আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

স্বপ্নজয়ী আমেরিকার প্রেসিডেন্ট

কোথায় তাকে থামতে হবে - সীমালঙ্ঘনকারী তা কখনোই বুঝতে পারে না । প্রতিটি দুর্দশার মূলে রয়েছে ব্যাক্তির বাড়াবাড়ি বা সীমালঙ্ঘন ।

গতকাল আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার শপথ গ্রহন অনুষ্টান দেখলাম । দেখতে দেখতে আমি ভাবছিলাম একটা পরিবর্তনের কথা । এই সেই ওবামা যার পূর্বপূরুষরা আমেরিকায় এসেছিল কৃতদাস হয়ে আজ থেকে ৪০০ বছর আগে ।

যে সাদারা তাদেরকে নির্যাতন করা নিজেদের বিলাশিতার অংশ বলে মনে করত আজ তারাই ওবামাকে বসিয়েছে তাদের সর্বোচ্ছ ক্ষমতার আসনে । সারা বিশ্ব অবাক বিস্ময়ে দেখছে আমরিকার প্রেসিডেন্ট একজন কৃস্ঞাঙ্গ । সারা বিশ্ব অবাক হলেও ওবামা নিজেকি অবাক তার এই সাফল্যে ? যে ছেলে কিন্ডারগার্টেনে পড়া অবস্তায় স্কুল শিক্ষিকার দেয়া জীবনের লক্ষ্য রচনায় লিখতে পারে - আমি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হেত চাই, আর যাই হোক এই সাফল্যে সে বিস্মিত হবে না, এটা তার কাছে শুধুই আরেকটা অর্জন । যে স্বপ্ন দেখতে জানে, স্বপ্নের পেছনে ছুটতে জানে, অসম্ভব অর্জনে সে বিস্মিত হয় না । আর এমন লোক যুগে যুগে আমেরিকায় আরো এসেছে বলেই তারা আজ এতো প্রতিষ্টিত ।

এমনই একজনের কথা আজ এখানে বলব যার নাম আমরা অবশ্যই জানি । তার বাবা ছিলেন একজন মাঝি অথবা কাটুরে । ভয়াবহ দারিদ্রের কারনে তার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছিল ১৮ মাস (তবে তিনি ছিলেন স্ব-শিক্ষিত)। বাবার পক্ষে সংসার চালানো সম্ভব ছিলনা বলে শৈশবেই তাকে চলে যেতে হয়েছিল অন্যের বড়িতে কাজের জন্য । সেই বাড়িতেই কোন এক অনুষ্টানে গৃহকর্তি সব ছেলে মেয়ে কে ডেকে জিজ্ঞেস করছেন তোমরা বড় হয়ে কে কি হতে চাও, কেউ বলছে ডাক্তার কেউ বলছে ইঞ্জিনিয়ার ।

দরজার পাশে দাড়ানো সেই ছোট্ট ছেলেটি ভাবছে কেউ কি তাকে জিজ্ঞেস করবে সে বড় হয়ে কি হতে চায় ? কিন্তু সেতো একটা কাজের ছেলে তাই কেউ তাকে জিজ্ঞেস করেনি । সবার যখন বলা শেষ তখন সে আগত অতিথীদের সামনে দাড়িয়ে বলল ম্যাম আমাকে জিজ্ঞেস করলেন না আমি কি হতে চাই ? তখন তাকেও বলতে বলা হল । সবার সামনে দাড়িয়ে সে সেইদিন বলেছিল "আমি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হতে চাই" । তার কথা শুনে অনেকে হয়ত হেসেছিল, অনেকে ভেবেছিল ছোট্ট ছেলের প্রলাপ । কান্তু সেই ছেলেটি স্বপ্ন দেখত এবং জীবনে কখনই তার স্বপ্নের পথ থেকে বিচ্ছুত হয়নি ।

তরুণ বয়সে একটা মেয়েকে ভল লেগেছিল কিন্তু দেখেত সুন্দর না হওয়ার কারনে তাকে অপমানিত হয়ে ফিরে আসতে হয়েছিল । যার মনোবল দৃড়, যে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেয়ার মানষিকতা নিয়ে রাস্তায় নামে সামান্য অপমানে সে দমে যাবে কেন ? এই মেয়েকেই তিনি জয় করেছিলেন পরবর্তীতে । যখন তার বয়স ২১ বছর তখন একটা ব্যবসা শুরু করেন, সেখান থেকে লাভত হলইনা বরং আসলটাও থাকলনা । ২৪ বছর বয়সে আবারও ব্যবসা শুরু করে ব্যর্থ হন । ২৬ বছর বয়সটা তার জীবনের একটা কঠিন সময়, অনেক সাধনায় যাকে পেয়েছিলেন সেই পিয়তমা স্ত্রী ইহলোক ত্যাগ করেন ।

৩৪ বছর বয়সে কংগ্রেস নির্বাচনে পরাজিত । লক্ষ্য যার অনেক দুর এই সব ব্যর্থতা তাকে দমিয়ে দিতে পারে না । ৪৫ বছর বয়সে আবারও পরাজিত হলেন সিনেটর নির্বাচনে । ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজিত হলেন ৪৭ বছর বয়সে । আবার ও সিনেটর নির্বাচনে পরাজিত হলেন ৪৯ বছর বয়সে ।

জীবনে এত পরাজয়ের পর আগুনে পুড়া স্বর্ণ হতে তার আর বকি নাই । আর সেই স্বর্ণ যখন ৫২ বছর বয়সে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন তখন তিনি হয়ে গেলেন আমেরিকার সর্বকালের সেরা প্রেসিডেন্ট । নির্বচিত হওয়ার পর তার সেই গেটিসবার্গ বক্তিতা "government of the people, by the people, for the people, shall not perish from the earth". জা গণতন্ত্র প্রত্যাশি মানুষের কাছে সবচেয়ে প্রিয় উক্তি । এতক্ষণে হয়ত তাকে চিনতে পেরেছেন - তার নাম আব্রাহাম লিংকন ।


অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।