আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

যূথীর আটকে পড়া মুখ (গল্প)

পরে

যদিও আর ত্রিশ মিনিটের মাথায় লিফটে আটকা পড়তে যাচ্ছে আশকার, এখনো সে ডুবে আছে ল্যাপটপে। মিটিং শুরু হবে ৪৫ মিনিট পর । মিটিংয়ের প্রেজেন্টেশনের কাজটা সে শুরু করেছিল গতকাল রাতে। কিন্তু যূথী সব উল্টে পাল্টে দিল। সামান্য একট ব্যাপার নিয়ে প্রায় সারারাত ফোনে কুৎসিত ঝগড়া করল।

সকাল থেকেই তাই মাথাটা ধরে আছে। মাথা ধরা বাড়তে বাড়তে একসময় একটা ভোঁতা অনুভূতিতে পরিণত হয়েছে। কিন্তু উপায় নেই, ল্যাপটপে একটানা কাজ করে যেতে হচ্ছে। আশকারের সমস্ত পৃথিবী কেন্দ্রীভূত হয়ে আছে দুপুর তিনটার মিটিংয়ে। যদিও মাঝে মধ্যে হঠাৎ হঠাৎ নদীতে ভেসে ওঠা মৃত মানুষের দেহের মতো যূথীর মুখ তার ভেতর ভেসে উঠছে না, এমন নয়।

এই অফিসে আশকার কাজ শুরু করেছে দশ দিনও হয়নি। অথচ এর মধ্যেই বস তাকে দুইবার ঝাড়ি দিয়ে ফেলেছেন। বসের চরিত্র এখনো ঠিক বুঝে উঠতে পারল না সে। যখন হাসছেন তিনি, শিশুদের মতো সামান্য রসিকতাতেও মাথা ঝুঁকিয়ে ঝুঁকিয়ে এমন হাসি হাসছেন যে আশকারের কেমন জানি ভয়ই ধরে যায়। আবার কথা নেই বার্তা নেই সেদিন সকালে আশকার অফিসে আসতে না আসতেই নিজের চেম্বারে তলব করে বসলেন।

তারপর দুম করে আশকারের প্রথম অ্যাসাইনমেন্টটা নিয়ে ঝাড়ি। অথচ এমন কোনো গুরুপাপ আশকার করেনি। ... দ্বিতীয় অ্যাসাইনমেন্টা নিয়ে তাই শুরু থেকেই সে ভীষণ সিরিয়াস ছিল। অথচ আর বাকি মিনিট চল্লিশেক, এখনো সে কাজটা শেষ করে আনতে পারে না। অবশ্য আর ত্রিশ মিনিটের মাথায় লিফটে আটকা পড়তে যাচ্ছে সে।

আশকারের সামনে ছাই রঙের ল্যাপটপের স্ক্রিনে একগাদা হিসাব-নিকাশ আর রেখাচিত্র। তার হাত একবার কী-বোর্ডে, আরেকবার মাউসে যাতায়াত করছে। ঘর ভরে আছে এয়ার কন্ডিশনারের পরিশুদ্ধ বাতাসে। তারপরও আশকারের শার্টের ওপরের দুটো বোতাম খোলা। এর মধ্যে আবার হঠাৎ করে বিদ্যুৎ চলে যায়।

পুরো অফিস ভরে ওঠে ইউ পি এসের বিপ বিপ শব্দে। হঠাৎ আশকারের মনে হয় একপাল ঝিঁ ঝিঁ পোকা অফিসে ঢুকে পড়েছে। একটা সময় ছিল যখন সে আর যূথী কেবল ঝিঁ ঝিঁ পোকা নিয়ে কথা বলেই রাত পার করে দিতে পারত। দুজন মানুষের কথা বলার বিষয় কীকরে 'ঝিঁ ঝিঁ পোকা' হতে পারে! এর মধ্যেই ঝিঁ ঝিঁ পোকার ডাক থেমে যায়। আশকারের মাথাটা ঝিম ঝিম করতে থাকে।

তার সামনে একটা বোর্ড মিটিং রুম। চওড়া একটা টেবিলের চারপাশ ঘিরে বসে থাকা গম্ভীর কিছু মুখ। একটা মাঝারি সাইজের শাদা পর্দার ওপর এসে পড়া প্রজেক্টরের নীলচে আলো। আশকার প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাসে বদলাচ্ছে একের পর এক স্লাইড। সবার চোখে কেমন এক মুগ্ধতা, পরাজয়।

আশকার কাজ গুটিয়ে আনে। একটা পেনড্রাইভে পুরো ফাইলটা কপি করে টয়লেটে যায়। আয়নায় নিজেকে আরেকবার দেখে নেয়। টাইটা ঠিকমতো আঁটে। আয়নার সামনে উল্টো হয়ে নিজের পিঠের দিকে তাকায়।

ইনটা ঠিকই আছে। তারপর আয়নার সামনে মুখটা এনে চোখের নিচের চামড়াটা আঙুল দিয়ে নামিয়ে এনে চোখ দেখতে থাকে। চোখের শিরা-উপশিরা বেয়ে মনে হচ্ছে রক্ত চলাচল করছে। অবশ হয়ে যাওয়া মাথার উপস্থিতি আরেকবার টের পায় সে। মিটিংয়ে ঢোকার আগে এককাপ চা খেয়ে যাওয়া দরকার।

ক্যান্টিনটা আটতলায় আর আশকারের রুম ষোলো তলায়। হঠাৎ খেয়াল হয় আশকারের, সকাল থেকে সে প্রায় না খেয়েই আছে। কিন্তু হাতে মাত্র পনের মিনিট। কী করা যায়? এক কাপ চা তার খেতেই হবে। এই ঝিম ঝিম করতে থাকা মাথা নিয়ে মিটিংয়ে যাওয়াটা বোকামি।

আশকার লিফটের বাটন চাপে। ফাঁকা একটা লিফট মুখ হা করে তার সামনে দাঁড়ায়। আশকার ঢুকে পড়ে লিফটের পেটে। আট নম্বর ফ্লোর চিহ্নিত বাটনটায় হাত রাখে সে। আনুগত্যপ্রবণ একটা শব্দ কোথা থেকে যে ভেসে আসে কে জানে; লিফটের দরজা দুটো এঁটে যায়।

আশকারের একটু ছটফট ছটফট লাগে। সে পকেটে হাত ঢুকিয়ে লিফটের মসৃণ দেয়ালে আর মেঝেতে নিজের প্রতিফলন খেয়াল করতে থাকে। একটার চেয়ে আরেকটা বিম্বকে যেন বেশি আত্মবিশ্বাসী মনে হচ্ছে। একটা বিম্বের চোখে চোখ রেখে আশকার কিছুক্ষণ আটকে থাকে। না, যূথীর কাছে এবার ফিরবে না সে।

এবার যূথীই ফিরুক। কিন্তু যূথী ফিরবে তো? লিফটের লাল রঙের অক্ষরগুলো ষোলো, পনের, চৌদ্দ হয়ে তেরো হয়। এবং হঠাৎই অক্ষরগুলো মুছে যায় আর ক্যাঁক করে একটা শব্দ হয়ে লিফটটা একটু যেন লাফিয়ে ওঠে; এবং লিফটের আলোটুকুও নিভে যায়। ঘটনাটা এত দ্রুত লয়ে ঘটে যে আশকারের বুঝে উঠতেই বেশ কিছুটা সময় লেগে যায়। অতঃপর যখন সে পুরোপুরি বুঝে ওঠে যে তার লিফটটি তের ও বারো তলার মাঝামাঝি একটা জায়গায় ঝুলে আছে, প্রথম সে যে কাজটা করে তা হলো হাতঘড়িটার দিকে চোখ দেয়।

ঘড়ির কাঁটা দুটোয় রেডিয়াম লাগানো, তাই জ্বলজ্বল করতে থাকে। ২:৫০। আর দশ মিনিট। উপস্, ভালো যন্ত্রণায় পড়া গেল। আশকার প্যান্টের ডানপকেট থেকে তার মোবাইলটা বের করে।

মোবাইল আনলক করতেই চারকোনা জায়গাটা একটা যান্ত্রিক আলোয় কেঁপে ওঠে। আশকার লিফটের অ্যালার্ম বাটনে একটা চাপ দেয়। চাপ দিয়ে কিছুক্ষণ ধরে রাখে। একটা মৃদু শব্দ তার কানে আসে। এই শব্দের জোর কি এতটুকুই? আরও কিছুক্ষণ চাপ দিয়ে ধরে রাখে সে।

না, শব্দের তীব্রতায় কোনো হেরফের হয় না। মোবাইলের আলোটুকুও হঠাৎ নিভে যায়। আশকারের মনে হয়, আরে, এই লিফটে তো হাওয়া-বাতাস ঢোকার কোনো উপায় নাই। এই প্রথম সে শীতল হতে থাকে। মোবাইলটা আবার খোলে সে।

কলিগদের ফোন করে ব্যাপারটা জানানো দরকার। মিটিংটাও পেছাতে হবে খানিক সময়ের জন্য। তার পাশের ডেস্কে বসে কাজ করে যে, শাহরিয়ার, তার নাম্বার বের করে ডায়াল করতে গিয়ে মনে পড়ে আশকারের - লিফটের ভেতর মোবাইলের নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় না। তারপরও আশকার নাম্বারটা ট্রাই করে। মোবাইলটা একটা যান্ত্রিক শব্দ করে, যার অর্থ হলো নেটওয়ার্ক পাওয়া যাচ্ছে না।

আশকার কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকে যন্ত্রটা দিকে। তারপর শান্তভঙ্গিতে সেটা প্যান্টের পকেটে ঢুকিয়ে ধাম ধাম করে দুটো লাথি লাগায় লিফটের দরজায়। লাথির শব্দে যেন অন্ধকারটুকু কেঁপে ওঠে। আশকারের ভয় করতে থাকে। টাইয়ের বাঁধনটা আবার ঢিলে করে দেয় সে।

আবার অ্যালার্মে হাত রাখে আশকার। আবার সেই একই শব্দ। তাকে উদ্ধার করতে কি কোনো তৎপরতা শুরু হয়েছে? নাকি কেউ বুঝতেই পারেনি এখনো যে লিফটে সে আটকা পড়ে আছে ? যদি বুঝতে না পারে কেউ? ধরা যাক পনেরো মিনিটের মধ্যে চালু হলো না এই লিফট। তখন কী হবে? পনেরো মিনিট আলো-বাতাসহীন একটা জায়গায় টিকে থাকা সম্ভব? আশকার অ্যালার্ম বাটন থেকে হাত না সরিয়েই ভাবতে থাকে এবং এক পর্যায়ে চিৎকার করা শুরু করে - 'ঐ...কেউ কি শুনতেসেন...আছেন কেউ...ঐ...লিফটটা আটকে গেসে...শুনতেসেন কেউ...?' এরপর আরো কয়েকটা লাথি মারে সে লিফটটার দরজায় এবং হঠাৎই খুব বেশি করে যূথীর চেহারা মনে করতে পারে সে। যূথীর সঙ্গে খুব পরিচিত একটা জায়গায় হেঁটে বেড়াতে ইচ্ছা করে।

হুড ফেলা রিকশাতেও কিছুক্ষণ ঘুরে বেড়ানোর কথা ভাবতে গিয়ে তার দমবন্ধ ভাব শুরু হয়। তার মনে হতে থাকে এই মৃত্যুকূপ থেকে রেহাই পেয়ে প্রথমেই সে জুথিকে ফোন করবে - 'যূথী, বিলিভ মি, এইমাত্র আমি মরতে নিসিলাম...আমি তোমারে একটু দেখতে চাই...আই স্টিল লাভ ইউ...বিলিভ মি...চলো আজ আমরা হুড ফেলা রিকশায় করে ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক শুনতে কোথাও যাই...। ' যতো সে ভাবে তার দমবন্ধ ভাব তত বাড়তে থাকে। টুকরো টুকরো যূথী তার ভেতর জেগে উঠতে থাকে এবং সে ক্রমশ নিশ্চিত হতে থাকে এভাবে আর মাত্র পাঁচ মিনিট থাকলে সে দমবন্ধ হয়ে মারা পড়বে। আবার সে অ্যালার্ম বাটনে চাপ দেয়, লাথি লাগায়, চিৎকার করে - ভাই কেউ আছেন? কিন্তু কোথাও থেকে কোনো সাড়া ভেসে আসে না; বরং অন্ধকার আরো গাঢ় হয়ে ওঠে, বাতাস আরো কমে আসে।

হঠাৎ আশকারের মনে হয় সে আর কিছু মনে করতে পারছে না। নিজেকে তার স্মৃতিশূন্য মনে হয়। তার হাত কোনো কিছু কখনো স্পর্শ করেনি - এমনকি 'স্পর্শ করা' ব্যাপারটা কী সেটাও সে মনে করে উঠতে পারে না, যূথীর চেহারা সে মনে করতে পারে না, সে কখনো যূথি নামের কাউকে দেখেনি - কিংবা যূথী বলে কাউকে সে ছোঁয়নি। তবুও তার মনে হয় যূথির হাত ধরে আরেকবার যদি হেঁটে আসা যেতো। এরকম তার মনে হয়, সে তীব্রস্বরে চিৎকার করতে গিয়ে আবিষ্কার করে তার গলা এমন শুকিয়ে এসেছে যে সেখান দিয়ে কিছু আর বের হচ্ছে না, এবং সে নিশ্চিত হয়ে যায়Ñহয় সে মরে গেছে অথবা মৃত্যু তার খুব বেশি কাছে।

এরপর কী কারণে কে জানে, আশকারের ভেতর ধরলা নদীটা তার চর, নতুন হওয়া সেতু, বেশ কিছু অংশ খেয়ে ফেলা বাঁধ এবং টলটলে বালু-চিকচিকে পানিসমেত জেগে ওঠে। আশকার কতবার এই নদীর গল্প বলেছে যূথীকে! এই নদীর পাড় ধরে তাদের হেঁটে বেড়ানোর কল্পনা কতদিন তাদের রাতগুলোর ভেতর দিয়ে বয়ে গেছে! আশকারের মনে হয়, যূথীর নাম সে তার মোবাইলে সেভ করেছিল 'ধরলা' নামে। তারপর ধরলার তীর ধরে একটা ইটভাটা চিমনিসমেত গজিয়ে ওঠে। ইটভাটার অদ্ভুত পোড়া গন্ধ আশকারের নাকে এসে লাগে। ইটভাটার পশ্চিমে সবুজ ধানের জমির পাশে আশকারদের ইটের তৈরি টিনশেড বাড়ি।

সে বাড়ির ইট এসেছিল সম্ভবত ওই ইটভাটা থেকেই। আশকারদের বাড়ির সামনে ছিল একটা লম্বা রাস্তা, যার দুধারে সবুজ মেঘের মতো ধানক্ষেত। আশকার সেই রাস্তা দিয়ে প্রতি সকালে ছুটে যেত ভাটার আগুন দেখতে। গলগল গলগল করা লাল আগুন। ক্যাটক্যাটে রঙের কাঁচা ইট পোড়াচ্ছে সে আগুন।

ইট পোড়ানো দেখাটা আশকারের নেশা হয়ে গেছিল। তারপর একদিন আশকারকে কে যেন গল্পটা শোনালো। ওদের বাসায় কাজ করা মহিলাটাই বোধ হয়। গল্পটা ইটভাটায় পোড়ানো শিশুদের নিয়ে। ভাটার মালিকরা ভালো আর শক্তপোক্ত ইট তৈরির জন্য ভাটার চুলায় একজন করে শিশু পোড়ায়।

তারপর থেকে আশকার আর সে ভাটায় ইট পোড়ানো দেখতে যায়নি। কিন্তু বহুবার স্বপ্নে সে সেই চুলায় নেমেছে। লাল আগুন তার সঙ্গে ঠাট্টা মশকরা করেছে। বলেছে, কী খবর ছোটবাবু? কদ্দিন দ্যাখোঁ না তোমারে বাহে! আইসো অ্যালা, তোমাক একনা আদর করি। তারপর আগুন তার গা চেটে চেটে দিয়েছে।

হলহল হলহল করতে করতে তার সারা বিশ্ব লালে লাল হয়ে গেছে। চুলার প্রতি ধার তার দিকে এগিয়ে এসেছে। এক পর্যায়ে আগুন কোথায় যে লাপাত্তা হয়ে গেছে কে জানে। চুলার ভেতরটা কালো অন্ধকার বাতাসবিহীন একটা জায়গা হয়ে উঠেছে। আশকার সেখানে দু হাতে কান চেপে, মেঝের কাছাকাছি মাথাটা এনে, বমি করার আগে মানুষ যে বিবমিষায় নিজেকে নুইয়ে আনে সেরকমই নিজের ভেতর থেকে ইটের ভাটাটা উগড়ে দিতে চেয়েছে... এবং এমন সময় হঠাৎ করেই দপ করে আগুনটা আবার জ্বলে ওঠে।

একটা মিহি শব্দ করে এয়ার কন্ডিশনারটা চালু হয়ে যায়। লিফটটা আরেকটা যান্ত্রিক শব্দ করে একটা দোল খায়। লাল অক্ষরগুলো আস্তে আস্তে ভেসে উঠতে থাকে এবং সেখানে হঠাৎই '৮' ভেসে ওঠে এবং লিফটের দরজাটা আনুগত্যপ্রবণতা বজায় রেখেই অষ্টম ফ্লোরে এসে হা হয়ে যায়। লিফট থেকে বেরিয়ে আশকার কিছুক্ষণ বেকুবের মতো দাঁড়িয়ে থাকে। তাকে ঠেলে লোকজন লিফটে ঢোকে।

লিফটের দরজা বন্ধ করে দেয়। সে হাতঘড়িটার দিকে তাকায়। ২:৫৩। মিটিংয়ের আরো সাত মিনিট বাকি। লিফটের সামনে থেকে সরে এসে সে সিঁড়ির মুখে দাঁড়ায়।

কিন্তু বোঝা যায় না সে ঠিক কী করবে, ইট আর মার্বেল পাথরের এই সিঁড়িগুলো বেয়ে ওপরে উঠবে নাকি এক ছুটে নেমে যাবে নিচে...

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.