আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

তুমি কোন খোয়াড়ের রামছাগল ( ধারাবাহিক উপন্যাস পর্ব-১ )

আমি মুরুব্বি মানুষ, একটু সম্মান কইরা কথা কইয়েন!

( ইদানিং দেখি সবাই ধারাবাহিক উপন্যাস লেখা শুরু করছে ব্লগে । আমিও একটা সায়েন্টিফিক ধারাবাহিক লেখা শুরু করলাম । পইড়া মতামত দিয়েন । ) সেদিন আমি সাভারে পার্কের ভেতর দিয়ে হাঁটছিলাম রাত বারটার কিছু পরে কিংবা আগে। হাঁটতে হাঁটতে আমি কিছুক্ষণ পর পর পাশ্ববর্তী সরকারী পশু প্রজনন কেন্দ্রের দিকে তাকাচ্ছিলাম ।

সেখানে নাকি বিভিন্ন প্রজাতির পশু নিয়া গবেষনা হয় । বিশেষ করে ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল নিয়া নাকি কোটি কোটি টাকার গবেষনা চলতেছে । কিছুক্ষন হাঁটার পর পাশবর্তী একটি বেঞ্চিতে আমি বসে থাকি । হঠাত দেখি, নধরকান্তি একটি কালো ছাগল আমার দিকে তাকিয়ে হেসে উঠে । আমি হতবাক।

কিংকর্তব্যবিমূঢ়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই সে কথা বলে- ভয় পাবেন না। চিত্কার করবেন না। কাউকে বলার চেষ্টাও করবেন না। আমি নতুন প্রজাতির একটি ব্ল্যাক বেঙ্গল রামছাগল ।

আমি বললাম , ধ্যাত্তেরী , আমি নিশ্চয়ই পার্কে সিগারেট মনে করিয়া গাঞ্জা ধরাইছি । নাইলে ছাগলের হাসি আর ছাগলের কথা শুনতে পাই কিভাবে । রামছাগলটি হেসে বলল , আপনি ভুল জানেন । দেশের বিজ্ঞানের উন্নতি নিয়া আপনার কোন ধারনাই নাই । সাভারে এই যে এত্তো বড় ছাগল গবেষনা কেন্দ্র খুলছে , সেইখানে পিএইচডি করা বিজ্ঞানীই আছে তিন ডজন ।

তারা সরকারী টাকা খাইয়া অন্যান্য কর্মকর্তাদের মতোন ঘুমাই পড়ে না । তারা গবেষনা করে । ছাগলের বিভিন্ন জাত আবিষ্কার হইতেছে সেখানে । তেমনি একটা নতুন আবিষ্কৃত জাতের নাম -থেরাপিস্ট ছাগল । আমি হইলাম সেই প্রজাতির ছাগল ।

আমি বিশ্বাস করি না । নিশ্চয়ই আমার মতিভ্রম হইছে । তারপরও জিগাই , - থেরাপিস্ট ছাগল আবার কী জিনিস ? ছাগলটি উত্তর দেয় - এই যে বললাম নতুন প্রজাতির ছাগল । এদেরকে কথা বলার ট্রেনিং দেয়া হয় । তাছাড়া স্যুট টাই পরার ট্রেনিংও দেয়া হয় ।

: স্যুট টাই পরার ট্রেনিং দিয়া লাভ কী ? স্যুট টাই তো ছাগলের পোষাক না ! আমি অবাক হইয়া বলি । : সুট টাই ছাড়া তো আরব দেশে যাওয়া যাবে না । এই সব ছাগলকে উন্নত মানের ট্রেনিং দেয়া হইতেছে যাতে আরব দেশে এক্সপোর্ট করা যায়। : আরব দেশে গিয়া এরা কী করবে ? : আরব দেশে গিয়া এরা আরব শেখদেরকে বিভিন্ন ভাবে বিনোদন দিবে । আমাদের কাজই হইতেছে বিনোদন দেয়া ।

আমি অবাক হইলাম । সার্কাসে ছাগলের খেলা দেখানো এককথা আর ছাগলরে ট্রেনিং দিয়া বিদেশে পাঠানো আরেক কথা । দেশ তাহলে এগিয়ে যাইতেছে । জ্ঞানে বিজ্ঞানে আমরা পিছায়া নাই । আমি বললাম , তাইলে তুমি এইখানে পার্কে কী করো ? তুমার তো ভিতরে থাকার কথা ? নাকি পার্কে হাওয়া বাতাস খাইতে এসেছ ? রামছাগলটি কাদো কাদো গলায় বলল , - না জনাব , আমি পালিয়ে এসেছি ।

আরব দেশে যাইতে চাই না । এবার আমার দ্বিগুন অবাক হওয়ার পালা । যে দেশের মানুষ বিদেশ যাইতে পারলে আর কিছু চায় না , সেই দেশের ছাগল বিদেশ যাওয়ার ভয়ে পালিয়ে এসেছে , এইটা তো অবাক হওয়ার বিষয় ? আমি জানতে চাই - পালিয়ে এসেছ কেন ? : জনাব ,আপনি বিষয়টি ধরতে পারেন নাই । আরব দেশে যে বিনোদনের জন্য আমাদেরকে এক্সপোর্ট করা হয় , সেইটি কোন ভালো বিনোদন নয় । গান বাজনা করা আমাদের কাজ নয় ।

আরব শেখদের বিভিন্ন বিকৃত যৌনেচ্ছা থাকে , সেগুলো পূরন করাই আমাদের কাজ । আমি ছাগল হইতে পারি , কিন্তু নিজের ইজ্জত নিয়ে বড়োই চিন্তিত , তাই ফাক পেয়ে পালিয়ে এসে এই পার্কে লুকিয়ে পড়েছি । এইবার আমার মনটা খারাপ হলো । বেচারা ছাগলকে কতো কষ্ট করেই না তার ইজ্জত বাচাইতে হইতেছে । আমি বললাম , এখন তুমি কী করবে , দেশে থাকলে তো কসাইরা ধরে জবাই করে ফেলবে , বিদেশ গেলে অন্তত : প্রানে বাচতে ।

এই কথা শুনে ছাগলটি চিন্তায় পড়ল আর লেজ নাড়তে লাগল । তারপর বলল , সেটা অবশ্য কথা সত্য । তাছাড়া আমাদের পেছনের দিকের মেশিনপত্রও উন্নত করে তৈয়ার করা হয়েছে । আরব দেশে খুব একটা অসুবিধা হওয়ার কথা না । তবু পালিয়ে যখন এসেছি , তাইলে কয়দিন ঘুরা ফিরা করি ।

আমি বললাম , ঘুরাফিরা করলেই কিন্তু তোমাকে কসাই রা ধরে নিয়ে যাবে । ছাগলটি ছলো ছলো চোখে তাকিয়ে বলল , জনাব , আমাকে আপনি রক্ষা করেন । কয়েকদিন আমাকে আপনার সঙ্গে সঙ্গে রাখেন । বড়ো শখ ছিল একবার বইমেলায় গিয়ে বার্টান্ড রাসেলের বই কিনব , তাছাড়া বঙ্গ থেকে একটা সুট কিনারও বড়ো শখ । আমি ছাগলের দিকে তাকাইলাম ।

আহারে রামছাগল , কতো কষ্টেই না বেচারা আছে । গঞ্জিকা সেবনে আমার মনটি খানিক দ্রবীভূত ছিল । আমি ঠিক করলাম , কয়েকদিন এই ছাগলটিকে সঙ্গে সঙ্গে রাখব । আমি বললাম , ছাগল ,তোমার তো একটা নাম দেয়া দরকার । ছাগল হেসে বলল , আমার তো নাম আছে ।

তবে মানুষের মতো বড়ো নাম হয় না , ছাগলের নাম হয় একঅক্ষরে । আমি জানতে চাইলাম , তাহলে তোমার নামটা কী : ছাগল উত্তর দিল , আমার নাম - "স" ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।