবাই। খোলা আকাশের নীচে পার করতে হচ্ছে অনেক কৃষক পরিবারকে। একদিন যাদের সব ছিল তারা আজ পথের মানুষ।

তাদের খাবার জোগাড় হচ্ছে ত্রাণের সাহায্যে। সেটাও প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। এভাবে কত দিন কাটবে তাদের? সরকার ও বেসরকারি সংগঠনকে প্রথমে দুর্যোগের শিকার অভূক্ত কৃষকদের খাবারের ব্যবস্থা করতে হবে। তারপর মাথা গোঁজার ঠাঁইসহ চিকিৎসা ব্যবস্থা। বর্তমানে অনেক উপকূলীয় অনেক এলাকাতেই খারাপ অবস্থা বিদ্বমান।

নানা সমস্যার মধ্যে তারা খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছে। এখনকার অধিকাংশ মানুষ জীবীকা নির্বাহ করে চিংড়ির ঘের করে। আইলার প্রবল স্রোতে সে ঘেরগুলো সম্পূনরূপে বিধ্বস্ত হওয়ার কারণে তাদের চোখেমুখে এখন হতাশা। সামনের দিনগুলো কীভাবে কাটবে তা নিয়ে তাদের চিন্তা। অধিকাংশ কৃষকের জমি এখনও পানির নীচে।

এই আউশ মৌসুমে তারা মাঠে ধান, পাট বুনতে পারিনি। মাঠ থেকে এখনও নামেনি পানি। চারপাশে ধ্বংস যজ্ঞের চিহ্ন। যে কৃষকের ফসলের মাঠের পানি নেমে গেছে তার ঘরে বীজ নেই। তার গোয়ালে গরু নেই।

তার কাছে নেই টাকা। কীভাবে কৃষক জমিতে ফসল বুনবে? কৃষকের এই দুর্দিনে কৃষকের পাশে দাঁড়াতে হবে। তাদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। সরকারের কাছ থেকে ত্রাণ এসেছে। বেসরকারি বিভিন্ন সংগঠন নানাভাবে সাহায্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে উপকূলীয় দুর্গত কৃষকদের দিকে।

তারপরও এ সহযোগিতা তাদের জন্য যথেষ্ট নয়। কৃষক এখন আশা করছে, ফসল উৎপাদনের বিভিন্ন উপকরণ সরকার যদি তাদের সরবরাহ করত তাহলে উৎপাদনে ফিরে যেতে কোন সমস্যা হত না। এছাড়া ওখানকার স্থানীয় বিভিন্ন ব্যাংকের শাখা এবং বেসরকারি বিভিন্ন এনজিও সুদমুক্ত ঋণ দিয়ে কৃষকের পাশে দাঁড়ালে সত্যিকারে এই দুর্যোগে কৃষককে উপকারই হত।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।