আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

কথা যখন শিল্প (পর্ব ১)

মুক্ত আকাশ দেখব বলে বয়ে চলা। আকাশ কেন মুক্ত হয় না।

গল্প ১: লাবন্য'র অপছন্দের তালিকায় টেলিফোনে কথা বলা। বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া মেয়ে এমন হয় নাকি!! মা তাকে সেল ফোন কিনে দিতে চেয়েছেন। কখন কোথায় থাকে না থাকে, বিপদে-আপদে খবর নেয়া- এ যে শাশ্বত বাংগালী মায়ের উদ্বিগ্নতা।

কিন্তু মেয়েটা এমন, ফোনের প্রতি আগ্রহই নেই তার। আসলে লাবন্য'র বেশী মানুষের সাথে কথা বলতেই আপত্তি। ঘরের ফোনটি হাজার বার বাঁজলেও ধরে না। আজ বেঁজেই চলছে ফোন। ঘরে কেউ এখন নেই ফোন ধরার মতো।

রাজ্যের বিরক্তি নিয়ে ফোনটি ঘরল সে। 'আমি যদি ভুল না করে থাকি এটা নিশ্চয়ই সুমনদের বাসা'-----সৌভিকের এরকম কথায় কি এক অজানা ভাললাগায় মন ভরে গেল লাবন্য'র। এমন সুন্দর করে কথা বলে কি কেউ! কিছু বলতেও ভুলে গেল যেন। সৌভিক আবার বল্‌ল, আমি কি সুমন কে পেতে পারি? লাবন্য ফিরে পেল নিজেকে, সরি রং নাম্বার বলে ফোনটা রেখে দেবে কিনা ভাব্‌ছে। আচ্ছা শুনুন, আপনি কোথা থেকে বল্‌ছেন? এভাবেই শুরু সৌভিকের সাথে লাবন্য'র।

আজ একদিন যদি সৌভিকের ফোন না পায় ভাল লাগে না লাবন্য'র। ওর চমৎকার কথা না শুনে ঘুমুতে যেতে পারে না ঠিকমত একদিনও। গল্প ২: শুভ দেখতে ওর নামের মতোই সুন্দর। প্রথম দর্শনে যে কেউ ওর প্রেমে পরে যায়। কিন্তু সবার সাথে তেমন করে সম্পর্ক গড়ে ওঠে না শুভ'র।

বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে সুপর্নাকে ভাল লেগে যায় শুভ'র। কিন্তু সুপর্না একটুও পাত্তা দেয় না শুভকে। শুভ অবাক হয়। এত সুন্দর যে ছেলে তাকে পাত্তা দেয় না কেন সুপর্না! একদিন শুভ আবিস্কার করে আসলে তার কথা বলার ধরন ভাল লাগে না অনেকের কাছে, ভাল লাগে না সুপর্নারও। নিজেকে সুপর্নার জন্য তৈরী করে নিতে কতনা চেষ্টা করে সে।

রুমে একা একা কবিতার বই নিয়ে বসে, ক্যাসেটে কথোপকথন শোনে, রেডিও কানের কাছে রাখে সবসময়। কিন্তু বড্ড দেরি হয়ে যায়। এরি মধ্যে সুপর্না অন্য আরেকজনের হাত ধরে বিশ্ববিদ্যালয়র সরু রাস্তায় হেঁটে চলে। গল্প ৩: ইমন একটু দুষ্ট প্রকৃতির ভাল ছেলে। পরিচিত ফোন নাম্বারগুলুকে বদলিয়ে কল করে কথা বলা তার সখ।

হলের ফোন বুথ থেকে কথা বলে তাই কেউ বুঝতেও পারে না। কখনও গালি খায়, কখনো ভাল ব্যবহার। গালি গায়ে মাখে না। এমনি করেই লুনা'র সাথে পরিচয়। কি চমৎকার তার কথা বলার ধরন।

ভাল লেগে যায় ইমনের। এভাবে দিন যায়, রাত যায়...কথা বলা বেড়েই চলে। একদিন দেখা করতে মন উদগ্রীব হয়ে ওঠে ইমনের। লুনা আসতে চা্য় না। অনেক পীড়াপিড়িতে লুনা আসে একদিন বিশ্ববিদ্যালয়ে।

ইমন ধাক্কা খায়। যেমন করে ভেবেছিল লুনা দেখতে সেরকম নয়। হলে ফিরে মন খারাপ হয় ইমনের। কিন্তু এত সুন্দর যার কথা, যার কথা শোনার জন্য অপেক্ষায় থাকে সে, তাকে ফিরিয়ে দেবে কেমন করে। আবারো ফোন করে আসতে বলে লুনাকে।

ইমন আজ আর কাউকে ফোন করে না। অনেক মানুষকে ফোন করার সখ আজ লুনাতে স্হির। বলছিলাম গুছিয়ে কথা বলার গল্প। গল্প হলেও বাস্তবেও কিন্তু এরকমটাই ঘটে। যে ছেলেটি বা মেয়েটির কথায় গুছানো ভাব স্পষ্ট, যার উচ্চারন ও বাচনভংগি চমৎকার.....অন্যের দৃষ্টি কাড়ে সহজেই।

একাধিকবার সিলেট যাবার সুযোগ হয়েছিল। সুন্দর সুন্দর মেয়েগুলোর আন্চলিক কথাবার্তায় বড় বেশী আহত হচ্ছিলাম। আমার বন্ধুতো বলেই বসল, যে মেয়ে কথনে আধুনিক নয় তাকে সে বিয়েই করবে না। নোয়াখালী, বরিশাল, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, দিনাজপুর সহ বিভিন্ন এলাকার বন্ধুদের দেখেছি, গুরুগম্ভীর পরিবেশে, সেমিনারে, শিক্ষকদের সাথে কথা বলায় এলাকার টান চলে এসেছে। বড় বাজে শুনিয়েছে।

অনেকেই কথনে কেমন যেন উদাসীন। অথচ একটু দৃষ্টি দিলেই অন্যের কাছে সহজেই আকর্ষনীয় উঠতে পারে যে কেউ। (অসমাপ্ত)...

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।